পাত্রপক্ষ আমাকে দেখতে আসে। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাওয়ার আগ মুহূর্তে বুকের ভিতর যে ধুকধুক শব্দ হয় ঠিক তেমনটা হচ্ছিল! এই আমাকে ওদের পছন্দ হবে তো?
পাত্রপক্ষ আসলো পছন্দ হলো বিয়ের কথাবার্তাও হলো কিন্তু পাত্র আসেনি! মায়ের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করবে বলেই ছেলে নিজে আসেনি পাত্রী দেখতে। এ কেমন ব্যাপার! সারাজীবনের সঙ্গীকে এক পলক দেখবে না?
একেবারে আশির্বাদে দুজনের দেখা হলেও কথা হলো ফুলশয্যার রাতে। বর কখনো মুখ ফুটে বলেনি, তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে বা তোমায় ভালোবাসি। আমাদের দুজনের সম্পর্কটা আর দশজন স্বামী-স্ত্রীর মতো ছিল না। বাধ্য হলাম সন্তান নেওয়ার কথা ভাবতে। আমার মা বলতেন সন্তান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সেতু তৈরি করে। ভেবেছি আমাদের সন্তানও আমাদের মাঝে সম্পর্কের এক সেতু গড়ে তুলবে। নিজে কিছু একটা করার স্বপ্নকে থামিয়ে মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। অতঃপর বছর দুয়েকের মাথায় আমার কোলজুড়ে এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়। মেয়েকে ঘিরে আমার দিন কাটতে থাকে। বর আছে পাশে তার মতো করে।
সে কখনো আমাকে বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে কোন উপহার দেয়নি, অসুস্থ হলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়নি, আমার কোনো ইচ্ছার কথা সে জানতে চায়নি। এত বছর সংসার জীবনে বুঝলাম তার দিকথেকে ভালোবাসার ফুল ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছি। সময় বয়ে গেছে তার নিয়মে।
মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আমি আবার একা। স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে ছয় মাস হলো। আজ আমাদের ত্রিশতম বিবাহবার্ষিকী। তাই ভীষণ মনে পড়ছে মৃদুলের কথা। ওর পুরোনো জিনিসপত্র, কাপড়চোপড় ঘাটাঘাটি করছি। একটা সাদা রঙের ফাইল হাতে পড়ল। খুলে দেখি উনত্রিশখানা চিঠি এবংসবকটা আমার নামে। প্রত্যেক চিঠির তারিখ একই দিনের। একটা চিঠি হাতে নিয়ে চোখের চশমাটা ঠিক করে পড়ি।
প্রিয়া রীমা,
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
তোমার
মৃদুল।সবকটা চিঠির শব্দ এক তারিখ এক ভালোবাসা এক শুধু সালটা ভিন্ন একবছরের। নিরবে ভালোবেসে গেলে একটিবার জানতে দিলে কি এমন ক্ষতি হতো! বিবাহবার্ষিকীতে এমন দামী উপহার না হয় আমার হাতেই তুলে দিতে!
পপি ধর(Popy dhar)
০৭.০৭.২০২১
Send private message to author







খুব সুন্দর