মহিমান্বিতা সুলেখিকা কাজী হালিমা আফরীনের,
যশোগানে আজ প্রকাশ করিব সব কথা হৃদয়ের!
চকোর যেমন উচাটন হয়ে শশীকে স্মরণ করে,
তেমনি তোমায় স্মরণ করছি পরম শ্রদ্ধাভরে।
দরিয়ার মত এলেম তোমাকে দিয়েছেন আল্লায়,
তোমার মনের তশরিফ যেন আসমান ছুঁয়ে যায়।
তোমার রচিত গল্প-কবিতা, তোমার উপন্যাস,
হৃদয়ে আমার দিয়ে যায় যেন একরাশ উচ্ছ্বাস!
তোমার রচিত করুণ লেখাতে অনুভব করি দাগা,
তোমার লেখার মতোই তুমি যে রাশি রাশি ভালোলাগা!
খুলনা হইতে শুরু করে সেই সিলেটের জাফলং,
সবখানে আজ ছড়িয়ে গিয়েছে “বেদনার সাত রং”।
প্রথম রচিত এই বইটিতে যে আবেগ মিশে আছে,
সে আবেগ যেন অম্লান হয়ে থাকে পাঠকের কাছে।
তুমি নও শুধু পারদর্শিনী সাহিত্য রচনায়,
সব শিল্পই গড়ে তোলো তুমি সমান দক্ষতায়।
পাক শিল্পেও রয়েছে তোমার অপূর্ব হাতযশ,
মুখে লেগে থাকে তোমার তৈরি রান্নার ষড়রস।
কত রকমের ভর্তা বানাও, কত রকমের ভাজা,
এর পাশাপাশি প্রস্তুত করো মণ্ডা মিঠাই খাজা।
আমার নিকটে মনে হয় যেন তোমার হাতের খানা,
আদমসুরত পার হয়ে সেই জান্নাত থেকে আনা।
এসবের মাঝে ঘরকন্নার কাজ সেরে অবসরে,
তসবির তুমি অঙ্কন করো কত সুন্দর করে!
প্রিয় মানুষের তসবির সহ যাহা কিছু চায় মন,
আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে সব করো অঙ্কন।
সেসব দেখিয়া মনে হয় যেন হাতে নিয়ে রংতুলি,
বিখ্যাত কোনো চিত্রশিল্পী এঁকেছেন ছবিগুলি।
হাতে অঙ্কিত ছবির মতোই প্রাকৃতিক পরিবেশে,
কত সুন্দর ছবি ফুটে ওঠে দিগ্বলয়ের শেষে।
সুনীল আকাশে কত বিহঙ্গ উড়ে যায় ঝাঁকে ঝাঁকে,
কখনো আবার ফসলের মাঠে সবুজের ঢেউ আঁকে।
খুব সুন্দর লাগে প্রতিদিন, ডুবে যায় যবে রবি,
সাথে সাথে তুমি ক্যামেরা বন্দী করে ফেলো সেই ছবি।
দৃষ্টি তোমার এড়াতে পারে না সেসব দৃশ্যাবলী,
সেসব দৃশ্যে কাঁপে সকলের হৃদয়ের চোরাগলি।
এদিকে ঘরেতে রয়েছে তোমার খোকাখুকি চার খানা,
এখনো তাহারা খেলা করে নিয়ে খেলনা হাঁসের ছানা।
সারা বাড়ি জুড়ে দুষ্টুমি করে তাহারা সবাই মিলে,
কখনো আবার জলকেলি করে নামিয়া স্বচ্ছ ঝিলে।
পুষ্পের মত এই শিশুদের সামলাতে সামলাতে,
কখনো তোমার বেলা চলে যায়, সময় থাকে না হাতে।
এসবের মাঝে সবচেয়ে যেটা অতি বিস্ময়কর,
সারাদিন ধরে জব করো তুমি, আগে ঠিক রেখে ঘর।
তোমার বাড়ির আঙিনায় ফোটে কত ধরণের ফুল,
সেখানে আসিয়া মধুর কণ্ঠে গান গায় বুলবুল।
তোমার পরশে উর্বর হয় মলিন ঊষর ভূমি,
তোমার এসব গুণের জন্য সকলের প্রিয় তুমি।
তুমি যে সুজলা বাংলাদেশের মহীয়সী এক নারী,
তোমাকে স্মরণ করতে করতে আঁখে নেমে আসে বারি।
আজ হতে প্রায় এক যুগ আগে সপ্ত সাগর শেষে,
চলে গেছ তুমি স্বদেশ ছাড়িয়া সুদূর কানাডা দেশে।
তারপর খুব অনুভব করি সেইদিন হতে হায়,
তোমার বিহনে আঁখিতে আমার অশ্রু বহিয়া যায়।
তোমার আসার আশাতে সকলে করিছে ইন্তেজার,
অতীত দিনের সেই কথা আজ মনে পড়ে বারবার।
তুমি আসিলে যে খুশির বন্যা বহিবে বাংলাদেশে,
বিশ্বাস যদি না হয় তোমার একবার দেখো এসে।
পৃথিবীর কত মহা মনীষীর নাম আছে ইতিহাসে,
তোমার নামটি শোভা পায় যেন সেসব নামের পাশে।
আল্লা তোমাকে করিবেন সদা মঙ্গল কল্যাণ,
সেই বরকতে জীবনে তোমার বহিবে খুশির বান।
নামাজের ঘরে ওজু করে এসে পাক-পবিত্র হয়ে,
এই কথাগুলো মোনাজাত করি দু’হাত ঊর্ধ্বে লয়ে।
পরিশেষে তব চরণ যুগলে সঁপিয়া আমার মন,
বিনম্র চিতে করিতেছি আজ তসলিম নিবেদন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখিকা কাজী হালিমা আফরীন তাঁর প্রথম রচিত উপন্যাস “বেদনার সাত রং” তিনি আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন। প্রতিদান স্বরূপ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তাঁকে নিয়ে আমি এই কবিতাটি রচনা করেছিলাম।

Written by Shibli Sayeek (শিবলী সাইক)

Send private message to author
What’s your Reaction?
1
3
0
0
0
0
0
Share:FacebookX
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!