আজকে অফিসে যাওয়ার সময় ভুলে আইডি কার্ড ফেলে গেছি।
লকডাউনের সময় খুবই ভুল হইছে কাজটা।
কিন্তু মানুষ মাত্রই ভুল। তার উপরে রোজা আছি।রোজা রেখে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক না।
নিজেকে মাফ করে দিলাম।
সেহরীর পর চোখ বুজে এসেছিলো,ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিলো, তাড়াহুড়ায় মানি ব্যাগটাই ফেলে আসছি বাসায়। মানিব্যাগে ছিলো আইডি কার্ড। মুভমেন্ট পাস নেয়া হয় নাই কারণ আমাদের মুভমেন্ট পাস লাগে না। ব্যাংকের আইডি কার্ড দেখালে ছেড়ে দেয়। প্রতিদিন ব্যাংক খোলা।
অত্যন্ত ফাঁপড়ের মধ্যে আমি রিকশায় বসে অফিসে যাচ্ছি। স্বন্তপর্ণে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। পুলিশ কখন ডাক দিয়ে বসে মনে মনে সেই প্রমাদ গুণছি।
ডাক্তারদেরই আটকাচ্ছে, আর ব্যাংকারদের কি করবে কে জানে! আবার আমার মাথাও থাকে গরম।
হঠাৎ করে ভাইরাল হয়ে গেলে সমস্যা। আবার পকেটে জরিমানার টাকাও নাই।
দৈনিক বাংলা মোড়ে রাস্তা ব্যারিকেড। পুলিশ রিকশা দাঁড় করালো। উঁকি দিয়ে দেখলাম দুই সাংবাদিক আছে সাথে। একজনের কাঁধে ক্যামেরা।
আল্লাহু আকবার।
মনে মনে প্রবল বেগে সূরা আদ-দূহা পড়ছি।
অথচ পড়ার কথা আয়াতুল কুরসি। এ জিনিসটা আমার সবসময় হয়। আয়াতুল কুরসির পরিবর্তে আদ-দূহা পড়ে ফেলি।
পুলিশ আমার সামনে এসে মধুর হাসি দিলো।
কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেলো হাসি দেখে।
ভয় পেলে ভয়ের সম্মুখীন হতে হয়। আমিও মাস্ক খুলে আরো মধুর ভাবে হাসি দিলাম।
পুলিশ ভদ্রলোক বললেন, “হুজুর কোথায় যাচ্ছেন?”
দাঁড়ি বড় রাখার কারণে আজকাল অনেকেই হুজুর ডাকে। আমি পজিটিভলি নেই বিষয়টা।
ইতিমধ্যে সাংবাদিক ভাই এসেছেন। একটু দূরে দাঁড়িয়ে তিনি আমার স্পাইক করা খাড়া চুলের দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে আছেন। হাসে কেন? বন্ধু বান্ধব নাকি!
আমি গরীব মানুষ হাতের লেখা খারাপ দুইটা টাকার জন্য চাকরি করি। আমি সরাসরি হাসি মুখে বললাম আমি ভুলে আইডি ফেলে এসেছি। মুভমেন্ট পাস লাগে না তাই নিই নি, এবং এই মূহুর্তে জরিমানার টাকাও নাই। সম্ভব হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে।
সাংবাদিক সাহেব হাসছেন। এই ছেলে নিশ্চিত আমার বন্ধু হবে।
পুলিশ কয়েকজন জমে গেছে। সিনিয়র একজন হবেন হয়তো, বললেন, “হুজুর ভিজিটিং কার্ড দেন”।
টাকা,ক্রেডিট কার্ড, ভিজিটিং কার্ড সব একসাথে দলা পাকিয়ে বুক পকেটে ছিলো।
সবাইকে একটা করে দিলাম। আমি একটু দুষ্ট প্রকৃতির। সাংবাদিক ভাইকে বললাম,
“ভাই গরীবের কার্ড নিবেন নাকি একটা? শুনেছি সাংবাদিক বন্ধুরা নাকি খুব হেল্পফুল হয়।”
হেসে কার্ড নিলেন তিনি।
কার্ড দেখে পুলিশের সিনিয়র ভদ্রলোক বললেন, “আচ্ছা একবার আপনার অফিসে চা খেতে আসবানি। যান চলে যান।”
খুবই প্রীত হলাম। সাংবাদিক ভাই দেখলাম কার্ড রেখে দিলেন পকেটে। ক্যামেরাওয়ালা সাংবাদিক একবারও আসে নি এদিকে, বসে আছে প্রথম থেকেই। এ যাত্রা মনে হয় বিপদমুক্ত।
চলে আসছি, এসময় পুলিশ আবার ডাক দিলো পেছন থেকে।
থমকে গেলাম।
আবার মনে মনে সূরা আদ-দূহা।
পিছন ফিরে দেখলাম পুলিশের মধ্যে একজন মৃদু পায়ে এগিয়ে আসছে। সাংবাদিক ভাই হাসছে। এই লোক হাসে কেন এতো!
পুলিশ ঠিক আমার সামনে এসে বললো,
“রোজা আছেন হুজুর”?
আমি বললাম, “জ্বি আলহামদুলিল্লাহ।”
তিনি আমার কার্ডটা ফেরত দিয়ে বললেন,
“রোজায় ধরছে মনে হয় আপনাকে। আপনি আমাকে ভিজিটিং কার্ড না দিয়ে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দিয়েছেন। এটা হারালে জিডি করতে আমার কাছেই আপনাকে আসতে হতো। এভাবে চেক না করে দিয়ে দেয়া ঠিক না”।
তিনি ফিরে যাচ্ছেন। পুলিশ সবাই হাসছে।
সাংবাদিক ভাইও হাসছে।
আমি হাতে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
এখন আর হাসিগুলো অতটা খারাপ লাগছে না।
-কার্ড বিড়ম্বনা
Piash Mahboob Khan








গল্পটা বেশ ফানি।
ধন্যবাদ