‘……..I was just like a teenager’ কথাটা বলেই দম নিলো মেয়েটা। যেন প্রারম্ভিকা শেষ করে সব কিছু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছে কিছুটা। টেবিলের উল্টোদিকের চেয়ারে বসে ছেলেটা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। একটা গড়পড়তা রেস্টুরেন্টের সাউন্ড সিস্টেমে পুরনো সময়ের কোন এক গান বাজছে। সেদিকে অবশ্য কারোরই খেয়াল নেই । অনেকটা অবচেতনেই যেন চারপাশের কোন কিছুকেই গ্রাহ্য হচ্ছে না এখানে ।
মানুষ নিজের বোকামির কারণে যে লজ্জাটা পেয়ে যায় হুট করে সেটা ভেসে উঠেছে মেয়েটার মুখে। আটকে রাখার সব চেষ্টা ছাপিয়ে একটা হাসির অবয়ব সেখানে। আগের বারে ছেড়ে যাওয়া লাইনটুকু থেকেই শুরু করল সে। বলল, ‘আসলেই যেন কিশোরী হয়ে গিয়েছিলাম সে সময়। যদিও আমার বয়স তখন তেইশ পেরোচ্ছে কেবল। তারপরও কিভাবে কিভাবে যেন একটা সহায় সম্বলহীন কিশোরী হয়ে উঠলাম তাকে দেখে, জানি না। ঐ হয় না, টিনএজে মানুষের যখন কোথাও কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। যেখানে-ই একটু উষ্ণতা পায়, সেখানেই নিজের সমস্ত শীতল আস্থা টুকু জমা রাখে; ঠিক ওরকম’। আরেকবার থামলো সে। চোখে মুখের সে হাসিটুকু যেখান থেকে এসেছিলো হুট করেই যেন সেখানে ফিরে গিয়ে মিলিয়ে গেল। একটা দৃঢ়তা এসে ঠাঁই পেয়েছে সে হাসির ফেলে যাওয়া জায়গা জুড়ে। কাঁপা গলায় বলল, ‘actually I was a teenage shooting star. উল্কারা যেভাবে হুট করে জ্বলে ওঠে, একদম সেরকম। দীর্ঘ সময় তাকিয়ে না থাকলে যেমন এদের দেখা যায় না, ঠিক ওমন টা। একটা সহস্র নক্ষত্রের আকাশে ক্ষণিকের জন্য জ্বলে ওঠা উল্কার মত জীবন আমার। আর সেই মানুষটা যেন আগে থেকেই জানত, আমি কবে কোন দিকটাতে জ্বলে উঠবো। এতো ঝকঝকে তারার মাঝে সেই তেইশ বছরের জীবনে সে কিভাবে কিভাবে যেন খুঁজে নিয়েছিলো আমায়। আমি এখনও বুঝি না, হয়ত বুঝবো-ও না কখনো। আমি যেন হাঁটার পথের থেকে দূরের কোন বনে অজান্তে বেড়ে ওঠা এক গুল্ম-লতার ফুল। আর সে উৎসুক হয়ে খুঁজতে এসেছিলো আমায়; পেয়েওছিলো। খুব খেয়াল না করলে, স্থান-কাল একসাথে মিলে না গেলে এমন ফুল চোখে পড়ে না সচারাচর। কিন্তু সে দেখেছিলো স্বেচ্ছায়, বড় বেশি যতনে…’। মেয়েটা থামলো আবারো। একটা দীর্ঘশ্বাস বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে মিশে গেলো উত্তর দিক থেকে আসা অক্টোবরের বাতাসে।
খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে ছেলেটা বলল, তারপর? চোখে মুখে আগ্রহের প্লাবন ছুটছে তার। মেয়েটা কোন উত্তর করলো না । চুপচাপ এক দৃষ্টিতে দেখছে কোথায় যেন। ঠিক দূরেও না, আবার কাছেও না। যেন তাকিয়ে আছে নিজের ভেতরটায়; পেছনের সমস্ত পথের পদ চিহ্ন তার চোখে স্পষ্ট হচ্ছে ধীরে ধীরে।
পশ্চিম দিকে সূর্য বিদায়ের রঙ ছড়াচ্ছে সমস্ত আকাশ জুড়ে। শহরের রুফ টপের রেস্টুরেন্টগুলো থেকে সূর্যাস্তের এই সময়টা যতখানি করুণ লাগে, তার থেকেও অনেক বেশি লাগছে এই সময়ে এসে।
ছেলেটা নিজের কথার পুনরাবৃত্তি করল। কথায় ভাবান্তর হল মেয়েটার। সেই পুরনো সময়ের পথ থেকে ফিরে এসেছে সে। এবার তাকিয়ে আছে সূর্যাস্তের দিকে। সোনালী আলো মেয়েটার ডান কানের সাদা রঙের দুলটায় এসে পড়ছে। খুব খেয়াল করলে উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রাচুর্যে হুট করে জ্বলে ওঠা একটা উল্কার মত লাগছে। মেয়েটা সেই পুরনো লজ্জার হাসিটা যেখানে আগের বার হারিয়ে ফেলেছিলো সেখান থেকে খুঁজে এনেছে আবারো। বলল, ‘…in the end, every shooting star turns into dust….না?’
হুট করেই সোজা হয়ে বসলো ছেলেটা। অনেকটা গা ঝাড়া দেওয়ার মত। টেবিলের উপর রাখা টিস্যু বক্সের দিকে তাকালো সে। বলল ‘’You must be an angel since you care for flowers’. So, you met an angel perhaps. এতো যতনে যে আপনাকে খুঁজেছে, সে তো বোধ করি এ্যাঞ্জেলই’।
মেয়েটার দৃষ্টির এবার ছেলেটার দিকে। অপ্রত্যাশিত কোন কিছু শুনে ফেলার প্রত্যুত্তরে মানুষ যে চাহনি দেয় তার সমস্তটাই মেয়েটার সারা শরীরে। বেশ আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘’You must be an angel since you care for flowers. লাইনটা Victor Hugo-র। বেশ পড়াশোনা করেন তো দেখি’। ছেলেটা হাসছে এবার। প্রতিবাদের যে ক্ষীণ প্রচেষ্টা টুকু জন্মেছিলো তার ভেতরে, তা কোনোভাবেই টিকতে পারলো না মেয়েটার চাহনির বিপক্ষে। বলল, ‘নাহ, তা একদমই না। তবে ভাবলাম, সাহিত্যের মানুষের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, একটু আধটু প্রস্তুতি না নিয়ে গেলে কেমন কথা। কথা বলার অন্তত কমন একটা গ্রাউন্ড থাকতে হবে তো, নাকি?’
মেয়েটাকে উচ্ছ্বসিত মনে হল। বলল, ‘ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছেন। পরীক্ষা ভাল হবে মনে হচ্ছে’। কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে একটা দ্বৈত হাসির শব্দ পাওয়া গেলো। সে হাসি যতক্ষণে কেঁপে কেঁপে স্থির হল, ততোক্ষণে পৌঁছে গেল সূর্য যেখানটাতে অস্ত যাচ্ছে সেখানটাতে। যেখানে রাত নামে ধীরে, আকাশে ঝকঝক করে স্পষ্ট হয় নক্ষত্ররা আর খুব খেয়াল করে তাকিয়ে থাকলে দেখা যায় ক্ষণজন্মা উল্কাদের। কিংবা আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে teenage shooting star দের.
মেয়েটা মুখ খুললো। বলল, ‘আপনার কথা বলুন’।
বেশ তড়িঘড়ি করে ছেলেটা উত্তর দিলো। বলল, ‘আমি সাহিত্যের মানুষ না। পড়েছি রসকষহীন রসায়ন। ঐ ইলেকট্রন-প্রোটনের প্রেম কাহিনী…….’।
ছেলেটার কথা শেষ হওয়ার আগেই মেয়েটা থামিয়ে দিলো তাকে। বলল, ‘আপনার ওই ইলেকট্রনের প্রেম কাহিনীর কথা বলি নি তো। আপনারটা বলেছি। যদি কিছু বলতে চান, বলতে পারেন’।
ছেলেটা একটু কাশলো। তারপর বলল, ‘আমার প্রেম?’
-হ্যাঁ আপনার প্রেম। কেন? প্রেম হয় নি?
-তা হয়েছিলো বেশ।
-বেশ!
-হুম।
-বেশ কেন?
-অনেক গুলো যে।
-ও আচ্ছা। তা সেই বেশ কয়টা হল?
বলেই মেয়েটা তীর্যক চোখে তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে। আর ছেলেটা যেন মনে মনে গুণছে, এক দুই তিন…। কোন উত্তর না পেয়ে মেয়েটাই আবার জিজ্ঞেস করল, বলছেন না যে। সমস্যা থাকলে আমরা অন্য টপিকে কথা বলতে পারি।
-নাহ, সমস্যা না। গুণছি।
-গুণছেন?
-হ্যাঁ।
-ক’টা পেলেন?
ছেলেটা ঢোক গিললো একটু খানি। কেমন অপরাধী একটা ভাব তার চোখে মুখে। বলল, নয় টা।
-নয়টা?
-হ্যাঁ, এদিক সেদিক বাদ দিলে, নয়টা।
-বাদ দিয়েও নয়টা?
-হ্যাঁ।
– Okay, it’s gonna be a long story then.
একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো ছেলেটা। বলল, আর লং স্টোরি। কোন স্টোরি-ই নাই।
-মানে?
-মানে আর কী? আমার প্রেম হয়েছিলো নয়টা। কিন্তু যাদের উপর হয়েছিলো তাদের কারো প্রেমই আমার উপর হয় নি, তাই।
পাহাড়ী বন্যার মত একঝলক আনন্দ হুট করে এসে ঠাঁই নিলো মেয়েটার চোখের কোণায়, তারপর ছড়িয়ে গেলো সারা শরীরে। অনেক চেষ্টা করেও ঝেড়ে ফেলতে পারলো না সে। বলল, What!!!
-হ্যাঁ, আসলেই তাই। সব বুনোফুলকে তো আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অজানাতে জন্মায়, অজানাতেই ঝরে যায়।
কথাটার তীর্যক অংশটুকু মেয়েটাকে যতখানি আঘাত করল, তা ছাপিয়ে দেখা দিলো গভীর এক মায়ার রেখা। সেই মায়াকে বেশ খেয়ালি ভাবে সরিয়ে রাখলো পাশে সে। তারপর আগের রসিকতার সুর নিয়েই বলল, ‘Such a looser’. কথাটা শেষ হতে দিল না ছেলেটা। বলল, ‘এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে এসেছেন। লুজারগুলোই তো কপালে জুটবে, নাকি?’
কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবারো একটা দ্বৈত হাসির শব্দ ঠিক আগের বারের মত কেঁপে কেঁপে ছড়িয়ে পরে মিলিয়ে গেল চারপাশে। সূর্য অস্ত গিয়েছে ততোক্ষণে। অন্ধকারের সাথে মিল রেখে দেখা দিচ্ছে নক্ষত্রমন্ডলী। স্পষ্ট হচ্ছে ক্যানোপাস কিংবা ক্যাপেলার মত উজ্জ্বল তারারা। নামহীন ক্ষণজন্মা শ্যূটিং স্টারগুলো যেন জ্বলে উঠেই নিভে যাচ্ছে অলক্ষ্যে। দূরে কোথাও এমনই অগচরে ফুটছে কোন কলমী লতা কিংবা বুনো গুল্মফুল।
এভাবেই কাটলো আরো কিছুক্ষণ। তারা দু’জন রুফটপ নামের এই শহুরে কেতাদুরস্থ জায়গা থেকে নেমে এলো রাস্তার ফুটপাতে। ল্যাম্প পোস্টগুলো ঠেলে সরাচ্ছে রাতের অন্ধকার। সে আলোয় ত্রিশ পেরিয়ে আসা দু’টো মানুষ এলোমেলো হাঁটলো বেশ খানিকটা সময়। একসময় চড়লো রিক্সায়। সমস্ত সময় জুড়ে কথা হলো অনেক। বেশির ভাগ কথায় ঠাঁই পেল ট্রাফিক জ্যাম, রাজনীতি কিংবা বৈশ্বিক অর্থনীতির মত অপ্রাসঙ্গিক আলোচনারা। এরপর একসময় মেয়েটা নেমে গেলো ঠিক জায়গাটায়। ছেলেটা রইলো রিক্সার এক পাশ জুড়ে। চলে যাওয়ার সময় ছেলেটা ঘুরে ডাকলো, ‘আফ্রোমিতা, এটা আপনার জন্য’। মেয়েটা হাত বাড়িয়ে নিলো কাগজ খানা। রিক্সা বিদেয় নিলো রাস্তার শেষ প্রান্তের দিকে। ছেলেটা একবার ঘুরে তাকালো কি না চশমার কাঁচে ঠিক বুঝলো না মেয়েটা। হাতের কাগজ খানা খেয়াল করলো সে। একটা ভাজ করা টিস্যু পেপার। তাতে কাঁপা হাতে লেখা, ‘ ….be the teenager again, it’s free. And don’t get sad, we all are star dust, aren’t we?
Send private message to author







গল্পের সূচনাটা অনেক ভালো লেগেছে। থিমটাও আনকমন লাগলো।উপস্থাপনটাও বেশ চমৎকার এবং বর্ণণা ভঙ্গি চোখে পড়ার মতো।গল্পের সংলাপগুলোও বেশ হিসেব কষা,বেশ অর্থবহ। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততোটুকুই এনেছেন।
টিনেজ সময়টাই অনেকে হোঁচট খাই আবার এই বয়সের অনেকে ক্ষত নিয়ে কারো জীবনযাপন। সেই টিনেজকে পেছনে ফেলে ত্রিশ পেরোনো দুটো মানুষকে সামনাসামনি বসিয়ে অসাধারণ প্রেক্ষাপট রচনাটা কেন জানি মুগ্ধ করলো।গল্পের বিষয়টার চেয়ে বর্ণণা ভঙ্গিটা অসাধারণ ছিল।কিছু মোহনায় বিস্মিত হয়েছি।আর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো গল্পে প্রসূত বাস্তব দর্শন। এভাবে পাঠককে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো লেখকের প্রতি।আগামীতে আপনার যাত্রা শুভ হোক।❤
এই বয়সটুকু সবারই পেরোতে হয়। এই সময়টাতে ভুল মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া কিংবা ভুল করা সবার কমবেশ হয়ে থাকে।সেই ভুলের একটি হলো কাউকে খুব করে চাওয়া।ভীষণ কাছে পাওয়ার ইচ্ছা। যখন সে মানুষটা জানতে পারে তাকে ওপাশের মানুষটা পছন্দই করে না, তখন সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাড়ায়। শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষায় তার ভুল শুধরে যায়। সে স্থান পায় আকাশের ন্যায় বিশাল এক বুক নীল আাকাশে। যাকে ভালোবাসি বলাটা মুখ ফুটে বলতে হয় না। মমতাবোধ আর একসাথে পাশে চলা হয়তো নদীর একই গতিপথ। সে নদীর স্রোত থাকবে বহমান ভালোবাসার ন্যায়।
সম্পর্ক অটুট থাকবে বন্ধুত্বের ন্যায়।
কিশোর-কিশোরী সময়টা অন্যরকম হয়ত প্রায় সবা্র জীবনেই ।হয়ত এই সময়টাতে সবাই চায়একটু আলাদা আশ্রয়। তাই যেখানে একটু উষ্ণতা ,মায়া সেখানেই দুর্বলতা প্রকাশ পায় ,কখনো সেখানেই নিজের সমস্ত শীতল আস্থা টুকু জমা রাখে।
তাই যখন বয়স তেইশ পেরােচ্ছে তখন ও কিভাবে কিভাবে যেন একটা সহায়সম্বলহীন কিশােরী হয়ে উঠে অনেক যুবক – যুবতী ।
লেখক এর মতে তাই হয়ত শ্রেয় প্রারম্ভিকা শেষ করে সব কিছু
গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় এবং একজন মানুষ আগমন অভাবনীয় কিছু নয় ………………..
তাছাড়া টিনএজ পেরোনো দুটো মানুষের সকল ভুলভ্রান্তি বোঝার সক্ষমতা বাস্তবিক রুপে গল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক , যা পাঠককে খুব সহজেই মনমুগ্ধ করে দেয় ।
গল্পের বাস্তবিক বিষয় গুলোই সর্বদা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ,এবং এ গল্পটিতে আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবিই দেখিয়েছেন লেখক ।।
Teenage অামাদের সবার জীবনের অন্যরকম একটা সময়।এই সময়েই এসে অামাদের ভাঙ্গা গড়া,সেই teenage থেকে উতরে অাসা,ত্রিশ বছরের দুজনকে নিয়েই মূলত গল্পটা।
গল্পে বাস্তবত দর্শনের অনেক ছাপ পাওয়া যায়, teenage অার যৌবনের মধ্যকার সুক্ষ্ম পার্থক্য ও লেখক তুলে ধরেছেন।
আমাদের সমাজে অ্যারেন্জ ম্যারেজে ছেলে মেয়েদের নিজেদের পরস্পরের সাথে কথা বলার একটা প্রথা আছে।
রুফটপ নামে এক শহুরে কেতাদুরস্তে এমনই অ্যারেন্জ ম্যারেজ করতে যাওয়া ত্রিশ বছরের দুজন ছেলে মেয়ে মুখোমুখি বসে আছে। প্রথম কথায় মেয়েটিই বলল,”I was just like a teenager..”
শুরু হল দুজনের Teenage এর প্রেমের গল্প। তারপর দুজন চলল তাদের স্বীয় গন্তব্যে।
কী ছিল তাদের teenage প্রেমের গল্পগুলো?
খানিকের কথায় দুজন মানুষ কি কাছে আসতে পেরেছিল?
জানতে হলে পড়তে হবে “আফম আরিফুল ইসলাম” এর “AdulTeen” গল্পটি।
গল্প খুবই অন্যরকম লেগেছে আমার কাছে। কারণ কখন যে কোন দিকে যাচ্ছিলো তার হিসাব নেই। অনেকটা রহস্য গল্পের মতো। গল্পে আফ্রেমিতো নামে এক লেখিকার সাথে একটি ছেলে দেখা করতে এসেছে। প্রথমে লেখিকা তার কিশোরী জীবনের ভালোবাসা পাওয়া না পাওয়ার গল্প ও তার জীবনের তখনকার অবস্থা বলল। এরপর ছেলেটিকে তার ভালোবাসার গল্প বলতে বলল। এই পার্টটি আমার কাছে বেস্ট এবং হাসির পার্ট মনে হয়েছে। যা পড়লে বোঝা যায়। এরপর তারা নানা বিষয় নিয়ে আলাপ করলো। শেষে যখন মেয়েটি চলে যাবে তখন রিকশায় উঠার সময় ছেলেটা মেয়েটাকে একটা চিঠি দিল। যাতে ছেলেটি মেয়েটিকে তার টিনেজ বা কিশোর জীবনে ফিরে আসতে বলল।
সব মিলিয়ে গল্পটায় কিশোর জীবনের ভালোবাসার ভালো খারাপ দিকটিকে তুলে ধরেছে লেখক।
গল্পের প্লট এবং বর্ননা দুটোই অসাধারণ। খুবই গতিশীল গল্প।
খুব ভালো লাগলো।
একদম ছোট্ট একটা কাহিনী কিন্তু গভীর একটা বার্তা বহন করে। বি দ্যা টিন এজার এগেইন। লাইন টা ভালো লাগলো। গল্পের শুরু থেকে শেষ যেভাবে সব কিছুর বর্ণনা করা হয়েছে,বলার ধরণ টা স্প্যাশালি দারুণ। লেখক প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। শুভ কামনা রইলো।
প্রথম মনে হয়েছিলো রহস্য গল্প । শেষ পর্যন্ত পড়ার পর বুঝলাম এটা বর্তমান সময়ের প্রাসঙ্গিক প্লটে লেখা ।
ভীষন ভালো লেগেছে । শুভ কামনা রইলো