মাহা, মহিউদ্দিন সাহেব এবং শেহনাজ বেগমের একমাত্র মেয়ে। ভীষণ নির্লিপ্ত, চটপটে বেখেয়ালি সরল স্বভাবের মেয়ে মাহা। মাঝে মাঝে মাহার নিজেকে তার মায়ের মতোন মনে হয় স্বভাবের দিক থেকে। যদিও মাহার চেহারার গঠন শেহনাজ বেগমের মত একদমই নয়।
মাহার মাঝে মাঝে মনে হয় এই বাড়িটা কেমন গুমোট অন্ধকার। যেনো কোনো অদৃশ্য অভিসপ্ত ছায়া ঘিরে রেখেছে পুরো বাড়িটাকে। একদম নীরব। মাহার মন খারাপ হলে সে জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়। এ দিকটা অদ্ভুত প্রশান্তি দেয় মাহাকে। জানালা ঘেষে বয়ে যাওয়া মরা নদীটা দেখতে পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে অর্ধেক চাঁদের আলো পানিতে খেলা করে। কিংবা কখনো অই দূরে জোনাকি পোকার আলোর নৃত্য দেখতে পাওয়া যায়। যেনো এই নিকষ অন্ধকারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ওরা আলো জ্বেলে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিতে চাইছে। দূর থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভয়ংকর নীরবতাকে ভাঙ্গতে চাইছে ভীষণভাবে। আকাশের মেঘের আড়ালে আর্ধেক চাঁদটা ঢেকে গেছে। অন্যান্য দিন থেকে আরো ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে আছে পুরো পরিবেশটা।
একবার রাশিক মাহাকে বলেছিলো, তাদের বাড়িটাকে দেখলে কেমন গা ঝমঝম করে ওর। মনে হয় যেনো বিশাল বড় বটগাছ। মৃত আত্মারা যেখানে বসবাস করে। ভাবতে ভাবতেই মাহার মনে হলো রাশিকের কথা। একবার মাহা তার জন্মদিনে রাশিকের কাছে তার গায়ের গন্ধটুকু উপহার হিসেবে চেয়েছিলো। রাশিক কেমন করে যেনো তার গায়ের গন্ধে ঠাসা এক বই উপহার দিলো মাহাকে। তখনই অবাক করে দিয়ে পরিচিত রিং টোনটা বেজে উঠল। রাশিক কল দিয়েছে! হাতে কিছুক্ষণ ফোনটা রেখে মাহা কল রিসিভ করল। খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, হ্যালো। ওপাশে রাশিক চুপ করে আছে। কিছুক্ষণের জন্য দু’জন চুপ। নিস্তব্ধ নীরব চারিদিক। রাশিক কাঁদছে। মাহা বুঝতে পেরেও জিজ্ঞেস করল না রাশিক কেনো কাঁদছে৷ সেকেন্ড পাঁচেক পর মাহা জিজ্ঞেস করল,
- ভালো আছো রাশিক?
-রাশিক কোনো উত্তর দিলনা। - মাহা, আবার জিজ্ঞেস করল, ভালো আছো রাশিক?
এবারো রাশিক কোনো উত্তর দিলনা। - মাহা এবার জিজ্ঞেস করল, ভালোবাসো আমায়?
- এবার রাশিক হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। যেনো ছোট্ট একটা বাচ্চা তার আশ্রয় হারিয়ে ফেলেছে।
- মাহা, রাশিককে বলল ফোনটা রেখে ছাদ থেকে নেমে বাসায় যাও। তোমার হাতের সিগারেট ও শেষ হয়ে গেছে প্রায়। বাসায় গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে শুয়ে পড়ো। বলেই মাহা ফোনটা কেটে দিল। এখন কোথা থেকে যেনো তীক্ষ্ণ আলো এসে পরছে মাহার মুখের উপর। মাহার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হলো। ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই দেখতে পেলো রাত প্রায় পৌনে তিনটে বাজে। একটা ম্যাসেজ লিখল মাহা
“আমি তোমায় ভালোবাসি। সে ভালোবাসা হয়তো ভয়ংকর ভালোবাসা। আমি এখন এ মুহূর্তে তোমায় কাছে চাইছি। খুব কাছে। জানি বললেই তুমি চলে আসবে। কিন্তু আমি বলব না। একটা সময় তুমি বুঝবে আমি তোমায় পাগলের মতো ভালোবাসেছি। কিন্তু সে সময়ে আমি থাকব না৷ তুমি থাকবে একা, একদম একা।” মাহা ম্যাসেজটা না পাঠিয়েই মুছে ফেলল। মাহা সেই রাতের কথা কিছুতেই মাথা থেকে বের করতে পারছেনা।
মহিউদ্দিন সাহেব এই ভুতুড়ে বাড়ি, শেহনাজ বেগম এবং তাদের মেয়ে মাহাকে ছেড়ে চলে গেছেন আজ ১৭ বছর হতে চললো। মহিউদ্দিন সাহেবের চলে যাবার কারণটা রহস্য রয়ে গেছে যদিও। একদিন হঠাৎ করেই কাউকে না জানিয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে শেহনাজ বেগমের সাথে মাহার একটু একটু করে বড় হয়ে উঠা, একটু দূরে দূরে হাঁটা।
মাহা! মাহা! ভীষণ রাগান্বিত স্বরে শেহনাজ বেগম চিল্লাচ্ছেন। মাহার রুমের দরজায় স্বজোড়ে লাথি মেরে মাহার ডান হাতের বাহুতে ভীষণ জোড়ে চাপ দিয়ে এক টানে মেয়েকে বিছানা থেকে উঠালেন শেহনাজ বেগম।
-এই মেয়ে! তুই নাট্যকলায় পড়ার কথা কোন সাহসে ভাবলি?
- মা..আমি..আমি ভর্তি হয়ে গেছি।
-নির্লজ্জ! বেহায়া মেয়ে! আমি তোকে একবার বলেছি তুই এই ঘর থেকে এক পা ও বাইরে যেতে পারবিনা। পড়তে হলে এই শহরে থেকে কোনো কলেজে পড়বি। তোর বাপ তো তোকে আমার কাছে রেখেই বিদায় হয়ে গেছে। তোর বাপ বলছিলো এই নষ্ট সমাজে কোনো নতুন প্রাণ সে আনতে চায় না। অথচ তোকে সে নিয়ে এসে আমার ঘাড়ে ফেলে ফুর্তি করতে ভেগে গেছে। আর তুই আমার পয়সা ধ্বংস করতেছিস। আবার নাকি পড়বি নাট্যকলায়। বেশ্যা হবি তুই!! নষ্ট মেয়ে মানুষ হবি?
মায়ের কথা শুনে মাহা হেসে উঠলো। কারণ এ দৃশ্য নতুন নয়। বেশ কয়েকদিন আগে যখন মাহা বাসে করে যাচ্ছিলো, তখন বাস একটু খালি হতে শুরু করলেই পাশের সিটে বসা বুড়ো আঙ্কেলটা মাহার বুকে স্পর্শ করে। কি অস্বস্তিকর সে স্পর্শ! মাহা বড় বড় চোখ করে তাকাতেই লোকটা তাড়াহুড়া করে বাস থেকে নেমে পরলেন। বাস কিছু দূর যাবার পর একজন ভদ্র মহিলা ছোট একটি বাচ্চাকে নিয়ে পাশের সিটে এসে বসলেন। হঠাৎ ব্রেক কষার কারণে ছোট বাচ্চাটির হাত মাহার হাঁটুতে এসে লাগে। মাহা চমকে উঠে আতঙ্কে। মাহা যেনো এক অজানা ভয়ের ঘোরে ঢুকে গেছিলো সেসময়। পাশের সিটের ভদ্রমহিলা পুরো ঘটনা বোঝতে পেরে মাহাকে আশ্বত্ব করল শাম্ত হবার জন্য। মাহা সে রাতে ভীষণ কেঁদেছিলো। ভয়ে একেবারে গুটিয়ে গেছিলো। অথচ মাকে এসে বলতেই শেহনাজ বেগম মাহাকে উল্টো নষ্ট মেয়েমানুষ বলে গালাগাল দিয়ে দিলেন। আরো বললেন , মাহার নাকি জন্মের ঠিক নেই..
ছোটবেলায় মাহার চাচাতো ভাই ইচ্ছে করে যখন মাহার নামে উল্টোপাল্টা নোংরা কথা বললো সেদিনও শেহনাজ বেগম মাহাকেই জুতোপেটা করেছিলেন। বলেছিলেন সব দোষ নাকি মাহার। মাহাই নাকি চায় ছেলেমানুষের ছোঁয়া পেতে। মাহা সেদিনও কিচ্ছু বলেনি। কেবল অঝোরে কেঁদেছিলো।
এমন হাজারো ঘটনা মাহার মনে পরে। একবার রান্নাঘরে ডিমভাজি করতে গিয়ে ডিম মাটিতে পরে যায়। সেদিন শেহনাজ বেগম চুলায় চামচ গরম করে মাহার হাতে ছ্যাঁক দিয়ে বলেছিলেন, ‘ মাইয়া মানুষ ডিম ভাজি করতে পারিস না! ঢং কতো! শেহনাজ বেগম বরাবরই মাহার প্রতি রুক্ষ মানসিকতা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন মাহার চরিত্রের ঠিক নেই। কারণ মাহা তার সব ছেলে বন্ধুর সাথেই হেসে কথা বলে। মাহা স্বাধীনতার নামে যা করছে তার সবকিছুই বেয়াদবি। শেহনাজ বেগমের মতে মেয়ে মানুষ হবে নরম ভাষী, দুর্বল এবং কোমল।
২০ বছর আগে মহিউদ্দিন সাহেব এবং শেহনাজ বেগমের ধারণা ছিলো এই নষ্ট বর্বর পৃথিবীতে ওরা নতুন কোনো প্রাণকে আনতে চান না। সে অনুযায়ী দু’জনে নিঃসন্তান থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সংসার সুন্দরভাবেই চলছিলো দু’জনের। একরাতে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো। মহিউদ্দিন সাহেব অফিস থেকে সবে বের হয়েছেন। অফিস গেইটের সামনে তিনি ছোট্ট একটা বাচ্চাকে দেখতে পেলেন। ভিজে একদম চুবো হয়ে গেছে; শীতে কাঁপছে। মহিউদ্দিন সাহেব দূর থেকে লক্ষ্য করছিলেন বাচ্চাটিকে। কাছাকাছি যেতেই দমকা হাওয়া দিয়ে ভীষণ জোড়ে গম্ভীর আওয়াজ তুলে আকাশে বজ্রপাত শুরু হতে লাগল।হঠাৎ আকাশে মেঘে মেঘে ঘর্ষণ এতোটা জোরে শুরু হল যে কোথ থেকে এক ছুটে বাচ্চাটি দৌড়ে এসে মহিউদ্দিন সাহেবকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আর তখন বজ্রপাতের আলো এসে পরল বাচ্চাটির মুখের উপর। মহিউদ্দিন সাহেব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন বাচ্চাটির চেহারা হুবহু তার মায়ের মতোন যাকে তিনি খুব ছোট বেলায় হারিয়েছিলেন। কি শান্ত, ভীত সে চোখ! যেনো কোনো আশ্রয় খুঁজছে। নিঃসন্তান মহিউদ্দিন সন্তান নেয়া না নেয়ার টানাপোড়ন অনুভব করেন। সেই রাতে মায়ের মুখখানার মতোন ছোট্ট বাচ্চাটিকে দেখে গভীর মায়া হয় মহিউদ্দিনের। হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সেই আকস্মিক সিদ্ধান্তে মহিউদ্দিন সাহেব হয়ে উঠেন আজকের মাহার বাবা। তারপর তিন বছর শেহনাজ বেগম, মাহা এবং মহিউদ্দিন সাহেব ভীষণ সুন্দর জীবন কাটিয়েছেন।
মহিউদ্দিন সাহেবের বাড়ি থেকে বিনা কারণে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাবার পর শেহনাজ বেগম পাল্টাতে শুরু করেন। মাহাকে দেখলেই শেহনাজ বেগমের মহিউদ্দিন সাহেবের কথা মনে পরে যায়। শেহনাজ বেগম এটাও মনে করেন মাহাই তাদের জীবনের সেই অভিশপ্ত অধ্যায়। শেহনাজ বেগমের ধারণা মাহা, মহিউদ্দিন সাহেবেরই নাজায়েজ সন্তান।
রাশিক এবং মাহার সম্পর্ক বেশ কয়েক বছরের। মাহাকে যদি এই পৃথিবীতে কেউ সবচেয়ে বেশি ভালোবেসে থাকে তাহলে সেটা হলো রাশিক।
ডিসেম্বরের শেষ সময়। বন্ধুরা মিলে ট্যুরের প্ল্যান করলো যে বান্দরবান যাবে। প্ল্যান অনুসারে রওনা দিয়ে ভোর পাঁচটার দিকে বান্দরবান এসে নামলো সবাই। তারপর শুরু হলো ট্র্যাকিং। রাতে তাবু টানিয়ে রাত কাটানো হবে। পাহাড়ের গুমোট অন্ধকারে রাশিক এবং মাহা একই তাবুতে। তাবুর সামনে আগুন জ্বালানো হয়। সারাদিন ধরে পায়ে হেঁটে পাহাড়ে উঠার ফলে সকলেই ভীষণ ক্লান্ত। পাহাড়ি নিশ্চুপ পরিবেশের সাথে আকাশের তারা, মাঝে মাঝে কোথাও বন্য জন্তুর ডাক শোনা যাচ্ছে। মাহার হঠাৎ করেই মনে হয় এই পৃথিবীতে হয়তো মাহাকে কেউ চায় না। এই পৃথিবীতে মাহা সম্পূর্ণ একক এক স্বত্ত্বা। দূর থেকে বাঁশির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। রাশিক তাবু থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে পাহাড়ি রাত উপভোগ করছে। মাহা রাশিকের কাছাকাছি এগিয়ে গিয়ে গা এলিয়ে বসে পরলো। মাহা জানে রাশিক মাহাকে খুব করে কাছে চায়। তবুও এক অদৃশ্য দেয়াল মাহাকে আটকে রেখেছে। মাহার ভেতর যে জন্ম নিয়েছে নতুন আরেক স্বত্বা! রাশিককে যার কিছুই জানানো হয়নি।
বেশ কিছু মাস আগেকার কথা, সেদিন মাহার কোচিং শেষ করে বাসায় ফিরতে রাত প্রায় সাড়ে সাতটা বেজে গেছিলো। শেহনাজ বেগম যেহেতু অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ একজন মহিলা সেহেতু বাসায় ঢুকার পরপরই তিনি মাহাকে লম্বা লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করেন। মায়ের প্রচন্ড মারধর, অত্যাচার থেকে পালাতে মাহা রাশিকের বাসায় চলে গেছিলো সেদিন।রাশিকের বাবা মা ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে থাকবার কারণে মাহার রাশিকের বাসায় থেকে যেতে কোনো অসুবিধে হলো না। সে রাতেই ভালোবাসার মানুষগুলো যেনো নতুন ঘর খোঁজে পেলো। যেনো তৃষ্ণার্ত দুটো প্রাণ কোনো মরিচীকার পেছনে ছুটে এখন ক্লান্ত প্রায়। মাতাল দু’টো আত্মা একে অপরের বিষন্নতা মাখানো সময়গুলো শুষে নিতে চাচ্ছে ভীষণ যত্ন করে। সে রাতে রাশিক মাহাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা গুজার জায়গা করে দিয়েছিলো। রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে দুু’টো মানুষ মিশে গেছিলো একে অপরের ভেতর। মাহা তখন ও বুঝে উঠতে পারেনি কী করে সবকিছু ঘটে গেলো।
ডিসেম্বরের পাহাড়ের সে রাত। মাহা রাশিকের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। চারিদিক এতোটা নিস্তব্ধ যে দু’জনের নিশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না। রাশিক মাহার ডান হাত তার হাতের মুঠোয় নিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো। রাশিকের হাত মাহাকে আশ্বস্ত করলো মাহাকে সে কখনো ছেড়ে যাবে না যা-ই হোক না কেনো।
চোখ বন্ধ অবস্হায় মাহা দেখতে পেলো তার মা শেহনাজ বেগম তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। ভয়ংকর অদ্ভুত সে হাসি। যেনো কিছু বলতে চাইছে। খানিকের জন্য মাহার মনে হলো শেহনাজ বেগম আসলে সে। শেহনাজ বেগমকে মাহা নিজের ভেতর ধারণ করেছে।রাশিকের হাত থেকে নিজের হাতটাকে ঝাটকা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো মাহা। পাহাড়ের শেষ দিকটায় ধীরে ধীরে পা বাড়াতে লাগলো। যেনো বিধ্বস্ত এক আত্মা ভর করেছে মাহাকে।কয়েক মিনিট পরই আচমকা মাহা পাহাড়ের দিকে মুখ করে হঠাৎ লাফিয়ে পরলো। যেনো নিমিষের ভেতর একটা শরীর শূন্যে মিলিয়ে গেলো পাহাড়ী মেঘের ওপারে।ছোট্ট একটা প্রাণ ভেতরে নিয়ে মাহা পাড়ি দিলো ওপারে। বাঁচিয়ে দিলো একটা প্রাণকে। যাকে সে অভিশপ্ত হতে দিতে চায় না।







