শেষ প্রান্তে

আমি যখন আট ক্লাসে পড়ি তখন আমার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়।বাবা মা কে তালাক দিয়ে বিদেশি এক মেয়ে কে বিয়ে করে বিদেশে চলে যায়।আদালতে অন্য বাচ্চাদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য বাবা মায়ের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব চললেও আমার বেলায় ভিন্ন আমাকে কেউ নিতে আগ্রহী না।বাবা বিদেশে চলে যাবে আমায় সে সঙ্গে রাখতে পারবে না।মা আমার ব্যাপারে উদাসীন! বাবার কোন চিন্হ মা দেখতে রাজি না।বাবা আমার সকল খরচ বহন করবে সেই চুক্তিতে আমার জায়গা হয় নানি বাড়িতে।

বাবা মা আলাদা হওয়ার অনেক আগে থেকেই আমি বাবা মা হারিয়েছি।ওরা কখনো আমায় সন্তান বলে বুকে টেনে নেইনি।আমি বেড়ে উঠেছি একা একা। যে বয়সে অন্যরা বাবা মায়ের ছায়ার তলে থাকে তখনও আমি একা চলতে শিখেছি।আমাকে কেউ কখনো স্কুলে নিয়ে যাইনি! আমার স্কুলের কোন অনুষ্ঠানে ওরা উপস্থিত ছিলনা।আমি যখন ক্লাস ফাইভে মেধাতালিকায় বৃত্তি পেলাম সেখুশির সংবাদ আমি কারো সাথে ভাগকরতে পারিনি।কেমন করে যেন আমি ওই বয়সে বুঝতে শিখেছি এই দুনিয়ায় আমায় একা চলতে হবে।আমি সবার থেকে আলাদা!

বাবা মায়ের মাঝে যখন তুমুল ঝগড়া হতো আমি পাশের রুম থেকে ওদের চেচামেচি শুনতাম।সে সময়টায় মাঝে মাঝে মা আমার রুমে আসতো।আমার পাশে এসে বসতো।কেমন হতাশাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে থাকতো।তারপর হঠাৎ করে আমায় জড়িয়ে ধরতো। মায়ের হাতের বাধন এতো শক্ত হতো আমার পিঠে ব্যথার যন্ত্রণা ফুটে উঠতো আমি কুঁকড়ে থাকতাম।কোন শব্দ করতাম না।মায়ের মুখে কোন ভাষা ছিলনা।আমি বুঝতাম মায়ের বুকের ভীতর একটা বিশাল গর্ত হয়েছে।আমায় জড়িয়ে মা সে শুন্যতা পূরন করতে চায়।কিন্তু মা আমায় ছেড়ে উঠে যেতো আমি বুঝতাম আমি মায়ের দুঃখের শুন্যতা পূরন করতে পারিনি।আমি হতাশ হতাম! কেঁদে ফেলতাম! নিজেকে ছোট মনে হতো! বড় হওয়ার সাধ জাগতো!

বাবা বিদেশ চলে গেছে আমি এখন নানা বাড়িতে থাকি। নানা মারা গেছে বহু বছর। মা এখন আমায় দেখলে চিৎকার করে উঠে।মাঝে মাঝে আমি লুকিয়ে শুনি নানি মাকে ধমকাচ্ছে নিজের ছেলেকে কেন এমন কষ্ট দেছ!
ওর কি দোষ? মা কেঁদে উঠে নানিকে বলে আমি কি করবো! ওকে দেখলে আমার শয়তানটার কথা মনে পড়ে যায়, আমি সহ্য করতে পারি না মা!আমি জানি ওর উপর দিয়ে কি ঝড় যাচ্ছে। ওতো জন্ম থেকেই কষ্টের সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে! নানি নিশ্চুপ হয়ে যায় মায়ের কথায়।আমার দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ে! আমি আমার রুমে এসে শুয়ে থাকি।জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি।গাল দুটি ভিজে যায়!

মায়ের কষ্ট বেশীদিন দেখতে হয়নি একদিন মাও আমায় ফেলে একজনের হাত ধরে পাড়ি দেয় দূর দেশে।আমি পড়ে থাকি বৃদ্ধ নানির কাছে।বাবা তার কথা রেখেছে প্রতিমাসে টাকা পাঠায়, যা পাঠায় তা কম নয়।আমাদের দুজনের খুব ভালোভাবে চলে যায়।নানির আদরে জীবনটা আনন্দে ভরে উঠলো।জীবনের প্রথম এমন সুখের পরশ পেলাম!এস,এস,সিতে খুব ভালোভাবে পাশ করি।নানি খুব খুশি হয়! বাবা আমাকে মাঝেমধ্যে কল দিয়ে কথা বলে।খুব কষ্ট লাগে মা আমার সাথে কখনো কথা বলে না।আমার পরীক্ষার রেজাল্টের খবর নানির কাছে শুনার পরও মা আমার সাথে কথা বলেনি! বাবা বেশ খুশি হয়েছে! আমার সাথে সেইদিন দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেছে।

কলেজে ভর্তি হলাম, নতুন জীবন ভালো কাটছিলো। আমার জীবনের সুখের রেখা এতে সুরু একটু সুখ আসলেই মহুর্তে তা মিলিয়ে যায়।কপালে এসুখ বেশিদিন সহ্য হলো না।নানি আমায় ছেড়ে চলে গেল না ফেরার দেশে! নানির মৃত্যুর খবরেও মা দেশে আসেনি!এতো বড় দুনিয়ায় আমি আবার একা হয়ে গেলাম।

বাবা তার এক বন্ধুর মাধ্যমে আমাকে হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।আমি তখন কলেজে পড়ি,নিজেই সব পারি।অবশ্য আমি অনেক আগে থেকেই একা চলা শিখেছি। বাচ্চারা যখন মায়ের হাত ছাড়া খেতেই চায়না সে বয়সে আমি একা একা খাবার খেয়েছি।বাকী জীবন পথটা একা একা চলবো, জানি না জীবন আমায় নিয়ে কি খেলা খেলছে!

টেবিলে রাখা হাতুড়িটা দুবার বারি দিলেন জজ।কোন শব্দ হলো কিনা বুঝতে পারলাম না।হাতের ইশারায় থামালেন এতোক্ষণ জবানবন্দি দেয়া নোমান কে।
জজের মাথার উপরে দেয়াল ঘড়িটা জানান দিচ্ছে বেলা এখন দুপুর হয়েছে। লাঞ্চের সময় কিছুটা অতিক্রম হয়েছে। ছেলেটার কথায় সবাই মুগ্ধ হয়ে গেছে।লাঞ্চের পর হয়তো আবার জবানবন্দি শুনানি হবে।আপাতত ঘন্টাখানিক সময় পাওয়া গেলো।আরেকটু সময় পেলে নিতুর সাথে একবার দেখা করে আসা যেতো।অবশ্যই তার জন্য নিতুকে আগে বলতে হতো,না আজ আর সম্ভব হবে না।সোহেল ভাইয়ের কল,সোহেল ভাই হলো আমার সিনিয়র বস,একটি পত্রিকার ক্রাইম বিভাগের প্রধান।
হ্যালো
কি খবর নাবিল?
জী ভাল,কেসটায় ভাল মসলা আছে,আজকে ছেলের জবানবন্দিতে একটু লবন দিয়ে লিখলে পাবলিক ভালোই খাবে।
তুমি আমাকে আপডেট জানিয়ে কেমন।
ওকে ভাইয়া বায়।

একেসটা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।একজন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র আসামীর কাঠগড়ায়! পত্রিকার একজন জুনিয়র সাংবাদিক হিসাবে আমাকে কেসটার খবর সংগ্রহ করার দায়িত্ব দিয়েছে আমার সিনিয়র সোহেল ভাই।অবশ্য সোহেল ভাই সবসময় আমাকে সাহায্য করছে।লাঞ্চের পর ঠিক আবার জবানবন্দি শুনা হবে কিনা বুঝতে পারছিনা।
এজজের ব্যাপারে যতটুকু শুনেছি খুবই জাদরেল জজ।এ যুগে এমন সৎ লোকের দেখামেলা ভার! কেসটার সবচেয়ে আকর্শনীয় দিক হচ্ছে ছেলেটা কোন উকিল নেয়নি।অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত! একবার রায় হলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ হারাবে।

লাঞ্চের সময় পেড়িয়ে গেছে সকলে উপস্থিত। জজ সাহেব এখনো আসেনি।আদালতে উপস্থিত সকল মানুষের চেহারায় চিন্তার ছাপ।সকল মানুষ এখন ছেলেটার মায়ায় পড়ে গেছে।মেয়েরা ফিসফিস করছে আহা! ছেলেটার জীবন কত কষ্টের। অবশ্য সকল অপরাধীর জীবনে একটা ভয়ংকর কষ্টের অধ্যায় থাকে।একজন মানুষতো এমনি অপরাধে জড়িয়ে পড়েনা।ছেলেটির মায়ায় পড়ার আরেকটা বড় কারন আছে অসম্ভব মায়াবী মুখ! দেখলে কেমন নিস্পাপ লাগে!আমি নিজেই কেমন মায়ায় পড়ে যাচ্ছি। সোহেল ভাই প্রায়ই বলে নাবিল “তুমি ভালো ক্রাইম রিপোর্টার হতে পারবা না,তোমার আবেগটা বড্ড বেশী।ক্রাইম রিপোর্টারদের হতে হয় ডাক্তারের মত হৃদয়হীন নিষ্ঠুর,হার্ট কেটে জোড়া লাগাতে হয়।না হলে তুমি বড় অপরাধীর পিছনের খবর দেখবানা।দুনিয়ায় দুই ধরনের মানুষের অতিইন্দ্রীয় ক্ষমতা থাকে এক সাধুপুরুষ আর যারা বড় ধরনের অপরাধী। এরা নিজেদের আবেগ ধমন করতে জানে।

পুরো আদালতের কামরাটা সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।সবার মধ্যে একটা চাপা কষ্ট দেখা যাচ্ছে! মানুষ জাতি বড়ই অদ্ভুত! আজ যদি এই ছেলের কোন বিচার না হতো এ মানুষেরাই আইনের সমালোচনা করতো।এখন ছেলেটির প্রতি দরদী হয়ে উঠেছে। জজ সাহেব এসে পড়েছে।সবাই তাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো।হাতের ইশারায় বসতে বলে নিজে চেয়ারে বসে পরবর্তী কার্জক্রম শুরু করার নির্দেষ দিলো।

নোমান কে আনা হয়েছে আগেই, না নোমান স্বাভাবিকভাবে এসেছে তাকে কোন প্রকার হাতকড়া পড়ানো হয়নি।সে পুলিশের সাথে কোন ধরনের ঝামেলায় জড়ায়নি এপর্যন্ত।খুব শান্তশিষ্ট, বেশ লম্বা, গায়ের বর্ণ উজ্জ্বল শ্যামলা,অনেকটা সিনেমার নায়কদের মতো এতো মায়া মায়া চেহারার ছেলেটি এতো ভয়ংকর অপরাধ করেছে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে!

নোমান বলতে শুরু করলো,হোস্টেলে উঠে আমি অনেক বন্ধু পেলাম এমন না।আমি খুব বেশি মানুষের সাথে মিশতে জানিনা।একা একা চলার স্বভাব আমায় সবার থেকে আলাদা করে দেয়।হাতেগুনা দুয়েকজনের সাথে সামান্য ঘনিষ্ঠতা হয়।সেটা ওদের তাড়নায় আমার কোন আগ্রহ ছিলনা।
আমি মেতে থাকি সারাক্ষণ বইয়ের মাঝে।জগতে বই আমার আপন হয়ে উঠলো।কলেজের শিক্ষকরা আমাকে আলাদাভাবে কদর করতো আমার জ্ঞান পিপাসা দেখে।বরাবরের মত এইচ,এস,সিতে আমি দুর্দান্ত ফলাফল করলাম।মায়ের সাথে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন! বাবা নিয়মিত টাকা পয়সা দেয় এবং খবর রাখে।আমি পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় আমাকে নিয়ে তার হয়তো কিছু স্বপ্ন গড়ে উঠেছে। এইচ,এস,সি পাশ করার পর বাবা একবার দেশে এসে আমার সাথে দেখা করে যায়।সেটাও মাত্র একদিনের জন্য এসেছিলো।

ভর্তি পরীক্ষায় খুব ভালো করলাম প্রথম সারিতে আমার স্থান ছিলো।শুরু হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটির জীবন। যদিও বাবা বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য বলেছিলো তবুও আমি রয়ে গেলাম।কিসের টানে থাকলাম জানি না! দেশটা ছাড়তে ইচ্ছে করলো না।আমার জীবনেতো এমন কোন স্বপ্ন নেই! কেউ আমার বড় হওয়ার আশায় বসে নেই।মানুষ যেমন নেশায় জড়িয়ে যায়।
পড়াশোনাটা আমার নেশা।এমন না আমি বড় স্বপ্ন দেখি।পড়তে ভালো লাগে তাই পড়ি।স্বপ্ন দেখাতো শিখতে হয় বা দেখার কারন থাকে।না আমায় কেউ শিখিয়েছে না কোন কারন আছে।বায়োকেমিস্ট নিয়ে পড়া আমি নিজের মত ক্লাস করি অনেকটা একা চলি।ইউনিভার্সিটিতে কয়েকজন বন্ধু হলো।এদের সাথে এক আধটু আড্ডায় বসি। এভাবেই পরিচয় হলো কনার সাথে।কনা নিজ থেকে আমার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিল দিনে দিনে।

আমি ভালোবাসায় অভ্যস্ত নয়।প্রথম প্রথম কনার কেয়ার নেয়াটা আমার বিরক্তিকর মনে হত।ধীরে ধীরে মরা গাছে ফুল ফুটার মত আমার ভীতরে ভালোবাসার বীজ বপন হতে শুরু করে।আমিও একটু একটু সুখের পরশ পেতে শুরু করলাম।এজীবনে প্রথম এমন সুখ অনুভব করতে লাগলাম।মরুভূমির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া পথিক হঠাৎ পানির সন্ধান পেলে যেমন হয়।শুষ্ক খা খা করা হৃদয়টা একটু একটু সবুজের ছোঁয়া পেতে লাগলো।
কি আনন্দে দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল,তা ভাষায় বলা যায় না।পৃথিবীর ভাষার ক্ষমতা খুব সীমিত। এ ভাষায় সব প্রকাশ করা যায় না।

বিধাতা আমার জীবনের সুখরেখা এতোটা রাখেনি! একটু সুখের পরশ পেলেই তা হারিয়ে যায়! এসুখ আমার জীবনে বেশীদিন সহে কেমনে!
সেদিন রাতে কনা বের হয়েছিলো কি কারনে জানি না।এজীবনে জানা হবে না।এমনিতে এতো রাতে কখনও কনা বের হয় না।বের হয়ে আমায় কল দিয়ে টি,এস,সিতে দ্রুত যেতে বললো।আমায় নাকি দেখতে খুব ইচ্ছে করছে! আমি বিস্মিত হলাম।একোন কনা! এতোটা পাগলামি কনার মাঝে ছিলনা।হল থেকে বের হয়ে টি,এস,সিতে চলে আসলাম বিশ মিনিটের মধ্য। কিন্তু কনা নেই! নাম্বারে কল দিলাম বন্ধ। মাথা কাজ করছে না।পুরো জায়গাটা খুঁজে দেখলাম, না কোথাও নেই! কনা কি মজা করলো?
এমনতো করে না।মজা করলে নাম্বার বন্ধ কেন করবে? ঘন্টাখানিক ঘুরেফিরে দেখে না পেয়ে ফিরলাম হলে।মনটা কেমন আনচান করছে!
কি হলো? এই কিছুক্ষণ আগে কথা হলো।একবার ভাবলাম ওর হলে খবর নেই।ভাবলাম এতো রাতে এটা অন্যদিকে মোড় নিবে।রাতটা কাটিয়ে সকালে খবর নিতে হবে।

আমার জীবনের সূর্য উদিত হয়নি! যেটুকু আলো এসেছিল তা নিবে যাওয়ার খবর পৌঁছায় সকাল হওয়ার আগে।কনা এখন হাসপাতালে ভর্তি।তার অবস্থা ভালো না। আমার বন্ধু খবর নিয়ে আসে।কি হয়েছে কনার? কেমন করে হলো? আমার হাজারটা প্রশ্নের একটা উওর কনাকে ধর্ষন করা হয়েছে!

ছুটে গেলাম হাসপাতালে আমার জীবনের একমাত্র বেচে থাকার অবলম্বন কনা শুয়ে আছে কাঁচে ঘেরা অতি যত্নে আই,সি,ইউ তে! চোখের সামনে ভেসে উঠেছে হৃদয়ের ঢেউ খেলা।মনে হয় আমার হার্টটা কে দেখতে পাচ্ছি ছোট মনিটরের পর্দায়!সব বন্ধুরা ছুটে এসেছে। কনার বাবা মা দাঁড়িয়ে আছে। আমায় দেখে কনার মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।আমার ভীতরে মনে হয় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে! এতো জ্বলছে! কনার সারা দেহে আঘাতের চিন্হ।

ডাক্তারদের দৌড়াদৌড়ি শুরু হলো,আমার চোখতো এক সেকেন্ডের জন্য ছোট মনিটর থেকে সরে নাই।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমার হৃদয়ের ছন্দের দিকে।একবার ঢেউগুলো বড় হয় আবার ছোট হয়।এমন চলতে চলতে একটা সময় সাগরের ঢেউ বড় থেকে ধীরে ধীরে পাড়ে এসে ছোট হয়ে মিলিয়ে যায় তেমন করে মিলিয়ে গেল।
কনার হৃদয় স্পন্দন এক সময় থেমে গেলো।এই চব্বিশ ঘন্টা আমি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছি। কি করে দুটি জীবনের সমাপ্তি হয়।আমি আমার মৃত্যু দেখেছি নিজের চোখে ছোট ওই কাচের ঘরটাতে।

কাঠের হৃদয় বলে পরিচিত জজ পকেট থেকে রুমালটা বের করলো।পিছনে দেয়াল ঘড়ির পানে সময় দেখার ভান করে রুমালহাতটি উপরে তুললো কয়েকবার একই দৃশ্য দেখলাম! আদালতের একামরার ধুসর বর্নের ফ্লোরটি নানা রংয়ের মোচড়ানো ভিজা টিস্যুর রং ধারন করেছে।সোহেল ভাই এখানে উপস্থিত থাকলে কি করতো জানিনা।আমি আমার রুমাল জজের মতো বহুবার ব্যবহার করেছি।

একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নোমান আবার বলা শুরু করলো।জানেন স্যার কনার দাফন করার সময় যায়নি।একটা লাশ কি অন্য লাশের দাফন করে!
হাসপাতাল থেকে সোজা হলে এসেছি। না আমি একটুও কাদিনি।সব বন্ধুরা আমার আচরণে ভরকে গেছে!প্রথমে ভাবলাম আমিতো মরেই গেছি দেহটাকে শেষ করে দেই।পরে মনে হলো কনা বলছে তুমি এভাবে মরতে পারো না।তুমি কেন আত্মহত্যা করবে!

সেদিন রাতেই অল্পপরিচিত এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে অস্ত্র জোগাড় করি।
তারপরের দিন ওদের চারজন কে দেখতে পাই।ক্যাম্পাসে সবার সামনে চারজন কে শেষ করেছি। আমার নিজ হাতে শেষ করেছি।

সবার দেহে একটা শিহরন বয়ে গেলো।রক্তের একটা স্রোত পা থেকে মাথা অবধি উঠে এলো।গায়ের পশম গুলো দাড়িয়ে গেছে।সবার মন বলছে এমন হওয়া উচিত। এতে আবার দোষ কি! কেউ একজন বোধহয় বলে উঠলো সাবাস বাঘের বাচ্চা! সবাই অদ্ভুত ভাবে লোকটা দেখলেও মন সায় দিলো ঠিকই বলেছেন।ছেলেটাকে এখন একটুও দোষী মনে হচ্ছে না! কি আশ্চর্য!

পুলিশ অস্ত্রটি আদালতে জমা দিয়েছে। ছোট একটা পিস্তল।আমি দূর থেকে দেখলাম।সব প্রমান পেশ করা হয়েছে। এখানে কোন বিরোধ নেই।
প্রমান করার কিছু নেই।সব নোমনা স্বীকার করেছে। জজ এখন কি রায় দেয় এটাই দেখার বিষয়।সে যাই দেখ ছেলেটা মানুষের কাছে হিরো হয়ে গেছে। জজ কিছুক্ষণের বিরতি নিলো।

জজ নিজের ছোট কামরায় পায়চারি করছে,তার বত্রিশ বছর চাকরি জীবনে এমন হয়নি! কোন তর্কযুদ্ধ নেই সহজ সরল স্বীকারোক্তি,প্রমানগুলো চোখের সামনে মেলেধরা খুবই সহজ হিসাব।এ সহজ হিসাব কষতে তার বড্ড কষ্ট হচ্ছে! তার মাথায় গাথা সুত্রগুলো বলছে এক আর বুকের মাঝে হৃদয় বলছে অন্য। দোটানায় পড়েছে জীবনে প্রথমবার।তারতো হৃদয় থাকতে নেই সে হিসাব কষবে আইনের বেঁধে দেওয়া সূত্রগুলো দিয়ে।কাঠের চেয়ারে বসে হৃদয় টাকে কাঠ বানিয়ে লিখতে হয়।

জজ একবার আসলেন চেয়ারে বসলেন।আবার উঠে কামরায় চলে গেলো।সকল মানুষ কেমন নীরব হয়ে গেছে।সবার মাঝে একটা আতংক বিরাজ করছে। কি হবে? জজ আবার ফিরে এলেন তার চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে তার চোখদুটো হালকা লাল হয়েছে। কপালের উপরে চুলগুলো স্পষ্ট বলছে কিছুক্ষণ আগে পানির ছোঁয়া পেয়েছে। তারতো এমন হওয়ার কথা নয়।এ বত্রিশ বছরের দীর্ঘ সময় বহুবার সে বাক্যটি লিখেছে প্রতিবার গর্বে বুকটা ফুলে উঠেছে।আজ কেন জানি বারবার হাত থেমে যাচ্ছে। ছোট একটু লেখা লিখতে আজ অনেক সময় লাগছে!
অনেকটা সময় দ্বিধা দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জজ তার ভারী কন্ঠে ঘোষণা করে শব্দটি কলম তুলে আনলেন৷ মৃত্যু দন্ড!

পুরো আদালতে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। একেমন বিচার! জজ দ্রুত তার আসন ছেড়ে চলে গেলো।চারদিকে একটা রোল পড়ে গেলো।অবিচার করা হয়েছে।নোমান কে একটুও বিচলিত মনে হচ্ছে না।সে এমন রায় শুনার আশায় ছিলো।মুখে একটু অবজ্ঞার হাসি!

নোমানের আপিল করার সুযোগ নেই।এ রায় বহাল থাকবে তার সামনে একটাই সুযোগ আছে।রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়া।সে সুযোগ সে গ্রহণ করবে বলে মনে হচ্ছে না।

সোহেল ভাই কে বললাম ভাই আমরা পত্রিকায় কোন পক্ষে লিখবো।
দেখো আদালতের বিপক্ষে লেখা যাবে না,আবার সাধারণ মানুষের কথা বলি কাজেই এমনভাবে লিখবা।যেন সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলছি।
সাধারণ মানুষ চায় ছেলেটির মুক্তি।

দেশব্যাপী একটা আন্দোলনর গড়ে উঠেছে। তাতে কি করার আছে।নানা টকশোতে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সবার কথা আইন গতভাবে কিছু করার কোন সুযোগ নেই।এক মাত্র রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছাড়া।সেটাতো ছেলের ইচ্ছের উপর নির্ভর করে।

সব কিছুর সময় ফুরায়! শেষ সুযোগ আর রইলো না।মানুষ চাইলেও অনেক কিছু করতে পারে না।লক্ষ লক্ষ মানুষ হতাশ হয়! তাদের কিছু করার নেই? মানতে পারে না তবুও মানতেই হয়!

এমন একটা সুযোগ সবার আত্মীয় স্বজনদের দেয়া হয়।নোমানের বাবা মা এসময়টায় একসাথে দাঁড়িয়ে আছে।ধীরে ধীরে নোমানের দিকে এগিয়ে আসলো।মায়ের চোখে মুশলধারায় বর্ষণ!বৃষ্টির ফোটায় বুকের কাপড় ভিজে যাচ্ছে! বাবার মুখে ঝড়ের পূর্বাভাস একটা লন্ডভন্ড করা কালবৈশাখী বয়ে যাবে।জীবনের শেষপ্রান্তে এসে মা নোমান কে জড়িয়ে ধরলো।ছোটবেলার মত শক্ত বাঁধনে বাঁধতে চাইলো আজ তার হাতের বাঁধন নোমানের কাছে এতো কঠিন মনে হলো না।এবাঁধন বড়ই হালকা! নোমানের বাবা পকেটে হাত দিলেন, না সাদা রুমালটা নেই! প্রয়োজনের সময় সব কিছু পাওয়া যায় না!তার চোখ পড়লো পাশে বার হাত লম্বা সূতি মোলায়েম কাপড়টার ঝুলে থাকা অংশে, একসময় বহুবার ব্যবহার করা একাপড়টায় আজ হাত দিতে বাধা পাচ্ছে! সব বাঁধা ছাড়িয়ে হাতে নিলেন চোখদুটো ছুয়ে দিল আঁচল । নোমান দেখলো পৃথিবী কত সুন্দর! সুন্দরের মাঝে সবার জায়গা হয়না!

আজ ভালোবাসা দিবস, এখন আছি ভালোবাসা চত্বরে, নিতুর আবদারে ওকে নিয়ে আসতে হয়েছে।ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে নোমানের স্মরণে ভালোবাসা চত্বর গড়ে উঠেছে। নোমানের মূর্তি বানানো হয়েছে।এক হাতে বিশাল অস্ত্র সামনে অপশক্তি ওপাশে আছে কনা।অপশক্তি পরাজিত করে নোমান জয় করবে ভালোবাসা।নোমানের মত এমন প্রেমিক হতে চায় সবাই।
নিচে বড় করে লেখা ভালোবাসি জীবন নিয়ে জীবন দিয়ে! নিতু এখন নোমানের মুর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

যাই নিতু ডাকছে ওর ছবি তুলতে হবে।

সমাপ্তি

® নাবিল মাহমুদ (Nabil Mahmud)

Send private message to author
What’s your Reaction?
2
4
0
0
6
0
0
Share:FacebookX
Avatar photo
Written by
Nabil Mahmud
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
7 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Sanjida suma
Guest
Sanjida suma
4 years ago

কিছু গল্প পড়ে মনে হয় শেষ টা এমন হওয়া উচিত না, কি হতো একটু বদলে গেলে! এটি এমনই একটা গল্প।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র নোমানের মধ্যে যে দিক গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে অনেক টাই আমাদের এই ডিজিটাল সমাজের কারণে জন্ম নেয়। বাবা মায়ের আলাদা হওয়ার পর সন্তানের উপর কি নেমে আসে সেক্ষেত্রে এখন অনেকেই ভাবলেষহীন। গল্পের মতো হয়তো অনেকেই ভাবেন শুধুমাত্র খরচ বহন করলেই যথেষ্ট একজন মানুষের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে!
কিন্তু ভাবেন না যে, ভালোবাসার অভাব টাকা দিয়ে পূরণ করা যায় না। যার কারণে বদলে যাচ্ছে সমাজের চিত্র। কমে যাচ্ছে মূল্যবোধ! আর তার জন্য ভোগতে হচ্ছে নোমান কনার মতো মানুষদের।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এর জন্য নিজের ভালোবাসা কনাকে হারিয়ে নোমান অপরাধীর কাঠগড়ায়। ভালোবাসার জন্য শেষ পযর্ন্ত দুটি মৃত্যু, আর যার কারণ এই বিক্ষিপ্ত সামাজিক মূল্যবোধ।

গল্পের অন্যান্য চরিত্র গুলো বতর্মান সমাজের এই রূপ জেনেও যে অনেক সময় কিছু করা যায় না তা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। বিচারে ঠিক ভুলের প্রশ্ন আমাদের মানবিক হৃদয় ও বিবেকের কাছে রেখে গেছেন, জজ ও নাবিল নামক চরিত্র।

পরিশেষে, গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। গল্পটিতে লেখক তার সহজ ও সাবলীল শব্দের বুননে – সমাজের কিছু সিদ্ধান্তের ফলাফল, মানবিক অবক্ষয় এর দিক গুলো অনেক সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।

Tanzila Sultana
Guest
Tanzila Sultana
4 years ago

“শেষ প্রান্তে” গল্পটিতে প্রায় একই জীবনধারার দুইটি মানুষের পরিণতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।প্রথমে লেখক তার নিজের ব্যক্তিগত জীবনের একাকিত্ব, বাবা মাহীন ছোটবেলা ও ক্ষণিকের সুখের মুহুর্তের দিকগুলা খুব সহজ অথচ দৃঢ় ভাষায় প্রকাশ করেছেন।লেখকের প্রকাশভঙ্গির সাথে পাঠক নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারবেন বলে আমার মনে হয়।
দ্বিতীয়ত লেখক আরেকজন মানুষের গল্প বলেছেন,যার জীবনের কিছুটা সময় লেখক নাবিলের মতই,তবে তার জীবনের শেষ প্রান্তের সাথে নাবিলের মিল নেই।নিজের কাহিনি থেকে অন্যের কাহিনিতে লাফ দেওয়ার চমৎকার এক উপায় অবলম্বন করেছেন লেখক।
তবে ভাষাজনিত ও বিরমচিহ্ন জনিত ত্রুটির কারণে কিছুটা অসঙ্গতি টের পাবেন পাঠক।
লেখক এই গল্পে বিচারকার্যের কঠোরতা প্রকাশ করেছেন,সেই সাথে প্রাকশ করেছেন সমাজের নির্দয়তা। সব মিলিয়ে লেখক একটা করুণ কাঠামো দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন গল্পটির।কিন্তু ভাষাজনিত দূর্বলতার কারণে সেটা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ হয় নি বলেই আমার মনে হয়েছে।
লেখক তার জীবনের গল্প দিয়ে শুরু করলেও অন্য একজন মানুষের গল্পের মাধ্যমে ইতি ঘটিয়েছেন কেন এটা ঠিক স্পষ্ট নয়।তবে গল্পের প্রথমদিকে লেখকের প্রকাশভঙ্গি সাবলীল ও দৃঢ় থাকলেও গল্পের যত গভীরে যাওয়া গিয়েছে সেই প্রকাশভঙ্গি তত লোপ পেয়েছে। যেন লেখক খুব তাড়াহুড়ো করেই লেখা শেষ করেছেন এমন অনুভূতি হয়।

খুব সাধারণ ভঙ্গিতে লেখক গল্পের ইতি টেনেছেন।ব্যক্তিগত রেটিং ৩/৫

শিবলী সাইক
Guest
শিবলী সাইক
4 years ago

সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদিত হয়ে পশ্চিম দিগন্তে অস্ত যায়। এটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতিদিন এমনটা দেখতে দেখতে আমাদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ঠিক তেমনি, আজকাল বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাও আমাদের কাছে সূর্যাস্তের মতো স্বাভাবিক ঘটনায় পর্যবসিত হয়েছে। কারণ, আমরা বর্তমানে ডিভোর্সের ঘটনা এত বেশি দেখতে পাই যে, এটা আমাদের কাছে এখন আর অস্বাভাবিক ঘটনা মনে হয় না।

কিন্তু, আজকাল ডিভোর্সের আগে বাবা-মা একটাবার তার সন্তানের কথা চিন্তা করে কিনা জানি না। বাবা মা আলাদা হয়ে গেলে সন্তানের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই গল্পেই লেখক সেটা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী করে তুলে ধরলেন। গল্পটা পড়তে পড়তে শুধু একটাই কামনা করছিলাম, এই গল্পে ডিভোর্সি বাবা মায়ের এই সন্তানের মতো অবহেলার শিকার যেন আর কোনো শিশুর না হতে হয়।

অন্যদিকে এই গল্পে আরও একটি হৃদয় বিদারক চিত্র উঠে এসেছে। নোমান এবং কনার মর্মান্তিক ভালোবাসা কাহিনি যেন পাষাণ হৃদয়কেও ভারাক্রান্ত করে দেয়।

গল্পে কনার প্রতি নোমানের নিখাদ ভালোবাসা মূর্ত হয়ে উঠেছে। কনাকে নোমান এতোটাই ভালোবাসতো যে, কনার জন্য বিপথগমন করতেও নোমান কুণ্ঠাবোধ করেনি।

কিন্তু তাদের এ নিখাদ ভালোবাসা একদিকে হৃদয়ে যেমন শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে, অন্যদিকে তেমন বিষণ্ণ করে। কারো ভালোবাসার জীবন এত মর্মান্তিকভাবে যবনিকাপাত হওয়া কখনো কাম্য নয়।

সর্বোপরি, গল্পটি সম্পূর্ণ শেষ করার পর হৃদয় থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস নির্গত হলো।

Nahid
Guest
Nahid
4 years ago

গল্পটা খুব ভালো ছিলো তবে কয়েকটা বিষয়ে লেখকের মনোযোগ দেয়া উচিৎ।
💥বিরামচিহ্নের ব্যবহার ঠিকমতো হয় নি।
💥একটু বেশই বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে।যেখানে প্রয়োজন ছিলনা সেখানেও করা হয়েছে।
💥দাড়ি কমা ঠিক মতো হয় নি।যেখানে দাড়ি প্রয়োজন ছিল সেখানে দেয়া হয় নি।আর অনেক জায়গায় কমার বদলে দাড়ি হবে।

🙌এ শব্দটার ঠিকঠাক ব্যবহার হয় নি।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ এর পর স্পেস হবে কিন্তু তা দেয়া হয় নি।যেমন -এজজ,এসুখ,একেসটা,এজিবনে,একেমন, একাপর ইত্যাদি।

কয়েকটা বানান ভুল ছিল।
“কষ্ট দেছ” এখানে দিচ্ছ হবে।মনে হয় ইচ্ছা করেই দেছ লেখা হয়েছে।”মহুর্তে” হবে মুহুর্তে।”জানিয়ে” হবে জানিয়ো।”লোকটা” হবে লোকটাকে।”নোমনা” হবে নোমান।

❤️❤️লেখকের লেখা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।পড়ার সময় মনে হচ্ছিল কোন প্রো লেখক এর লেখা😁।লেখার গতি+ধারাবাহিকতা স্বাভাবিক ছিল।লেখার ভাব-আবেগ কোন অংশে কম ছিল না।থার্ড পারসন থেকে ফার্স্ট পারসন এ স্মুথভাবে শিফ্ট হওয়ার ব্যাপারটা দারুণ লেগেছে।😚আর মনোযোগ অন্যদিকে নিতেই পারিনি।

আমি ১০ এ ৭ দিচ্ছি।🙌

আশা করি নাবিল মাহমুদকে উপন্যাসে দেখব।
তবে এগুলো আমার একান্তই ব্যাক্তিগত মতামত।

নাহিদ।

2
1
Nafisha
Guest
Nafisha
4 years ago

গল্পটিতে বারবার বাস্তবতার ছোবলে নিপীড়িত একটি প্রাণ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবতার মায়াজালে একটি জীবনের হাসি আনন্দ সব ধ্বংস হয়ে যায়। সমাজের অবিচার গুলো তুলে ধরেছেন লেখক লেখাটিতে। সমাজের ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের শাস্তির কথা খুবই সুন্দরভাবে উল্লেখিত হয়েছে।
গল্পটি একটু গুছিয়ে লিখলে আরও আরো ভালো লাগতো। সংলাপটি কার কোথায় শুরু হয়েছে এটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করলে রেখাটি সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হত।
ধন্যবাদ লেখককে এত সুন্দর একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।

Ananna aktar onu
Guest
Ananna aktar onu
4 years ago

“শেষ প্রান্ত” গল্পে প্রকাশ পায় গল্পের প্রধান চরিত্র নোমান এর ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার কষ্টের কাহিনি।বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হলে বাস্তব সমাজে যা হয় তাই গল্পে প্রকাশ পেয়েছে।তবে এখানে কিছুটা ভিন্নতা প্রকাশ পেয়েছে।যে মা নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর আলো দেখায় সে মা কিভাবে একা ফেলে রেখে চলে যায়।এটা বাস্তব জীবনে ঘটতে পারে আবার নাও পারে।বাবা মায়ের আদর,যত্ন ও ভালোবাসায় সন্তান বেড়ে ওঠে।সেই হিসেবে গল্পের নোমান ছোট থেকেই একা বেড়ে উঠেছে।বাবা মা কারোর ই ভালোবাসা পায় নি সে।বলতে গেলে তার জীবনে সে অনেক কষ্ট সহ্য করে বড় হয়েছে।বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে দেশের বাইরে চলে গেলে মা ও কিছুদিন পর অন্যের হাত ধরে চলে যায়।তার জীবনে শুধু পড়ে থাকে তার নানী।যে তাকে সুখ চিনতে শিখিয়েছে ও আদর করে বড় করেছে।কিন্তু নোমান এর এই সুখের জীবন ও বেশি দিন স্থানী থাকে না।তার নানি ও তাকে রেখে পরপারে চলে যায়।সে আবার একা হয়ে যায়।তবে বেশ কিছুদিন পর নতুন ভার্সিটিতে তার নায়িকা কনার সাথে পরিচয়।যা একসময় গভীর ভালোবাসায় রুপ নেয়।কিন্তু তার এই ভালোবাসাও স্থানী হয় না।কনা ধর্ষনের শিকার হয়।এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে নোমান সেই চারজন ধর্ষক কে নিজ হাতে শাস্তি দেয়।আইনের দিক দিয়ে এটা অপরাধ হলেও ব্যক্তিজীবনে এটা সঠিক বলে আমার মনে হয়।কারণ যারা নিজের ভালোবাসার মানুষ কে বাঁচতে দেয় নি তাদের ও বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই।তবে আইন আইনের পথে চলে।আদালতে জজ তার ব্যক্তি জীবন দিয়ে বিচার করলে নোমান কে মুক্তি দিত।কিত্তু তার হাত পা আইনের বেড়াজালে বাধা।তাই আইন তাকে ফাঁসির রায় দেয়।এতে তার একটুও অনুশোচনা হয় নি কারণ সে জানে সে কিছু বলব যে ভালোবাসার জয় হোক।

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!