সাব্বির ছাদে বসে আছে অনেক্ষণ হলো। সে অপেক্ষা করছে সোহানার জন্য। ছাদের এককোনে ফুটে আছে গোটা কতক স্পাইডার রোজ। সে ভাবতে লাগলো স্পাইডার রোজের বাংলা মাকড়শা গোলাপ। না বাংলা নামটা সুন্দর নয় বরং ইংরেজী নামটাই ফুলের সাথে বেশ মানানসই।
সোহানা চুপি চুপি সাব্বিরের পিছে এসে দাড়িয়ে তার ওলনাটা উপরে ছুড়ে দিলে সেটা ঝপ করে পড়ে সাব্বিরের মাথা, মুক ঢেকে দিলো। এই ফাকে সোহানা ছাদের পানির ট্যাংকের পিছনে লুকালো।
কিছুক্ষণ চোর-পুলিশ খেলা চলল দুজনের মধ্যে। তারপর পাশাপাশি বসে কথা শুরু হলো-
সোহানা মুখটা শুকনা করে বলল-কবে যে তোমার একটা চাকরি হবে ? ততদিনে আমি মনে হয় অন্যের ঘরের ঘরনী হয়ে যাবো।
সাব্বির- আরে অত চিন্তা কিসের । একটা কিছু হয়ে যাবে। আর তুমি আমারি থাকবে।
কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন সাব্বির, সময় থাকতে সতর্ক না হলে পরে আফসোস করবে।
সেটাতো জানি কিন্তু আমিতো চেষ্টার কোন কমতি রাখছিনা। আমি আমার ভালোবাসার জোনাকীকে পাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। তুমি সারা জীবন তোমার আলো জ্বেলে আমাকে আলোকিত করে রেখো।
পাঁচ বছর পরের এমনই এক বর্ষার বিকালে সোহানা ছাদে উঠে সেই স্মৃতির দোলায় দোলতে থাকে। কিছুক্ষণ আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে এক পশলা। বৃষ্টিতে ভিজে স্পাইডার রোজ আরও বেশি সতেজ ও প্রানবন্ত। কিন্তু পাঁচ বছর আগেই নিয়তি তাদের প্রেমের সমাপ্তি টেনে দিয়েছে । হারিয়ে গেছে সাব্বির নামক প্রেমিক পুরুষ প্রেমের ভবন থেকে, সোহানার জীবন থেকে।
সোহানা যখন জানতে পেরেছে সাব্বির চাকরি পাবার পর খুশির সংবাদটা তাকে দেওয়ার জন্য ছুটে আসছিল তখন একটা দানব ট্রাকও সাব্বিরের পিছু পিছু ছুটে আসছিল। আর সেই ঘাতক ট্রাকই কেড়ে নিয়েছে তার ভালোবাসার মানুষটিকে আর তার জীবনের পটভূতি শূণ্য করে দিয়েছিলো। তারপর পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে একদিন শোকের নদীতেও চড় জমে স্তমিত হয়ে আসে শোকের স্রোত।
যদিও নতুনভাবে বাঁচতে শুরু করেছে স্বামী, সংসার, সন্তান নিয়ে তথাপিও সে ভুলতে পারেনি তার ভালোবাসার জোনাক পোকাকে। আজও সে আনমনে স্মৃতির এ্যালবাম উল্টাতে উল্টাতে বলে উঠে-তুমি আমার জোনাকী।
মো: মাইদুল সরকার (Md. Maidul Sarker)
Send private message to author






