ফাতেমা এবং সামিহা দুজনেই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, অথচ দুজনের ব্যবহারের আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সামিহা যেমন বদমেজাজি ও খিটখিটে, ফাতেমা ততটাই শান্ত প্রকৃতির ও ধৈর্যশীলা।
একদিন স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে সামিহার কনুই লেগে ফাতেমার টিফিনের কৌটোটা মাটিতে পড়ে যায়। খাবার পড়ে যাওয়াতে যতটা না সে কষ্ট পেল, তার চেয়ে অত্যধিক বেশি লজ্জা পেল ফাতেমা। সে লজ্জায় নিশ্চুপ হয়ে রইল কিছুক্ষণ। কারণ, সে টিফিনে নিয়ে এসেছিল সামান্য একটু গুড় আর দুটি বাসি রুটি, যা সবাই দেখে ফেলল।
ফাতেমা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সামিহা তাকে মেজাজ দিয়ে বলল, “নিজের জিনিস সামলে রাখতে পারিস না? আমার জামাতে যদি দাগ লেগে যেত, তখন কি করতাম আমি? ছোটলোক কোথাকার!”
এখানে কিন্তু ফাতেমার কোনো দোষ ছিল না। বরং তার বহু কষ্টে সংগ্রহ করে আনা আহার নষ্ট হয়ে গেল। এতে তার কোনো অভিমান-অভিযোগ কিচ্ছু ছিল না। অন্যদিকে, সামিহা দোষ করলেও তারমধ্যে নেই কোনো অপরাধ বোধ। উল্টে, সে সবার সামনে নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও ফাতেমাকে যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করল।
ঠিক এমন সময় ক্লাসের বাইরে হেঁটে যাচ্ছিলেন স্কুলের হেডস্যার আফজাল হোসেন। তিনি সম্পূর্ণ ঘটনাটি খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন।
এরপর তিনি ক্লাসের ভেতরে এসে সামিহা এবং ফাতেমাকে পাঁচটি অংক করতে দিলেন। দেখা গেল, ফাতেমা সবকটি অংক নিমিষেই করে দিল কিন্তু ফাতেমা একটাও পারল না।
এরপর স্যার ফাতেমাকে বললেন, “কাউকে কখনো ছোট করে দেখবে না। এমনও হতে পারে, যাকে তুমি ছোটো করলে, সে হয়তো তোমার থেকে মেধাবী। তার উদাহরণ আশাকরি চাক্ষুষ দেখতে পেলে।”
সামিহা এতক্ষণ মাথা নিচু করে ছিল। এই কথা শোনার পর সে মাথা তুলে অনেকক্ষণ স্থির হয়ে ছিল। তার মনে যেন অনুশোচনার অমিয় ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে লাগলো।
তারপর থেকে সে কখনো ফাতেমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি বরং ফাতেমা হয়ে গিয়েছিল তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
Written by Shibli Sayeek (শিবলী সাইক)
Send private message to author






