সুউচ্চ ভবনটার সামনে যখন লারেটা এসে পৌছাল তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে প্রায় রাত হয়ে গেছে।ওর ক্লাস ছিল সন্ধ্যায়।কিন্তু এই ঝড় বাদলের দিনে ক্লাসে আসবে কি আসবে না ভাবতে ভাবতে দেরি হয়ে গেছে।ক্লাস কি শেষ হয়ে গেল?যদিও রাতে এই ভবনের প্রয়োজনীয় লাইটগুলো বাদে বাকি সব লাইট নিভিয়ে দেয়া হয়।তবুও এতটা অন্ধকার তো কখনো লাগে না।শুধু এন্ট্রান্স আর করিডোরের লাইট জ্বলছে।বর্ষার দিন বলে হয়তো বেশি অন্ধকার মনে হচ্ছে।
ভাবতে ভাবতে মেইন ডোরে ধাক্কা দিতেই সেটা খুলে গেল।যাক, তাহলে ইন্সটিটিউট খোলাই আছে,একটু স্বস্তি পেল লারেটা।কিন্তু রিসেপশন ডেস্কে কেউ নেই কেন?ওর সাথের কাউকেও তো দেখছে না।সবাই কি ক্লাসে,নাকি ক্লাস শেষ,নাকি সাসপেন্ড হয়ে গেল!ইস্!বাসা থেকে বের হওয়ার আগে কেন যে হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপে একটু দেখে আসল না।এখন নিজের উপরই রাগ হচ্ছে।বাসায় ওয়াইফাই কানেকশন আছে বলে ফোনে আর নেট ব্যালেন্স করে না।আর অলসতা করে এই ইন্সটিটিউটের ওয়াইফাই পাসওয়ার্ডও নেয়া হয় নাই।
কি আর করা।ভাবল এসেছে যখন ক্লাসে গিয়েই নাহয় দেখে আসা যাক।ওর ক্লাস টপ ফ্লোরে ।এতটা সিঁড়ি না ভেঙে ও সবসময় লিফট ই ব্যবহার করে।আজও তাই করল।তবে আজ লিফটে শুধু ও একা।দরজা বন্ধ হয়ে যেতেই কেমন গা ছমছম করে উঠল।
এই লিফট নিয়ে কিছু গুজব আছে।এই ইন্সটিটিউটের কয়েকজন ছেলে মেয়ে নাকি এই লিফট থেকে নিখোঁজ হয়েছে।মানে সি সি টি ভি ফুটেজে শেষবার তাদেরকে একাকী এই লিফটে চড়তে দেখা গেছে কিন্তু বের হতে আর দেখা যায় নি।অনেক ইনভেস্টিগেশনেও কিছু পাওয়া যায় নাই।শেষে আগের লিফট পাল্টে নাকি এখনকার এই লিফট টা লাগানো হয়েছে।সেটাও অনেকদিন আগের কথা।লারেটা সবসময় লিফট ব্যবহার করে বলে ওর বান্ধবি এই গল্প বলেছিল। লারেটা এসব আজগুবি গল্প বিশ্বাস করে নি।কিন্তু আজ কেন যেন এই গল্পটাই বারবার মনে পড়ছে।আর আজ লিফট ও যেন বেশি সময় নিচ্ছে।
ভাবল ,”ধূর ছাই!আর লিফটে গিয়ে কাজ নাই।যে ফ্লোরে আছে সেখানেই নেমে বাকিটা সিঁড়ি দিয়ে যাবে।”কিন্তু দরজা খোলার বাটনে বারবার প্রেস করেও যখন সেটা খুলল না ,তখন সত্যিই ভয়ের এক শীতল স্রোত ওর মাথা থেকে পা অব্দি বয়ে গেল।কোন ফ্লোরে আছে দেখতে গিয়ে ওর গলা শুকিয়ে গেল।
“ফ্লোর জিরো জিরো জিরো”
এই ফ্লোর এই বিল্ডিঙে আছে বলে তো জানা ছিল না।বেসমেন্টের কোন ফ্লোর কি?কিন্তু এই নাম্বার লেখা কোন বাটন তো কখনো চোখে পড়ে নাই।আর যদি থাকেও সেই বাটনে প্রেস না করেই ও কিভাবে এখানে এলো?ওর স্পষ্ট মনে আছে ও এরকম কোন বাটনে প্রেস করে নাই।তাহলে!
এসময়ে লারেটা ওর কাধে এক ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করল।ঘুরে তাকিয়ে ওর মনে হলো ওর হৃৎপিন্ড বুঝি খাঁচা ছেড়ে বেড়িয়ে যাবে।লিফটের দেয়ালে যে বড়সড় আয়না টা লাগানো আছে,যেটায় প্রায়ই ও নিজের সাজসজ্জা ঠিক করত,সেই আয়না থেকে একটা অর্ধগলিত রক্তমাখা হাত বেড়িয়ে এসে ওর কাঁধ খামচে ধরেছে।
পরিশিষ্ট:অফিসার ফারনান্দোর ডেস্কে যে মিসিং ফাইলটা পড়ে আছে সেটা নিয়ে সে খুব বিরক্ত।লারেটা এন্ডারসন নামের এক অষ্টাদশী প্রায় মাসখানেক ধরেই নিখোঁজ।অনেক খুঁজেও কোন হদিস মেলেনি।শেষবার তাকে বার্সেলোনার রামলা স্ট্রিটের এক একাডেমিক ইন্সটিটিউটের লিফটে একাকী চড়তে দেখা গেছে।বিল্ডিঙের সিসিটিভি ফুটেজ তাই বলছে।আশ্চর্যের বিষয় ঐ দিন খারাপ আবহাওয়ার কারণে ঐ ইন্সটিটিউটের সব ক্লাস সাসপেন্ড করা হয়েছিল এবং বিল্ডিং বন্ধ ছিল ।তাহলে মেয়েটা সেদিন ওখানে কেনই বা গিয়েছিল আর বন্ধ বিল্ডিঙে ঢুকেছিল কিভাবে সেটাও আরেক রহস্য।লক ভাঙার ও কোন আলামত মেলেনি।আরো অবাক বিষয় মেয়েটার লিফটে চড়ার ফুটেজ পাওয়া গেছে কিন্তু বের হওয়ার কোন ফুটেজ নাই।কোন ফুটেজ ডিলিট ও করা হয় নাই ।তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়?
What’s your Reaction?
1




