৩
কফি হাউজটাতে যখন এসে পৌঁছলাম তখন ছ’টা বিশ। দরজা দিয়ে ঢুকেই প্রথমে তাকালাম টেবিলটার দিকে। এখনও ফাঁকা। আগের বারের চেয়ে পার্থক্য একটাই, এখন টেবিলের ওপরে ‘রিজার্ভড’ লেখা একটা পিরামিড বসানো আছে। ছেলেটা কি এখনও আসেনি? না এসে ওয়াশরুম টোয়াশরুমে গেছে? সোজা টেবিলে গিয়ে বসব? না কাউন্টারে গিয়ে সিওর হয়ে নেব?
টেবিলে বসতে গেলেই তো আবার ওয়েটার বাধা দেবে। ‘জানাবে রিজার্ভড। ঠিক করলাম কাউন্টারে গিয়ে ব্যাপারটা নিজেই জানিয়ে আসি।
— আমি আফরোজা ইয়াসমিন। টেবিল নাম্বার সিক্স আমাদের জন্য রিজার্ভ থাকার কথা।
— ইয়েস ম্যাম।
— আরও একজনের আসবার কথা, উনি কি এসেছিলেন?
— নো ম্যাডাম। ফোন দিয়েছিলেন, হি ইজ অন দ্যা ওয়ে।
— ওকে।
— কফি দিতে বলব ম্যাডাম?
—ইয়া। ওয়ান ক্যাপাচিনো।
এগিয়ে গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসলাম। অন্যদিকটায় বসলে দরজাটা পিঠের দিকে হয়ে যাবে। তাই এদিকটায় বসলাম। নিজেকে কেমন বিধ্বস্ত লাগছে। একটু আগের ঘটনাটা সব কিছু ওলট পালট করে দিল। একবার মনে হল ভদ্রলোককে ফোন করে জানিয়ে দিই, আজকে না আসোবার জন্য। কথাটা মাথায় আসোবার সাথে সাথেই মায়ের মুখটাও ভেসে উঠল। প্রচণ্ড আশা নিয়ে অপেক্ষা করে আছেন। গিয়ে ভালো কিছু শোনাব।
ব্যাগটা চেয়ারের পায়ের পাশে আর পার্সটা টেবিলের ওপরে রেখে চেয়ারটায় হেলান দিলাম। চোখটা বন্ধ করলাম। সাথে সাথেই দৃশ্যগুলো হামলে পড়ল। চোখ খুলে ফেললাম। কতক্ষণে আসবেন ভদ্রলোক। একদম ইচ্ছে করছে না ইন্টার্ভিউ দিতে। মনে হচ্ছে…
আশেপাশের অনেকগুলো টেবিলই এখন ফিলাপ। বেশির ভাগই ইয়াং কাপল। একুশ বাইশ বছরের। একসময় আমরা যেমন ছিলাম। আমরা অবশ্য বেশিরভাগ সময়ে রাস্তার পাশে বসে কাটিয়েছি। বড় কোন অকেশান হলে রেস্টুরেন্ট। এখানে অবশ্য ভিড়ের কারণ অন্য। এই এলাকায় বেশ কিছু লেডিস হোস্টেল আছে। মেয়েগুলো বোধহয় ওখানে থাকে। প্রেমিকগুলো হয়তো দূর থেকে এসেছে। মেয়েগুলোর জন্য সুবিধাজনক। তবে একটা ব্যাপার এখনও একই থেকে গেছে, প্রেমিক প্রেমিকাগুলো মগ্ন হয়ে একে ওপরের গল্প শুনছে।
কি ভেবে ব্যাগটা টেবিলের উপরে উঠিয়ে রাখলাম।‘প্রমি’ লেখাটা আবার দেখলাম। ব্যাপারটা আমার চোখে আগেও পড়েছিল। তারপরও কেন যেন স্ট্রাইক করেনি… কাকতালীয় ভেবেছিলাম? না ইচ্ছে করেই… নিজের অজান্তেই বড় একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।
আপ্রাণ চেষ্টা করছি মাথা থেকে সব ঝেড়ে ফেলতে। পারছি না। আমি দেখেছি, জোর করলেই আরও চেপে বসে। আমার ধারণা আগামী কয়েকদিন যাবে ব্যাপারটা থেকে বেরিয়ে আসতে। চোখ বন্ধ করলেই সব কিছু ভেসে উঠছে।
কি করব ভাবছি। ভদ্র কোণ এক্সকিউজ দেখানো কি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে? যদি অন্যদিন আসতে অনুরোধ করি? কাউন্টারে গিয়ে কি ভদ্রলোকের মোবাইল নাম্বারটা চাইব? কিংবা বলে আসব, একটু উনাকে জানিয়ে দেবেন ফর সাম ইমার্জেন্সি মিস আফরোজা হ্যাস লেফট।
কেন যেন কোন সিদ্ধান্তই পছন্দ হচ্ছে না। না এখানে বসে থাকতে ভালো লাগছে, না চলে যাওয়ার মত শক্ত একটা ডিসিশান নিতে পারছি।
— সরি ম্যাডাম। আমি আসলে তখন বুঝতে পারিনি…
আগের ওয়েটারটা। কফির কাপটা রাখতে রাখতে কথাটা বলল। সাথে একটা পিরিচে টিস্যু আর চামচ। স্মাইল দিয়ে আশ্বস্ত করলাম ‘আমি কিছু মনে করিনি’।
— ড্রেসটা কি কাউন্টারে রাখব? যাবার সময় নিয়ে যাবেন?
ইঙ্গিতে টেবিলের ওপরে রাখা ‘প্রমি ফ্যাশান’ লেখা ব্যাগটাকে দেখাল। ওটাতে এখন আমার পড়নের শাড়িটা ঢোকানো। বেশ ঢাউস হয়ে আছে। টেবিলের ওপরে আসলেই বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে। তারপরও মাথা নেড়ে বারণ করলাম।
ওয়েটার চলে গেলে কফির কাপে একটা চুমুক দিলাম। নতুনভাবে চেষ্টা শুরু করলাম। দিনের ভালো ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবা যায় কি না। সকালে মায়ের কোচিং। নাহ। ওটা বড় কমন ঘটনা। দ্যাট ক্লিপ্টোম্যানিয়াক গাই? তা ভাবা যায়। অদ্ভুত ছিল অভিজ্ঞতাটা। কিছুক্ষণের জন্য সেই ছাত্রজীবনের দুষ্টুমির মুডে চলে গিয়েছিলাম। ইচ্ছে করছিল ওর কাছে গিয়ে সব গল্প শুনি। কি কি চুরি করেছে এতদিন, কোন ফেইলিওর আছে কি না, ধরা পড়ে গেলে কিভাবে সামাল দেয়…।
নিজের অজান্তেই হেসে ফেললাম। এধরনের ছেলেগুলো প্রেমিক হিসেবে আউটস্ট্যান্ডিং হয়। সারাক্ষণ সারপ্রাইজ দিতে থাকে। অদ্ভুত অদ্ভুত সব আবদার করে। ‘চলো আজ মোহাম্মদপুরে গিয়ে লেবারদের পাঁচ টাকার খিচুরি খাব।’
আরও কিছু ভাবার চেষ্টা করলাম। হল না। আবার চিন্তায় চলে আসল প্রমি ফ্যাশান। এসেই সোজা নিয়ে যাচ্ছে ইউনিভার্সিটি লাইফে। হিমেলের কি খবর কে জানে। ছেলেটা খুব মজার ছিল। আমাকে পছন্দ করত। প্রেম টাইপ পছন্দ না, ওয়েলউইশার টাইপ পছন্দ। প্রলয়ের সাথে প্রেমটা মেনেই নিতে পারছিল না। আমাদের প্রেম হওয়ার অনেক দিন পর পর্যন্ত ট্রাই করেছিল, ব্যাপারটা যেন আর না এগোয়। মাঝে মাঝেই এসে বিভিন্ন তথ্য জানাতো, ‘তিথির সাথেও কিন্তু কিছুদিন প্রেম করেছে প্রলয় দা’ কিংবা ‘রিয়াকে নিয়েও কিন্তু একটা কবিতা লিখেছে তোর কবি প্রেমিক’
— ম্যাডাম, উনি দারুণ জ্যামে পড়েছেন। উনি তাই গাড়ী ছেড়ে দিয়ে একটা পাঠাও বাইকে নিয়ে আসছেন। আশাকরি মিনিট পনেরর ভেতরে পৌঁছে যাবেন।
ম্যানেজার সাহেব নিজেই এসেছেন। মনে হচ্ছে উনিই অপরাধী। স্মাইল দিয়ে উনাকে আশ্বস্ত করলাম। যা ও বা চলে যাওয়ার একটা এক্সকিউজ দেয়া যেত, এখন আর যাবে না। বেচারা এতো কষ্ট করে আসছে…। মনটা কিছুটা ভালো হয়ে গেল।
টেবিলে রাখা প্রমি ফ্যাশানের ব্যাগটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগলাম। ‘প্রমি’ শব্দটা অনেকক্ষণ ধরে দেখলাম। ব্যাপারটা তখন হয়তো অবচেতনে লক্ষ্য করেছিলাম আর এখন করলাম জেনে।
— ভেতরে আরও কালেকশান আছে।
মেয়েটার গলার আওয়াজে ইউনিভার্সিটি লাইফের নস্টালজিয়া কাটল। ভ্যাবাচ্যাকা একটা হাসি হেসে কোনরকমে বললাম
— আসলে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম…
— নিতে বলছি না, কালেকশানগুলো দেখুন।
এভাবেই শুরু হয়। একসময় ইমোশনালি এতোটাই দুর্বল করে দেয় যে একটা না কিনে পারা যায় না। রিভোল্ট করলে এখনই করতে হবে। বললাম
—ইটস ওকে। আসলে… আই অ্যাম ওয়েটিং ফর সামওয়ান…
বাকীটা বলতে দিল না।
—প্রমিজ করছি, আপনাকে কেনার জন্য বলব না।
কথাটা বলে মেয়েটা মিষ্টি করে হাসল। বড় একটা নিশ্বাস ফেললাম। এতো মোলায়েম রিকোয়েস্ট ফেলা সম্ভব না। এগিয়ে গেলাম। দুটো রুম নিয়ে বুটিকটা। বাইরেরটা প্রাইমারী শো রুম। ভেতরেরটা বোধহয় ক্যাশ কাউন্টার প্লাস সেকেন্ড শো রুম। কালেকশানগুলো ভাল। আজকে না কিনলেও আরেকদিন আসতে হবে। এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে প্রথম রুমের দরজা পেরোলাম।
— আমি মিতু। ওনার, কাম সেলসম্যান, কাম ক্যাশিয়ার, কাম…
— কাম সব। এইতো?
— না। একসেপ্ট ডিজাইনার
মেয়েটাকে বেশ ভালো লাগল। আমার মতোই অ্যাভারেজ হাইটের। সুন্দরীও। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগল ওর বিহেভ। ঠিক করলাম, কম দামের ভেতরে পেলে একটা ড্রেস কিনব।
ভেতরে বেশ কিছু শোকেস টাইপ ফার্নিচার। মনে হয় বাসায় ক্রোকারিজ রাখার জন্য ব্যবহার হত। দোকান করার পরে সেসব দিয়েই কাজ চালাচ্ছে। খুব বেশি ড্রেস নেই। ফাঁকা ফাঁকা করে সাজানো। একটু ভরাট ফিলিং দেয়ার চেষ্টা।
এদিক সেদিক হ্যাঙ্গারেও বেশ কিছু ড্রেস ঝোলানো। ড্রেসগুলোর ভেতরে কেমন যেন একটা একাকীত্ব আছে। কেমন গ্লুমি। মনে হয় কোন কষ্টের কথা বলছে।
ব্ল্যাক একটা ড্রেস বেশ পছন্দ হল। হাতে নিয়ে এদিক ওদিক দেখলাম।
— ট্র্যায়াল রুম আছে।
এই মেয়ে তো দেখি কিনিয়েই ছাড়বে। হেসে বললাম
— ক্যাশিয়ার আর ওনার হিসেবে কেমন জানি না, তবে সেলসম্যান হিসেবে কিন্তু আপনি দারুণ। মানুষকে দারুণ কনভিন্স করতে পারেন।
— কোথায় আর সেলস?
— কেন ড্রেস গুলো তো বেশ সুন্দর। কেন যেন রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার মত।
— খুব কবিতা পড়েন?
— একসময় পড়তাম।
— একসময় কেন?
উত্তরে কিছু না বলে ঠোঁট ওলটানো একটা ভঙ্গি করে বোঝালাম, তেমন কোন কারণ নেই। মেয়েটা হয়তো বুঝল, আমার নরম কোন এলাকা টাচ করে ফেলেছে। তাই বোধহয় কথা ঘোরাল
— নতুন খুলেছি। এখনও পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারিনি। তাই সেভাবে কাউকে জানাইও নি। ইচ্ছে আছে একটা বড় ক্যাম্পেইন লঞ্চ করার।
মেয়েটাকে কেন যেন খুব ভালো লাগল। একটা স্বপ্ন আছে মেয়েটার। সাথে কিছুটা প্ল্যানও। এখন লাক ফেভার করলেই হয়। মেয়েটার সাথে কথা বলতে ভালোই লাগছিল। চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলাম।
— খুব একটা বিক্রি হয় না। তাই… গ্রাহক পেলে হামলে পড়ি।
ওর সরলতা দেখে কেমন মায়া লাগল। বললাম
— ড্রেসটা আমি নিচ্ছি। সাথে আরও একটা কাজ করব। আপনার জন্য ক্যাম্পেইন করব। আমি একটা কিন্ডার গার্ডেনে পড়াই। গিয়ে সবাইকে বলব এটার কথা। টিচার অ্যান্ড মম।
— সো নাইস অফ ইউ। আসুন। ট্রায়াল রুমটা এদিকে।
— এটা ট্রায়াল ছাড়াই নেব।
— সমস্যা হলে?
— হলে নিয়ে আসব। পাল্টে দেবেন না?
— দেব না কেন? কিন্তু আপনার কষ্ট হবে।
— আজকে ট্রায়াল দিতে গেলেও কষ্ট হবে। দেখছেন না সেজে গুঁজে এসেছি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে
— এটা পড়েও আপনাকে খারাপ লাগবে না।
তা হয়তো লাগবে না। বাট ছেলে পক্ষের সামনে শাড়ি পড়ে আসাটাই রিচ্যুয়াল।
ড্রেসটা মেয়েটার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম
— প্যাক করে দিন।
মেয়েটা একবার ড্রেসটা দেখল আর একবার আমাকে। কিছুটা সন্দেহ কাজ করছে। সন্দেহ কিছুটা আমার নিজেরও আছে। লম্বা একটু বেশি। ওটা ঠিক করিয়ে নেয়া যাবে। আসলে সমস্যা শাড়ি নিয়ে। এই ড্রেস ট্রাই করতে যাওয়া মানেই শাড়ি টারি খুলে আবার শাড়ি পড়, কুচি ঠিক কর… ঘড়ি দেখলাম। পাঁচটা। মানে এখনও এক ঘণ্টা হাতে আছে।
— আমার মনে হচ্ছে হাইটটা একটু অ্যাডজাস্ট করতে হবে।
এই মেয়ে নাছোড়বান্দা। সেই সাথে বেশ ডেডিকেটেট সেলসম্যান। সম্মতিসূচক একটা স্মাইল দিয়ে বললাম
— ওকে। শাড়ির কুচি কিন্তু ঠিক করে দিতে হবে।
মেয়েটা এবার হেসে ফেলল। বলল
— না। এই ড্রেস পড়েই যাবেন। এক্ষুনি ঠিক করে দেব। সময় লাগবে না।
— অন্যদিন হলে যেতো, বাট আজকে হবে না।
— কেন? অকেশানটায় কি শাড়ি মাস্ট? না যিনি আসছেন তিনি আপনাকে শাড়িতে দেখতে চান?
— আপনি কাঁদছেন কেন?
আওয়াজটা যেদিক থেকে আসল সেদিকে তাকালাম। আবছা করে বুঝতে পারলাম স্যুট পড়ে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। টের পেলাম চোখ ভর্তি পানি। সামনে পিরিচে রাখা টিস্যুটা দিয়ে কোনরকমে চোখ মুছলাম। মুখে হাসি টেনে কোনরকমে বললাম
— সরি।
— দেখুন আপনার মতের এগেইন্সটে যদি এই বিয়ে হয়, খুলে বলুন, আমি আপনাকে সব ধরণের হেল্প করব।
এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ছবির মতোই। তবে একটু অগোছালো লাগছে। ‘পাঠাও’ ইফেক্ট। জিনুইন একটা স্মাইল দেয়ার চেষ্টা করলাম। বললাম
— তেমন কিছু না।
— দেখুন, আমি ডিটেইল জানতে চাইছি না। জাস্ট…
— প্লিজ। নাথিং লাইক দ্যাট।
— সিওর?
মাথা নোড করলাম। সিওর।
— যদি কিছু মনে না করেন, কয়েকটা কথা বলতে চাই।
ঘাড় কাত করে জানালাম ‘পারেন’। এবার ভদ্রলোক নিজেকে বেশ গুছিয়ে নিয়ে শুরু করলেন
— আসলে আমি আপনার ব্যাপারে সব খোঁজ খবর নিয়েছি। এমবিএ তে ম্যানেজমেন্ট ছিল মেজর। বুঝতেই পারছেন, খুব হিসেব করে চলা অভ্যাস।
আবার ঘাড় কাত করলাম। ‘বুঝেছি’। উনি বলে চললেন
— সো, আপনার স্টুডেন্ট লাইফের প্রেম অ্যান্ড ব্রেকাপ, দুটো সম্পর্কেই কিছুটা জানি। ইউ নো, আজকাল এসব কাজের জন্য অনেক প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর পাওয়া যায়। আই ডোন্ট নো, ব্যাপারটা ঠিক করেছি না বেঠিক, বাট… আই ডিড ইট।
ভদ্রলোকের কথা বলার ভেতরে কিছু একটা ছিল। হেসে ফেললাম। বললাম
— আমি কাঁদছিলাম কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কারণে।
— খুব ব্যক্তিগত না হলে… অ্যান্ড ইফ ইউ আর ওকে উইথ… জানতে ইচ্ছে করছে।
ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। এধরনের মানুষগুলো আসলে… যাকে বলে অ্যা রিয়েল হাজব্যান্ড ম্যাটেরিয়াল।
যাই হোক, মহেন্দ্রক্ষণ চলে এসেছে। পাত্রপক্ষের কাছে যে সত্যটা কনফেস করার পরে আমার আগের সব বিয়ের সম্বন্ধগুলো ভেঙ্গে গিয়েছিল, সেটা জানানোর সময় হয়ে গেছে। পার্থক্য কেবল, এবার সময়টা খুব দ্রুত আসল।
নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি। ভদ্রলোকের চোখে চোখ রাখলাম। প্রাথমিক ভূমিকাটা সারলাম। বললাম
— সেটা আরেকদিন বলব। আজকে অন্য একটা তথ্য দিতে চাই।
ভদ্রলোকের ভেতর যে কনফিডেন্সটা ছিল সেটা মনে হচ্ছে কিছুটা নড়ে গেছে। কনফিউজড এখন। তারপরও কেন যেন আজকে আমার গাট ফিলিংস বলছে… ।
— বলুন।
এবার থেমে থেমে স্পষ্ট করে একটা একটা শব্দ উচ্চারণ করলাম
— আই অ্যাম অ্যা…
চলবে
Razia Sultana Jeni
Send private message to author

