প্রিয় আয়না,
তাকানো হয়না তোমার দিকে বহুদিন। নিজেকে সাজিয়ে তোলার ইচ্ছেটা একেবারেই মরে না গেলেও সেটা অনেকে ভালো চোখে দেখবেনা বলে দাঁড়াই না তোমার সামনে। কালো চাদরে ঢেকে রেখেছি তোমায়।
ঘাসফুল গাঢ় নীল হয়। গত নয়মাস সেই ঘাসফুল দেখিনি। রাতের আকাশের মায়াময় চাঁদটাকে দেখা হয়না। রাস্তার মোড়ের অন্ধ ফকিরটাকে কিছু দেয়া হয়নি অনেকদিন। আদর করা হয়নি শিলাদের বাড়ির ছোট্ট বেড়ালছানাগুলোকে। আমার এখন আর প্রজাপতি দেখা হয় না। দেখা হয় না সকালের ঘাসের ডগায় চিকচিক করা শিশির। ছাদে উঠে বৃষ্টিতে ভেজা হয় না দু হাত মেলে। শরীরে বুলিয়ে নেয়া হয় না আকাশের কান্না।
আমার সারাদিন কাটে ঘরবন্দি অবস্থায়। নিজের রুম ছেড়ে বেরোই না সচরাচর। বেরোলেও ওড়না ভালো করে মুখে পেঁচিয়ে নেই। আমার নিজের জন্মদাতা আমায় দেখলে কুঁকড়ে যান এখন। আমার মা আমায় দেখলে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেন না। ছোট ভাইটা আগের মতো দুষ্টুমি করতে আসেনা।
গতবছরের বসন্তবরণের সেই বিকেলের আগ পর্যন্ত আমারও একটা প্রাণোচ্ছল জীবন ছিল। সেদিনটা ছিল শুক্রবার। বসন্তবরণ শেষে রাতে বাড়ি ফেরার সময় গলির মোড়ে দাঁড়ানো গর্জাতে থাকা হেডলাইটের আলোয় চোখ ধাঁধানো মাইক্রোটার খোলা দরজাটা থেকে বেরিয়ে আমার মুখ চেপে গাড়িতে তুলে নেয় ওরা। কাজশেষে মুখে এক শিশি এসিড ঢেলে ফেলে রেখে যায় রাস্তার পাশে নগ্ন অবস্থায়। এরপর থেকে আমার আর কোনো জীবন নেই। শুধু একটু একটু করে নিঃশেষ হওয়া প্রতিদিন যাকে বেঁচে থাকা বলে। তবুও নিজেকে একেবারে শেষ করে দেয়ার সাহসটা করে উঠতে পারিনি কেন যেন।
হয়তো একদিন পেরে উঠবো। এ ঘরে অন্য কোনো অপ্সরা এসে উঠবে। তোমার শরীরের পর্দা সরিয়ে নিজেকে দেখবে তোমার চোখে। টিপ পড়িয়ে দেবে তোমার কপালে। সেদিনের অপেক্ষায় থেকো, প্রিয়।
ইতি
বৃষ্টি





