অদ্ভুত চক্র

ফেসবুক তন্ন তন্ন করে কোনো সিঙ্গেল সুন্দরী মেয়ে খুঁজে না পেয়ে রায়হান হাসান অবশেষে তার ভুল বুঝতে পেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলো, “সুন্দরী মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড থাকা বাধ্যতামূলক।”
.
তার এই স্ট্যাটাস পড়ে তিন্নির মনে সন্দেহের বীজ বাঁধল। মনের সন্দেহ দূর করতে রায়হানের পোস্টে কমেন্ট করল, “ভাইয়া আমার তো কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই। তাহলে কি আমি সুন্দরী না?”
তিন্নির কমেন্ট দেখে রায়হান বিদ্যুৎের গতিতে তার প্রোফাইল চেক করতে গেল। কেমনে কী এই মেয়ে তো দেখি পিওর সিঙ্গেল! ঠোঁঠের কোণে এক চিলতে হাসি দিয়ে তিন্নিকে কিছুক্ষণ পর ইনবক্স করল।

  • আসলে হইছে কী? তুমি সুন্দরী কি-না তা বুঝতে হলে আগে তোমার একটা বয়ফ্রেন্ড থাকা চায়।
    .
    এই কথা শুনে সদ্য দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া তিন্নির মনে প্রশ্ন জাগল, ” ঠিকই তো। এই বয়সে আমার যদি একটা বয়ফ্রেন্ড না থাকে তাহলে আমি কীসের সুন্দরী?”
    তারপর নিজেকে সুন্দরী প্রমাণ করতে এক দু’কথা বলতে বলতে রায়হানের সাথে একটা সময় তার প্রেম হয়ে যায়। কিছুূদিন পর তারা ডেটিং এ গেল। দু’জন দু’জনাকে দেখে পছন্দ করে ফেলল। প্রেম তখন তুঙ্গে। তিন্নির মন জয় করতে রায়হান তাকে বিভিন্ন ধরনের গিফট দিতে লাগল। প্রেম তখন জমে একেবারে ক্ষীর।
    .
    প্রেম যখন তুঙ্গে রায়হান তখন তিন্নিকে বললো, “তোমার এখন বয়ফ্রেন্ড আছে। এবার বুঝছ তুমি কতটুকু সুন্দরী?”
    তা শুনে তিন্নি আনন্দে গদগদ করতে লাগল। এই বয়সে রূপের এত প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে? রায়হানের কথা শুনে তিন্নির মনে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। এখন তার একটা কেন শুধু বয়ফ্রেন্ড থাকবে? নিজেকে আরও বেশি সুন্দরী প্রমাণ করতে তার এখন চায় একাধিক বয়ফ্রেন্ড।
    .
    রায়হানের সাথে রিলেশনের দুই বছর পর হুট করে তিন্নি একদিন ফেবুতে স্ট্যাটাস দিলো, “সুন্দরী মেয়েদের টাকাওয়ালা জামাই থাকা বাধ্যতামূলক।”
    তিন্নির এমন পল্টি দেখে রায়হানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।ধীরে ধীরে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে লাগল। ওদিকে টাকাওয়ালা বোরহান উদ্দীনের সাথে তিন্নির সংসার বেশ উৎফুল্লেই যাচ্ছে। কোনো ঝামেলা নেই।
    .
    কিন্তু সংসার বেশিদিন টিকলো না। বিয়ের একবছরের মাথাতেই তিন্নির ডিভোর্স হয়ে যায়। পূর্বের বয়ফ্রেন্ডদের কথা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় এ নিয়ে তার স্বামীর সাথে বনিবানা না হওয়াতে তার সংসার ভাঙে।
    .
    ডিভোর্সের পর একদিন ভাগ্যক্রমে রায়হানের সাথে তিন্নির দেখা হয়ে গেল। রেস্টুরেন্টে রায়হানের সামনে তিন্নির চেহারায় তখন অসহায়ত্ববোধ ফুটে ওঠে। কিন্তু রায়হানের পক্ষে তিন্নির জন্য তখন কিছুই করার ছিল না। পরদিন রায়হান এ নিয়ে ফেসবুকে এবার স্ট্যাটাস দিলো, “সুন্দরী মেয়েদের ডিভোর্স হওয়া বাধ্যতামূলক।”
    .
    তার স্ট্যাটাস পড়ে একজন কমেন্ট করল, “ভাই আপনি ঠিক বলেছেন। আপনাকে দীর্ঘদিন ফলো করি কিন্তু কোনোদিন কমেন্ট করিনাই। আজ করলাম। এরচেয়ে চরম সত্য আর হতে পারে না। লোকটির নাম বোরহান উদ্দীন। শুধু কমেন্ট করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। পোস্টটি তিনি অলরেডি শেয়ারও মেরে দিয়েছেন। সেই শেয়ার করা পোস্টে প্রথম হাহা রিয়েক্ট দিলো ফারহানা মিলি। যার সাথে বোরহান উদ্দীনের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। তিনিও ডিভোর্সি। যার পূর্বের স্বামীর নাম ছিল রায়হান হাসান।
    .
    (অদ্ভুত চক্র)
    Saimum Sharif
Send private message to author
What’s your Reaction?
0
1
3
1
0
0
1
Share:FacebookX
Avatar photo
Written by
Saimum Sharif
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!