-জানো, আজ দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়ে হিসেব গোলমাল করে ফেলেছি। এমনিতেই আমি অংকে কাঁচা।
-আহা! শুধু অঙ্ক নয়, বানানেও বেশ…
-মিথ্যে বলো না। যা লিখেছি কোথাও ভুল নেই। বরং কাঁচা বানান ঠিক করেই লিখেছি চন্দ্রবিন্দু দিয়ে।
-ওঃ! হিসেবটা অঙ্কতে গোলমাল হয়েছে, বুঝেছ?
-ইশ! যা আশংকা করেছি তাই।
-হুম। তোমার আশঙ্কাটা সত্যি।
-উফ্! আর পারি না। তোমার বানান শুধরে দেওয়ার ইংগিতগুলো কিন্তু আমি ঠিকই বুঝতে পারি।
-তাই নাকি! কোন ইঙ্গিতের কথা বলছ?
-ইঃ! এবারও ভুল করলাম। এমন মহাসঙ্কটে আগে কখনো পড়েছি বলে মনে হয় না আমার। যা লিখছি প্রতিটি লাইনেই বানান ভুল ধরছ।
-ওটি মহাসংকট হবে ‘সঙ্কট’ নয়।
-তুমি তো আসলেই মানুষ ভালো না। পর পর তিনটি বানান অনুস্বার যোগে লিখলাম, বললে ‘ঙ’ দিয়ে যুক্ত করতে। আবার ‘ঙ’ যুক্ত করে লিখতেই বললে অনুস্বার যোগে লিখতে হবে কিন্তু কেন?
-যুক্তি আছে তো!
-তো যুক্তি দাও। আর এমন কিছু শিখিয়ে দাও যেখানে অনুস্বার যোগে লিখলে ভুল হবার সম্ভাবনা কম বা একেবারেই নেই।
-ও কে। সাধারণত যুক্তাক্ষর লিখতে নাসিক্য বর্ণ সহযোগে লিখতে হয়। তবে যে শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ সম্ভব সেখানে অনুস্বার সহযোগে যুক্তাক্ষর লিখতে হয়।
-ওঃ! তোমাকে বলেছি এই নিয়ম-কানুন মনে রাখা কষ্ট। শুধু বলো এমন কোনো বর্ণ কি আছে যা দিয়ে যুক্তাক্ষর লিখতে অনুস্বার লাগবেই। যাতে সহজে মনে রাখতে পারি, ভুল হয় কম। বুঝেছ?
-বুঝেছি। তাহলে তুমি ‘স’ বর্ণ সঙ্গী করে নিশ্চিন্তে অনুস্বার সহযোগে যুক্তাক্ষর লিখতে পারো।
-আহা রে আমার শিক্ষক! প্রথমেই সঙ্গী লিখে অনুস্বার বর্জন করেছ নিজেই, আবার আমাকে বলছ! তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।
-‘স’ বর্ণকে সঙ্গী করে সঙ্গে নিয়ে তবেই অনুস্বার সহযোগে বাদবাকি যুক্তাক্ষর লিখে যাও অনায়াসে।
-মানে ওই একটিই ব্যতিক্রম?
-একদম।
-যাক, মনে কিছু নিয়ো না। শিক্ষকের ভুল ধরতে গিয়েও নতুন কিছু শেখা হলো। তাহলে আর কোনো সংশয় রইল না। রইল না কোনে সংঘাত।
-নিশ্চয়। আমাদের সংলাপ চলবেই। কোনোকিছু জানাতে সংকোচ কোরো না কিন্তু!
-যাক এবার ‘দুরন্ত সংলাপ ‘ যারা পড়বে সকলেই বুঝতে পারবে তোমার একটা সংবর্ধনা দেওয়া উচিত। তুমি কী বলো? বইমেলায় আসছি তাহলে।
-করোনাকালীন সংযত হয়ে কথা বলো। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তবে এসো কিন্তু! মনে রেখো-
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ
নো মাস্ক নো সার্ভিস।
দুরন্ত_সংলাপ
বানান_বিভ্রাট
০৭ এপ্রিল ২০২১
ঢাকা





