
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির চিত্র চোখের সামনে প্রতিনিয়ত দেখা যায়, দুরারোগ্য অসুখে মিলেছে প্রতিকার,কমেছে মাতৃমৃত্যুর হার,বিশ্বাস গেড়ে বসেছে মনে,একদিন সুস্থ হবো। “আজকাল তো কত চিকিৎসা পদ্ধতি বেড়িয়েছে,ঠিক সুস্থ হবে দেখো!!” আজ আর মিথ্যে আশ্বাস নয়।
এমনই কিছু গালভরা আশার বানী সম্বলিত কথা বলতে “গত বিশ বছরে রোগের চিকিৎসায় অগ্রগতি” শীর্ষক আলোচনায় বক্তৃতা দিতে, জামশেদপুর যাচ্ছেন একজন শহুরে ডাক্তারবাবু, দারুন পসার তার। তার রোগীরা সব সমাজের উঁচুতলার মানুষ, যারা রোগ পুষে থাকেন।
ডাক্তারবাবু রস কসহীন,শুধুই ডাক্তার, সেবক নন।স্ত্রীকে বলছেন “লোকসংখ্যা যদি বেড়েই চলে তবে পৃথিবীর কি দশা হবে জানো?” ………….”অন্তত আমাদের দেশে দুর্ভিক্ষ,মহামারী,বন্যা এসবের একটা ভালো দিকও আছে…….. এখানে লোকসংখ্যা কম রাখতে “Nature” আমাদের সাহায্য করে” এই হলো তাঁর দর্শন।
একমাত্র মেয়ে চুমকি কে নিয়ে স্ত্রী চিন্তিত। এই বুঝি উচ্ছন্নে গেলো, তাতেও খানিকটা নির্বিকার ডাক্তারবাবু।
সম্প্রতি, ৩৫০০ টাকার ইনজেকশনের কৃপায় যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসা বড় চাকুরে বন্ধু,যার মধ্যে এখনো আছে “Idealism” এর ছিটে ফোঁটা। অনুরোধ জানায় ডাক্তার বাবুকে, অন্তত “পদ্মভূষণ” এর লোভে হলেও সমাজের নিচুতলার, সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য কিছু করতে, উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির যাদু কাঠি তাদের গায়ে ঠেকিয়ে তাদের প্রাণ বাঁচাতে। কিন্তু ডাক্তার নারাজ,তার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, আছেনতো দিব্যিই। বন্ধুকে দিলেন সান্ত্বনা,সরকার তো করছে এদের জন্য।
যথারীতি বেড়িয়ে পড়লেন জামসেদপুরের উদ্দেশ্যে, হঠাৎ টায়ার পাংচার,সারাতে হবে। ডাক্তার বাবু গাড়ি থেকে বেড়িয়ে দেখছেন,এদিক ওদিক। তখনই কানে এলো অসহায় আর্তস্বর, রোগ পোষা তাঁর বাঁধা রুগীদের মতো “Ouch” আওয়াজ নয়। করুণ,অসহায় গোঙ্গানি। ছুটে গেলেন, দেখলেন মৃতপ্রায় এক লোক। পরে, এই লোককে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগলো ডাক্তারের দর্শন,বিশ্বাস,যুক্তি।
“হিপোক্রেটিক ওথ” বা ডাক্তারদের করা শপথের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাতই, এরপর কাহিনী এগোতে থাকে।একসময় ডাক্তার বুঝলেন,এমন একটি অভিজ্ঞতার তার বড্ড দরকার ছিলো। ডাক্তারি যে শুধু পেশা নয়, দায়িত্ব। আবেগে বা আদর্শবলে নয়। এটিই তার কাজ ছিলো, ন্যাকা স্বরে বলা রুগিনীর আলাপ-আলোচনা শোনা তার কাজ নয়,সেই সাথে টের পেলেন “Advances Medical Research Over the Last 20 Years” নামক স্পীচ, যেটি রোটারী ক্লাবের সভ্যদের শোনাবেন বলে এতোদূর আসা, সেটির অন্তঃশারশূণ্যতা। খেলো হয়ে গেলো সব। বন্ধুর কথার মর্ম বুঝলেন,নিজ চোখে দেখলেন বাস্তব চিত্র। দেশের একটি বড় অংশ যখন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত,অশিক্ষা,কুসংস্কারে ভীষণভাবে জর্জরিত তখন কি হবে চিকিৎসা পদ্ধতির অগ্রগতি দিয়ে??
শেষ পর্যন্ত কি উত্তরণ ঘটে ডাক্তারবাবুর
বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা, আবৃত্তিকার সৌমিত্র চট্ট্যোপাধ্যায় ডাক্তার সেনগুপ্তের চরিত্রে দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা, অন্যান্য চরিত্রসমূহ সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন দক্ষ চেনামুখের অভিনয় শিল্পী।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়,পরিচালনা করেছেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সন্দীপ রায়।
– Maliha Tabassum Momo
Send private message to author






আমাদের সমাজে এমন অনেক ডাক্তার আছেন যারা সেবকের চেয়ে ব্যবসায়ী বেশি। তাদের জন্য এই গল্পটি আদর্শ হতে পারে।