★ জলপাতা ★
আমাকে?
আমি চশমাটা মুছে নিয়ে সামনে পা দিলাম,কে উনি আমাকেই ডাকছে কেন?মাথায় তখন সেটাই ভাবনা।
আগে কখনো দেখিনি তো,কে হতে পারে!জ্বী,তুমি ই…
হ্যা বলুন।
এই ভ্যাব্দা আপনি আপনি করছো কেন?তাহলে কি তুমি তুমি করবো?নাকি তুই তুই?আমার কি করা উচিত?
মেয়েটা হাতের গিটারটা কাঁধেচাপালো,খুব ধীরগতিতে আমার কাছে এসে চোখ বরাবর তাকিয়ে বললো, খুব বদলে গেছো।
আমি থতমত খেয়ে গেলাম, তাহলে মেয়েটা কি
আমার পরিচিত।তাহলে আমি চিনতে পারছি না কেন।
ইদানিং কি হলো কিছু বুঝতে পারছিনা,মাঝে মাঝে খুব পরিচিত কাউকেও চিনতে কষ্ট হয়।কলেজে পড়া সময় শীলা কে চিনতাম,ও একবার আমাকে প্রেম পত্র দিয়েছিলো।
দশ পাতার প্রেমের চিঠি,প্রিয়তম রবি, চিঠির প্রথমে লিখেছিলো।সেদিন রাতে আমি অনেকবার চিঠিটা
পড়লাম,ভাবলাম কি করে একটা মেয়ের প্রিয়তম
হলাম আমি।পরদিন ক্লাসে গিয়ে চিঠিটা ফেরত দিলাম শীলাকে,তা ও তো ছয় সাত বছর আগের কথা। না এ মেয়ে শীলা হতে পারে না।কিছুতেই না,শীলার কপোলে একলা একেলা একটা তিল ছিল।এই মেয়ের সেইটা নেই।আমারতো কোন গিটারবাদক মেয়ে চেনাজানা
নেই।
“রবি একটা রিক্সা ডাকো,আখড়াবাজারের দিকে
যাবো”আমি রিক্সা ডাকলাম,মেয়েটি উঠে বসলো।
লাল একটা টিপকপালে,সাদাজামা,লালসালোয়ার,লাল ওড়না,চোখে আবার মোটা করে কাজল দেওয়া।আমি তাকিয়ে ছিলাম চোখের দিকে মেয়েটির,এতো সুন্দর চোখ,যেন জলপাতা।
এই যে উঠো…আমিও..হ্যা তুমিও..
আমি মেয়েটির পাশ ঘেসে বসলাম,মেয়েটির এলোচুল আমার নাকে বার বার ছুঁয়ে দিচ্ছে।আমার ইচ্ছে করছে মেয়েটির কানেকানে বলি,ভালোবাসি, ভালোবাসি।
আমরা ব্রীজের কাছে মাটির দোকানের পাশে নেমে গেলাম। আমাকে ফুলের টব কিনে দাও প্লিজ।কি হলো..পকেটে কি টাকা নেই!?উহু,নেই।ঠিক আছে লাগবে না।রবি চা খাওয়াবে?হ্যা খাওয়াবো…
রবি একটা সিগারেট এনো,ডানহিল হলেই চলবে।তুমি কি সিগারেট ও ফুকো?হ্যা,ফুঁকি।আনতে পারবে না?টাকা নেই?হুম,হবে টাকা,আনতে পারবো।আমি চায়ের কাপে চুমুক দিলাম,চোখগুলো বন্ধ করে ভাবলাম দুনিয়া এতো সুন্দর কেন।”মাঝে মাঝে তব দেখা পাই,চিরদিন কেন পাই না”গিটার বাজিয়ে মেয়েটা গান ধরলো।
আমি চোখ খোলে তাকালাম মেয়েটির পানে।অচেনা এক ঝড় আমাকে ওলটপালট করে দিচ্ছে নিমিষে।
আহারে।গান থামানোর সাথে সাথেই মেয়েটি সিগারেট
ফুঁকতে শুরু করে দিল।গোলাপ ঠোঁটে সিগারেট, খুব অদ্ভুত লাগছেদেখতে।তবুও আমি তাকিয়ে আছি।
রবি আজকে কি জোছনা ?আমার পাশে এসে বস এতোদূরে কেন?হ্যা,আজ জোছনা বৃষ্টি।
আমি পাশে বসবো কি না ভাবছি,আমাদের এই ছোট
শহরে রাতের বেলা একটা মেয়ের সাথে পাশাপাশি বসে থাকাটা অনেকে ভালো চোখে নিবে না।তবুও আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম।আমার খুব ইচ্ছে করছিলো মেয়েটির হাত চেপে ধরে বসে থাকি,জোছনা জলে ভিজি।বাঁশী শুনবে রবি?তুমি বাজাতে জানো?হ্যা শুনবো।মেয়েটি পাতার বাঁশি নিয়ে বাজাতে লাগলো।
আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি।
আমার আশপাশে ঘিরে আছে কিছু মানুষ, কেউ
আমার কলার ধরে আছে,কেউ গালি দিচ্ছে।কেউ বলছে থানায় দে,কেউ বলছে বিয়ে দিয়ে দে।মেয়েটি পাতার বাঁশি থামছেই না,সুর করুণ হচ্ছেই।কেউ একজন মেয়েটির হাত থেকে গিটারটা কেড়ে নিল।
মাটিতে খুব আঘাত করছে গিটারটা কে দিয়ে,ভাংতে চাচ্ছে সেটা।মেয়েটি আবছা হয়ে আসছে আস্তে আস্তে।
আমি খুব সাহস করে বলে উঠলাম,আমাকে রেখে যেও
না।আমিও যাবো তোমার সাথে।মেয়েটি হাসলো চোখের সামনে থেকে ক্রমেই দূরে চলে যাচ্ছে মেয়েটি।
আমার চোখে পানি,হাত দিয়ে মুছে নিয়ে খুব করে বললাম,এই মেয়ে নাম কি তোমার?
মেয়েটি মৃদু হেসে বললো,জলপাতা আমি।জলপাতা আমার নাম।
আমি চোখ বন্ধ করে নিলাম,আমার কানের কাছে কেউ বলছে,বাজারে যাও, বাজারে যাও।আমি চোখ খুলে দেখি আমার বউ,শীলা বাজারের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমার সারা শরীরে ঘাম।ভাবনায় ডুবে যাওয়ার আগেই আমার ছেলে গলায় জড়িয়ে ধরলো,বাবানি আমার জন্য একটা বল আনবে?আমি হেসে দিতেই, আমার ছেলের চুমো।
বাইরে জোছনা।
আজবোধয় জোছনা বৃষ্টি……
সৈয়দ সাদী আয়াত উল্লাহ (Syed sadi ayat ullah)
Send private message to author



