গ্রীষ্মকালের ভ্যাপসা গরম কেটে গেছে। বেশ কিছুদিন পর আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছে। নাদিম অফিসের জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছে।
যখন থেকে নাদিম প্রেম-ভালোবাসা কী জিনিস বুঝতে শিখেছে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখেছে; তখন থেকেই ও একটা স্বপ্ন প্রায়ই দেখে।
ও দেখে, বৃষ্টিস্নাত কোনো এক দিনে ও ওর ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজছে। খালি পা। ভেজা ঘাসের উপর দিয়ে দু’জন মানুষ হাঁটছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখকর অনুভূতি দু’জন মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে……….
অন্য অনেক স্বপ্নের মতো নাদিমের এ স্বপ্নও পূরণ হয় নি। নাদিম নামের মধ্যবিত্ত ঘরের লাজুক ছেলেটার আর প্রেম করা হয়ে ওঠে নি।
নাদিম বিবাহিত। ওর স্ত্রীর ঠান্ডার সমস্যা আছে। নাদিমের হাতে হাত রেখে বৃষ্টিতে ভেজা তো দূরের কথা, দু-এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি মাথায় পড়লেই ওর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়!
পাঁচটা বেজে গেছে। নাদিম হাতের ফাইলগুলো সাইন করে নীচে নামলো।
গ্রাউন্ড ফ্লোরে ওর বেশ ক’জন কলিগ দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। নাদিম ভাবছে, শহরটা আবার ডুবে না যায়!
হঠাৎ ওখানে মিস মালিহা এল। এ অফিসের সবচেয়ে স্মার্ট, সুন্দরী ও আকর্ষণীয় কলিগ। এমডি স্যার থেকে শুরু করে অফিসের জুনিয়র পুরুষ কলিগরা প্রায় সবাই-ই ওর সাথে আগ বাড়িয়ে গায়ে পড়ে কথা বলতে চায়।
মালিহা নাদিমের পাশে এসে দাঁড়ালো। ওর গা থেকে পারফিউমের সুগন্ধ আসছে।
ও নাদিমকে উদ্দেশ্য করে বলল,”বাঃ! কী চমৎকার বৃষ্টি!”
কিছুক্ষণ নীরবতার পর হঠাৎ মালিহা একটু অন্যরকম কন্ঠে নাদিমকে বলল, “চলো নাদিম। প্রকৃতির এ সুন্দর সাজটাকে আমরা সেলিব্রেট করি। দু’জন চন্দ্রিমা উদ্যানে চলে যাই। তারপর ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে বৃষ্টিস্নান করি।”
মালিহা মজা করছে না। নাদিম ওর প্রতি মালিহার আকর্ষণ লক্ষ্য করছে ক’দিন ধরে।
বৃষ্টিস্নাত মাতাল করা পরিবেশে মালিহার মতো রুপবতী নারীর সাথে হাঁটার সুযোগ খুব কম সংখ্যক পুরুষই হারাতে চাইবে।
নাদিমের একবার মনে হল, ও মালিহার হাত ধরে স্বপ্নের পথে পা বাঁড়ায়। পরক্ষণেই ওর চোখের সামনে ওর স্ত্রীর মুখ ভেসে উঠল। নিশ্চয়ই বেচারি জানালার গ্রিল ধরে বৃষ্টি ভেজা পথের দিকে তাকিয়ে নাদিমের জন্য অপেক্ষা করছে।
নাদিম শীতল কন্ঠে মালিহাকে বলল, “আমি যেতে পারব না। আমায় বাড়ি ফিরতে হবে যে।”
নাদিমের কথা শুনে রাগে মালিহার গা জ্বলে যাচ্ছে। নাদিম ছাড়া মালিহাকে ফিরিয়ে দেবার মতো পুরুষ এ অফিসে, শুধু অফিসে কেন- মালিহার পরিচিতদের মধ্যে আর একজনও নেই।
নাদিম বিবাহিত। তাতে কী হয়েছে? বিবাহিত পুরুষরা বুঝি মালিহাদের হাত ধরে হারায় না ‘স্বপ্নে’র জগতে?
মালিহা বলল, ” ঠিক আছে। যেতে হবে না।”
মালিহার কান্না আসছে। এ কান্না নাদিমকে কিছুতেই দেখানো যাবে না। মালিহা বৃষ্টিভেজা পথে নেমে পড়ল।
মালিহার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে নাদিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
স্বপ্ন-টপ্ন নিয়ে ভাবলে নাদিমের চলবে না। হঠাৎ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে ওঠা এ নগরীর জল-কাদা পেরিয়ে ওকে দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে। বাড়িতে ওর স্ত্রী অপেক্ষা করে আছে যে।
- Munif Muhtasim.







তোর এই লেখাটা আমার সবচেয়ে পছন্দের হয়েছে বন্ধু। আমি বৃষ্টি-ভেজা মাটির সুবাস পাচ্ছি, পাচ্ছি অপূর্ণতা আর ভালোবাসার ঘ্রাণ। তুই লেখা চালিয়ে যা বন্ধু। তোর আরও গল্প পড়ার অপেক্ষায় আছি।
ধন্যবাদ রুশাম। তোর মতো অসাধারণ লেখকের উৎসাহ অনেক অনুপ্রেরণা দেয়।