নস্টালজিয়া
নব্বই দশকের ভালোবাসা গুলো ভীষণ অদ্ভুত ছিল।
দেখা বাধ্যতামূলক না, ছোঁয়া জরুরী না..
শুধু এক অদ্ভুত আবেশে ডুবে থাকা।
তখনও মোবাইল ফোনের যুগ আসেনি।
ঢাউস ল্যান্ড ফোনটা যখন তার রহস্যময় শব্দে বেজে উঠতো,
বাড়ির তরুণী মেয়েটার মন নেচে উঠতো এক অজানা ছন্দে।
সেখানে নাম্বার ভেসে উঠতো না,
নাম সেইভ করা থাকতো না,
তবু ‘মন বলছে এটা তারই ফোন’ টুকু
অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরিয়ে তুলতো।
টেলিফোনের ক্রিংক্রিং শব্দ তখন পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ধ্বনি মনে হতো।
মিসড কল জেনারেশন এর ছেলেমেয়েরা বুঝতেই পারবে না
তখন আমরা ব্ল্যাংক কলের গ্যাড়াকলে পড়ে
কতো নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।
কেউ কেউ ফোনের ওপাশে চুপটি করে বসে থাকতো,
খুব চেনা কেউ অচেনা নামে কাওকে ডাকতো।
রিসিভারে রুমাল চেপে গলার স্বরটা পালটে কথা বলতে চাইতো যে ভীতু ছেলেটা,
সে হয়তো জানতোই না..
ওপাশের মেয়েটা বুঝে ফেলে ঠিক মুচকি মুচকি হাসছে।
ক্রস কানেকশন কখনো কখনো বিরক্তির কারণ হলেও
তা থেকেও লেখা হতো কতো প্রেমের উপাখ্যান।
অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে অন্যের আলাপে ঢুকে যাওয়া কলগুলো
কখনো জুড়ে দিতো, কখনো পুড়ে দিতো।
‘হ্যালো’ বলে বাকিটা সময় শুধু নিঃশব্দে কাটিয়ে দেয়া আলস দুপুরগুলো,
দুটো রিং বেজে কেটে দিলে ছাদে যাওয়ার বার্তা দেয়া বিকেলগুলো,
অথবা শুভ রাত্রি বলতে রঙ নাম্বারের ছুঁতো ধরা রাত গুলোই শুধু জানে
ল্যান্ডফোনের রিং বাজলেই মনটা কেমন
এফোড় ওফোড় হয়ে যেতো।
নোনতা স্বাদের জলটা যখন গাল বেয়ে পড়তো
তার সাক্ষী হতে হতে রিসিভারের মাউথপিসের রঙ জ্বলে যেতো।
আঙুলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডায়াল করা ফোনের নাম্বারগুলো হালকা হতে হতে একসময় মিলিয়ে যেতো।
কতো বলতে না পারা কথার ভারে মুখ নুইয়ে পড়ে থাকতো ড্রইংরুমের এক কোনে।
কখনো সব অভিমান গিয়ে তার উপর পড়লে চড় চাটি পড়তো,
কখনো গভীর পরশের আলিঙ্গনটা দিয়ে জড়িয়ে ধরতো।
মোবাইল ফোন ছিল না বলে তখন
জীবনের আনন্দ এক আনাও কম ছিল না।
তখনও আমাদের জীবনে ছন্দ ছিল..
বারান্দায় দাঁড়ালেই হাসনাহেনার গন্ধ ছিল।
তোমরা ম্যাসেঞ্জারের টুংটাং নোটিফিকেশনে ব্যাস্ত থাকো..
আমরা মোজাইকের ফ্লোরে পড়া মার্বেলের টুংটাং শব্দে মেতে থাকতাম।
তোমরা বৃষ্টি হলেই ফেইসবুকের টাইমলাইন জুড়ে স্ট্যাটাস দাও
আমরা খালি পায়েই ছাদে ছুটতাম ভিজতে।
তোমরা শীলা পড়লেই মোবাইলের স্ন্যাপচ্যাট নিয়ে বসে যাও
আমরা বৃষ্টির জলে সেগুলো ধুয়ে চুষে খেতাম।
আমাদের ফুরিয়ে যাওয়াগুলোও এখনো ফুরিয়ে যায়নি,
আর তোমরা থাকাগুলোও অতৃপ্তির সিল লাগিয়ে হেলায় হারিয়ে ফেলো।
– Sanjida Hossain
Send private message to author




