ভাইয়া থেকে আঙ্কেল

আমি দীর্ঘদিন থেকেই কানাডা প্রবাসী। জীবিকা নির্বাহের জন্য কিছু একটা করতে হয়। আমি মূলত ১০ বছর থেকে দোভাষীর
(ইন্টারপ্রেটার এন্ড ট্রান্সলেটর) কাজ করি। বিভিন্ন ফেডারেল, প্রভিন্সিয়াল ও অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে এই বিষয়ে আমাকে অনেক কাজ করতে হয়। কানাডার ফেডারেল সরকার কর্তৃক আমি একজন স্বীকৃতি প্রাপ্ত লাইসেন্সড ইন্টারপ্রেটার।

দোভাষীর কাজের পাশাপাশি আমি বাংলা থেকে ইংরেজী আর ইংরেজী থেকে বাংলা সব ধরনের দলিল দস্তাবেজ ও অনুবাদ করে থাকি। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন, সিটিজেন শীপ, কানাডায় রিফিউজি ক্লেইম, স্পনসর শীপ সংক্রান্ত কাগজপত্র, ক্রিমিনাল কোর্ট, পারিবারিক আদালত সহ অন্যান্য সব আদালত সংশ্লিষ্ট সব ধরনের দলিল দস্তাবেজ অনুবাদ করা ও আমার কাজের অন্তর্ভুক্ত।

কিছুদিন আগে একজন বাংলাদেশী ভদ্র মহিলা তাঁর মাকে স্পন্সর করা সংক্রান্ত কিছু কাগজ পত্র আমাকে বাংলা থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করতে দেন। এই সংক্রান্ত কাজের জন্য স্বামী স্ত্রী দুজনেই আমাকে বেশ কয়েক বার ফোন করে বলেন,

“ভাইয়া, কাজটি খুব জরুরী। দয়া করে একটু তাড়াতাড়ি করে দিলে খুব উপকৃত হব।”

মূল কাজটি করে দেয়ার পর ভদ্র মহিলা আবার তাঁর মায়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার মূল সার্টিফিকেটটি বাংলা থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করে দিতে আমাকে অনুরোধ করে ফোন দেন। তিনি বলেন,

ভাইয়া, আরেকটু কষ্ট করতে হবে। আমার মায়ের মাধ্যমিক সার্টিফিকেটটি দয়া করে অনুবাদ করে দেবেন ভাইয়া।

যথারীতি অনুবাদ শুরু করলাম। হঠাৎ চোখ গেল ভদ্র মহিলার মায়ের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের বছরের দিকে। মজার বিষয় হলো ভদ্র মহিলার মা আর আমি একই বছর সেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলাম। সেই হিসেবে প্রথাগত ভাবে আমি ভদ্র মহিলার “আঙ্কেল” হবার কথা। কিন্তু ইতিমধ্যেই আমি ভদ্র মহিলা আর তাঁর স্বামীর ভাই/ভাইয়া হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে গেছি।

মজার এ বিষয়টি ভদ্র মহিলাকে জানাবো কি জানাবো না সে বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। সব শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম কি দরকার আর এ বিষয়ে জানানোর? ভাইয়া আছি ভাইয়াই থাকি।‌ সেই ভালো। শুধু শুধু “আঙ্কেল” হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী করে কি লাভ?

কাজ চলতে থাকলো। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করেন আর ভাইয়া বলেই সম্বোধন করেন। বেশ কিছুদিন পর একদিন আমি ভদ্র মহিলাকে বলেই ফেললাম ঘটনাটি। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে গেল। ভাইয়া থেকে সাথে সাথেই আমি হয়ে গেলাম ভদ্র মহিলার আঙ্কেল। মায়ের সহপাঠী বলে কথা। এরপর থেকে প্রতিবারই ফোন করার সময় ভদ্র মহিলা আমাকে আংকেল বলেই সম্বোধন করতে লাগলেন। যাই হোক নিয়তির পরিহাস। মেনেই নিতে হলো পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ বিষয়টি ভদ্র মহিলা তাঁর স্বামীর সাথে‌ ও শেয়ার করেছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এরপর থেকে ভদ্র মহিলা যতবারই আমার সাথে কথা বলেছেন ততবারই আমাকে সম্বোধন করেছেন “আংকেল” বলে। কিন্তু ভদ্র মহিলার স্বামী বরাবরই আমাকে “ভাইয়া” বলেই সম্বোধন করে গেছেন।

যাই হোক এত তাড়াতাড়ি, মুহূর্তেই আর বিদ্যুৎ গতিতে ভাইয়া থেকে আঙ্কেল হওয়ার ঘটনা খুব বেশী বা আদৌ আছে কিনা আমার জানা নেই।

(একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত)।

Md. Aowrangazeb Chowdhury
মোঃ আওরঙ্গজেব চৌধুরী।
টরন্টো, কানাডা।
১৪ আগষ্ট ২০২১।

Send private message to author
What’s your Reaction?
1
1
0
0
0
0
0
Share:FacebookX
Avatar photo
Written by
Aowrangazeb Chowdhury
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!