অনলাইনে খাবার অর্ডার আসলেই সাথে সাথে দৌঁড় দেয় কলিম। চিকেন বার্গার আর মেক্সিকান চিকেন পিৎজা তার বেস্টসেলার ফুড। তার সুনাম রয়েছে বেশ, এ দু’টো খাবারের জন্য। শহরের নতুন একটি বাসায় চার তলায় থাকে সে। পুরাতন বিল্ডিং, লিফট নেই। দারোয়ান মতি চাচা সব দেখাশোনা করে। পুরো নাম মতিয়ার উদ্দিন হলেও বয়সের কারণে সবাই তাকে মতি চাচা বলেই ডাকে। কলিমের এ বাসায় বেশি হলেও দু’মাস তেরো দিন হবে। বাড়ির মালিক থাকেন পাশের নতুন ফ্লাটে। সে হিসেব করে বাসা নিয়েছে কলিম। যে বিল্ডিং এ মালিক থাকে না সেখানে থেকে মজা পাওয়া যায়। ইচ্ছেমতো গলা ছেড়ে গান করা যায়, গার্লফ্রেন্ডকে মাঝেমধ্যে আনা যায় এসব অন্যতম সুবিধা কলিমের।
এ বাসাটার একরুম নিজের বাসা অন্যরুম তার ব্যবসার অফিস। এখান থেকেই সে তার হাতের বানানো দু’টি প্রিয় আইটেম ডেলিভারি দেয়। আজকেও এগারোটা অর্ডার হয়েছে। সবগুলো ডেলিভারি শেষ কেবল একটা বাকি। সেটা রাতে দিবে। ইচ্ছে করেই রাতে সময় দিয়েছে কলিম। তার বানানো হাতের এ দু’টো আইটেমের সুনাম অনেক। সে কারণে যে কোন সময়, কিঞ্চিৎ দেরী হলেও সবাই যে খেতে চায়। দু’বছর ধরে এ পেশায় নিয়মিত কলিম। ভালো রোজগার হয়। তাতেই তার সুখে দিন কাটে। ঠিক সে কারণে লোকটাও অর্ডার বাতিল না করল রাতেই ডেলিভারি দিতে বললো।
কলিংবেল বেজে উঠতেই দরজা খুলে দিলো মাঝবয়েসী একজন লোক। কলিম হাত বাড়িয়ে চিকেন পিৎজা বাড়িয়ে দিলো। লোকটি পিৎজা হাতে নিতেই সামনে থেকে ধারালো বটি কাঁধের উপর বসিয়ে দিলো কলিম। কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে রইলো মাঝবয়েসী লোকটা। লোকটা চিৎকার করে উঠেছে কিনা মনে করতে পারে না সে। লোকটা দাঁড়ানো অবস্থা থেকে থেকে পড়ে যেতে চাইলো। শুরুতে মরার মতো কোপ মারেনি কলিম। দরজা লক করা হয়েছে কিনা দেখে নিলো একফাঁকে। লক করাই আছে। আস্তে করে জড়িয়ে ধরা দেহটি ফ্লোরে রাখলো সে। তারপর গলায় একটা পোঁচ মেরে দিল। তিন বছর আগে বোনটা ধর্ষণ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি শরীরে কাজ করেছে কলিম। তাই তার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। লোকটার পা দু’টো শক্ত করে ধরে রাখলো সে। একটু পর সব নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলো। শেষ। লোকটা পড়ে আছে সটান। পুরো ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
বেসিনে গিয়ে নিজের চেহারা পরিষ্কার করলো কলিম। তারপর রক্তাক্ত শরীর নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বের হয় পরিষ্কার হয়ে। বড় বড় কাপড় নিয়ে রক্তগুলো মুছে বালতিতে রাখে। পুরো তিনঘণ্টা সময় লাগে সবটা পরিষ্কার করতে। তারপর বালতির সব ঢেলে দেয় কমোডে। এরপর একটা সিগারেট বের করে টানতে থাকে কলিম। চেহারায় ফুটে উঠে হাসির রেখা। তারপর বোনের অসহায় চেহারা ভেসে উঠে চোখের সামনে। নামগুলো মনে পড়ছে শুধু তার। এরপর আরও তিনজনের নাম মাথায় আসছে তার। শফিক রহমান, সানাউল্লাহ শিকদার, হারুনুর রশিদ। আরও বছর খানেক সময় লাগবে তার।
তারপর আবার কাজে লেগে পড়লো কলিম। দেহটাকে পিসপিস করতে লাগলো সে। তার প্রিয় দু’টো আইটেম তৈরি হবে। তারপর আরো তিনমাসের ব্যবসা। রাত প্রায় তিনটা। উপরের তলায় তার বাসা, বাসায় যেতে হবে এখন তার!
মতি চাচার পায়ের আওয়াজ শোনা গেলো। তার এ আওয়াজ ভালো করে চিনে কলিম৷ দরজায় কড়া নাড়লো। কলিম দরজা খুলতেই সে ফিসফিস করে বলে উঠলো- কলিম এবার চল, আমাদের পালাতে হবে সকাল হওয়ার আগেই। নতুন আরেকটা বাসায় চাকুরী পেয়েছি। ঐ বাসার তিনতলায় থাকে শফিক রহমান।
— একটু অপেক্ষা করো। সবটা মাংস ব্যাগে নিয়ে নিই, বাবা!
– Riaz Murshed Sayem
Send private message to author






