“পাহাড়ের চূড়ায় সবসময় মেঘ ঘিরে থাকে।”- আকাশের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্তভাবে বললো সামির।
“মানে?”- ভ্রু কুঁচকায় আহনাফ।
“মানে হলো, মহান ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের ঘিরে সবসময় ঝামেলা থাকে।”
খেক খেক শব্দ করে হেসে ফেললো আহনাফ। “তুই মহান?”- গড়াগড়ি দেওয়ার উপক্রম। “তুই বিখ্যাত?”- আবারও শব্দ করে হেসে দেয় সে। সামিরের কোনো ভাবান্তর নেই। মাথাকে মৃদু ঝাঁকিয়ে উত্তর দেয়, “হুম।”
হাসি থামিয়ে আহনাফ ফের জিজ্ঞাসা করে, “তোকে প্রশ্ন করলাম বিয়ে করছিস না কেন, আর তুই জবাবে কী বললি?”
হাসির পুনরাবৃত্তি হলো।
সামির শান্ত-স্বরে উত্তর দেয়, “অবশ্যই বিয়ে করবো। আর তখন আমি-ই হবো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।”
আহনাফ হাসলো না এবার।
◑
বিয়ের প্রথম রাতে সামিরের হাতে চকচক করতে থাকা ধারালো ছুরি দেখে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায় তার স্ত্রী। সামির এক পা এগোয় আর সে ভয়ে ভয়ে পিছিয়ে যায়; এক পর্যায়ে পিঠ ঠেকে যায় খাটের সাথে। ততক্ষণে সামির তার সামনে এসে বসে পড়েছে। “এই লোকটি কী করতে চলেছে?”- তীব্র আতঙ্ক নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে সামিরের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী।
“মানুষের মনের সৌন্দর্য হলো জিহ্বা। আর জিহ্বার সৌন্দর্য হলো কথা।”- তার স্ত্রীর ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বললো সে। কিন্তু পরক্ষণে বুঝতে পারলো এখনও তার স্ত্রী কথাটি হজম করতে পারেনি।
“মানুষের কথার দ্বারা-ই তার জিহ্বার বৈশিষ্ট্য বুঝা যায়। আর জিহ্বার বৈশিষ্ট্য-ই বলে দেয় তার মন ঠিক কেমন।”- নিজের বলা কথার ব্যাখ্যা সামির নিজেই করে। তার কথা চলমান রাখে সে, “যদি কখনও দেখেছো এই সৌন্দর্যের মাঝে আমি কোনোরকম ব্যাঘাত ঘটিয়েছি তবে আমার জিহ্বাকে এই ছুরি দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে দিও।”
সামির তার স্ত্রীর মুখে এবার শ্রদ্ধা মিশ্রিত হাসি দেখতে পায়।
◑
“তোদের দু’জনকে দেখেছি একে অন্যের মনের কথাগুলো সহজেই বুঝে যাস। কিন্তু কীভাবে?”- বছরখানেক পর দেখা হলে প্রশ্ন করে আহনাফ।
“কারো উপর রেগে গেলে মানুষ চিৎকার করে কথা বলে কেন?”- সামির প্রশ্ন করে।
“কারণ তখন মনের শান্তি হারিয়ে যায়।”
“কিন্তু চিৎকার করেই কেন বলতে হবে? সে তো সামনেই আছে।”
আহনাফ উত্তর দেয় না।
“যখন দু’জন রাগান্বিত হয়ে কথা বলে তখন তাদের হৃদয়ের মধ্যকার দূরত্ব বেড়ে যায়। তাই কাছে থাকলেও মনে হয় সে অনেক দূরে।”- সামির নিজেই উত্তর দেয়। “আর যখন দু’জন মানুষ একে-অন্যকে গভীরভাবে ভালোবাসে তখন তাদের হৃদয়ের দূরত্ব এতোটাই কমে যায় যে, অনেক কথা মুখে না বললেও তারা সেটা বুঝে ফেলে।”
“আসলেই সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষদের একজন”- মনে মনে ভাবে আহনাফ।
©Sayan
Send private message to author







কথাগুলো সুন্দর আর অর্থবহ
Yes
Actually kotha gulo onk vlo chilo.
অসাধারণ একটা লেখা ❤️
বাহ্ অসাধারন প্রকাশ, বিশেষ করে শেষের অংশ টা দারুন লেগেছে! ❤️❤️
অতি চমৎকার লেখনী। শেষ অংশটুকু দারুণ। এতটুকু গল্পের মাঝেও কিছু কথা অনেক ভালো লেগেছে।
অনেক বেশি সুন্দর।
Khub shundor Kotha! And moner mil jokhon ghote tokhon chehara dekhei mon pora jay jodio oneksomoy mukhe onno vashar prokash ghote ba!
Kintuk aisob valobashar netibavhok diko ase, ak pokho Jodi dhoka dite chay!
যদি ধোঁকা দেওয়ার প্রশ্ন আসে তবে এমন ভালোবাসা না, যেকোনো ভালোবাসাতেই ধোঁকা দেবে সে।