১০
— আপনাদের ব্রেকাপ হল কেন?
একটু আগে যখন সেই ক্লিপ্টোম্যানিয়াকের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম, তখন বেশ শান্তভাবেই অপেক্ষা করে বসেছিল। অবাক হলেও মেনে উঠে চলে যায়নি। আর ঠোঁটে একটা মিটিমিটি হাসি নিয়ে যখন ফিরে এলাম, তখনও মিতু কিছু বলল না। অন্য কেউ হলে হয়তো, ছেলেটা কে, ছেলেটার সাথে কি সম্পর্ক, কি আলাপ করলাম, এসব জানতে চাইতো। মিতু তেমন কিছুই জানতে চাইল না। মেয়েটার প্রতি কেমন যেন একটা সম্মান জাগছে। চুপচাপ আমার খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল।
ওর জন্য চা অর্ডার করেছিলাম। সেটা এখন ওর সামনে। মাঝে মাঝে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। মুখে পরাটার শেষ টুকরাটা যখন দিয়েছি, সেই মুহূর্তে প্রশ্নটা করল মিতু। ওর দিকে তাকালাম। মনে হল ধৈর্যের শেষ প্রান্তে। আমার নিজেরও অস্বস্তি লাগছিল। বেচারীকে শুধু শুধু অপেক্ষা করাচ্ছি। উত্তর দিতে আমার আপত্তি নাই, তারপরও কেন যেন প্রশ্নটা মাথায় আসল। পরাটা চিবানো অবস্থাতেই কোনরকমে বললাম
— প্রলয় বলেনি কিছু?
কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। চেহারায় কিছুটা অস্বস্তি। এরপরে ছোট্ট করে শুধু বলল
— জিজ্ঞেস করিনি।
ব্যাপারটা আমার নিজেরও মাথায় আসা উচিৎ ছিল। কয়দিন আগে পর্যন্ত আমার তো কোন অস্তিত্বই ছিল না ওদের জীবনে। মাথা নোড করে বোঝালাম, বুঝেছি। আমার ধারণা, একেবারে জানে না, এমন না। আগে একটা অ্যাফেয়ার ছিল, এই তথ্যটা বোধহয় জানে। ওর প্রশ্নটা তাই ব্রেকাপ নিয়ে। ছোট্ট করে শুধু বললাম
— বলছি।
খাওয়া প্রায় শেষ। ধীরে সুস্থে হাত ধুয়ে এসে আবার বসলাম। আমার চা একটু পরে দিতে বলেছিলাম। ওয়েটার অপেক্ষা করছিল সেজন্য। টেবিলের সামনে আসলে ওকে নাস্তার প্লেট নিয়ে যেতে বললাম। এরপরে পানি খেতে খেতে মিতুর দিকে একবার নজর দিলাম। মাথা নিচু করে আছে। মুখটা গম্ভীর। বোধহয় একটু বিরক্ত হচ্ছে। সরি বলতে হবে। তবে তার আগে ওর ভুল ভাঙ্গানো জরুরী।
— লাস্ট থ্রি ইয়ার্স, উই আর নট ইভেন ইন টাচ উইথ ইচ আদার।
এটা ওর প্রশ্নের উত্তর না। ভূমিকাও না। আসলে পুরো ব্যাপারটা আমার নিজের অজান্তেই কমপ্লিকেটেড হয়ে গেছে। ওর ধারণা, প্রলয়ের বিপদ দেখে আমি আমার পুরো সামর্থ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি ওকে উদ্ধার করতে। ব্যাপারটা যে তেমন কিছু না, এটাই আগে ক্লিয়ার করা দরকার। আই থিঙ্ক সব বুঝিয়ে বললে, বুঝবে। মেয়েটা স্মার্ট, সন্দেহ নাই। প্রেমিকের অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা টাইপ না। তারপরও এসব প্রশ্ন যে করছে, সেটার কারণ বোধহয় আমি। ও কি ভাবছে, আমাদের ব্রেকাপটা আসলে টেম্পোরারি, মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং টাইপ কিছু? ওর দোষ কি, আমার এই সাইবার সেলে এসে হ্যাকারের সাহায্য নেয়ার ব্যাপারটাকে যদি ব্রেকাপের সাথে মেশায়, তাহলে একটা মিনিং ই তো দাঁড়ায়। প্রলয়কে ভুলতে পারিনি, তাই ওর বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।
ওর আচরণের অবশ্য আরও একটা ব্যাখ্যা হতে পারে। আর সেটা হচ্ছে, ব্রেকাপ সম্পর্কে জানতে চাওয়াটাও, ওর নিজের জন্য না। আমাদের জন্য। ও ভাবছে, ও আমাদের মাঝে চলে এসেছে। এক যুগলের মান অভিমান পর্বের সময় ও প্রবেশ করেছে, তাই চাইছে, পুরনো যুগলের মিলন।
কিংবা হয়তো আমার জন্য একটা ফিলিং তৈরি হয়েছে ওর ভেতর। এই কদিনে বেশ খানিকটা পছন্দ করে ফেলেছে আমাকে।
মনে মনে হাসলাম। পুরো কাহিনী জানতে পারলে, ওর এই অস্বস্তি আর থাকবে না। যদিও এই মুহূর্তে আমার ভেতর অন্য একটা উত্তেজনা কাজ করছে, তারপরও ফিল করলাম, ওর সমস্যার একটা সমাধান করা বেশি জরুরী। ও আর প্রলয় যে অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য আমি কিছুটা হলেও দায়ী।
গল্পটা কিভাবে বলব, সেটা দ্রুত একবার ঝালাই করে নিলাম। প্রেম পর্ব থেকে শুরু করা যায়, বাট সেটা জরুরী না। জরুরী হচ্ছে এটা বোঝানো, ও সরে গেলেও এই সম্পর্ক জোড়া লাগবে না। ব্যাপারটা ক্লিয়ার করার জন্য বললাম
— তুমি যেমনটা ভাবছ, তেমন কিছু কিন্তু না।
মিতু এতক্ষণ এদিক ওদিক তাকালেও আমার দিকে সরাসরি তাকাচ্ছিল না। এবার আমার দিকে তাকাল। বলল
— কেমনটা ভাবছি?
কি বলব? খুব সাবধানে শব্দ চুজ করতে হবে। আমাকে সন্দেহ করছে, এমনটা আমি বোঝাতে চাইছি না। বড় করে নিঃশ্বাস টেনে আবার ছাড়লাম। এরপরে শুরু করলাম
— দেখো, এই হুমকির ব্যাপারটায় আমার ইনভলভ হওয়ার কারণ প্রলয় না। কারণটা আমি মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না, বাট ট্রাস্ট মি, ইট ইজ নট প্রলয়।
কথাগুলো বিশ্বাস করল কি না জানি না, তবে এনিয়ে আর প্রশ্ন করল না। আমার চা দিয়ে গেছে। সেটায় চুমুক দিলাম। ওর চা শেষ হয়ে এসেছিল। আর কিছু খাবে কি না জানতে চাইলাম। মাথা নেড়ে বোঝাল, ‘না’। কাপটা একপাশে সরিয়ে রাখল। আমি অপেক্ষা করে আছি কি উত্তর দেয় শোনার জন্য। তেমন কিছু বলল না। আমার দিকে তাকিয়ে কেবল ম্লান একটা হাসি দিল।
বুঝে গেলাম, ও ভাবছে, আমি অ্যাভয়েড করছি। আর উপায় নেই। ঠিক করলাম, সেদিনের ঘটনা খুলে বলব। বললাম
— আমাদের সম্পর্কে কতোটুকু জানো?
— আপনাদের অ্যাফেয়ার ছিল, বছর পাঁচেক আই গেস। এরপরে ব্রেকাপ হয়ে যায়।
ওর বলার ভেতরে কিছু একটা ছিল। মনে হল, জানতে চাইছে, যদি প্রলয়ের জন্য ফিলিং অবশিষ্ট থাকে, বলে ফেলুন, আমি সরে যাব। কথাটা তাই স্পষ্ট করেই বললাম
— তুমি কি ভাবছ, উই হ্যাড অ্যা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং? অর ইউ কেম ইন বিটুইন আস?
কথাটায় কাজ হল। ওর চোখ থেকে বিরক্তি কিছুটা হলেও সরে গেল। বলল
— নট রিয়েলি। আসলে…
আমাকে যে ও সন্দেহ করছে না, বা আমি যে প্রলয়কে ছিনিয়ে নিতে চাইছি এমন সন্দেহ করছে না, এটা আমি জানি। আসলে বেশি বয়সের প্রেমে মনে হয় এই উদারতাটা চলে আসে। কথায় কথায় প্রেমিককে বেঁধে রাখবার চেষ্টাটা কমে আসে। এভাবে যে প্রেমিককে ধরে রাখা যায় না, এই উপলব্ধিটা বোধহয় চলে আসে।
— ট্রাস্ট মি, ইট ইজ অল ওভার বিটুইন আস।
ব্যাপারটা মেনে নিল কি না জানি না তবে মাথা নোড করে বোঝাল এটা সে জানে। এবার অনেকটা খোলা মনেই কথা শুরু করলাম
— আমাদের প্রেমটা ভাঙ্গে, আমার ক্লিপ্টোম্যানিয়ার জন্য
কথাটা পুরোপুরি বুঝল কি না বুঝলাম না। ওর মুখ দেখে মনে হল, কি বলেছি বুঝলেও, শব্দটা মনে হয় ও আগে শোনেনি। অস্ফুটে ‘ক্লিপ্টোম্যানিয়া’ শব্দটা আবার উচ্চারণ করল। কিছুটা কনফিউজড। ওর অবাক চেহারার দিকে তাকিয়ে এবার বললাম
— ইররেজিস্টেবল ডিজায়ার টু স্টিল। সর্ট অফ সাইকিয়াট্রিক প্রব্লেম। আরও ডিটেইল জানতে চাইলে গুগল করে নিও।
মিতুর চেহারায় কনফিউশান কমলেও একেবারে যায়নি। ক্লিপ্টোম্যানিয়া নিয়ে কনফিউশান গেলেও, সেটার কারণে কিভাবে ব্রেকাপ হলে, সেই প্রশ্নটা এখন ওর চোখে ঝুলছে। নেহাত ভদ্র মেয়ে বলে জিজ্ঞেস করছে না।
আই থিঙ্ক, আজকের পর, এই মেয়ের সাথে হয়তো আর দেখা হবে না। তাই ওর কনফিউশান, প্রশ্ন, সব কিছুর একটা সুরাহা করে এখান থেকে যাব। বেশি ডিটেইলে বলতে গেলে সময় লাগবে। ঠিক করলাম খুব ছোট্ট করেই, টু দ্যা পয়েন্ট, বলব।
যেহেতু আমাদের প্রেম পর্ব সম্পর্কে কিছুটা জানে, কিভাবে প্রেম হল, কতদিন প্রেম চলেছে, এসব, তাই সেদিকে আর গেলাম না। ও কার কাছে জেনেছে, সে ব্যাপারে যদিও জানতে ইচ্ছে করছে, তারপরও, সেই প্রশ্ন করলাম না। কি আর হবে, হয় প্রলয় বলেছে, আর নয়তো, প্রলয়ের কোন বন্ধুর কাছে শুনেছে। সিদ্ধান্ত নিলাম, প্রেম পর্ব নিয়ে আর কোন কথা বলব না। বিচ্ছেদ অংশটা যতোটা না বললেই নয়, ততোটাই বলব।
এমন সময় প্রশ্নটা করল মিতু।
— বছর তিনেক আগে ঠিক কি ঘটেছিল?
মিতুর দিকে তাকালাম। মনে হল, এই উত্তরটাই ডিসাইড করে দেবে ওদের প্রেমের ভবিষ্যৎ। কারণটা রিজেনেবল মনে হলে, আর সেটায় প্রলয়ের তেমন দোষ না থাকলে, এযাত্রা সম্ভবতঃ প্রেমটা টিকে যাবে।
উত্তর দিতে আমার আপত্তি নেই। সেদিনের কথা মনে করা অনেকদিন আগেই ছেড়ে দিয়েছি। সেটা আবার করতে হবে, এই যা। ওর সন্দেহ দূর করার জন্য, ব্লেইমটাও আমাকে নিজের কাঁধেই নিতে হবে। আমার জন্য ওদের কোন সমস্যা হোক, সত্যিই আমি চাই না। বলতে শুরু করলাম
— প্রথম কথা, প্রলয়ের কোন দোষ নেই। ইট ওয়াজ অল মাই ফল্ট।
কথাটা পছন্দ করল বলে মনে হল না। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ ইফেক্ট তৈরি করল। সাবধান হয়ে গেলাম। মনে হল নিরপেক্ষ বর্ণনা দেয়াটাই সেইফ হবে। ও যাকে খুশি দোষী ভেবে নিক। এবার তাই স্বাভাবিক বর্ণনা শুরু করলাম
— ঘটনাটা ঘটে আজ থেকে তিন বছর আগে। তখনও আমাদের প্রেম বেশ ভালোভাবেই চলছে। বাসায়ও সবাই জানে। সবার মতও আছে। সো সেদিক দিয়ে তেমন কোন সমস্যা ছিল না।
মিতু মনে হল বেশ মনোযোগ দিয়েই শুনছে। আসলে বুঝতে চাইছে, আমাদের রিলেশানশিপ ওভার কি না। ঠিক করলাম, ওটা বোঝানোর কোন এক্সট্রা চেষ্টা করব না। যা ভাবে ভাবুক, আমি আমার মত বলে যাই।
— তো, সেদিন ছিল প্রলয়ের এক ফ্রেন্ডের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি। যদিও কেবল বন্ধুরা ইনভাইটেড ছিল, তারপরও আমি গিয়েছিলাম। আসলে টু বি কাপলদের ভেতর আমিই ছিলাম জুনিয়র। বাকীরা ইন অ্যা সেন্স ফ্রেন্ডই ছিল। অবশ্য আমি তো তখন প্রায় ওদের গ্রুপেরই সদস্য।
মিতু চুপচাপ শুনছিল। ওর দিকে তাকালাম। বোঝার চেষ্টা করলাম, ওর ভেতরে কি রিয়াকশান হচ্ছে। যা ভয় পাচ্ছিলাম, সেটাই ঘটতে যাচ্ছে মন হল। ও বোঝার চেষ্টা করছে, পুরো পরিস্থিতিটা ত্রিভুজ প্রেম কি না। টিপিক্যাল ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের থার্ড পারসন হিসেবে ভাবছে নিজেকে? চেহারা দেখে খুব স্পষ্ট বুঝলাম না। শুধু বুঝলাম, মনোযোগ দিয়েই শুনছে আর চোখে একটাই প্রশ্ন ঝুলে আছে, ‘তারপর?’। বলতে শুরু করলাম
— তো সেই অনুষ্ঠানে আই ডিড দ্যা ব্লান্ডার।
ওর চোখে মুখে ভয়। মনে হল কিছুটা আঁতকে উঠল। হেসে ফেললাম। ও বোধহয় ভুলে গিয়েছিল, নিজের ফিয়ঁসের গল্প শুনছে। এবার আসল কথাটা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম
— ওর ফ্রেন্ডের বাসার ডাইনিং টেবিলে খুব সুন্দর একটা নাইফ সেট ছিল। সেটার সবচেয়ে ছোট্ট নাইফটা ছিল খুবই কিউট।
ইচ্ছে করেই থামলাম। মিতুকে গেস করতে দিলাম বাকীটা। বুদ্ধিমতী মেয়ে। বুঝে গেল। ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করল
— চুরি করলেন?
মাথা ঝুঁকিয়ে বোঝালাম ‘হ্যাঁ’। এরপরে কাহিনীর শেষটা জানালাম
— এবং ধরা পড়ে গেলাম।
মিতু ঠিক আহত হল, না খুশি হল, বুঝলাম না। মজার গল্প শুনলে যেমন রিয়াকশান হয়, তেমন রিয়াকশান ওর চোখে মুখে। স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেললাম। মনে হচ্ছে, আমার জন্য ওদের প্রেমে ফাটল আসবে না, আমি সেটা চাইছিও না, বরং ওদের এই সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেলেই আমার ভাল লাগবে, এটা বোঝাতে পেরেছি। কাহিনী চালিয়ে গেলাম। বললাম
— সেই ফ্রেন্ডের ওয়াইফের খুবই ফেভারেট ছিল ঐ নাইফ সেটটা। কিছুটা সন্দেহবাতিকও ছিল। ও লক্ষ্য করেছিল, আমি ওটা নাড়াচাড়া করছি। তাই যখন চোখে পড়ল যে ওটায় একটা নাইফ নেই, তখন হুলুস্থুল লাগিয়ে দিল। সোজা আমাকে চার্জ করল।
মিতুর চোখে মুখে আতঙ্ক। কোন রকমে বলল
— তারপর?
— তারপর আমার ব্যাগ সার্চ করল। পাওয়া গেল নাইফ।
কথাটা বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বললাম। এরপরে মিতুর দিকে তাকিয়ে বললাম
— অ্যান্ড দ্যাটস দ্যা এন্ড অফ আওয়ার স্টোরি।
যদিও গল্প শেষ, তারপরও কিছু কথা বললাম। প্রলয়ের রাগ সম্পর্কেও একটা আইডিয়া দেয়া জরুরী। আফটার অল প্রলয়ের সাথে ও জীবন কাটাবে। ওর এই দিকটা সম্পর্কে জানা থাকলে একটা সুবিধা, কি পরিস্থিতিতে প্রলয় কিভাবে রিয়াক্ট করে, সেটা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকবে তাহলে।
— আফটার দ্যাট, প্রলয় নেভার টকড টু মি।
ঠিক যখন ভাবছি, মিতুর মনের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছি, ঠিক সেই সময় বোমাটা ফাটাল ও। আমার চোখে চোখ রেখে শান্ত গলায় শুধু বলল
— বাট হি স্টিল লাভস ইউ।
চলবে
Razia Sultana Jeni
Send private message to author





