পজেটিভ মানুষ

‘ ম্যাডাম! কয়েকটা সিভি বাছাই করেছি। আপনি কি দেখবেন একটু ? ‘

‘ তুমি একটু বসো। আমি রান্নাটা শেষ করে আসছি। ‘

‘ কী রান্না করছো ? ‘

‘বলা যাবে না। খাবারের সময় দেখতে পাবা। ‘

‘ আরেহ বলো না। ”বললাম তো এখন বলা যাবে না। যাও টেবিলে বসো। ‘

‘জো হুকুম ম্যাডাম জি! ‘

রবিন আমার হাতের রান্না খেতে খুব পছন্দ করে। যখন তিনি খুশিতে বাকুমবাকুম থাকেন তখন তিনি আমাকে ম্যাডাম আর আপনি করে ডাকেন। আমি রান্নাবান্নার তেমন সময় পাই না। নিজেদের ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় সময় কেটে যায়। সকালে বের হয়ে বাসায় ফিরি অনেক রাতে। তখন আর রান্না করতে ইচ্ছে করে না। ও আমাকে কখনো নিজ থেকে রান্নার কথা বলে না। শুধু রান্নার কথা কেন নিজের কোন ইচ্ছে বা সংসারের কোন দ্বায় দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় না।

আমি যখন যা কিছু করে আনন্দ পাই, খুশি থাকি ও আমাকে তাই করতে বলে। এই যে সাপ্তাহে একটা দিন আমি শুধু ওর জন্য রেখেছি। এই দিনে আমি নানান ধরণের মজার মজার রান্না করে খাওয়াই। আমি উনার জন্য রেঁধে খুশি, উনি আমার হাতের রান্না খেয়ে খুশি। মজা করে উনি আবার এই একদিনের নাম দিয়েছে , ‘ বউয়ের হাতের রান্না খাওয়ার দিবস। ‘ মানুষ দিবস পালন করে বছরে একবার আর আমার বর দিবস পালন করে সাপ্তাহে একবার।

আমি তিথি। আমার নামের বেশ কিছু অর্থ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো অস্থির, অন্যটি ভাগ্যবান / ভাগ্যবতী। আমি আগে অনেক অস্থির ছিলাম। মাঝে নিজেকে খুব হতভাগ্য মানুষ মনে হতো। এখন আমি অনেক শান্ত, তবে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়। রবিনের সাথে আমার সংসার জীবন দেড় বছরের। এই দেড় বছরে প্রতিনিয়ত আমি নিজেকে আবিষ্কার করি। রবিনকে আগের দিনের থেকে বেশি ভালোবাসি। ‘ আল্লাহ যা কেড়ে নেন তার দ্বিগুণ ফিরিয়ে দেন ‘ এবং এই কথার সত্যতা আমার নিজের জীবনে মিলেছে।

‘ তিথি, অনিকের পুরো নাম কি আশরাফুল ইসলাম অনিক ?’

অনিক নামটা শুনে আমি চমকে উঠলাম। হাত থেকে খুন্তিটা পড়ে গেলো।

‘ আরেহ! করো কী ? গরম খুন্তিটা হাতে লাগে নিতো ?’ বলে রবিন দৌঁড়ে আসলো।

‘না না! আমি ঠিক আছি। হুট করে অনিকের পুরো নাম জানতে চাইলে কেন ?’

‘এখানে একটা সিভি মনে হয় অনিকের। শিওর হওয়ার জন্য পুরো নাম জিজ্ঞেস করলাম। ‘

আমি দৌঁড়ে গিয়ে সব কয়টা সিভি উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলাম। দম ফেলতে ভুলে গেছি। আমার এলোমেলো খোঁজাখুঁজি দেখে রবিন এগিয়ে এসে সিভিটা হাতে দিলো। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না অনিক আমাদের কোম্পানিতে চাকরির জন্য সিভি পাঠিয়েছে। তাও নরমাল একটা পোস্টের জন্য।

সেই অনিক যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পর ১০মিনিট পর্যন্ত সেই রাস্তায় তার পারফিউমের ঘ্রাণ উড়ে বেড়াতো। নামী দামী ব্যান্ড ছাড়া কোন পোশাক পরতো না। বাপের ভালোই টাকা পয়সা ছিলো। তবুও বাপের টাকা পয়সার তুলনায় তার বিলাসিতা একটু বেশিই ছিলো।

সম্পর্কে অনিক আমার প্রতিবেশী এবং ভার্সিটির সিনিয়র। সে মোটামুটি মানের ছাত্র হলেও, আমি খুব মেধাবী ছাত্রী ছিলাম। আমাকে প্রায় বলতো এতো পড়াশোনা করে কী লাভ! সেই তো পরের ঘরে গিয়ে বাচ্চা পালবি, আর বরের সেবা যত্ন করবি। তার এমন কথা শুনলে আমার খুব রাগ হতো। আমিও জবাব দিতাম বাচ্চাও পালবো, বরের সেবা যত্ন করবো এবং সাথে চাকরিও করবো। আমার কথা শুনে তিনি হাসতেন।

হাসলে তাকে খুব সুন্দর লাগতো। আমি মুগ্ধ হয়ে তার হাসি দেখতাম। একটু আগে তার উপর হওয়া রাগ কোথায় যেন মিলিয়ে যেতো। আমি ভাবতাম যে মানুষ এতো সুন্দর হাসে, সে এমন পঁচা কথা বলে কীভাবে!পড়াশোনায় ভালো ছিলাম তাই বাবাও চাইতেন আমি পড়াশোনা করি। এবং ভালো জায়গায় করি। এসএসসি পাস করার পর ঢাকায় কলেজে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আমার বাবা অতো ধনী নন, তবে সচ্ছল বলা চলে।

তখন আমার বয়স কম আবার ঢাকায় নতুন। বাবার বন্ধুর বাসায় আমার থাকার ব্যবস্থা হলো। অনিক আগের থেকেই সেই বাসায় থাকে। আমার বাবা, অনিকের বাবা আর যে আংকেলের বাসায় উঠেছি তারা তিনজন বাল্যকালের বন্ধু। আমাদের হোস্টেলে থাকার কথা শুনে আংকেল খুব রাগ করেছেন। তার এতো বড় বাড়ি থাকতে আমরা হোস্টেলে থাকবো এটা তিনি মানতে পারছিলেন না। অবশেষে আমিও তার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা শুরু করলাম। তখন নতুন নতুন গ্রাম ছেড়ে, পরিবার ছেড়ে ঢাকা এসেছি ।

অনেক মন খারাপ থাকতো। মন খারাপ থাকলে অনিকের রুমে যেতাম। গল্প করতাম। বারান্দায় বসতাম, ছাদে যেতাম। কখনো কখনো বাহিরে ঘুরতেও যেতাম। এভাবে চলতে চলতে আমাদের সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিণত হয়ে গেলো। শুরু হলো আমাদের প্রেমের জীবন। প্রেমের জীবন ভালো চলছিলো তবে সমস্যা হলো আমার পড়াশোনা। অনিক আমার পড়াশোনা মেনে নিতে পারছিলো না। তার এক কথা মেয়ে মানুষ এতো পড়াশোনা করবে কেন! মেয়ে মানুষ শিক্ষিত হবে কেন! মেয়েদের কাজ সংসার করা, বাচ্চা লালন পালন করা, স্বামীর সেবা যত্ন করা।

বেশি পড়াশোনা জানা মেয়েদের সংসার হয় না। সেই বয়সেই তাকে আমি বারবার বুঝিয়েছি আমাকে একটু সুযোগ দাও। আমি তোমার এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করে দিবো। পড়াশোনা জানার সাথে সংসার করা বা ভাঙার কোন সম্পর্ক নেই। কম পড়াশোনা জানা মেয়েদেরও সংসার ভাঙে, গৃহিণীদেরও ডিভোর্স হয়। তাহলে দোষ কেন শুধু পড়াশোনা জানা মেয়েদের ?আমার প্রশ্নের উত্তর সে দিতো না। উল্টা বলতো আমি পড়াশোনা করছি বলে তার মুখে মুখে তর্কে করি। কলেজ জীবনে প্রেম করে আমি পড়ে গেলাম বিপাকে। প্রতিদিন ঝগড়া, প্রতিদিন ব্রেকআপ। কী যে যন্ত্রণার দিন যাচ্ছিলো তখন! এসএসসিতে গোল্ডেন পাওয়া আমি এইচএসসিতে পেলাম টেনেটুনে ফোর। সরকারি ভার্সিটির আশা ছেড়ে ভর্তি হলাম প্রাইভেটে।

একদিন অনিক আমাকে ডেকে বলে তাকে যদি আমি সত্যি ভালোবেসে থাকি তাহলে তখনই বিয়ে করতে হবে। এটাই আমার ভালোবাসার পরীক্ষা। অনিককে আমি সত্যি খুব ভালোবাসতাম। তাকে হারানোর খুব ভয় ছিলো। অনিক যতবার ব্রেকআপ করতো, ততবার আমি ওর হাত, পা ধরে কান্নাকাটি করে আবার সম্পর্ক জোড়া লাগাতাম। ও আমার ভালোবাসার পরীক্ষা নিতে চাইলো, আমিও পরীক্ষার জন্য রাজি হয়ে গেলাম। বন্ধুদের সাক্ষী রেখে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করলাম। বিয়ে করার পর দুই বাসায় জানালাম। দুই বাসা থেকে সাফ সাফ জানিয়ে দিলো তারা এই বিয়ে মানবে না। যে আংকেলের বাসায় থাকতাম রহমান আংকেল আমাদের কর্মকান্ডে খুব কষ্ট পেলেন।

তিনি আমাদের শুধু বললেন , ‘তোমরা দুইজন আজকে আমার দুই বন্ধুর কাছে আমাকে সারাজীবনের জন্য ছোট করে দিলে। ‘ আমরা ভয় পাচ্ছিলাম আংকেল এখন তার বাড়ি থেকে আমাদের বেরিয়ে যেতে বলবেন। তবে আংকেল অতটা অমানবিক হন নি। তিনি তার বাসায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। আংকেল শর্ত দিলেন আমাদের দুইজনের মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। যে লক্ষ্যে ঢাকা এসেছি সেটা পূরণ করতে হবে। আমরা দুইজন সেই শর্ত মেনে নিলাম।

ঘরোয়া ভাবেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। ঢাকায় চাকরির কারণে আংকেল একা থাকেন। সাথে তিনজন কাজের লোক । আন্টি তাদের একমাত্র ছেলের সাথে লন্ডনে থাকেন। তাদের ছেলে সেখানে পড়াশোনা করে। আন্টি সেখানকার একটি হাসপাতালের ডাক্তার।আমার আর অনিকের নতুন জীবন শুধু হলো। বিয়ের পর অনিকের পাগলামি আরো বেড়ে গেলো। আমাকে পড়তে বসতে দেখলে মনে হয় ওর গায়ে আগুন জ্বলে উঠে। ও সারাক্ষণ আমাকে এই কাজে, ওই কাজে ব্যস্ত রাখে।

এই বাড়িতে আমাকে কোন কাজ করতে হয় না। রান্নার জন্য আলাদা লোক আছে। কিন্তু অনিক বলতো বিয়ের পর বউয়ের হাতে রান্না খেতে হয়। আমি আগে কখনো রান্না করি নি। একদিন অনিকের জন্য রান্নাঘরে গেলাম। আংকেল দেখে খুব রাগ করলেন। অনিক বলে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে, আংকেল বলেন অনার্সে খুব ভালো রেজাল্ট করতে হবে। আংকেল বড়মুখ করে তার বাসায় আমাদের রেখেছে। আমরা দুইজনই বিগড়ে গিয়েছি। আমি আবার এইচএসসিতে খারাপ রেজাল্ট করেছি। বাসা থেকে আমাদের টাকা পয়সা দেওয়া বন্ধ, সাথে কথা বলাও। তাই আংকেল একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন আমাদের ভালো রেজাল্ট করিয়ে , ভালো চাকরি পায়িয়ে বাসায় ফেরত পাঠাবেন। আমাদের যাবতীয় খরচ এখন আংকেল দিচ্ছেন।

একদিকে আংকেল পড়তে বলেন, অন্যদিকে অনিক বলে পড়াশোনা বন্ধ করতে। আমি পড়েছি দোটানায়। আজকাল অনিক গায়ে হাতও তুলে। অনিক আমাকে পড়াশোনাই করতে দিচ্ছে না, চাকরি করা তো অনেক দূর। একদিন আমি সব আংকেলকে জানালাম। আংকেল অনিককে ডাকে। অনিক সরাসরি আংকেলকে বলেন আমি পড়াশোনা করলে সে আমার সাথে সংসার করবে না। তখন আমাদের বিয়ের বয়স মাত্র ৬ মাস। ওর মুখে এই কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। সেদিন আমি ওর পায়ে ধরে ভীষণ কান্নাকাটি করেছিলাম। কিন্তু ওর মন গলে নি। আংকেল অনেক বুঝালো কিন্তু কাজ হয় নি। পরেরদিন সে গ্রামে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। গ্রামে সে ঠিকই যায় তবে আমার কাছে আর ফিরে নি।

আমি যতবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি ততবার আমাকে শর্ত দিয়েছে পড়াশোনা , চাকরি – বাকরির চিন্তা ছেড়ে তার কাছে যেতে পারলে যেন যাই। তখন আংকেল আমাকে পরামর্শ দিলেন আমি যেন পড়াশোনায় মন দেই। সময় বলে দিবে এই সম্পর্কটা কোন দিকে যাবে। আংকেলের কথায় আমি ভরসা পাই, অনিকের কষ্টে আমি দরজা আটকিয়ে চিৎকার করে কান্না করি। আমার সেই দুঃসময়ে আংকেল মাথার উপর ছায়া হয়ে ছিলেন। আমার বাবা – মায়ের সাথে সম্পর্কটাও নিজ উদ্যোগে ঠিক করে দিয়েছেন। আমার বাবা – মায়ের অনেক অভিমান হয়েছিল। আমার খারাপ সময়ের কথা শুনে আর স্থির থাকতে পারেন নি। ছুটে এসেছিলেন।

‘ এতো কী ভাবছো ম্যাডাম ? ”আমাকে এক গ্লাস পানি দিবে ?’

‘ শিওর! ‘

আমি ঢকঢক করে পুরো দুই গ্লাস পানি খেলাম। রবিন একটা চেয়ার টেনে বসতে দিলো। আমি ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লাম। অনিকের সাথে সেই বিবাহিত সম্পর্কে ঝুলে থেকে আমি অনার্স, মাস্টার্স শেষ করলাম। ও ফিরে নি এবং কখনো আমার খোঁজও নেয় নি। সেই দিনগুলোতে পড়াশোনার সময়ে পড়াশোনা করতাম, বাকি সময়ে কেঁদে সময় পার করতাম। কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগতো না, মিশতে ইচ্ছে করতো না। আংকেল আমার মনের কষ্ট বুঝতেন। তিনি আমাকে অনেক সময় দিতেন। অনুপ্রেরণা দিতেন, সাহস জোগাতেন। মাঝে মাঝে মাথায় হাত দিয়ে বলতেন, ‘ তুই অনেক সুখী হবি। কিভাবে সুখী হবি জানি না। শুধু এটা জানি তুই অনেক সুখী হবি। ‘

আমি দুইহাত দিয়ে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেললাম।

‘আর ইউ ওকে ? ‘ পাশ থেকে রবিন জিজ্ঞেস করলো

‘ আই এম এবসিউলিটলি অলরাইট। ‘

‘তুমি জানো না তোমার চোখের পানি আমি সহ্য করতে পারি না ? ‘

‘ আমার সেই কষ্টের দিনগুলোতে বাবা আমার পাশে ছিলো। প্রায় সময় বাবা আমার মাথায় হাত রেখে বলতো আমি অনেক সুখী হবো। সত্যি আজ আমি অনেক সুখী কিন্তু বাবা নেই। হুট করে বাবার কথা মনে পড়লো । ‘

অনার্স শেষ করার পর আমি কয়েকটা কোম্পানিতে সিভি দেই। সেখান থেকে দুইটা কোম্পানিতে ডাক পাই। বাসা থেকে কাছের কোম্পানিতে জয়েন করি। চাকরির পাশাপাশি মাস্টার্স কমপ্লিট করি। মাস্টার্স শেষ করার পর খুব ভালো একটা কোম্পানিতে এপ্লাই করি। সেখানে চাকরি হয়ে যায়। একদিন বিকেলে ছাদে হাঁটাহাঁটি করার সময় আংকেল স্ট্রোক করেন। আন্টি আর উনাদের একমাত্র ছেলে দ্রুত ঢাকা আসেন। হুট করে আংকেল বিছানায় পড়ে যান। একা একা হাঁটাচলা করতে পারেন না। আংকেল আমার সংসার জোড়া লাগানোর অনেক চেষ্টা করেছেন।

সেই অসুস্থ অবস্থাতেও অনিক এবং তার পরিবারকে বারবার ডেকেছেন। তারা একবার আংকেলকে দেখতেও আসেন নি। আমি জীবনে অনেক অকৃতজ্ঞ দেখেছি কিন্তু অনিক আর তার পরিবারের মধ্যে অকৃতজ্ঞ আর দেখি নি। আমার বাবা তখন আমাকে বলেন অনিকের চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে। নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবতে। আংকেল সেই কথাতে সায় দেন। অনিককে আমি ডিভোর্স লেটার পাঠাই, সাথে আমাদের কাবিনের টাকাও আমি তাকে পাঠাই। আমি অনিককে কাবিনের টাকা পাঠিয়েছি এতে বাবা এবং আংকেল দুইজনই অবাক হন। তারা জিজ্ঞেস করেছিলেন এই কাজ আমি কেন করেছি! তাদের সেদিন উত্তর দিয়েছিলাম, ‘মেয়ে মানুষের যোগ্যতা শুধু রান্নাবান্না, স্বামীর সেবা আর বাচ্চা লালনে পালনে নয়। কাবিনের টাকা দেওয়ার যোগ্যতাও মেয়েদের থাকে। শুধু এটা বুঝানোর জন্য টাকা পাঠালাম। ‘

সেদিন রাতে আংকেল রবিনকে ডেকে বলেছিলো, ‘ এই মেয়েকে আমি বউমা হিসেবে দেখতে চাই। তোমার আপত্তি আছে ?” তুমি একা সিদ্ধান্ত নিও না। মাকেও জিজ্ঞেস করো। তোমার দুইজন রাজি থাকলে আমার আপত্তি নেই। ‘ রবিন জবাব দিয়েছিলো।

শুরুতে আন্টি মানে আমার শ্বাশুড়ি মায়ের কিছুটা আপত্তি ছিলো। পরে কিভাবে যেন আবার রাজি হয়েছেন । আইন অনুযায়ী ডিভোর্স কার্যকর হতে তিনমাস সময় লাগে। আমরা বিয়ে করেছিলাম ৬মাস পর। কারণ এর মাঝে আংকেল মানে আমার শ্বশুর আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বিয়ের পর রবিন এবং শ্বাশুড়ি মিলে নিজেদের ব্যবসা শুরু করে। কয়েকমাস পরে আমিও ওদের দলে যুক্ত হই। ব্যবসা খুব সহজে দাঁড়িয়ে যায়। শ্বাশুড়ি বেশিরভাগ সময় দেশের বাহিরে থাকেন। আমাদের ঘরে নতুন অতিথি আসলে তিনি পাকাপোক্তভাবে আমাদের কাছে চলে আসবেন।

‘ অনিককে কাল ইন্টারভিউতে ডাকবো ? ” না! ” কেন ? ‘

‘ জেনেশুনে কোন অকৃজ্ঞতকে আমাদের কোম্পানিতে জায়গা দিবো না। ‘

‘ মানুষ তো পরিবর্তনও হতে পারে! সে আগের মতো নাও থাকতে পারে! ‘

‘ খারাপ মানুষ ভালো হতে পারে। অকৃজ্ঞত মানুষ কখনো ভালো হতে পারে না। ‘

‘ শুধু পড়াশোনা করার কারণে যে ছেলে তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো, সেই ছেলের তোমার বর্তমান অবস্থান দেখা উচিত। আমার কাছে অন্ততপক্ষে এটা মনে হয়। ‘

‘ দোয়া করি তোমার মতো বর প্রতিটা মেয়ে পাক। ‘

‘ তাহলে প্রতিটা মেয়েকে তোমার মতো লড়াই করতে হবে। ‘

‘কম হোক আর বেশি হোক। লড়াই প্রতিটা মেয়েই করে। তবে সুখ খুব কম মেয়েরই কপালে জুটে। ‘

‘ অনিককে ডাকবো ? ‘

‘ ডাকো। ও ইন্টারভিউতে না টিকলেও কাল ওকে চাকরি দিবো। তারপর নুপুরের আন্ডারে কাজ করতে দিবো। মেয়েদের যোগ্যতা সম্পর্কে ওর ধারণা পাল্টে দিবো। ‘

‘ এতোটা রুড হওয়ার দরকার নেই, তিথি। ও অলরেডি ওর শাস্তি পাচ্ছে। ‘

‘তুমি খুব পজেটিভ মানুষ। ‘

‘ আমাদের সকলের তাই হওয়া উচিত। ‘

আমি রবিনের বুকে মাথা রেখে ভাবছি কতটা পুণ্য করলে এমন একটা পজেটিভ বর পাওয়া যায়।

Send private message to author
What’s your Reaction?
1
6
0
0
0
0
2
Share:FacebookX
Avatar photo
Written by
Farjana Akter
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
13 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Nahid
Guest
Nahid
4 years ago

প্রধান চরিত্রটা মেয়ের।তাই আমার কেমন জানি লেগেছে।তারপর সেই গল্প আর বয়সের তুলনায় আমি বাচ্চা।তাই আমার কাছে মনে হয়েছে “ন্যাহ”। এজন্য আমি আমার এক সিনিয়র আপু কে গল্পটা পড়তে দেই।তার রিয়েকশন ছিলো এই রকম” 😶😶😶😶”।যাই হোক পুরোটা শেষ করার পর আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম যে গল্পটা ভালো লেগেছে নাকি লাগেনি।

ওইগুলা আলাপ বাদদিয়া এখন আসি ভুল ত্রুটির দিকে।
💥নেরেশন এ একক উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যুগল উদ্ধৃতি চিহ্নে কয়েক জায়গায় ভুল ছিল।ভালো করে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন।
💥অনিককে এক জায়গায় মধ্যম পুরুষ থেকে উত্তম পুরুষ বানিয়ে দেয়া হয়েছে।যেমন —“আমার কথা শুনে তিনি হাসতেন।”
💥তোমার দুই জন লেখা হয়েছে তোমরা দুই জন এর জায়গায়।

💥একটা বিষয় আমার কাছে খারাপ লেগেছে যে লেখিকা ব্যান্ড আর ব্র‍্যান্ড এর পার্থক্য বোঝেননা।

উপরোক্ত কথা গুলো একজন সমালোচক হিসেবে আমি বলেছি।এটা ভাবার কোন কারন নেই যে আমি নারী শিক্ষার বিরোধ।লেখার বিষয়ের উপর আমি কিছু বলিনি।❤️বিষয়টা ভালো ছিলো।

আমি ১০ এ ৬ দিতে পারি।

বেস্ট উইশ টু ফারজানা।

Farjana Akter
Guest
Farjana Akter
4 years ago
Reply to  Nahid

আপনার মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। এতো সূক্ষ্মভাবে ভুলগুলো তুলে এনেছেন তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আমার সত্যি খুবই ভালো লাগছে যে ভুল সবার চোখ এড়িয়ে গিয়েছে সেইসব ভুল আপনি খেয়াল করেছেন। আমি মাত্র শখে লিখছি। ‘লেখিকা ‘ হওয়ার মতো যোগ্যতা এখনো আমার হয়নি।

‘ তোমার দুই জন লেখা হয়েছে তোমরা দুই জন এর জায়গায় ‘ এই লাইনটা আমাকে খুব অবাক করেছে। আপনি খুবই মনোযোগী পাঠক। আপনার জন্য শুভকামনা।

‘ একটা বিষয় আমার কাছে খারাপ লেগেছে যে লেখিকা ব্যান্ড আর ব্র‍্যান্ড এর পার্থক্য বোঝেননা ‘ আমি লেখিকা হয়ে উঠিনি এখনো। আমি ফারজানা। হয়তো বুঝি! বানানে সতর্ক ছিলাম না। এটাও আমার বিরাট লিমিটেশন ছিল।

আপনি যে ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবো। আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনি ভালো থাকবেন।

Tanzila Sultana
Guest
Tanzila Sultana
4 years ago

“পজেটিভ মানুষ” গল্পটিতে সমাজের এক অপ্রিয় সত্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।নারী পুরুষ সমান অধিকার বলা হলেও আসলে যে বাস্তবে তা মানা হয় না সেটারই এক খন্ড চিত্র এই গল্প।দেখতে সুন্দর হলেই যে সে মানুষ সুন্দর মন মানসিকতার অধিকারী হবে তা নয়।লেখিকার বর্ণনাতেও এমন এক মানুষের কথা উঠে এসেছে।তিথি নামক মেয়েটির প্রাক্তন স্বামীর ভুবন ভোলানো হাসি তার দোষকে ডেকে রাখতে পারেনি। সে একাধারে নারীদের প্রতি ছিল অশ্রদ্ধাশীল এবং উপকারী ব্যক্তির প্রতি ছিল অকৃতজ্ঞ।
তিথির অতীত এবং বর্তমান একটি অপরটির বিপরীত।তিথি অনিকের কাছ থেকে যে অসম্মান ও কষ্ট পেয়েছিল রবিন তার সম্পূর্ণটা পুষিয়ে দেয়।একই সমাজে বসবাসরত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় এ গল্পে। এ গল্পে লেখিকা বলতে চেয়েছেন মেয়েরাও যোগ্যতার দিক থেকে ছেলেদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

এবার আসি গল্পের দূর্বলতার দিকে।আমরা নারীদের বিজয়ের অনেক গল্প পড়েছি,শুনেছি। সেই তুলনায় এই গল্প অত্যন্ত সাদামাট। গল্পে হুট করেই রবিনকে বিয়ে করে ফেলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই রবিন কে সেইটার সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয় নি।এটা যেন সম্পূর্ণ পাঠকের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।রহমানের আংকেলের ছেলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে আমার মনে হয়।তবে গল্পের চরিত্র নিয়ে সম্ভাবনা দাঁড় করানো সহজেই বলে দেয় গল্পের বর্ণনাভঙ্গি দূর্বল।
ব্যক্তিগত রেটিং ৩/৫।

Farjana Akter
Guest
Farjana Akter
4 years ago

ভালোবাসা নিবেন আপু। গল্পের যে দুর্বলতা আপনি ধরিয়ে দিয়েছেন পরবর্তীতে সে সকল বিষয়ে সতর্ক থাকবো। আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনি ভালো থাকবেন।

‘ লেখিকা ‘ শব্দটা ধারণ করার জন্য যোগ্যতা আমি এখনো অর্জন করতে পারিনি। মাত্র শখে লিখছি।

শিবলী সাইক
Guest
শিবলী সাইক
4 years ago

বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি নারী। একজন হৃদয়বান পুরুষ অবশ্যই নারীর রূপ মাধুর্য ও বাকচাতুর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারেন না। আর সেই নারী যদি হয় “পজেটিভ মানুষ” গল্পের তিথির মতো একজন হৃদয় দরদী, তাহলে তো কথাই নেই। এমন মেয়েদেরকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতে হয়, কখনো কষ্ট দিতে নেই। তাহলে সেই মেয়েটি চেষ্টা করবে বহুগুণ বেশি ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবার।

কিন্তু এই গল্পের অনিক নিতান্তই একজন হতভাগা। সে বুঝতে পারেনি, কি রত্ন তার কাছে এসেছিল! তিথির মতো এমন রমণীরত্ন এই বেদনার পৃথিবীতে খুব কমই পাওয়া যায়। অনিক পেয়েছিলো কিন্তু সে সেই রত্নের অবমূল্যায়ন করেছে। যার কারণে সে রত্ন হাতে পেয়েও হারিয়ে ফেললো। সত্যিই, অনিকের জন্য আমার সত্যিই করুণ হয়।

এই গল্পে একটা কথা আমার হৃদয় স্পর্শ করে গেলো। সৃষ্টিকর্তা আমাদের থেকে যা কেড়ে নেন, তার থেকে বহুগুণে ফিরিয়ে দেন। কথাটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

তিথির কোনো দোষ ছিলো না। কিন্তু তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হারাতে হলো ভালোবাসা। অনিকের পা পর্যন্ত ধরলো মেয়েটা কিন্তু তবুও শেষ রক্ষা হলো না। খুব কষ্ট হলো তিথির জন্য। কিন্তু তিথির দুঃখ করার কিছু নেই। আসলে সৃষ্টিকর্তা যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। অনিক কখনোই তিথির যোগ্য ছিলো না। অনিকের সাথে যদি তার দাম্পত্যজীবন টিকে যেত, হয়তো ভবিষ্যতে আরও বড়ো সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো তিথিকে। সৃষ্টিকর্তা তিথিকে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

তিথির জন্য রবিনই সবচেয়ে উপযুক্ত। রবিন মূল্যবান জিনিসের সঠিক মূল্যায়ন করতে জানে। এজন্য তিথির মতো রত্ন সদৃশ রমণীকে সে হৃদয় উজাড় করে ভালোবেসেছে।

আমি হৃদয় থেকে কামনা করি, তিথির মতো এমন রত্ন সদৃশ রমণী যেন প্রত্যেক ঘরে ঘরে হয়।

Farjana Akter
Guest
Farjana Akter
4 years ago

আপনার কমেন্টস পড়ে খুব ভালো লেগেছে। খুব সুন্দরভাবে আপনার অভিমত প্রকাশ করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।

Nafisha
Guest
Nafisha
4 years ago

লেখিকা খুব নিখুঁতভাবে নারী শক্তির জাগরণ কে প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি নারীকেই হাজারো বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে নিজের সাথে লড়াই করে বাঁচতে হয়। খুব কম নারীই জয়ী হয় সেই লড়াইয়ে। নারীরা যে সব পারে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে। নিষ্ঠুর স্বার্থপরতাকে পিছনে ফেলে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। ক্ষমাসুলভ বৈশিষ্ট্য খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে লেখাটিতে।
ধন্যবাদ লেখিকাকে এত সুন্দর একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।

Farjana Akter
Guest
Farjana Akter
4 years ago
Reply to  Nafisha

আপনি খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন যা আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। ‘ লেখিকা ‘ শব্দটার ওজন অনেক বেশি। এই ওজন বহন করার শক্তি আমি এখনো অর্জন করিনি। শখে লিখছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।

sanjida suma
Guest
sanjida suma
4 years ago

ছোট গল্পের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “শেষ হয়েও হইল না শেষ ” এই গল্পের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে। জানতে ইচ্ছে হচ্ছে অনিকের জীবনে পরবর্তীতে কি কি হয়েছিল।
আমাদের সমাজে, ‘মেয়ে মানুষ আবার চাকরিও করে’ টাইপ একটা কথা আছে। এই লেখাটা তাদের পড়া উচিত। একটা মেয়েও মানুষ আল্লাহ জ্ঞান বুদ্ধি তাকেও কম দেন নি যে শুধু অসমতার স্বীকার হয়েই তাকে চলতে হবে। একটা মেয়ে যদি মন থেকে চায় তবে তিথির মতো সেও তার ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম। তবে স্বামী হিসেবে রবিনের মতো মানুষ কতজন পাবে জানিনা। কারণ ওই যে পুরুষ মস্তিষ্কে নারীর আদি ছাপ টাই এখনো রয়ে গেছে।

গল্পের ভুল ত্রুটি নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলছেন তাই সেটা নিয়ে কিছু বলব না। আসলে যারা লেখা লেখি করেন বিষয়টি তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, একটা গল্প নিজের মতো সাজিয়ে লিখতে গেলে এমন কিছু চিহ্ন উলটাপালটা হয়েই যায়।
সব মিলিয়ে আমার কাছে কিন্তু গল্পটি ভালো লেখেছে। লেখিকা আপুর জন্য শুভকামনা রইল।

Farjana
Guest
Farjana
4 years ago
Reply to  sanjida suma

আপু, আপনার মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী লেখাতে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ‘ লেখিকা ‘ শব্দটার ওজন অনেক বেশি। এই ওজন বহন করার শক্তি আমি এখনো অর্জন করিনি। শখে লিখছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।

1
Farjana Akter
Guest
Farjana Akter
4 years ago
Reply to  sanjida suma

আপু, আপনার মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী লেখাতে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ‘ লেখিকা ‘ শব্দটার ওজন অনেক বেশি। এই ওজন বহন করার শক্তি আমি এখনো অর্জন করিনি। শখে লিখছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।

Ananna aktar onu
Guest
Ananna aktar onu
4 years ago

পজেটিভ মানুষ’ নামক এই ছোট গল্পে প্রকাশ পেয়েছে একজন নারীর পড়াশোনা করার যুদ্ধ
ও অতীতের পিছুটানকে জয় করার ক্ষমতা।আজকের নারী পুরুষ সমান অধিকার।একজন পুরুষ সমাজে যে অবদান রাখতে পারে একজন নারী ও সেই অবদান রাখতে পারে।নারী বলে সে পুরুষের কাছ থেকে পিছিয়ে থাকবে এমন মনোভাব থাকা অহেতুক অন্যায়।নারী পুরুষ উভয়ই যদি সংসারের হাল ধরে তবে সমাজ অনেক দ্রুত এগিয়ে যাবে।গল্পের তিথি তার বাবার বন্ধুর বাসায় থেকে পড়াশোনা করে।সেই একই বাসায় অনিক নামে আরেকটি ছেলে থাকে।সময়ের ধারায় দুজনের মধ্যেই অনেক ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও এই বন্ধুত্ব একসময় ভালোবাসায় রুপ নেয়।তবে তিথির পড়াশোনা অনিকের তেমন পছন্দ ছিল না।অনিকের মন মানষিকতা ছিল আগের যুগের মানুষদের মতো।দুজনেই বাড়ির অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করে।তবে বিয়ের পর অনিকের আসল রুপ বের হয়।অনিক তিথিকে পড়াশোনা করতে দেয় না।একসময় অনিক তিথি কে ছেড়ে চলে যায় আর শর্ত দেয় তার সাথে থাকতে হলে তাকে পড়াশোনা ছাড়তে হবে।এর ফলে বোঝা যায় অনিকের নিম্ন মানসিকতার পরিচয়।অনেক কষ্টের মধ্যে তিথির দিন গেলেও সে পড়াশোনা ছাড়ে নি।একসময় সে নিজের পায়ে দাঁড়ায়।সমাজে সে তার আত্নপরিচয় গড়ে তোলে।তার সব কষ্ট দূর করে তার বর্তমান স্বামী রবিন।রবিনের মতো মানুষ সমাজের একটা মেয়ের জীবন পাল্টে দিতে পারে।তারা নারীদের সম্মান দিয়ে তাদের যোগ্য অধিকার দেয়।রবিন ও তিথির দাম্পত্য জীবন বেশ সুখের।তবে সময়ের বিবর্তনে একসময় অনিক কে তিথির সামনে উপস্থিত হতে হয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে।একেই বলে রিভেঞ্জ অফ নেচার।তুমি প্রকৃতিকে যা দেবে দেবে প্রকৃতি তোমায় তা আবার ফিরিয়ে দেবে।একজন পজিটিভ মানুষ ই পারে সমাজ ও সংসার কে সুন্দর ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
শেষে আমরা এই উপলব্ধি করতে পারি যে সমাজ ও সংসার গঠনে নারী ও পুরুষের অবদান সমান অপরিহার্য।ও একজন মানুষের মধ্যে কতটা পজেটিভিটি থাকা প্রয়োজন।

Farjana Akter
Guest
Farjana Akter
4 years ago

আপু, গল্প পরে আজকাল কেউ আর নিজের অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করে না। আপনি করেছেন। অনেক কৃতজ্ঞতা জানবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!