জিসান আজ তার নিজের টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে উঠে গেল।সাথে তার বউ লিলি ও মেয়ে রুবাই।অনেক পরিশ্রমের ফসল তার নিজের বাসা।ছোটবেলা থেকে সে যা যা দেখেছে যা যা শুনেছে সেসবই যে এক মুহুর্তে শেষ হয়ে যাবে ছোট বেলায় তার বিন্দু বিসরগও সে জানতে পারেনি।তার বাবা গ্রামের বাজারে বড় বড় চারটি দোকানের মালিক ছিলেন।আট জন কর্মচারি খাটতো সেই দোকান গুলোতে।তবুও জিসানকে জীবনের একটা পর্যায়ের পর ভাগ্যের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়েছে।আজ সে প্রতিষ্ঠিত মানুষ।অনেক ভাল চাকরী করছে।শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছিল।আজ যে অপ্রাপ্তিটুকু ছিল তাও পূরণ হয়ে গেল।নিজের বাসায় চলে এল।এখন তার একটা কাজ বাকী।যা সে কোনদিনই জানতে পারেনি।অনেক পরে এমন বিপর্যয়ের মূহুর্তে জেনেছিল যে তার কিছু ভেবে ওঠার মত পরিস্থিতি ছিল না।কিন্তু এখন সে সময় এবং সুযোগ দুটোই তার হাতে এসেছে।তার আর দেরি করবে না সে।
জিসানের বাবা যখন মারা যান তখন সে ইন্টার পাশ করেছে মাত্র।হঠাৎই বুকে ব্যথা উঠে বাবা মারা যান।তখনই সে তার জীবনের চরম সত্যটা জানতে পারে।
বাবা মারা গেলে এমনিতেই শোক কাটাতে তার খুব সময় লেগেছিল তার মধ্যে বাবার অন্য ভাইয়েরা যখন সম্পত্তি নিয়ে কথা তুলল তখন সে বেশ রেগে গিয়েছিল।কাকাদের বলেছিল-
-আব্বার কবরের মাটি তো এখনো শুকায়নাই।এখন এসব সম্পত্তি নিয়ে কথা বলার কি দরকার।
-আছে আছে দরকার আছে বইলাই তো বলতাছি।এক কাকার উত্তর।
-কেন এখন না বললে কি এমন ক্ষতি হবে?পাল্টা জিসানের কথা
-ঐ তুমি বেশি কথা কইও না।আরেক চাচার বাঁকা কথা।
মোটামুটি একটা বাকবিতন্ডা তৈরী হয়ে গেছে জিসানের সাথে চাচাদের।এর মাঝে জিসান খেয়ালই করেনি যে কাকারা যে তার সাথে এত খারাপ আচরণ করছে মা কিন্তু কিছুই বলছে না।কাকাদের কথার কোন প্রতিবাদ করেনি।ব্যপারটা বুঝতে জিসানের একটু সময় লেগেছিল।কথার এক পর্যায়ে মেঝ কাকা এমন কথা বললেন যার জন্য জিসান প্রস্তুত ছিল না।
-দেখ জিসান তুমি আমাগো পরিবারের কথায় কথা বইলো না।
-কি বলেন কাকা এই পরিবার কি আমার নয়?জিসান অবাক হয়ে উত্তর দেয়।
-না তুমি এই পরিবারের কেউ না।কাকা এই কথাটা বলতেই মা খুব দ্রুত এসে জিসানকে টেনে ঘরে নিয়ে গেলেন।জিসান যতই মাকে বোঝাতে চাইল যে কাকা এটা কি বললেন মা কোন কথা শোনার বা বলার প্রয়োজন মনে না করে তাকে হিরহির করে টেনে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেন।
-মা আমাকে কাকার সাথে কথা বলতে দিলেন না কেন?কাকা কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলল।জিসান মায়ের সাথে রাগ দেখাল।
-চুপ কোন কথা বলবি না।তাদের সাথে তোর ঝগড়ার দরকার নাই।মার গলায় কেমন যেন একটা ভীতি।জিসান এর কোন কারন বুঝতে পারে না।
-এটা কোন কথা?আব্বা মারা গেল এক মাসও হয়নাই আর এখনি তারা সম্পত্তি নিয়া ভাগাভাগি শুরু করল?
-বাবারে সম্পত্তির চেয়ে তুই আমার দামী সম্পদ।সম্পদ গেলে পামু।তুই গেলে তো আর পামু না রে বাপ।মায়ের কন্ঠে আকুতি।
-আমি আবার কই যাব আম্মা?
-বাপ আমার সম্পদের আমার কোন দরকার নাই।তুই এসবের মধ্যে যাইস না।
-কিন্তু আম্মা—-মা আর কথা বাড়াতে দেয় না জিসানকে।
বাবার চল্লিশ দিনের মিলাদের পর আবার কাকারা এসব নিয়ে অশান্তি শুরু করলেন।উঠোনে বসেই গ্রামের অন্য মুরুব্বিদের সাথে আলোচনা করছেন।সব শুনতে পাচ্ছে জিসান কিন্তু তার মাথায় একটা ব্যাপার কিছুতেই ঢুকছে না।সে তো তার বাবার সন্তান তবে সম্পত্তিতে তার তো ভাগের কথা তো কেউ বলছে না!সে সিদ্ধান্ত নেয় আজই মার সাথে এ ব্যপারে কথা বলতে হবে।সে রাতে মায়ের কোলে শুয়ে কথা তুলল
-আম্মা একটা কথা বলেন তো?
-কি বাবা?
-আমি তো আব্বা ছেলে।তো আমার কি সম্পত্তিতে কোন ভাগ নাই?
কথাটা শুনে মায়ের বুক কেপে ওঠে।কিন্তু ঘর অন্ধকার হওয়ায় জিসান মায়ের মুখের ভয়ের চিন্হটা দেখতে পায়না।
-কি হল আম্মা কথা বলেন না কেন?
মনের অজান্তে মায়ের চোখ থেকে পানি গড়িয়ে জিসানের কপালে পড়ে।জিসান মায়ের কোল থেকে তরিৎ উঠে পড়ে।
-আম্মা আপনি কাঁদছেন?
-কই না তো?মা দু:খ লুকাতে ব্যর্থ চেষ্টা করেন
-না আম্মা আপনি কাঁদছেন।বলে জিসান ঘরে বাতি জ্বেলে দেয়।হ্যা তাই তো মার চোখে পানি।
মা কে কাঁদতে দেখে জিসানের ভেতরে জেদ চেপে যায়।তাকে জানতেই হবে।কেন কাকারা তার সাথে এমন করছে আর কেনই বা মায়ের চোখে পানি।সে মাকে জিজ্ঞেস করেও কোন সদুত্তর পায়না।মা শুধু এটা সেটা বোঝাতে চায় তাকে।তখন জিসান মায়ের একটা হাত নিজের মাথায় নিয়ে বলল আম্মা আপনি যদি সত্য না বলেন তবে আমার মরা মুখ দেখবেন।মা মৃদু চিৎকার করে হাত সরিয়ে জিসানকে বুকে নিয়ে কাঁদতে থাকেন।মায়ের কান্না দেখে জিসান সব না বুঝলেও কিছু যে মারাত্মক তা উপলব্ধি করতে পারে।মাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরতেই মা যেন আরো বাঁধ ভাঙ্গা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।জিসান মায়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে
-আম্মা কি হইছে আমাকে বলেন।আমি তো আপনার সন্তান।আমার কাছে বলতে আপনার বাঁধা কোথায়?
-বাবা তুমি তো সইতে পারবা না।মায়ের আকুতি।
-পারব আপনি বলেন।কি এমন কথা যে আমি সইতে পারব না?
চোখ মুছে মা বললেন-ঠিক আছে তুমি যদি শুনতেই চাও তবে শোন।আর আমিও ভাবছি এখন পরিবারের যে অবস্থা তাতে আসল সত্যিটা তোমার জানা দরকার।একটু যেন থেমে গেলেন মা।
-বাবা তুমি আমাকে আর তোমার আব্বাকে বাপ মা বলে জানো।আসল সত্য হল তুমি আমার গর্ভের সন্তান না।বিয়ের বার বছর পরও যখন আমাদের সন্তান হইতেছিল না তখন আমরা তোমারে দত্তক নিয়া আসছিলাম।কিন্তু বিশ্বাস কর বাপ ধন তোমারে কোনদিন পেটের সন্তান ছাড়া অন্যচোখে দেখিনাই।বলেই মা হুহু করে কাঁদতে লাগলেন।জিসান আজ এত বড় একটা সত্যের সামনে দাড়াবে কোনদিন ভাবতে পারেনি।সে স্তব্ধ হয়ে রইল কিছুক্ষন।তাই দেখে মা বললেন
-এইজন্যই তোমারে বলতে চাইনাই বাপ।তুমি মনে আঘাত পাইবা বলে।আর এই কারনেই তোমার কাকারা তোমার সাথে সম্পত্তি নিয়া এমন করে।কি দুর্ভাগ্য তোমার বাপের!সে কি জানতো যে এইভাবে তারে আল্লায় ডাক দিয়া নিয়া যাইব?যদি জানতো তাইলে সে তোমার ব্যবস্থা করে রেখে যেতেন।মা আবার কাঁদতে লাগলেন।জিসানেরও ভেতর থেকে ভীষন কষ্ট হচ্ছে কিন্তু তার একটা সমস্যা হল চোখে পানি আসে না।কিছুক্ষন চুপ থেকে মায়ের কান্না থামাতে মাকে জড়িয়ে ধরল।মাকে আস্বস্ত করল আর কাঁদবেন না।পেটে ধরেন নি তো কি হয়েছে?আপনিই আমার মা।আমি আর কিছু জানি না।
কিছুদিন পর গ্রামের সালিসে শুধু জিসানের মাকে তার অংশিদারিত্বের সম্পত্তি টুকু দেয়া হল।যেহেতু জিসানের বাবা তার পালক পুত্রকে কিছু দিয়ে যেতে পারেন নি তাই তাকে তার চাচারা পুরোপুরি বন্চিত করল।এখন বাবা নেই।তাই গ্রামের মাথাদের তার চাচারা কিনে নিয়েছে।জিসানের মা শুধু ছেলেকে আশির্বাদ করে বললেন
-বাবা তুমি ঢাকা চলে যাও।সেইখানে গিয়া লেখাপড়া করে মানুষ হও।আমার দোয়া তোমার সাথ রইল।আমি তোমাকে অল্পবিস্তর টাকা দিমু লেখাপড়ার জইন্য।
-না আম্মা আমার টাকা লাগবে না।আপনি শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন।তাতেই আমি মানুষ হয়ে দাড়িয়ে যাব।আমি যেদিন নিজে কিছু করতে পারব সেদিন আপনাকে এখান থেকে আমার কাছে নিয়ে রাখব কিন্তু।
-পাগল ছেলে কি কয়?মা জিসানের মাথা হাত বুলিয়ে হাসেন।
শুরু হল জিসানের জীবন সংগ্রাম।অল্পকিছু টাকা তার মা তার হাতে গুঁজে দিয়েছিল গ্রাম থেকে শহরে আসার সময়।সেই টাকগুলোকে সম্বল করে রাজপথে নেমে পড়ল জিসান।জীবনযুদ্ধে যে তাকে জয়ী হতেই হবে।পিছু ফিরে দেখার এখন আর সময় নেই।বন্ধু ও পরিচিত মানুষের সাহায্যে ঢাকায় একটা সরকারী কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়।আর একটা মেসে থাকার সুযোগ পায়।সেই থেকে শুরু।টিউশনি করে আধ পেট খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে জিসান তার পড়া চালিয়ে যেতে লাগল।অনেকসময় সারাদিনে দুইবেলা হয়ত ঠিকমত। খেতে পেত না।গ্রামে তার পালিতা মাকে দেখতে গেলে মা কিছু টাকা দিতে চাইতেন।কিন্তু জিসান তা নিত না।তার কোথায় যেন বিবেক বাঁধা দিত।শুধু মাকে দেখে মার হাতে একবেলা খেয়ে চলে আসত।কারন তাকে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।তার এম এ পরীক্ষার আগে হঠাৎ খবর আসে তার মা খুব অসুস্থ।তাকে জরুরী ভিত্তিতে যেতে খবর দেয়া হয়েছে।মা তার সাথে কথা বলতে চান।যদিও সামনে পরীক্ষার প্রস্তুতি তবুও জিসান মার সাথে দেখা করতে গ্রামে চলল।সে গিয়ে দেখল মা বাবার মৃত্যুর পর এই ক বছরে অনেক ভেঙ্গে পড়েছেন।আসলে বাবার না থাকাটাই ওনাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে।জিসান ঘরে ঢুকে মার পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখল।মা ধীরে ধীরে চোখ খুলে বললেন
-বাবা তুমি আসছ?
-মা আপনি এত অসুস্থ আমাকে আরো আগে খবর দেন নাই কেন?আপনাকে ঢাকায় নিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাতাম।
-নারে বাপ ডাক্তার বদ্যিতে আর কিছু হবে না।আমার সময় শেষ রে বাবা।
-এসব কি বলেন আম্মা?ধরা গলায় বলে জিসান
-হ রে বাপ ঐপারের ডাক আইছে।কোনসময় যেন চইলা যাই ঠিক। নাই।তাই তোমারে জরুরী তলব করছি।কিছু কথা কওনের আছে।
-জ্বী আম্মা বলেন।
মা বালিশের নীচ থেকে একটা কাগজ বের করে জিসানের হাতে দিলেন।জিসান দেখল মা যে সম্পত্তিটুকু ভাগে পেয়েছিলেন তা তিনি জিসানকে লিখে দিয়েছেন।
-এখনি এসবের কি দরকার ছিল আম্মা?বলল জিসান
-দরকার আছে বাপ।আমি আর বেশিদিন বাঁচব না।তাই তোমারে যা পারলাম দিয়া গেলাম।আর একটা কথা—-বলে মা প্রবল বেগে কাশতে শুরু করলেন।এমন কাশি যেন আর থামেই না।জিসান মার বুকে গলায় পিঠে হাত বুলিয়ে মালিশ করতে লাগল।বেশকিছুক্ষন পর একটু ধাতস্থ হয়ে মা জিসানের হাত ধরে বললেন
-বাবা তোমারে একটা কাজ করতে হইব।
-কি কাজ আম্মা বলেন।
-তুমি তোমার গর্ভধারণীনির কাছে ফিরা যাইবা।তারে খুঁজে বের করবা।আমরা স্বার্থপরের মত তার বুক থেকে তোমারে কেড়ে নিছিলাম।তখন জানি সে কত কষ্ট পাইছে তোমার জন্য।তুমি তার বুকে ফিরা গিয়া কিছুটা হইলেও তারে শান্তি দিও।তা না হইলে আমি আল্লাহর কাছে অপরাধী হইয়া থাকব বাবা।
মায়ের এমন আবদারে জিসান একটু অবাক হল।পরক্ষনে ভাবল মায়েরা বুঝি এমনি হয়।এক মায়ের ব্যথা আরেক মা অনুভব করতে পারছেন।মা তখন জিসানকে ছোট এক টুকরো কাগজ বের করে দেন।তাতে লেখা একটা গ্রামের নাম আর কিছুই নাই।একটা গ্রামের নাম দিয়ে কি কাউকে খুঁজে বের করা সম্ভব?মা আরো বললেন
-তুমি যেদিন নিজের পায়ে দাড়াইবা সেদিন তোমার মার কাছে যাইবা তার আশির্বাদ নিবা।আমার দোয়া রইল তোমার সাথে।আল্লাহ যেন তোমাকে তোমার মা রে খুঁজে পেতে সাহায্য করেন।
এর দুদিন পর জিসান কে সম্পুর্ণ একা করে মা পরপারে বাবার কাছে চলে গেলেন।এরপর জীবনযুদ্ধে অসহনীয় ঘাত প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে চলতে থাকে জিসানের জীবন।পড়া শেষ করে বেশকিছুদিন চেষ্টার পর একটা ভাল চাকরী হয় তার।চাকরীটা একটু গুছিয়ে নিয়ে তার এক বছরের জুনিয়র প্রেমিকা লিলি কে বিয়ে করে সংসারী হয়।রুবাইয়ের জন্ম হওয়াতে জিসানের মনে হতে থাকে যেন তার পালিতা মা তার কাছে ফিরে এসেছে।এখন জিসানের মাকে দেয়া কথা রাখার সময় এসেছে।সে এখন প্রতিষ্ঠিত।তার গর্ভধারণী মাকে খুঁজে বের করতে হবে।কিন্তু সমস্যা হল শুধুমাত্র একটা গ্রামের নাম দিয়ে কি কাউকে খুঁজে বের করা সম্ভব?এর সুন্দর একটা সমাধানও লিলি নিজেই দিয়ে দিল।
-শোন এটা কোন ব্যপারই না।
-কি বল লিলি?শুধু গ্রামের নাম দিয়ে কিভাবে সম্ভব বল তো?আমি তো আমার মায়ের বা তাদের পরিবারের কারো নামটা পর্যন্ত জানি না।
-আরে বাবা আগে আমার কথাটা শুনে নাও।তারপর বল যে কি হবে আর কি হবে না।
-আচ্ছা বল তোমার আইডিয়া।হতাশ হয়ে বলল জিসান
-শোন প্রতিটি গ্রামেই তো একজন নির্দিষ্ট চেয়াম্যান বা মেম্বার অবশ্যই থাকেন।তুমি এক কাজ কর।ঐ গ্রামে গিয়ে চেয়ারম্যানকে পুরো বিষয়টা খুলে বল।তাহলেই তো আর তোমাকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে খোঁজাখুজি করতে হয় না।
জিসানের চোখ চকচক করে উঠল।
-আসলেই তো দারুন বলেছ।চমৎকার আইডিয়া।
যে কথা সেই কাজ।জিসান একটা দিনক্ষন দেখে গাড়ী নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল।আর মনে মনে পালিতা মাকে উদ্দেশ্য করে বলল দোয়া করবেন আম্মা আমি যেন আপনার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারি।অনেকটা পথ অতিক্রম করে সেই গ্রামে উপস্তিত হল জিসান।সেখানের এলাকাবাসীদের জিজ্ঞেস করতেই চেয়ারম্যানের বাড়ী পৌছে দিল এলাকারই একজন লোক।কিছু সময় অপেক্ষা করার পর চেয়ারম্যান এলেন।জিসান দেখল লোকটা খুব বেশি বয়সের না।বছর চল্লিশের হবে হয়ত।সে ভেবেছিল বৃদ্ধ কেউ হবে।চেয়ারম্যান তাকে বলল
-জ্বী বলেন কি কাজে এসেছেন?
চেয়ারম্যানের কথায় বুঝা গেল লোকটা হয়ত শিক্ষিত।
জিসান একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল বুঝতে পেরে চেয়ারম্যান বললেন
-আগে আমার আব্বা গ্রামের সেবা করতেন।তার খুব ইচ্ছা ছিল আমিও যে মানুষের সেবা করি।তাই লেখাপড়া শেষ করে গ্রামে এসে সবার সেবায় নিয়োজিত হয়েছি।
এবার জিসান আস্বস্ত হয়ে সবিস্তারে তাকে বলতে শুরু করল।
সব শুনে চেয়ারম্যান একটু চিন্তিত হয়ে বললেন
-এটা মনে হয় প্রায় তিরিশ বছর আগের ঘটনা।যদি আব্বা বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়ত এখনি সমাধান দিতে পারতেন।কিন্তু তখন তো আমি নিজেও ছোট ছিলাম।আচ্ছা দেখি গ্রামের অন্য মুরুব্বীদের কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছু জানতে পারি কিনা।তার জন্য যে একটু সময় লাগবে।বললেন তিনি
-তাতে কোন সমস্যা নেই।আমি না হয় কদিন বাদে আবার আসব।আপনি যদি সময় করে একটু খোঁজ নিয়ে রাখেন তবে আমি বড়ই কৃতার্থ হব।
-এত দুর থেকে আপনি এমন একটা মহৎ কাজে আসছেন আমি অবশ্যই সাহায্য করব।ফোন নাম্বার টা দিয়ে গেলে ভাল হয়।
সেদিন চেয়ারম্যানের আপ্যায়ন গ্রহন করে নিজের ফোন নম্বর সেখানে রেখে জিসান ফিরে আসে।অস্থিরতায় দিন কাটতে লাগল।তিন দিন পর চেয়ারম্যান ফোন দিলেন।একজন বৃদ্ধের কাছে তিনি কিছু জানতে পেরেছেন।জিসান যেন আগামীকাল গ্রাম যায়।কথামত জিসান পরদিন গ্রামে গেলে চেয়ারম্যান একজন বৃদ্ধকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।সেই বৃদ্ধ ঘোলা চোখে জিসানকে দেখে জড়িয়ে ধরেন এবং একটু কান্নাও করেন।জিসান কিছু না বুঝে চুপ থাকে।বৃদ্ধ তার গায়ে হাত বুলিয়ে বলেন
-তুমি আমাগো নুরীর পুলা?
জিসান আবারও চুপ দেখে তিনি বলতে শুরু করলেন
-ওহ আমি কেডা তাই ত তুমারে কইনাই।আমি তুমার নানা হই।মাইনে তুমার আপন নানার ভাই।নুরী আমার ভাইয়ের মাইয়া আছিল।তয় তুমার নানায় অহন বাইচ্চা নাই।নানী মাইনে আমার ভাবীসাব আর তুমার মামা মামীরা আছেন।হুনছি নুরী তার সোয়ামীর লগে ঢাকায় থাকে।তুমার আব্বায় মরনের পর নুরীরে আবার বিবাহ দিছিলাম আমরা।আর নুরীরে বিবাহ দেওনের যাতে সমেস্যা না অয় তাই তুমার এক বচছর বইয়েসে তুমারে পালক দেওন হইছিল।আরে আমি ত এহানেই সব কইয়া সারতাছি।লও লও তুমার নানার বাইত লও।ভাবীসাবে ভীষণ খুশি হইব।আহারে তুমারে দিয়া দেওনের পর ভাবীসাবেও কত কান্দন কানছে।আইজ বহুত খুশি হইব।
বৃদ্ধ জিসানকে তাড়া দিলে চেয়ারম্যানও বললেন
-যান ভাই নিজের শিকড় নিজের চোখে দেখে আসেন।শিক্ষিত মানুষ বলেই হয়ত এত সুন্দর একটা কথা বললেন তিনি।জিসান বৃদ্ধের সাথে তার নানাবাড়ীর পথ ধরল।বৃদ্ধ ভগ্নপ্রায় একটা বাড়ীর সামনে এসে ডাকাডাকি জুড়ে দিলেন
-কই গো বাইত কে আছো?দেহ কারে লইয়া আইছি।
ডাক শুনে পন্চাশোর্ধ এক মহিলা বেরিয়ে এলেন।তার চোখে অবাক চাহনি দেখে বৃদ্ধ বললেন
-ভাবীসাব কই গো বউমা?
জিসান বুঝল ইনি হয়ত তার মামীদের কেউ হবেন।মহিলা ইশারায় একটা ঘর দেখালে বৃদ্ধ জিসানকে বললেন-আহো নাতি আহো ঐ ঘরে তুমার নানী।
জিসান বৃদ্ধর পিছু পিছু ঘরটিতে গিয়ে দেখল হাড্ডিসার অসুস্থ দুর্বল বৃদ্ধা চৌকিতে শুয়ে আছেন।
-ও ভাবীসাব দেহেন কারে লইয়া আইছি।বৃদ্ধ বলতেই চৌকিতে শোয়া বৃদ্ধা পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালেন।
-ভাবীসাব চিনছেন তারে?বৃদ্ধার না সূচক অভিব্যক্তি
-আরে এইডা আমাগো নুরীর পুলা।
বৃদ্ধার চোখে অবাক দৃষ্টি।ঘরের দরজায় আরো কিছু মহিলার আনাগোনা।
-ও ভাবীসাব এইটা হেই পুলাডা যেইডারে পালক দিছিলেন।
বৃদ্ধা কিছুক্ষন হয়ত স্মরণ করার চেষ্টা করেন।তার কিছু স্মরণ হতেই বিচলিত হয়ে জিসান কে আকড়ে ধরতে চান।তা বুঝতে পেরে জিসান এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরে শোয়া থেকে বসায়।আর বৃদ্ধা জিসানকে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
-ও ভাই তুমি আইছ অত্তদিন পরে?আমাগো কতা মনে অইছে তুমার?আরো নানা কথা বলে বলে বৃদ্ধা কাঁদতে থাকেন।একসময় আবার বলেন
-ও বড় বউ দেহ গো কত্তদিন বাদে আমার নুরীর নয়ন আইছে।আহারে আমার নুরী কত্ত খুশি অইব।কত্ত কান্দন কানছে আমার নুরী তার নয়নের লাইগা বলে ফের কান্না।জিসান বুঝতে পারে তার নাম হয়ত নয়ন রেখেছিল এই পরিবারের লোকজন।
সেই পন্চাশোর্ধ মহিলা ভেতরে ঢুকে আসেন
-আহারে নুরী যে কত খুশি হইব বাবা তুমারে দেখলে।বলে তিনিও জিসানের মাথায় হাত বুলাতে থাকেন।
পরবর্তিতে জিসান যা যা জানতে পারে তা হল-
যখন তার জন্ম হয় তখন নুরীর বয়স সতের বছর ছিল।তার বাবা ঢাকায় থেকে চাকরী করতেন।সপ্তায় বাড়ী যেয়ে তাদের দেখে আসতেন।এমনি একবার বাড়ী যাওয়ার পথে রোড একসিডেন্টে তার বাবার মৃত্যু হয়।যেহেতু নুরীর বয়স একবারেই কম আর তার বয়সও মাত্র একবছর ছিল তাই নুরীকে তার নানা শশুরবাড়ী থেকে নিয়ে আসে।তারপর তার নানা এবং মামারা সিদ্ধান্ত নেয় যেহেতু নুরীর বয়স কম তাই তাকে আবার বিয়ে দিবে।তারা তখন বিয়ের জন্য ঘটক ধরলে ভাল ভাল প্রস্তাব আসে ঠিকই। কিন্তু বাচ্চাসহ কেউ বিয়ে করতে চায়না।এভাবে বেশকিছুদিন যাওয়ার পর যখন কোনভাবেই কেউ বাচ্চার দায়িত্ব নিতে চায় না তা দেখে নানা চিন্তিত হয়ে পড়েন।তখন নানার এক বন্ধু তাকে পরামর্শ দেন যে বাচ্চাটা কাউকে পালক দিয়ে দিতে।কারন নুরীর বিয়ে হয়ে গেলে এত ছোট বাচ্চার লালন পালন কেউ করতে পারবে না।আবার একসময় হয়ত মা ছাড়া বাচ্চা অন্যদের কাছে অবহেলিত হবে।তার চেয়ে বরং একটি সন্তানহীন পরিবারকে দিয়ে দিলে সেখানে আদর যত্নে মানুষ হবে।নানার বন্ধু এমন একটি পরিবারের খোঁজ ও দিলেন।কিন্তু সমস্যা হল নুরী কিছুতেই নয়নকে ছাড়তে রাজী না।নানা আবারও ভেবে চিন্তে একটা উপায় বের করলেন।নুরীকে বলা হল যে বিয়ের ঝামেলা মিটে গেলে কিছুদিন পর সে তার বাচ্চাকে সাথে নিয়ে যেতে পারবে।এই বুঝ দিয়ে নুরীকে বিয়ে দিয়ে পরদিনই নানা বাচ্চাটিকে সেই পরিবারের কাছে পালক দিয়ে আসেন।কোথায় কার কাছে দিয়েছেন তা শুধু নানা আর তার বন্ধু ছাড়া কেউ জানতেন না।কারন নানা ভেবেছিলেন জানাজানি হলে নুরী আবার তার বাচ্চা ফেরত চাইবে এবং এটা নিয়ে সমস্যা হলে তার সংসারে অশান্তি হতে পারে।তাই তিনি সব গোপন করে রেখেছেন।এমনকি নানীকেও কোনদিন বলেননি।এরপর নুরী বাচ্চা নিতে এসে যখন জানতে পারে যে তার আব্বা বাচ্চাকে অন্যকাউকে দিয়ে দিয়েছেন তখন সে অনেক কান্নাকাটি করেছিল।আর যতদিন নানা বেঁচে ছিলেন কোনদিন নুরী তার সাথে কথা বলেনি।মৃত্যুর সময়ও নুরীর কাছে বারবার ক্ষমা চেয়েও লাভ হয়নি।জিসান আরো জানতে পারে তার মা নুরী তাকে ভীষণ ভালবাসত।নয়নকে হারানোর পর থেকে নুরীকে আর কেউ হাসতে দেখেনি।জিসান তার অতীত শুনতে শুনতে মনে অজান্তেই তার চোখে না দেখা মায়ের প্রতি ভীষণ টান অনুভব করে।সে চিন্তা করে সে তো বাবা।তার রুবাইকে যদি কেউ এভাবে কেড়ে নেয় তবে সে নিজেই তো এই কষ্ট সইতে পারবে না।আর সেখানে একজন গর্ভধারিণী মা কিভাবে সহ্য করবে।মামীদের কাছ থেকে তার মা নুরীর ঢাকার বাড়ীর ঠিকানা আর ফোন নম্বর নিয়ে নানীর খোঁজ খবর রাখার আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে।
এবার তার মা নুরীর কাছে যাবার পালা।লিলিকে সব ঘটনা বলার পর লিলি বলে দেখেছ মানুষের জীবন কত নাটকীয়।
দুদিন পর জিসান সিদ্ধান্ত নেয় কাউকে ফোন না দিয়ে সরাসরি বাসায় গিয়ে দেখা করবে।সে শুনেছে সেই সংসারে তার মায়ের চারজন ছেলেমেয়ে।দুটি ছেলে দুটি মেয়ে।একটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে।নিজের মনের কথা মত জিসান গেল তার মা নুরীকে খুঁজতে।বেশি খুঁজতে হয়নি তাকে।কারন তাকে বলা হয়েছিল বাড়ীর সামনে বড় একটি মুদির দোকান আছে।তো সেই জায়গামত গিয়ে মুদিদোকান ওয়ালা বাড়ী খুঁজে পেতে তার সমস্যা হয়নি।দোকানে গিয়ে তার বয়সী একজনকে দেখল দোকানদারী করছে।জিসান তার কাছে গিয়ে বলল
-এই ঠিকানায় কি নুরী বেগম হলে কেউ থাকেন
দোকানদার অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে বলল
-জ্বী আমার মায়ের নাম নুরী বেগম।কিন্তু আপনি মাকে কেন খুঁজছেন?
-আপনি কি আমাকে তার সাথে দেখা করাতে পারেন।
-ভাই আপনার পোষাক আর দামী গাড়ী দেখে ত ভদ্র এবং বড় লোকই মনে হচ্ছে।কিন্তু আমার মাকে কেন দরকার।
-বলব সব বলল আগে আমাকে তার কাছে নিয়ে চলেন।
অগত্যা জিসানের পীড়াপীড়িতে দোকানদার অন্য এক ছেলেকে দোকান দেখতে বলে দোকানের পেছনের বাড়ীটিতে নিয়ে গেলেন।
-মা ও মা দেখ তোমাকে একজন খোঁজ করতেছে।ছেলেটি ডাক দিল তার মাকে।ভেতর থেকে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলেন একজন মহিলা
-কি রে বাপ আমারে আবার কে খুঁজতে আসল?
ঘরের মধ্যে জিসানকে দেখে তিনি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন।অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন।
চোখের সামনে নিজের গর্ভধারিনীকে দেখে কিছুক্ষনের জন্য জিসানও থমকে গেল।ধীর পায়ে আরেকটু সামনে এগিয়ে যেয়ে বলে
-মা আমাকে চিনতে পারছেন?
-তুমি কে বাবা?নুরীর অপ্রস্তুত প্রশ্ন
-মা আমি নয়ন।
চকিতে নয়ন নামটি যেন নুরীর পুরো মুখে একটা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটালো।কিন্তু মুহুর্তেই আবার সেই আলো মিলিয়ে যেতেই নুরী জিসানকে পেছন করে ঘুরে দাড়িয়ে আঁচলে মুখ চাপা দিলেন।নুরীর বুকের ভেতর কষ্টের ঢেউ আছড়ে পড়ছে যেন।ততক্ষনে ঘরের ভেতর আরো একজন বৃদ্ধ এসে দাড়িয়েছেন।কেউ কোন কথা বলছে না।নুরী কে জিসানের আচমকা মা বলে ডাকা তে সবাই যেন চমকে গিয়ে থমকে গেছে।ভেতর থেকে একটি পনের বছরের মেয়ে এসে নুরী জিজ্ঞেস করে
-ও মা উনি কে?মা কথা বল না কেন।ও মা তুমি কাঁদো কেন?নুরীর চোখের পানি লক্ষ্য করে বলে মেয়েটি।এতক্ষন পরে নুরীর স্বামী জিসান কে বলেন
-বাবা আপনে বসেন।ও শাকিলের মা তুমি মুখ ঘুইরা খারায়ে রইলা কেন?দেখ এতদিন বাদে তোমার খোঁজে কে আইছে!
নুরী তখনো জিসানকে পেছন করে ডুকরে কেঁদে ওঠে।জিসান পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে নুরীর কাঁধে হাত রাখে
-মা ও মা আপনি আমার সাথে কথা বলবেন না।দেখেন আমি আপনার সেই ছোট্ট নয়ন।যাকে আপনার বুক থেকে কেড়ে নিয়েছিল সবাই।কথা শেষ না হতে নুরী জিসানের বুকে আছড়ে পড়ে কাঁদতে থাকে।একজন মা,যে মা তিরিশটা বছর ভেতরে ভেতরে ডুকরে ডুকরে কেঁদেছে।অথচ কেউ সে কান্না সে কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেনি।নুরীর মুখের ভাষা যেন তিরিশ বছরের কষ্ট আজ স্তব্ধ করে দিয়েছে।সে যেন কান্নার কাছে নির্বাক হয়ে গেছে।সে কি কান্না তার!জিসানকে হাতরে হাতরে আদর আদরে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিয়ে নুরী যেন এত বছরের মাতৃত্বের পিপাসা মেটানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।জিসান মাকে ধরে নিয়ে বসায়।
-আর না মা আর কাঁদে না।এই যে আমি তোমার নয়ন তোমার সামনে।আর তোমার নয়নের জন্য কাঁদতে হবে না।তোমার নয়নকে আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।আরো অনেক কথার ফুলঝুড়িতে জিসান নুরীকে সান্তনা দেয়।কিন্তু নুরীর কান্না যেন থামতেই চায়না।মা ছেলের বহু প্রতীক্ষিত মিলনের পর নুরী স্বামী জিসানের পাশে বসে জিসানের হাত ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন
-বাবা আপনে আমারে মাফ কইরা দিয়েন।তখন আসলে বুঝতে পারিনাই একজন মার কাছে যে তার সন্তান কত আদরের।কত অমুল্য সম্পদ।আমি শুধু নুরীরেই বিবাহ করতে রাজী ছিলাম।তার আগের ঘরের সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাই নাই।তাই নুরীর বাবায় মানে আপনের নানায় আপনেরে কার কাছে যেন পালক দিয়া দিছিল।সেই শোক নুরী কোনদিন ভুলতে পারেনাই।বিশ্বাস করেন বাবা এই তিরিশ বছরের একটা দিন নুরী রাইতে না কাইন্দা আপনের জন্য নামাজ পইরা দোয়া না কইরা ঘুমায় নাই।
তিনি আবার জিসানের কাছে ক্ষমা চান
-বাবা গো আপনে আপনের মার বুকে ফেরত আইসা আমারে দায় মুক্ত করলেন।না হইলে এই পাপ আমারে মরনের পরেও ছাড়তো না।আমি নুরীর বুক থিকা তার সন্তান কাইড়া নিয়া অনেক বড় পাপ করছিলাম।নুরী আইজ তিরিশটা বছর হাসে না।কারো সাথে মন খুইলা কথা কয় না।
জিসান বৃদ্ধের হাত ধরে তাকে আশ্বস্ত করে।সে আর তার মাকে কোন কষ্ট পেতে দেবে না।মা যতদিন বেঁচে থাকবে মা এবং তার পরিবারের প্রতিও থাকবে তার অগাথ সম্মান।নুরীকে জিসান বলে তার সন্তানেরা তারই ভাইবোন।তারা একে অপরের আপন হয়েই থাকবে।নুরীকে তার নিজের বাসায় নিয়ে যাবার আশ্বাস দিয়ে জিসান বেরিয়ে আসে।পথে নেমে বুক ভরে নিশ্বাস নেয় সে।তার মনে হয় কতদিন যেন সে মায়ের আদর থেকে বন্চিত ছিল।মা কে নিয়ে ভাবতে ভাবতে জিসান লিলিকে সব জানাতে বাসার দিকে যেতে শুরু করে।
লেখা- শাহানাজ পারভেজ (Shahanaz Parvez)
Send private message to author






