ক্লিপ্টোম্যানিয়াক পর্ব ৪

আজকের মত ক্লাস শেষ। তারপরও দুটোর আগে বেরোনোর উপায় নেই। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাম এই ব্যাপারে বেশ কড়া। ক্লাস থাকুক আর না থাকুক, দুটো পর্যন্ত থাকতেই হবে। টিচার্স রুমের এক কোণে বসে ফেসবুকিং করছি এমন সময় শম্পা দি এসে  বসলেন। এই স্কুলের এই একটা মহিলাকে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। ফ্রেন্ডলি, আমাকে আদরও করেন বেশ।

— মন খারাপ কেন?

— কই?

— নেগেটিভ?

পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে, কথাটা কাউকেই বলিনি। শুধু শম্পাদি জানে। সেটার সাথেই আমার মন খারাপকে রিলেট করছেন উনি। 

একটা স্মাইল দিলাম। এর মানে দাঁড়ায় ‘অনেকটা ঐরকমই’। তবে আসল সত্য হচ্ছে পাত্র পক্ষ এখনও কিছু বলেনি। জানালাম সেটা

— নো রিপ্লাই ইয়েট।

— তার মানেই ‘নো’। ‘ইয়েস’ হলে এতক্ষণে রিপ্লাই চলে আসত। আমার ধারণা লিস্টে থাকা অন্য মেয়েদের বাসায় যাওয়ার প্ল্যান চলছে এখন।

এর উত্তর না দিলেও চলে। ম্লান একটা স্মাইল দিয়ে চুপ করে থাকলাম। আমার দিকে আবার তাকালেন। কিছুটা চিন্তিত মুখে এবার বললেন

— আই থিংক, সামথিং এলস হ্যাপেন্ড। 

শম্পাদির চোখ ফাঁকি দাওয়া আসলেই টাফ। ছোট খাট ব্যাপারও উনার চোখ এড়ায় না। কথাটা বলব কি না, এক মুহূর্ত ভাবলাম। বললে একটা সুবিধা আছে, ভালো একটা অ্যাডভাইস পাওয়া যাবে। 

— শেয়ার করতে পারিস। মন হালকা হয়ে যাবে।

শম্পাদি দিকে তাকালাম। উনি মোবাইলে ফেসবুকিং করছেন। আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন

— খুব বাজে কিছু ঘটেছে?

— বলতে পারো।

কথাটা বলেই শম্পাদির দিকে তাকালাম। উনি মোবাইল থেকে চোখ তুললেন। আমার দিকে তাকালেন। চোখের দৃষ্টি বলছে, ‘শুরু কর।’ 

— প্রলয়ের সাথে দেখা হয়েছিল।

কথাটা বলার পরে মনে হল কেমন রিলিভড ফিল করলাম। আসলেই খুব মনের মত কাউকে সমস্যা খুলে বললে, অনেকটাই হালকা লাগে। ভেবেছিলাম বেশ মোলায়েম স্বরে সান্ত্বনা দেবেন শম্পাদি। ঘটল উল্টোটা। কেমন যেন আশ্চর্য হয়ে গেলেন। বললেন

— তো?

— তো কিছুনা। জাস্ট… 

— তোকে ধরে একটা চটকান লাগাবো। হি ইজ ইয়োর পাস্ট, অ্যান্ড দ্যাটস ইট। 

শম্পাদি দিকে তাকিয়ে হালকা একটা হাসি দিলাম। বললাম, 

— তুমি ভুলে গেছ শামীম ভাইকে?

— কমবেশি সব মেয়ের জীবনেই একটা প্রলয় বা শামীম থাকে। খুব অবসরে, কাজ না থাকলে, এসব নিয়ে ঘণ্টা খানেক ভাবতে পারিস, কিন্তু এর বেশি না। দে ডোন্ট ডিজার্ভ মোর অ্যাটেনশান দ্যান দ্যাট।

মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি দিলাম। আর কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। চুপচাপ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। একসময় টের পেলাম শম্পাদি ধাক্কা দিচ্ছে

— কি রে, কাঁদছিস কেন?

এবার আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলাম না। শম্পাদিকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদতে লাগলাম। এতো সহজে কেঁদে ফেলার মত চরিত্র আমি না। তারপরও বাস্তবতা হচ্ছে এই নিয়ে গত দুদিনে দুবার কাঁদলাম। আগেরটা ছিল নিজের অজান্তেই আর এবারেরটা…  

— কন্ট্রোল ইয়োরসেলফ। একদম কাঁদবি না। প্রলয়ের জন্য তো আরোই না।

পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে কথাগুলো বললেন শম্পাদি। যতোটা শাসনের স্বরে বলতে চেয়েছিলেন, ততোটা কড়া করে বলতে পারলেন না। তবে কথাটা কাজে দিল। কিংবা বলা যায়, এই অল্প কান্নাটুকু আমার দরকার ছিল। এবার নিজেকে সামলে নিতে আর সমস্যা হল না। 

ঘড়ির দিকে তাকালাম। দুটো বাজে। বললাম

— আজকে উঠি।

— না। চল আজকে আমরা সারাদিন ঘুরব।

— হঠাৎ?

— তোর মন ভালো করার জন্য।

— আই অ্যাম ওকে। 

— তারপরও… চল। 

বেরিয়ে পড়লাম। এখন অনেকটাই ফুরফুরে লাগছে। সেদিনের ঘটনাটা যতোটা বুকের ওপর চেপে বসে ছিল, এখন আর ততোটা লাগছে না। রাস্তায় বেরিয়ে বললেন 

— চল কোথাও লাঞ্চ করি।

— চলও।

— তোর কোন চয়েজ?

— ফুটপাথে বসে খাব।

অবাক হয়ে তাকালেন আমার দিকে।

— চেনা জায়গা আছে কোন?

আমি মাথা ঝুঁকিয়ে জানালাম আছে। এরপরে রিক্সায় উঠে জানালাম

— মোহাম্মদপুর

 হঠাৎ করেই সেই ক্লিপ্টোম্যানিয়াকটার কথা মনে পড়ে গেল। শম্পাদিকে নিজে থেকেই বলতে শুরু করলাম

— জানো, সেদিন, আই মিন যেদিন ছেলেটা আমাকে দেখতে এসেছিল, সেদিন ঐ রেস্টুরেন্টে একটা ক্লিপ্টোম্যানিয়াকও ছিল।

আমার দিকে ঘাড় বাঁকা করে তাকালেন শুধু। ঠোঁটে হাসি। মুখে কিছু বললেন না। আমিই আবার বললাম

— ছেলেটাকে বেশ পছন্দ হয়েছে।

— পাত্র বদল?

— নট রিয়েলি। বাট ইন্টেরেস্টিং বলতে পার।

— শুধু দেখা? না আলাপও হয়েছে?

— আরে না। নাইফ আর ফর্ক চুরি করে হ্যাভারস্যাকে ঢুকিয়েই চম্পট।

— এর ভেতরে পছন্দ করার কি আছে?

— কন্ট্রাস্ট টা। এরকম ওয়েল টু ডু ফ্যামিলির ছেলের চুরি করাটা, ইন্টেরেস্টিং না?

— টাকার দরকার হয়তো। ড্রাগ ফ্রাগ ও তো হতে পারে।

— সেটা ভেবেছি, কিন্তু মন বলছে, তেমন কিছু না, ও জাস্ট  ক্লিপ্টোম্যানিয়াক। 

আমার দিকে আরেকবার তাকালেন শম্পাদি। ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি। বললেন

— এখন?

— এখন আর কি, মিস্টার এম বি এ সাহেবের ইয়েস বা নো শোনার জন্য অপেক্ষা।

উত্তরে কিছু বললেন না শম্পা দি। মিষ্টি করে একটা হাসি দিলেন। রিক্সা চলতে লাগল। আমি কিছুক্ষণের জন্য ছোটবেলায় ফিরে গেলাম

— জানো, আগে যখন মোহাম্মদপুরে থাকতাম…

— দেখা হল কোথায়?

কথা শেষ করতে দিল না শম্পাদি। কথাটা এতো হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন যে কেমন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। অবাক হয়ে শম্পাদির দিকে তাকালাম। উনি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার তাকিয়ে একটু নোড করলেন। বোঝাতে চাইলেন, ‘বলে ফেল’। হাসলাম। ইনিশিয়াল মন খারাপটা এখন আর নেই। বলতেও মনে হয় না খারাপ লাগবে। বললাম

— একটা বুটিকে।

— বুটিকে?

শম্পাদি বেশ অবাক হয়ে গেছেন। আমি হেসে ফেললাম। এরপরে মাথা ঝুঁকিয়ে জানালাম ‘হ্যাঁ’। 

— কি করছিল ওখানে? বৌয়ের জন্য ড্রেস কিনতে?

হেসে ফেললাম। মাথা দুদিকে নেড়ে বোঝালাম ‘না’। এরপরে বললাম

— হি ইজ দ্যা ডিজাইনার অফ দ্যাট বুটিক।

— ও। আমি ভাবলাম…

— হয়নি এখনো।

— কি?

— বিয়ে

ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকালেন। ‘এতো খবর নিজ্জেস করে ফেলেছিস?’ টাইপ প্রশ্ন চোখে। মাথা ঝুঁকিয়ে জানালাম, ‘হ্যাঁ’। এবার শম্পাদি বেশ পাজলড ফিল্ম করলেন। আমি কি আবার প্রলয়ের সাথে প্যাচ আপের মুডের আছি নাকি? উনার হতবাক চেহারা দেখে হেসে ফেললাম

— ভয় নেই। ওপথে আর পা বাড়াচ্ছি না। 

— তাহলে?

— কি তাহলে?

— তাহলে আপসেট হচ্ছিস কেন?

— আপসেট হচ্ছি কোথায়?

— তাহলে কাঁদছিলি কেন?

শম্পাদি র দিকে তাকালাম। সব খুলে বলা ছাড়া উপায় নেই। ঠিক কোথা থেকে শুরু করব ভাবছি। এমন সময় উনি নিজে থেকেই বললেন

— ছেলেটাকে তোর পছন্দ হয়েছে?

— কোন ছেলে?

— আরে বাবা সেদিন যে ছেলে তোকে দেখতে এসেছিল।

— আমার পছন্দ কি ইম্পর্ট্যান্ট?

— ইম্পর্ট্যান্ট। মন থেকে সায় না পেলে যত ভাল পাত্রই হোক, ‘ইয়েস’ বলবি না।

এনিয়ে তর্ক করতে ইচ্ছে করছে না। আসলে গল্পগুলো বলতেই ইচ্ছে করছে বেশি। মুখ খুলতে যাব এমন সময় আবার বললেন

— তোর কি কোন স্পেসিফিক চয়েজ আছে?

— মানে?

— মানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এরকম আর কি

ব্যাপারটা আমি নিজেও ভাবিনি। আসলে প্রলয়ের সাথে ব্রেকাপের পর প্রায় বছর দু’য়েক পুরো পুরুষ জাতির প্রতিই কেমন বিতৃষ্ণা ধরে গিয়েছিল। এরপরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকল সবকিছু। একসময় মত দিলাম অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে। মায়ের কথায় একটা দুটো ছেলের সাথে মিট করাও শুরু করলাম। 

— কি রে, আছে?

মাথা দুদিকে নেড়ে, ঠোঁট উল্টিয়ে বোঝালাম, ‘ঠিক সিওর না’। 

— তাহলে ছেলেটা ‘ইয়েস’ বললে রাজী হয়ে যাস।

— তোমার ধারণা ‘ইয়েস’ বলবে?

নোড করলেন শম্পাদি। 

— আমার গাট ফিলিংস বলছে, এবার তোর বিয়ে হয়ে যাবে।

হেসে ফেললাম। বললাম

— তুমি কেমন ধীরে ধীরে মায়ের মত হয়ে যাচ্ছ। 

— মানে?

— মানে শয়নে স্বপনে শুধু আমার বিয়ের চিন্তা। 

বড় একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন শম্পা দি। বললেন

— আমি ছত্রিশটা রিজেক্ট ফেস করেছি। শুধু এই গায়ের রঙের জন্য। মাঝে মাঝে মনে হত… 

এই গল্প আগেও শুনেছি। ফেমিনিস্ট মার্কা নীতিকথা বলা মানুষগুলোর এখন গুষ্টি উদ্ধার করবেন। উনার কথা একটাই, একটা মেয়ের জন্য শিক্ষা, দীক্ষা, মেধা এসব অ্যাক্সেসরি। আসল ব্যাপার চেহারা, আর গায়ের রং। মুখে যে যত বড় কথাই বলুক, ঘুরে ফিরে ঐ এক জায়গায় এসে বাঙ্গালি থেমে যায়। 

আসলে উনার মনে এখনও একরাশ বিতৃষ্ণা জমে আছে। উত্তরে এবারও কিছু বললাম না। কেবল তাকালাম উনার দিকে। শম্পাদি শ্যামলা। তবে সুইট। অপছন্দ করার মত চেহারা না। আবার প্রথম নজরে প্রেমে পড়ার মতো ও না।

— তোর ব্যাপারটা অবশ্য আলাদা।

জানি কি বলতে চায় শম্পা দি। আমি নিজের সমস্যাটা পাত্রের কাছে ডিস্ক্লোজ না করলে হয়তো অনেক আগেই বিয়ে হয়ে যেত। কিন্তু তারপরও, কাজটা করিনি। আসলে ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখতে আর সাহস হয়নি। ঘর পোড়া গরু বলে কথা।

শম্পাদির অবশ্য অন্য মত। এব্যাপারে আমার অবস্থান নিয়েও আছে উনার আপত্তি। মাঝে মাঝেই এনিয়ে বিরক্তি জানান

— কি হয় ব্যাপারটা পত্রপক্ষকে না বললে। একটা মেয়ের কতো সমস্যাই তো থাকতে পারে। সব কি জানানোর দরকার আছে? এই যে আমি দিনে তিনবার গোসল করি, এটা কি আমার জামাইকে জানিয়েছিলাম?

— দুটো এক হল?

— এক কি না জানি না, তবে ওটা না জানালেও এমন কোন মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।

বড় করে একটা নিশ্বাস ছাড়লাম। এনিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। আমরা পৌঁছ গেছি। এখানে দুটো ভ্যান গাড়ীতে করে এক লোক খিচুরি বিক্রি করে। পার প্লেট দশ টাকা। এক টুকরো মাংস ও থাকে। এই বাজেটে কিভাবে দেয় কে জানে। হয়তো মরা মুরগীই দেয়। কিন্তু ওসব ভাবতে গেলে খাওয়া যাবে না।

রিক্সাওয়ালাকে থামালাম। ভাড়া আমিই দিলাম বললাম

— যদিও প্ল্যান তোমার কিন্তু ট্রিট আমার তরফ থেকে।

— মুড ফিরে গেছে মনে হচ্ছে।

— ইয়েস। ফর ইয়োর ইনফর্মেশান, সেদিন প্রেমেও পড়ে এসেছি।

— কার? এমবিএ স্যারের?

— নাহ। চোরের।

— চোরের? কেন?

— এমনি। পড়ে গেলাম।

— তুই কি এখনও ছুকড়ি আছিস নাকি? দুম দাম প্রেমে পড়ে বেড়াস।

— ছুকড়ি হয়তো নেই, কিন্তু প্রেমে পড়লে ছুকড়ির মতোই পড়া উচিৎ।

হেসে ফেলল শম্পাদি। রাস্তার ওপারেই নেমেছিলাম। এপারে আসতে গেলে অনেক দূর ঘুরে আসতে হত। মাঝখানে ডিভাইডার। হেঁটেই তাই আমরা রাস্তা পার হলাম। ভ্যানের কাছে এসে শম্পা দি নাক শিটকালেন। 

— এখানে?

সম্মতির হাসি হেসে বললাম

— ইয়েস। এই টুল গুলোতে বসে খেতে হবে।

— প্যাক করে নিয়ে…

— নো। 

কথা শেষ করতে দিলাম না।

— এখানে বসে, ঐ লেবারদের মত করে খাব। 

এরপরে বললাম

— এখানে কেন এনেছি জানো?

— কেন?

হেসে ফেললাম। এমন সময় ঠেলার মালিক এসে সামনে দাঁড়াল। উনাকে দুই প্লেট দিতে বললাম। শম্পাদি যোগ করলেন, থালাটা ধুয়ে দেয়ার ব্যাপারটা। লোকটা চলে গেলে শম্পাদির দিকে তাকিয়ে খুব গোপন কথা বলছি এমন ভাব করে বললাম

— ঐ ছেলেটার জন্য।

— মানে?

— মানে বিশ্বাস করবে না, ঐ চোর ছেলেটার কাণ্ড দেখে মনে হয়েছিল এই ধরণের ছেলেরা এরকম রাস্তার ধারে লেবারদের সাথে বসে খিচুরি খাওয়া টাইপ। সেদিন নয় বছর আগে ফিরে গিয়েছিলাম। সেই ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে। এখানে আগেও খেতাম। ইন অ্যা সেন্স, এটা ছিল বিদ্রোহ। যা কিছু করা মানায় না, তেমন কিছু করা।  

— আর সেজন্য প্রেমে পড়ে গেলি ছেলেটার?

— শুধু এজন্য না, আরেকটা ব্যাপার ছিল। 

— কি?

— দ্যাট কিলার স্মাইল।

— কোন দ্যাট?

এরপরে বেশ সন্দেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন। আমিও সম্মতির হাসি দিলাম। এবার প্রায় চিৎকার করে বলে উঠলেন 

— প্রলয়ের?

উনাকে থামাতে চেষ্টা করলাম। গলা নামিয়ে বললাম

— আস্তে।

— আবার ঐ হারামজাদা?

এরপরে মনে পড়ে গেল যে বাকী গল্পটা শোনা হয়নি। এমন সময় ঠেলা ওয়ালা খাবার নিয়ে এলেন। আমাদের জন্য দেখলাম চামচ দিয়ে নিয়ে এসেছেন। মাংসের টুকরোটাও নেহাত খারাপ না। শম্পাদির নাক এখনও কুঁচকানো। ঠিক করে রেখেছি, উনি না খেলে ওটাও আমি খাব। লোকটা চলে গেলে শম্পা দি সোজাসুজি আমার দিকে তাকালেন। 

— শুধু দেখা হয়েছে, না কথাও?

আমি মুখে প্রথম চামচটা ঢোকালাম। দারুণ। মুড তখন আমার চনমনে। ঘাড় নেড়ে বোঝালাম কথাও হয়েছে।

এবার শম্পাদি বেশ গম্ভীর হয়ে গেলেন। চোখে কিছুটা ভয়। সম্ভবতঃ ভাবছেন…

— কি বলল?

শম্পাদির দিকে তাকালাম। সুন্দর একটা স্মাইল দিয়ে বললাম

— কথাটা ঠিক আমাকে বলেনি, আমাকে উদ্দেশ্য করে আরেকজনকে বলেছে

— আরে বাবা কি বলল সেটা তো বল। 

আমি তখন খিচুরি এঞ্জয় করছি। মনে হচ্ছে পৃথিবীর কোন কষ্ট এখন আমাকে ছুঁতে পারবে না। খুব স্বাভাবিক গলায় বেশ মজা নিয়ে তথ্যটা দিলাম

— বলল, এই চোরনিটা এখানে কি করছে?

চলবে

– Razia Sultana Jeni

Send private message to author
What’s your Reaction?
0
0
0
0
0
0
0
Share:FacebookX
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!