একটা বেঞ্চিতে বসে আছি, একদম চুপচাপ হয়ে আকাশ দেখছি, দুইটা কবুতর উড়ে যাচ্ছে তাদের নীড়ে। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে কবুতর দুটোর দিকে তাকিয়ে আছি, দৃষ্টিসীমার বাহিরে যাওয়ার আগেই দেখলাম দুইটা কবুতর দুই দিকে চলে গেলো, প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো একই নীড় তাদের গন্তব্য কিন্তু না আমাদের সকল চিন্তা ভাবনা সবসময় সঠিক হয় না৷ হলোও তাই।
বেঞ্চি টা কোন পার্কের নয়, একটা রেল স্টেশনের পুরোনো বেঞ্চ।
এমন একটা রেলস্টেশনই আমি প্রায়শ স্বপ্নে দেখি কিংবা কল্পনা করি, স্টেশনটায় ঢুকার পথেই একটা হাসনাহেনা গাছ এবং একটা শিউলি ফুল গাছ৷
এই গাছ দুটোর জন্যই স্টেশন টা আমার এতো ভালো লাগে৷ যদিও আমার প্রিয় ফুল বেলী।
ভালো লাগার কোন শেষ নেই, যেমনটা শেষ নেই এই শহরের স্মৃতি ।
একটা পিচ্চি ছেলে পায়ে ধরে বসে আছে, সচরাচর স্টেশনে যা হয় আরকি৷
ভাইয়া পাঁচ টেয়া দেন ক্ষিধা লাগছে খাবো, আমি সাধারণত এ ক্ষেত্রে টাকা দিই না তবে যা খেতে চায় খাওয়াই, যায়হোক দুটো চপ খেলো বিল টা আমি দিয়ে দিলাম৷
জিবনে চলতে ফিরতে কত জনের সাথেই না দেখা হয়।
বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না, রেল লাইন ধরে সামনের দিকে হাটা শুরু করলাম, সন্ধ্যা নেমে আসছে, একটা কাপল কে দেখলাম বাসায় ফেরার তাড়াহুড়ো নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে৷ এমন একটা বিকাল নিসন্দেহে তাদের জন্য সুন্দর স্মৃতি।
আমারও খারাপ লাগছে না, একটা সিগারেট জ্বালিয়ে সামনের দিকে হাটা শুরু করলাম।
জানিনা কতটুকু যেতে পারবো শুধু এটুকু জানি ঘরে ফেরার তাড়া আমার নেই, না আমি কবুতর জোড়া, না আমি বিকেলে ঘুরাঘুরি শেষে তাড়াহুড়ো করে নীড়ে ফিরে যাওয়া কাপল৷
আমি গন্তব্যহীন একজন মানুষ, এসেছি কিছুটা মায়া কুড়িয়ে হারিয়ে যেতে।
ভালো থেকো প্রিয় শহরের ঘাসফুল( সিঙ্গাপুর ডেইজি), ভালো থেকো হারিয়ে যাওয়া সময়, ভালো থেকো দুই দিকে চলে যাওয়া শেষ বিকেলের কবুতর।
– Md Mehedi Hasan
Send private message to author



