ফেসবুকে প্রতিদিন আমরা অগুনতি পোস্ট দেখতে পাই। এই পোস্ট গুলো পড়ে অনেকেই বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এই সমস্ত প্রতিক্রিয়ার
মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে “লাইক।”
ব্যক্তিগত আর সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় লাইকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। পোস্ট দাতাদের অনেকেই চান তাদের পোস্টে পরিচিত বন্ধু বান্ধব আর আত্মীয় স্বজন লাইক দিক। তাদের কাছ থেকে লাইক না পেলে এদের অনেকেই মনক্ষুন্ন হন। অনেকে আবার তাদের ক্ষোভটা সরাসরি প্রকাশ ও করে বসেন। কেউ কেউ আবার খানিকটা আগ বাড়িয়ে বলেই বসেন, “আমার পোস্টে লাইক না দিলে আমি ও কিন্তু তোমার পোস্টে কোন লাইক দেবো না”। সরাসরি প্রচ্ছন্ন হুমকি।
কারো পোষ্টের বিষয়বস্তু, প্রকাশভঙ্গি, প্রাসঙ্গিকতা সহ অন্য কিছু কিছু বিষয় পছন্দ হলেই তাতে অন্যরা লাইক দিতে পারেন। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে পোস্ট পছন্দ না হলে ও কেউ কেউ পরিস্থিতির চাপে পড়ে লাইক দেন বা অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে লাইক দিতে হয়। ধরুন আপনি একটি বেশ বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, কোন বৃহৎ শিল্প গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বা কোন এক সদস্য বহুল সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক। এই সমস্ত ক্ষেত্রে তাদের দেয়া পোস্টে স্বভাবতই অনেক প্রতিক্রিয়া বিশেষ করে ‘লাইক” পরার সম্ভাবনা অনেক বেশী। এই লাইক গুলো কতটুকু পছন্দের, কতটুকু ভালোবাসার বা কতটুকু বাধ্য হয়ে সেটা বিবেচনার অবকাশ থেকেই যায়। অনেকে আবার পোস্টের বিষয়বস্তু না পরেই গড়ে লাইক দিয়ে দেন। কেউ কেউ আবার এটা ও বিবেচনায় আনেন, “আমার মামা, চাচা, বন্ধু বা ঘনিষ্ঠ কেউ একটি পোস্ট দিয়েছেন। আমি লাইক না দিলে তিনি আবার কষ্ট পেতে পারেন। ঠিক আছে না হয় দিয়েই দিলাম একটা লাইক।
অনেকে আবার মোট লাইকের পরিমাণ দেখে নিজের বা নিজের পোস্টের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে ও বসে যান। কিন্তু এদের কেউই কখনো এটা একবার ও ভাবেননা যে এর মধ্যে অনেক গুলো লাইক দেয়া হয়েছে অনিচ্ছাকৃত ভাবে আর শুধুমাত্র সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে।
যাক সেই প্রসঙ্গ। এবার মুল প্রসঙ্গে আসা যাক। ইদানিং আরেকটি নতুন প্রবণতা শুরু হয়েছে। এই রকম কিছু কিছু পোষ্ট ও সাম্প্রতিক কালে আমাদের অনেকেরই নজরে এসেছে। এ সমস্ত পোষ্টের বিষয়বস্তু খানিকটা অন্য ধাঁচের। এই সমস্ত পোষ্টের বক্তব্য ও কিছুটা প্রচ্ছন্ন হুমকির আদলে দেয়া। এদের পোষ্টের বক্তব্য গুলো মোটামুটি তাঁদের ভাষাতেই দেয়া যাক।
“বেশ কিছুদিন থেকেই আমি লক্ষ্য করছি আমার বন্ধু তালিকার অনেকেই আমার পোস্টে লাইক দেন না। এই রকম বন্ধু রাখার কোনো প্রয়োজন আমি দেখিনা। আজ থেকে আমি এই সমস্ত বন্ধুদের আনফ্রেন্ড করা শুরু করলাম। কেউ এই কারণে বাদ পড়ে গেলে আমি দুঃখিত।”
অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কোন কোন ক্ষেত্রে আগামী দিনের ফেসবুক হবে একটি সম্ভাব্য কুরু ক্ষেত্র আর পারস্পারিক সম্পর্ক নষ্ট করার ক্ষেত্রে এক সহায়ক উপাদান।
Md. Aowrangazeb Chowdhury.
মোঃ আওরঙ্গজেব চৌধুরী।
০৬ আগষ্ট ২০২১।




