লেখকঃ মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ যুনাইদ
ক্লাস ফাইভের ম্যাথের ক্লাস নিচ্ছিল মিথিলা, হঠাৎ স্কুলের পিওন এসে দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলো।
পড়া থামিয়ে পিওনকে ভিতরে ডাকলো মিথিলাঃ
-কী ব্যাপার? কোন সমস্যা হয়েছে?
-রিমনকে এইমাত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। অন্যকোথাও যায়নি, স্কুলের ভিতরেই আছে।
-খুঁজে পাওয়া গেছে মানে? রিমনকে তো আমি সকালে প্রথম ক্লাসেই দেখলাম। কোথায় গিয়েছিল ও?
-আপনার প্রথম ক্লাস করার পর থেকেই গত তিনটা ক্লাস ধরে রিমন উধাও হয়ে গিয়েছিল। সবাই সারাস্কুলে খোঁজাখুঁজি করে অবশেষে বের করেছে। হেডমিস্ট্রেস ম্যাডাম আপনাকে যেয়ে রিমনের সাথে কথা বলে বুঝিয়ে শুনিয়ে ওকে নিয়ে আসতে বলেছে। আপনি ছাড়া অন্যকোন টিচারের কথা ও শুনেই না।
-কী বলছেন আপনি এসব? রিমন কোথায় এখন?
-স্কুলের পিছনে বড় আমগাছটার নীচে চুপ করে বসে আছে।
-বলেন কী? ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওখানে রিমন কী করছে? আচ্ছা ঠিক আছে, চলুন!
ক্লাসের মাঝখানেই ব্রেক দিয়ে মিথিলা পিওনের সাথে যেয়ে দেখে রিমন সত্যই সেই আমগাছের নীচে চুপ করে বসে আছে। রিমনকে কয়েকবার ডাকার পরও জবাব না দেয়ায়, মিথিলা ওর কাছে যেয়ে আদর করে হাত ধরে নিজের সাথে করে নিয়ে আসলো। ক্লাসের চল্লিশজন ছাত্র, এর মধ্যে এই বাচ্চাটাকে নিয়ে মিথিলা পড়ছে মহা বিপদে। ক্লাসে ঠিকমতো আসে না, লেখাপড়ায় কোনই মনোযোগ নেই, হোমওয়ার্কও করে না ঠিকমতো। বাচ্চাটার ডায়েরীর মধ্যে কতবার ও সবকিছু লিখে দিয়েছে যেন গার্জিয়ানরা সেটা দেখে বাচ্চাটার ব্যাপারে এক্সট্রা কেয়ার নেয়, কিন্তু কোন লাভই হয়নি। ক্লাসটিচার হবার কারনে সব কমপ্লেইন ওর কাছেই আসে। আজকে এখানে আসার আগে মিথিলা মনে মনে ঠিক করেছে রিমনের সাথে ও খোলাখুলি আলাপ করবে আসলে ওর সমস্যাটা আসলে কোথায়? ছেলেটা একেবারেই চুপচাপ স্বভাবের।
অনেক আদরের পর আসল কাহিনী রিমনের মুখ থেকে শুনে মিথিলার মন খুবই খারাপ হয়ে গেল। রিমনের বাবা ব্যবসা করেন আর মা ব্যাংকে চাকরি করেন। দিনের বেশিরভাগ সময়ই বাবা মা কেউই বাসায় থাকে না, দেখাশুনা করে বাসার হাউজ মেইডরা। সামান্য কিছুর জন্যই এরা রিমনের গায়ে হাত তোলে। বাবা বাসায় ফিরে এলে রিমন এদের নামে বিচার দিলে মাঝে মাঝে হাউজ মেইডগুলি পরিবর্তন করে দেয়া হয়। কিন্তু কেউ ওকে সময় দেয় না, আদরও করে না, ওর সাথে খেলেও না। রিমন বাসা থেকে বের হয়ে নীচেও যেতে পারে না। হারিয়ে যাবার ভয়ে বাসা থেকে ওকে বের হতেই দেয় না। সারাদিন বাসায় রিমনকে একলা একলাই থাকতে হয়। মিথিলার ভাইয়ের ছোট ছেলেটা প্রায় একই বয়সী। মা ছাড়া এতটুকু বাচ্চা কিভাবে সারাদিন একা থাকে ওর মাথাই ঢুকল না, তবে এতটুকু বুঝল যে ওকে টিচার হিসেবে যতটুকু সম্ভব এই বাচ্চাটার পিছনে আলাদা করে এক্সট্রা কেয়ার নিতে হবে, বাচ্চাটাকে কিভাবে আরও বেশী করে সাহায্য করা যায় সেটা চিন্তা করতে করতে ওর ক্লাসে ফিরে আসলো মিথিলা। রিমনের বাবা মা’কে ডেকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে এখন।
সাময়িক বিরতি দেয়া ক্লাসটা শেষ করেই মিথিলা সোজা হেড মিস্ট্রেসের রুমে চলে গেল।
আজকে ম্যাডামের সাথে রিমনের বিষয়ে নিয়ে ও বিস্তারিত আলাপ করবে।
এক
কয়েকদিন পরেই রিমনের বাবা মিথিলার সাথে দেখা করে। বাবা’কে একা আসতে দেখে বেশ অবাক হলো মিথিলা। রিমনের মায়ের সাথে কথা বলাটাই ওর বেশি দরকার। অথচ মহিলা নিজেই আসলেন না। কী আশ্চর্য্য!
স্কুলের গেস্টরুমে বসে মিথিলা রিমনের ব্যাপারে যতগুলি কমপ্লেইন এসেছে সবগুলি বিস্তারিতভাবে বললো। রিমনের অমনযোগীতার সাথে আজকাল স্কুলে এসে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার কথা শুনে রিমনের বাবা বড় বড় করে কিছু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। রিমনের বাবা নাম রাশেদুল ইসলাম। সবকিছু শোনার পর রাশেদ সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। মিথিলা বেশ অবাক হলো। ভদ্রলোকের চোখে মুখে বেশ দ্বিধাগ্রস্থতা।
-ম্যাডাম আমি রিমনের খুব একটা দোষ দিচ্ছি না। বাচ্চাটার মানসিক অবস্থা এখন ভালো না। বাসার অবস্থা তো আপনি জানেন না! রিমন কয়েকবার বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। আপাতত আমি ওর স্কুলে আসা বন্ধ করেছি।
-কী বলছেন আপনি এসব? বাসা থেকে পালাতেই চাইবে কেন? আর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা তো কোন সলিউশন না! কতদিন বন্ধ করে রাখতে পারবেন?
-আমি জানি না ম্যাডাম। ব্যবসা এবং বাচ্চা পালা, এই দুইটা কাজ একসাথে সামলানো একা একা খুব কঠিন হয়ে পরছে।
-আপনি একা সামলাবেন কেন? রিমনের মা কোথায়? উনি কী করেন তাহলে?
রাশেদ সাহেব বিব্রতকর দৃষ্টিতে মিথিলার দিকে তাকিয়ে আছে। সুতীব্র একটা অস্বস্তি নিয়ে রাশেদ সাহেব মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে ভারী গলায় বললেনঃ
-ও এখন আমাদের সাথে থাকে না। আলাদা থাকে। সেপারেশনের কেস চলছে এখন আমাদের।
মিথিলা বুকের ভিতরে বড়সড় একটা ধাক্কা খেল। রিমন লজ্জায় মনে হয় এই বিষয়টা ওকে বলতে পারেনি। এতটুকু বাচ্চাটা কিভাবে মা ছাড়া একা একা থাকে? আহা!
-ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকলে তো জীবন চলবে না ম্যাডাম? খেতে পরতে তো হবে?
-আপনার দিকের কোন মহিলা আত্মীয়স্বজন’কে আপাতত বাসায় এনে রাখুন।
-এনে রাখার মতো না পেলে কী করবো? আমার বিয়ের আগেই বাবা মা দুইজনই মারা গেছেন। আমি বাসায় দুইজন হাউজমেইড রেখেছি সংসার আর রিমন’কে দেখাশুনা করার জন্য। কিন্তু রিমনের সাথে কোনভাবেই এদের বনিবনা হচ্ছে না। ও দিন দিন খুবই দূরন্ত হয়ে উঠছে। সামান্য কারনেই এদের সাথে মারামারি করে। সংসার সামলাতে আমাকে এখন প্রায় দিনই বাসায় বসে থাকতে হচ্ছে।
মনের ভিতরে প্রমাদ গুনলো মিথিলা। মানুষের জীবন কত অদ্ভুত। বাইরে থেকে যা দেখা যায় ভিতরে তার কত উলটপালট। রাশেদ সাহেবের জন্য খারাপ লাগলো মিথিলার। যতকিছুই হোক, এই পৃথিবীতে প্রতিটা সংসার ভাঙ্গাই চরমতম দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু আসল বিষয় হচ্ছে-
-আচ্ছা আপনি রিমন’কে ওর মায়ের কাছে দিয়ে দিচ্ছেন না কেন?
-কেন দেবো? আমি ওর বাবা না? রিমনের উপর আমার কোন অধিকার নেই?
-অবশ্যই আছে। কিন্তু আপনি তো পারছেন না। আপনার কাছে অসম্ভব কাজগুলি ওর মায়ের কাছে খুবই সহজ কাজ।
-এই সহজ কাজগুলি ফেলেই তো ও স্বার্থপরের মতো চলে গেছে। এখন কি আমি যেয়ে ওর হাতে পায়ে ধরে নিয়ে আসবো? বাচ্চা কি আমার একার? ও জন্ম দেইনি? ওর কোন দায়দায়িত্ব নেই?
মিথিলা চুপ হয়ে গেল। আসল ঘটনা পুরোপুরি না জেনে আন্দাজে কোনকিছু বলাই ঠিক হবে না। আরো কিছুক্ষণ কথা বলার পর রাশেদ সাহেব’কে চলে যাবার আগে হেড মিস্ট্রেস ম্যাডামের সাথে দেখা করে যেতে অনুরোধ করলো মিথিলা।
রাশেদ সাহেবের দেখা করে যাবার ঠিক পাঁচদিন পরেই রিমনের মা সাদিয়া মুমতাহীনা নিপা নিজে থেকেই স্কুলে এসে মিথিলার সাথে দেখা করলো। ভদ্রমহিলা একটা বেসরকারী ব্যাংকে ভালো পদে চাকুরী করেন। অর্ধবেলা ছুটি নিয়ে এসেছেন শুধুই মিথিলার সাথে দেখা করার জন্য।
দুই
আজকে সকালবেলা থেকেই রাশেদের মেজাজ খুব খারাপ। হাউজমেইড দুইজনের একজন কয়েকদিন আগেই চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। আরেকজন আজকে আসেনি। রান্নাবান্না করা এখনও পুরোপুরি শিখে উঠেতে পারেনি রাশেদ। দুপুরবেলা হোটেল থেকে বাপ-বেটা খেয়েদেয়ে বাসায় ফিরে রাশেদ বিছানায় শুয়ে রেস্ট নিচ্ছে। এমন সময় ফোনকল এলে মোবাইলে স্ক্রীনে রাশেদ তাকিয়ে দেখে ওদের ডির্ভোস কেসের উকিল রফিক সাহেব ফোন দিয়েছে।
-রাশেদ সাহেব, ব্যস্ত নাকি?
-জী না। বলুন?
-নিপা ম্যাডামের উকিল আমাকে কিছুক্ষণ আগেই ফোন দিয়েছিল। রিমন’কে উনি মায়ের কাছে ফিরত দিতে বলছেন। না দিলে উনি আইনের আশ্রয় চাইবেন।
-আমি বাচ্চা ওকে দিবো না। কোনভাবেই দিবো না। দরকার পরলে আমি জেল খাটবো, ফাঁসিতে ঝুলবো। তাও দিবো না। আমাকে না বলে, রিমন’কে না জানিয়ে ও এভাবে চলে গেল কেন? আপনি যেভাবে পারেন এটা আটকানোর ব্যবস্থা করেন।
-ভাই, আপনার বাচ্চার বয়স খুব কম। আদালতে গেলে এটা কোনভাবেই ঠেকানো যাবে না। আপনাকে আমি আগেই বলে রাখছি। আপনি বরং ম্যাডামের সাথে কথা বলে দেখুন।
-আমি ওর সাথে কোন কথাই বলবো না।
রাগের চোটে লাইন কেটে দিয়ে ফোনসেট বিছানার উপর সজোরে আছাড় দিলো রাশেদ। মেজাজ এখন ওর চুড়ান্ত খারাপ। বাচ্চা পালার সময় কোন হদিশ নেই, সারাদিন কোন খোঁজখবর থাকে না। এখন এসেছে বাচ্চা নিতে?
রিমন’কে দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।
রাগ কমানোর জন্য বাথরুমে ঢুকে মুখ চোখ ভালো করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে আসলো রাশেদ। মাথা যেকোনভাবেই হোক শান্ত রাখতে হবে। ওদের দুইজনের মাথাই হুটহাট করে গরম হয়ে যায় দেখেই আজকে এই ভয়াবহ অবস্থা এসে দাঁড়িয়েছে! উকিল ওকে যেভাবেই হোক মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেছে।
তিন
এখন প্রায় মধ্যরাত।
রোজকারের মতো আজকেও দুইচোখে কোন ঘুমই নেই নিপার। শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসলো। দুইতলার পশ্চিমমূখী এই ঘরটা নিপার নিজের ঘর। বাইরে আজ পূর্ণিমা। মায়াবী জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধ আলোতে সারাঘর মাখামাখি হয়ে আছে। মিষ্টি সেই আলোর তীব্রতা আটপৌরে মশারীর ফাঁকফোঁকরে গলে চুইয়ে এসে পড়ছে পুরো বিছানায়। আগে এখানে একটা সিঙ্গেল খাট ছিল। চার হাত-পা মেলে দিয়ে আরাম করে ঘুমানোর অভ্যাস রাশেদের। বিয়ের পর রাশেদ বেশ বড় একটা খাট কিনে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। চাঁদের আলোয় খাটে পাশাপাশি দুইটা খালি বালিশ দেখে মন আরো খারাপ হয়ে গেল নিপার। প্রায় চারমাস হয়ে গেছে ও রাশেদ’কে ফেলে রেখে বাবার বাসায় চলে এসেছে। ধৈর্য্যের সব বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছিল ওর। চলে আসার আগের রাতের ঝগড়ার শেষ দিকের দৃশ্যগুলি আবার মনে পড়ে গেল নিপার। প্রচণ্ড রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে রাশেদ ওর দিকে তেড়ে এসে বললোঃ
-সব দায়িত্ব কেন আমার হবে?
-কোন দায়িত্বটা পালন করো তুমি শুনি? সকালবেলা বের হও আর ফের সেই রাতেরবেলা। মাঝের সময়টাতে সংসার কিভাবে চলে তার কোন হিসাব দিতে পারবে? এক বাজার করা ছাড়া আর বাসার কোন কাজটা তুমি করো?
-আসমান থেকে ফেরেস্তা এসে মনে হয় আমাদের সংসার চালায়! তুমি নিজে কতক্ষণ থাকো বাসায়?
-আমি চাকুরী করি কিন্তু সংসারের সবকাজও দেখে শুনে রাখি আমি। না হলে এতদিনে সংসার গোল্লায় যেত!
-ঘোড়ার ডিমের কাজ করো তুমি! হাউজমেইড রেখে দিয়েছ দুইটা। এরাই তো সব করে। নিজে তো গায়ে দুইটা পাখনা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াও।
নিপা এরপর সহ্য করতে পারেনি, পারার কথাও না। মুখের লাগাম ছুটে গেল নিপারও!
ঝগড়ার চুড়ান্ত পর্যায়ে রাশেদ যখন ওর গালে চড় মারলো, সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো নিপা অনেক হয়েছে, আর সম্ভব না। মাত্র চারদিনের ট্রেনিংয়ে অফিস থেকে কক্সবাজার পাঠিয়েছিল নিপা’কে। এই কয়টা দিন রাশেদ’কে বাসা দেখেশুনে রাখার জন্য বলেছিল নিপা। রাশেদ তাতে কোনভাবেই রাজি না। রাতে তুমুল ঝগড়ার পর পরেরদিন ভোরবেলা কাউকে কিছু না বলে নিপা সোজা বাবা’র বাসায় চলে আসে। এভাবে কাউকে কিছু না বলে চলে যাওয়া’টা রাশেদ ভালোভাবে নেয়নি। সোজা মুখের উপর নিপা’কে বাসায় ফিরতে মানা করে দিয়েছে। রিমন’কেও কোনভাবেই মায়ের কাছে যেতে দেবে না রাশেদ।
ঝগড়াঝাটি কিভাবে যেন শেষ পর্যন্ত কিছু বুঝার আগেই চরম পর্যায়ে চলে গেল। মাথায় রোখ চেপে গিয়েছিল নিপার। রাশেদ চাকুরী ছেড়ে দিয়ে কেবলই ব্যবসায় নেমেছে। এখনও খুব একটা ভালো কিছু করতে পারেনি। সংসারের বেশিরভাগ খরচ নিপা’ই দেয়। রাশেদের সব ব্যাপারে খবরদারী তাই কিছুতেই মেনে নিতে পারলো না নিপা। জিদ নিপারও কম না। নিপা’র নিকাহের কাবিননামায় ১৮ নাম্বার ঘরে স্ত্রীর তালাক প্রদানের ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) দেয়া ছিল না। রিমন’কে যখন কিছুতেই ওর কাছে আসতে দেবে না, রাগের মাথায় আদালতের মাধ্যমে ডির্ভোস দেয়ার ভয় দেখালো নিপা। নিপা মনে করেছিল এতে রাশেদ ভয়ে চুপ হয়ে যাবে। কিন্তু ঘটনা ঘটলো উলটো, রাশেদ ওকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলো ডির্ভোস দেয়ার ব্যাপারে। রাশেদের সোজাসাপ্টা কথা, নিপা কোনভাবেই ওকে ডির্ভোস দিতে পারবে না। পাক্কা দুইমাস ধরে রিমন’কে দেখার জন্য ফোন করতে করতে বিরক্ত হয়ে একজন উকিলের সাথে দেখা করে নিপা। সেখান থেকে কিভাবে যেন তিক্ততার জল গড়াতে গড়তে এখন এই অন্তিম পর্যায়ে এসে পৌছিয়েছে।
কয়েকদিন আগেই রিমনের ক্লাস টিচারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল নিপা। মিথিলা ম্যাডামের কাছে রিমনের বর্তমান অবস্থার কথা শুনে রীতিমতো ভয় পেয়েছে নিপা। রাশেদ রিমন’কে কিছুতেই সামলাতে পারছে না। পারার কথাও না। রাশেদ মনে করেছিল রিমন’কে দেখা করতে না দিলে নিপা ওর কাছে সবকিছুর জন্য মাপ চেয়ে অবনত মস্তকে রাশেদের সব খবরদারী মেনে নিয়ে সংসারে ফিরে আসবে। কিন্তু নিপা সেইকাজ কোনদিনও করবে না। আজকের এই অবস্থার জন্য সব দোষ রাশেদের, সুতরাং মাপ রাশেদ’কেই চাইতে হবে। সেই প্রস্তাব দেয়াও হয়েছিল নিপার বাসা থেকে। এটা শুনে রাশেদ যা ইচ্ছে তাই ভাষায় নিপা’কে বকাঝোকা করেছে। এরপর আর নিপা রাশেদের সাথে কথা বলেনি। নিজের বৌয়ের সাথে যে এই ভাষায় কথা বলতে পারে তার সাথে আর যাই হোক সংসার করা যায় না।
ডির্ভোস কেস এখন আদালতে উঠেছে। এবার দেখা যাক রাশেদ কি করে?
বড় বড় করে কিছু দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিপা বিছানায় আবার শুয়ে পরলো।
ঘুম মনে হয় আজকেও আর আসবে না………………………
(এই গল্প দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা হয়েছে। শুধুই গল্প লেখার প্রয়োজনে স্থান, কাল, পাত্র-পাত্রীর বিবরণ বদলে দেয়া হয়েছে, ধন্যবাদ)
Send private message to author







আমাদের জীবনটা কতই না ব্যস্তভাবে শেষ হয়ে যায় । কিন্তু সুন্দর মুহূর্ত গুলো উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত থেকে যাই আমরা । পরিবার -পরিজন কে নিয়ে কাটানোর মতো সামান্য সময়টুকু হয়ত আমরা পাইনা ।
কবিদের ভাষায় ”হয়ত পরিবার এর সাথে কাটান মুহূর্ত গুলোই সবচেয়ে উপভোগ্য ।কিন্তু আমাদের এ সমাজে কটা পরিবার এরকম মনভাব নিয়ে বড় করছেন তাদের সন্তানদেরকে ।
হাজার শিশু মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলে ,এ ধরনের স্বাভাবিক বিকাশের অভাবে ।বাস্তবিক সুখটা যেখানে নিহিত সেখানটায় হয়ত বাধা আমাদের এ সমাজে …………………।।
ধন্যবাদ সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্য। পারিবারিক সুখ শান্তি একট বাচ্চার বড় হয়ে উঠার জন্য খুব দরকারী। বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য সাংসারিক সুন্দর সর্ম্পক আসলেই জরুরী।
বর্তমান সময়ে যেসব সমস্যা বড় হয়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে অন্যতম স্বামী স্ত্রীর মনোমালিন্য, ডিভোর্স। গল্পটিতে এ সমস্যাটি খুবই সুন্দর ও যুক্তিযুক্তভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের কাহিনী ও গল্প বলার ধরনটা ছিল সত্যি অসাধারণ।
গল্পে রাশেদ ও নিপার জীবনের টানাপোড়েনের গল্প বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে দিনদিন মনোমালিন্যের মাত্রা বেড়েই চলছিল। যা ডিভোর্স এবং আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু নিপা কাবিননামায় শর্তের বেড়াজালে আটকে যায়। ফলে তাদের ডিভোর্সের জটিলতা শুরু হয়।
তাদের সম্পর্কের অধপতনের প্রভাব পড়ে তাদের ছেলের উপর। সে তার পিতামাতার সম্পর্কের কারণে কারো সাহচার্য পাচ্ছিলো না। ফলে সে মানুষ হয় কাজের মেয়ের কাছে, যারা তার সাথে ভালো ব্যবহারও করে না। সে স্কুলেও পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যায়, তার মধ্যে সর্বদা একাকিত্ব,মন খারাপ আশ্রয় নেয়।
দেখা যাচ্ছে সম্পর্কের অধপতনের কারণে পিতা, মাতা, ছেলে,পিতার পরিবার,মাতার পরিবার সব জায়গায় অশান্তি শুরু হয়ে যায়।
এ পুরো ঘটনাটি বর্তমান সময়ের প্রতিফলন। আমাদের আঙ্গুল দিয়ে তা লেখক দেখিয়ে দিয়েছেন।
গল্পের ২য় অংশে কি হয় তা পড়ার অপেক্ষায় থাকবো, সুযোগ হলে পড়বো। আশা করি পরের অংশে লেখক সমস্যার সমাধান ও গল্পটির একটি সুন্দর সমাপ্তি দাড় করাবেন।
পুরো গল্প একটা বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে লেখা হয়েছে। যার কারণে এটা খুব বেশি বাস্তব মনে হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি সন্তানের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাচ্চার মানসিক ভারসাম্য ব্যাপক পরিমানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নিপা এবং রাশেদের মধ্যের যা যা হয়েছে তা শুধুই নিজের অহংবোধ থেকে। পরের পর্ব আরো সুন্দরভাবে বাস্তবাতা তুলে ধরা হয়েছে। আপনাকে পড়ার আমন্ত্রণ দিলাম। লেখা ইতিমধ্যেই পোস্ট দেয়া হয়েছে। শুভ কামনা।
আজকাল শহুরে ভীর আর যান্ত্রিকতার যাতাকলে রয়ে গেছে এমন বহু রাশেদ। বুকের মধ্যে জমা করে রেখেছে পিতা মাতার সম্পর্কের অবনতিকে। যার বয়সটুকু মাবাবার আদর-স্নেহ পাবার বয়স। সেই সময়টুকুতে তাকে থাকতে হচ্ছে হাউজমেড দের কাছে নিযাতিত হয়ে। বাবা মা তাদের ব্যাক্তিগত জীবনটাকে উপভোগ করতে গিয়ে সন্তানদের তাদের অধিকার টুকু থেকে বঞ্চিত করছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে গল্পটির সাথে শহুরে পরিবেশে বাবা মা আর তাদের সন্তানদের জীবনের অনেকে মিল রয়ে গেছে।
বদলে যাক মানসিকতা বদলে উঠুক সম্পর্কের নিন্মযাত্রা।