পাঞ্জাবির দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পাঞ্জাবির দোকান থেকে কে জানি ডাক দিলো। গিয়ে দেখি দোকানের ভেতর আমার এলাকার এক ছোট বোন আর তার বান্ধবীরা বসা। হঠাৎ একসাথে এত্তগুলা জুনিয়র মেয়ে দেখে আমি লজ্জায় লাল হয়ে বেগুনি হয়ে গেলাম।
মেয়েগুলো আমার এই বেগুনি মার্কা চেহারা দেখে দাঁত বের করে হাসছে। সবকয়টির দাঁত হলদে বর্ণের তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কয়দিন ব্রাশ করে না কে জানে!
আমার মেজাজ চরম পর্যায়ে! এসবের মানে কি! পাঞ্জাবির দোকানে ডেকে এনে আমাকে নিয়ে মশকরা করা হচ্ছে!
আমার মেজাজ বিস্ফোরণ ঘটতে যাবে ঠিক ঐসময় ক্লাস নাইনে পড়ুয়া জুনিয়র সামিয়া হাসতে হাসতে বললো
‘ কি ইমন ভাইয়া, পাঞ্জাবীর দোকানের সামন দিয়ে ওমন মাথা নিচু করে হেঁটে যাচ্ছেন কেন? পাঞ্জাবি কিনবেন না?’
আমি বললাম তার আগে বলো, ‘ তোমরা এই পাঞ্জাবির দোকানে করো টা কি?’
জুনিয়র নুসরাত পক করে বলে উঠলো, ‘ আরে ভাইয়া আর বইলেন না। প্রাইভেট শেষে ঐদিকে যাচ্ছিলাম। ভাবলাম একটু পাঞ্জাবীর দোকান ঘুরে দেখি। আমাদের লক্ষ্য এলাকার কোনো সিনিয়র ভাইকে পেলে আমরা সবাই মিলে উনাকে একটা পাঞ্জাবি গিফট করবো। আপনি সম্ভবত সেই ভাগ্যবান সিনিয়র ভাই।’
আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে আধা ঘণ্টা কাঁদতে চাইলাম। কিন্তু কান্না আসলো না। অনেক ট্রাই করলাম। কান্না আসলই না। শেষমেশ ভাব ধরার ভং করে বললাম, ‘ আরে তোমরা ছোট মানুষ, তোমরা আমাকে পাঞ্জাবি গিফট দিবা কেন। আরো বড় হও তখন দিও। আর আমি অলরেডি পাঞ্জাবি কিনে ফেলছি’
জুনিয়র ইসরাত এবার মুখ খুললো। চোখ লালা করে বললো ‘আরে ভাই.. আমরা আমাদের হাত খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে আপনাকে পাঞ্জাবি গিফট করতেছি। টেনশন নিয়েন না। ‘
তারপর পাশ থেকে আরেকটা জুনিয়র মেয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দোকানীকে গর্জন মেরে বললো, ‘ আরে মিয়া পাঞ্জাবি দেখান তো। একদম উনার মাপে মাপে দেখাবা।”
আবেগে আমার আরেক দফা কাঁদতে ইচ্ছে হলো। ইস! জুনিয়র মেয়েরা আমাকে এত্ত রেস্পেক্ট করে। অথচ আমি কখনো এসব জানার চেষ্টাই করিনি। আসলেই আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ আমাদের প্রায়োরিটি দেয় অথচ আমরা তাদের কখনো মূল্য দিতে জানি না। আমার নিজের প্রতি খুব লজ্জা হলো। আবার লজ্জায় লাল হয়ে বেগুনি হয়ে গেলাম।
অবশেষে পাঞ্জাবি আমার গায়ে দেওয়া হলো। একটা পিংক কালারের পাঞ্জাবি একদম আমার শরীরের মাপে মাপে সিলেক্ট করা হলো।
কিন্তু অবাক হওয়ার ব্যাপার হলো ওরা পাঁচজন এই একই ডিজানের ভিন্ন কালারের পাঁচটা পাঞ্জাবি দোকানি প্যাকেট করতে বললো। ঘটনা কোনদিকে মোড় নিচ্ছে আমার বুঝতে একটু দেরি হয়ে গেল। ওদের একজন আমাকে এসে ফিসফিস করে বললো, ‘ ভাইয়া, মনে কষ্ট নিয়েন না। আসলে আমরা পাঁচজন আমাদের বয়ফ্রেন্ডদের পাঞ্জাবি গিফট করবো। তাই কোন মাপে পাঞ্জাবি কিনবো বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ দেখলাম আপনি এদিকে যাচ্ছেন। তখন আমরা সিউর হলাম আপনার বডি আর উচ্চতা একদম আমাদের বয়ফ্রেন্ডদের মতো।’
শালার! এই প্রথম নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপদার্থ বলদা মনে হলো। দোকানী ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে হলদে বর্ণের সবকয়টি দাঁত বের করে ফিকফিক করে হাসছে। হাসুক.. তবে আমি হিসাব মিলাতে পারছিলাম না ওদের পাঁচজনের বিএফ আমার মাপের হয় কেমনে! পৃথিবীর এ কেমন রহস্য!
হাসান মাহমুদ ইমন
( Hasan Mahmud Emon)
Send private message to author







বেচারা ইমন😅