মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কর্ণেল আলী জাফর জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কোনো এক অদ্ভুত কারণে আজ উনার মন ভার হয়ে আছে। সকাল সকাল উটকো এক ঝামেলা চেপে বসে আছে উনার উপর। ঘন্টাখানেক হলো বিছানার উপর একটি ডেড বডি নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।ঘুম থেকে উঠে,সকালের প্রথম চায়ের পানি বসাতে গিয়েছিলেন রান্নাঘরে।রুমে এসে দেখেন রক্তাক্ত এক গলা কাঁটা লাশ।
মধ্যবয়ষ্ক লোকটির চোখে ভারি মোটা ফ্রেমের চশমা।চশমার আড়ালে সিলিং ফ্যানের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে হলদে চোখটি। আলী জাফরের যেমন একদিকে মায়া লাগছে লোকটির উপর,অন্যদিকে কিছুটা ভয়ও পাচ্ছেন তিনি। ভয় লাগার ব্যাপারটা অযৌক্তিক নয়।মাত্র এক থেকে দেড় মিনিট সময় তিনি ছিলেন রান্নাঘরে। আর তাছাড়া ঘরে দরজাটাও পর্যন্ত ভেতর থেকে বন্ধ।এক রুমের ঘরটা হূলস্থুল করে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকলেন। বাথরুমের দরজার ছিটকিনি খুলে ভিতরে দেখলেন। দ্বিতীয় কোনো মানব আত্নার অস্তিত্ব খুজে পান নি।কিন্তু এটা কি করে সম্ভব?যুক্তির বাইরে চলার মানুষ আলী জাফর নয়। তবে কি আজ যুক্তির বেড়াজাল থেকে নিজেকে মুক্তি দিচ্ছেন তিনি?
আলী জাফরের মনে হচ্ছ, বিরক্তির শেষ সীমানায় পাড়ি দিবেন তিনি। উনার পৌঁড় হাতখানা গুজে দিলেন শার্টের বা পকেটে। সিগারেটের বাক্সের মধ্যে ছোট্ট একটি কাগজের টুকরো হা করে তাকিয়ে আছে। ভ্রু কুঞ্চিত করে সিগেরেটের মাথায় দেশলাইয়ের আগুন ছোয়ালেন।নাক দিয়ে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে কাগজের চিরকুটখানার ভাজ খুললেন। ছোট ছোট করে লেখা, কর্ণেল সাহেব, যুক্তিই কি সব কিছুর উর্ধ্বে?
বিদ্র: সেদিনের পর থেকে আলী জাফর দীর্ঘ ছয় মাস হাসপাতালের বেডে পড়ে ছিলেন। এখন আর তিনি সিগারেট খান না।
– সৌরভ আহমেদ
Send private message to author






