তখন শৈশব ;আমার খালি পা মেঠোপথের শুকনো ধুলায় সাদা হয়ে থাকত।সকাল,সন্ধ্যা -দুপুর এসব যেন আমার কাছে সবই সমান!বাড়ির আশপাশের মাঠ, খাল-বিল আর ক্ষেত জুড়ে ছড়িয়ে আছে আমার হারিয়ে যাওয়া পদচিহ্ন। দিক হারানো পথের কতন মালা।
পথে লুটে থাকা শুকনো পাতারা হতো আমার খেলার সাথী। মলিন পাতা মাখানো, বালিতে গড়াগড়ি করা সেই অফুরন্ত ভালোবাসার শৈশব এখনো আমায় অদৃশ্য হাতে ডাক দেয়।বলে,তুমি মিশে যাও আমার সবটুকু অংশে…।
গ্রাম বাংলার যে জিনিসটা আমার স্মৃতিতে হু হু করে ভেসে ওঠে তা হলো;আম কুড়ানোর সুখ।এ যেন অপার্থিব আনন্দ, স্বাচ্ছন্দ আর মুগ্ধতা!
ঝড়ের আভা পেলেই হৃদয় চিকচিক করতো, আম্মাকে এড়িয়ে কোন ফাঁকে আম কুড়াতে যাই!!এ ছেলেবেলা। এ মাধুর্যভরা জীবন।কী সব অদ্ভুত সুখ -এভাবে আম কুড়ানোয়! কেমন অদ্ভুত ঢংয়ে আর বিষ্ময়ে কেটে গেলো সেসব দিন -রাত। আম্মার আদরের ভেতর বেঁচে বেঁচে কখন এক সময় যেন পড়াশোনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।এখন অতীত চোখে তাকালে সেসব যেন ধূসর এবং ধূ ধূ মরুভূমি;যেন – বা কোথাও কেউ নেই।
সেই কালের বাতাস নেই,বাগিচা নেই,নেই সেই পথ আর মায়াবী গৃহ।
ফেলে আসা সেই সুন্দর সময়ের জন্যে হাহাকার করে মন। সেই ভালোবাসার মফস্বলের কথা খেয়ালে এলে আমি যেন ভীষণভাবে বুঁদ হয়ে যায়।শঙ্কিত হয় মন আর অন্তর।সেই অদ্ভুত চমৎকার শৈশবে ফিরে না যেতে পারার আক্ষেপ – অনুতাপ যেন আমায় আজ-ও কুড়ে কুড়ে খায়! তবু গভীর প্রেমে, স্নিগ্ধ মায়ায়, ভালোবাসার স্লোগানে তারে এখনো ভালোবেসে যাই।
“ভালো থেকো শৈশব, আমার সুস্থতার মতো”
মিরাছ ইযহার
(Miraz Ezhar)





আমার শৈশব কেটেছে ইটকাঠের দেওয়ালের ভিতরে অসীম নিঃসঙ্গতায়। আজ বড়ো অনুযোগ হয়, যদি পল্লি প্রকৃতির মাঝে হৈহুল্লোড়ে শৈশব পার করতে পারতাম!
তবে, ছোট্ট এই লেখাটি পড়ে পল্লি প্রকৃতির শিশুদের শৈশব সামান্য হলেও অনুভব করতে পারলাম।