যদি এক আচমকা সন্ধ্যায়, ক্ষীণ বর্ষার ন্যায় বিদ্রোহীর সাথে দেখা মেলে,
তবে মাধবীলতার হৃদয় মাঝারে, কোনো কী কথার ঢেউ উঠবে?
নাকি সেটা বহুদিনের অচেনা ভালোবাসার জমে থাকা অভিমান হতে,
পাহারের বুকে মেঘের আচড়ে ঝর্না ধাঁরা হয়ে নেমে আসবে?
সেদিনও অমন ঈশান কোণে বেদনার মেঘ জমে ছিল,
বিদ্রোহী তার উষ্ণ আগমনের দমকা হাওয়ায়,
মাধবীলতার মৌনতার মাঝে ছেঁদ ডেকে আনে, তখন
মাধবীলতা বলে, “তুমি একটুও পাল্টাও নি। কিভাবে?”
বিদ্রোহী তার ভাঙ্গা স্বপ্নের কাচে পা কেটে দেখে, এটা পরাবাস্তব নাকি সত্য যাচাইয়ে খানিকটা হোঁচট খেয়ে, সে বলে, “তুমি ই তো পাল্টে গেলে, কেমন করে?”
মাধবীলতার অবাক মুখের হাঁসির ভেতর দিয়ে, “সত্যি করে একটা কথা বলবে, বিদ্রোহী?”
“কী কথা?”
“সত্যি ই কী আমার কথা, কখনও তোমার মনে পড়ে?”
বিদ্রোহী তাকিয়ে রয়, শূন্য দৃষ্টিতে যেন বহুদিনের অভিমান কোনো তুষার কনার মাঝে আটকে থেকেও, আর পারছে না বন্ধতার বন্ধু হতে।
বিদ্রোহী বলে, “তবে মিথ্যে করে বলি, প্রতিনিয়ত। হাজারো জন-অরণ্যের ভীড়ে খুঁজেছি তোমাকে, তবুও দেখা মেলে নি।”
“না, না, তুমি অমন হতে পারও না!”, মাধবীলতার মনের অসচ্ছতা ছাপিয়ে বিদ্রোহীর মলিন হাঁসে উঠে আসে। মাধবীলতা তাকিয়ে রয়,
এক শূন্যতা যেন সুর হয়ে ঝরে মাধবীলতার আকস্মিক গোধুলীতে, তার আড়ালে মৃদু স্বরে ভেসে আসে, “তুমি আজীবন চেনা হয়েও ছিলে আমার অচেনা।”
“আর তুমি… ছিলে, আমার শেষ ভালোবাসা।” বিদ্রোহী পা বাড়ায়,
মাধবীলতা নিস্তব্ধতার বুকে চলে যাবার ডাক শুনছে,
ওপারে নীল জোছনা বান, ভাঙে যাবার কাল গুনছে।
তবুও আজ তাদের না পাবার বেদনা উপলন্ধিতে বারণ,
মাধবীলতা যে আজ অন্যের ঘরণী,
আর অপরজন…?
আজন্ম বিদ্রোহী!
– সূচক
Send private message to author






