জীবনের এক টুকরো ঘটনা

হাতে বাজারের ব‍্যাগ। মুখে রাগ আর ক্লান্তির চাপ। মনে হচ্ছে সব ছুড়ে ফেলে দেই। মনে হচ্ছে বাজারের কোনো কিছুই বাকি নেই যে আনা হয়নি।
একজনের জন‍্য এত বাজার……ওফরে…..কেমনে খাবে…….
এত ভালো ভালো খাবার। তাও আবার আমার প্রতিদ্বন্দ্বির জন‍্যে। মানে আমার বোনের জন‍্য…..
দেশে থাকতে ত খালি জ্বালাত। আমিও কম যাই নি। সমানে সমান।
চাচার সাথে লন্ডনে গেছিল বেড়াতে । আজ আসবে। ঐখানে পড়াশোনা করবে। পরে স্কুল ঠিক করে আবার যাবে। আর আমি দেশে। আমার কত ইচ্ছে। কিন্তু…..সে যাই হোক।

মা……ও মা…..ব‍্যাগ গুলা নিবে নাকি আমার হাত ছিড়বে।
আরে গাধা ব‍্যাগ নিচে রাখলে কি গায়েব হয়ে যাবে…
আমি ধপাস করে মেঝেতে রাখলাম।
মা বললেন…যা তাড়াতাড়ি রেডি হ….. এয়ারপোর্টে যাবি।
হুমমম যাচ্ছি…কিচ্ছু বললেই থাপ্পড় খেতে হবে। তাই রাগ থাকা সত্বেও বললাম না।

আমি ড্রাইভার চাচা কে নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। এয়ারপোর্টে কিছুক্ষণ দাড়ালাম পরে দেখি চাচা চাচির সাথে আমার বোনটা আসছে। যদিও আগে ঝগড়া ঝাটি করতাম তবুও ত বোন। আমরা ত আগে একঘণ্টাও আলাদা থাকতাম না। আর এখন দুই মাস পর দেখলাম। আমি দৌড়ে গেলাম। কিন্তু সে যেন আমাকে দেখেইনি। সে ছুটে গেল একটা মেয়ের দিকে। আমি তাকালাম। তাকাতেই দেখি…..পাশের বাড়ির আংকেলের মেয়ে। তাকে আমি……ভালোবাসি…। একতরফা না।

তারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরল। কিছুক্ষণ কথা বলল। পরে আংকেলের সাথে আর ঐ মেয়ের সাথে তাদের গাড়িতে গেল। আমার দিকে তাকালোই না।
আমার ত রাগে মাথা নষ্ট।
চাচা চাচি কে নিয়ে গাড়ি করে চলে আসলাম।
বাড়িতে এসে দেখি অলরেডি খেতে বসে গেছে। মনে মনে বললাম রাক্ষস একটা। আমার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে আবার খেতে লাগল।
কি বলব খুজে পেলাম না। নিরবে ঘরে গেলাম।
গিয়ে দেখি বড় একটা গিফট বক্স। মনটা ভরে গেল। ভাবলাম আমার বোনটা নিশ্চয় আমাকে চমকে দিতে চাইছিল। খুলতে লাগলাম। আরও একটা বক্স বেরিয়ে এল। আবার খুলতে লাগলাম। আরও একটা। এভাবে প্রায় আটটা বক্স খুলে ছোট একটা বক্স বের হলো। মাথা তখন প্রায় গরম। পরে ভাবলাম হয়ত অনেক দামি হবে। হয়ত সোনার রিং হবে তার ভাবিকে দেবার জন‍্য দিছে।

কিন্তু……বাড়া ভাতে যেন ছাই ঢেলে দিল।
একটা মাত্র চকলেট। তাও কমদামি…..
মনে যেন রাগের তুফান বয়ে গেল।

রাগটা আরও বেড়ে গেল যখন দেখি দরজায় দাড়িয়ে হাসছে। চোখে যেন আগুন জ্বলছে আমার। কিন্তু যখন দেখি সেও হাসছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি তাকাতেই হাসি বন্ধ করে দিল। তবে আমার বোন মিম হাসতেই থাকল। আমি চকলেট টা ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সামনে দিয়ে ছাদে চলে গেলাম।
পিছনে হাসি বন্ধ হয়ে গেল।

একটু পরেই পিছন থেকে কারো আসার শব্দ পেলাম। ঘুরে দাড়িয়ে দেখি সে….
মুখ ফিরিয়ে নিলাম।
সে পাশে এসে বলল….সরি…মিম একটু মজাই ত করছে। বোন কি মজা করতে পারে না? আর আমি ভাবি নি তুমি কষ্ট পাবে। সরি….
আচ্ছা যাও….
কই যাব। তুমি ও যাবে আমাদের সাথে।
কোথায়?
ঘুরতে…..
আরে কোন জায়গায়?
ঐযে নীল বাড়ি…..টাতে।
কেন ঐখানে কি?
পিকনিক করব। সাথে আমার আব্বাও যাবেন।
সত্যিই…তাহলে ত ভালোই গল্প করে মজা করে খাওয়া যাবে। কিন্তু আজ নাকি?
না কাল সকালে। তাই এখন বাজার করতে হবে। আর তুমি বাজার করে আনবে।
মিম এসে দাড়াল। বলল…হুমম আকাশের মেঘ কেমনে যে চলে গেল। এখন দেখি কি পরিষ্কার। বলে হাসতে লাগল। আমি ঠোটের কোনো হাসি নিয়ে তাকালাম। সে লজ্জা পেল।

রাতে একসাথে সবাই খাওয়া আর লুডু গল্প ঝগড়া করে একটা পর্যন্ত সজাগ থাকলাম।

ফজরের সময় উঠে নামাজ পড়েই পিকনিকের জন‍্য রেডি করতে লাগলাম সব।
প্রথমে ত ভাবছিলাম আমরা কয়েকজন পরে দেখি বারো জন। কি আর করা।
ঐ নীল বাড়ি আসলে একটা পুরনো বাড়ি। অনেক পুরনো। এখন যে মালিক বাড়িটাকে নতুন করে সাজিয়েছে। বিশাল বাগান আছে। পুকুর আছে। অনেক ভালো লাগে। এখানে অনেকেই ছুটির সময় এসে মাসখানেক থাকে। আবার কেউ অনুষ্ঠান করে। এভাবেই অনেক টাকা পায় মালিক। ত আমরাও একদিনের জন্য ভাড়া নিলাম। ভাগ্য ভালো আর কেউ নেই বর্তমানে বাড়িতে।
ইচ্ছে মত উপভোগ করতে পারব।
সবাই রেডি হয়ে বেরোতে দশটা বেজে গেল। পৌছালাম আধ ঘন্টায়। মেইন সড়ক থেকে অনেকখানি ভিতরে। রাস্তায় সুপারি গাছ সারি করে। গেইটের দারোয়ান এগিয়ে আসল। সব কিছু ভিতরে নিলাম। মিম আর ও সবচেয়ে সুন্দর একটা রুম বেছে নিল। খাবার বাইরে থেকে আনা হয়েছে। দুপুরে আরো আসবে। ছোটরা বাগানে খেলছে। আংকেল আর আমার হবু শ্বশুর গল্প করছেন।
মিম কে দেখলাম না।
ও কে দেখি ফুল বাগানে দাড়িয়ে। কাছে গেলাম। কথা বলতেছিলাম। এই সময় মিম এসে হাজির। তাকে সঙ্গে নিয়ে গেল। আর আমার দিকে চেয়ে ভেংচি কাটল। আমি শুধু চোখ লাল করে চেয়ে থাকলাম।
রাতে সবাই খেতে বসল। আমি পরে খাব বলে রুমে এসে বই পড়ছি গল্পের।
মিম এসে বলল, কি রে ভাইয়া কখন খাবি? খুব খুদা লাগছ ত।
তো তুই খা গিয়ে।
না। তর সাথে খাব।
আরো পরে খাব। পারলে ওয়েট কর।
ইসরে….আর দশ মিনিট দিলাম টাইম। বলে চলে গেল।

এগারোটার দিকে খেতে গেলাম। অন‍্যরা টিভি দেখছে রুমে বসে।
আমাদের আশেপাশে কেউ নেই। আমি মিম আর ও।
মিমের মুখটা কেমন জানি লাগল। বললাম কি হইছে রে। বলল.. খাওয়া শেষ করি বলব। অনেক জরুরি কথা। আমি অনেকটা অবাক হলাম।
খাওয়া শেষে তিনজন ঘরে গিয়ে বসলাম। আর মিম বলতে থাকল….ঐ যে দুপুরে ভাবিকে নিয়ে গেলাম। তখন একটা জিনিস দেখাতে নিয়ে গেলাম। তোকে বললে যদি না করিস তাই বলি নি। স্টোর রুমের এক কোনে গোপন দরজা আছে। দেয়ালের মত দেখতে। ভালো করে দেখলে বুঝা যায়। একটু কৌতূহল হলো। পুরোনো বাড়ি যদি ঐতিহাসিক কিছু থাকে। কিন্তু এখানে যেতেই কিসের যেন শব্দ হলো। গোঙ্গানির মত। আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। তাই…
মিম থামার পর ও বলল… এখন আবার যাব ঐখানে।
কেন? এখন আবার কেন?
কিরে ছেলে হয়ে ভয় পাচ্ছিস নাকি। বলে হাসতে লাগল।
আমি পাত্তা না দিয়ে ও কে জিঙ্গেস করলাম…বলল…গিয়ে দেখবে।
রাত বারোটা। যেতে যেতে বাচাল বোনটা বলল…..আমি আর ভাবি একটা ফোকর দিয়ে দেখেছিলাম জিনিসটা। দেখে ত মাথা পুরোটাই গেল।
কি দেখলি….
তুই দেখ….বলতে পারব না।
গোপন কোটরিতে ঢুকে ঐ ফোকরের দিকে চাইলাম। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। এ ত আলীবাবার কাহিনীর ধন। এত স্বর্ণ চকচক করছে।
বললাম….গুপ্তধন নাকি।
চল ভাই আগে গিয়ে দেখি। সকালে মালিক কে বলব।
ও বলল…কোনো বিপদ যদি হয়? আমার ভীষণ ভয় হচ্ছে।
আরে দূর ভাবি। ভাই আছে না। বলে হাসতে লাগল।
দেখ মিম সবসময় মজা না।
ওহ…সরি ভাবি। চলো ত এখন।
তিনজন দরজা ঠেলে খুললাম।
একটু সামনে এগুলাম।
পিছন থেকে হঠাৎ দরজা বন্ধ হয়ে গেল। দৌড়ে এসে দরজা খুলার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না। হঠাৎ করেই ধোয়া ধোয়া লাগল। মাথা ঝিমঝিম করছে। চোখে যেন রাজ‍্যির ঘুম। পরে কিচ্ছু মনে নেই।

চোখ ঢলতে ঢলতে উঠি….একি আমি কোথায়?
হার্টবিট বেড়ে গেল।চারিদিকে সাদা রঙের দেয়াল।
হঠাৎ…..এককোণে চোখ যেতেই আমি চমকে উঠি। মনে হলো হৃদয়টা কেউ উপড়ে ফেলল….
ও আর আমার বোনটার নিথর দেহটা পড়ে আছে। রক্ত শূন‍্য ফ‍্যাকাসে মুখ গুলো দেখে নড়তে পারছিলাম না। মনটা যেন পাথর হয়ে গেছে। কোন আওয়াজ আসছে না গলা দিয়ে।
কিন্তু কি করে হলো….কিভাবে?

উঠে দাড়াই….ওদের পাশে যাই। বোনের হাত ধরতেই চমকে উঠি….শরীর ঠান্ডা হবার কথা….কিন্তু উষ্ণ। রক্ত চলাচল করছে। ও র গায়ে হাত দিয়ে দেখি।
কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।
নাকি এ আমার হ‍্যালুসুলেশন।
চারদিকে চোখ বুলাই। যে যে জায়গায় গুপ্তধনের সিন্দুক দেখেছিলাম সেখানে হালকা কালচে ছায়া।
এগিয়ে গেলাম। কিন্তু ডানদিক থেকে একটা তীর উড়ে এলো। আমি পিছিয়ে যাই। অল্পের জন্য লাগে নি। বুঝে গেলাম আরো ফাদ রয়েছে। নিজের জুতোটা ছুড়ে দিলাম সিন্দুকের দিকে মুহূর্তেই দুটো তীর এসে জুতোতে বিদল।
ঠিক সেই সময় মেঝেতে পায়ের চাপ যেন আলোর মত জ্বলে নিভে গেল। বুঝে গেলাম পায়ের চিহ্নিত স্থানে পা রেখে এগুতে হবে। আবার জুতো ছুড়ে দিলাম তীর বের হতেই যে যে স্থানে চাপ রয়েছে মনে মার্ক করে নিলাম। হাটতে থাকলাম। পৌছে গেলাম। সিন্দুক খুলতেই এক ঝলক আলো যেন বিস্ফোরণ হলো। চোখ খুলে দেখি আগের মত সব। কোনো সাদা দেয়াল নেই। মেঝেটাও আগের মত। মিম আর ও নড়ছে। উঠে দাড়াল তারা। আমি তাদের দেখে এগিয়ে যেতে লাগলাম। হঠাৎ পায়ের নিচে কি যেন চাপ পড়ল….একটা পাথর এসে মাথায় লাগল।

ঝিম করে উঠল। কোনো শব্দ শুনতে পারছি না। ও আর মিম আমার দিকে দৌড়ে আসছে।
মিম পাশে আসল। কিন্তু ও কই…
দেখি শুধু হাত দুটো মেঝে ধরে রেখেছে। মানে সে গর্তে ঝুলে রয়েছে। আমার হুশ যেন ফিরল। আমি ব‍্যাথা ভুলে গিয়ে ছুটে গেলাম। ওর হাত দুটো ধরলাম। নিচে চেয়ে দেখি কয়েকটি মানুষের হাড়। ওকে টেনে উঠালাম। ও হাত ছিলে গেছে রক্ত বেরোচ্ছে। ও সেটা না দেখে আমার মাথায় যেখানে রক্ত বেরোচ্ছে সেখানে ওড়না দিয়ে বেধে দিল। চোখে জল।
মিম এসে ওকে ধরল। আমিও উঠে দাড়ালাম। বললাম, সাবধানে থেক সবাই। দরজা পর্যন্ত যেতে আরো বিপদ হতে পারে।
কিন্তু নিরাপদে এলাম।

ঘরে এলাম। ও র মুখ ফ‍্যাকাশে। মিম কাদছে। বলছে, সব দোষ আমার আমি না নিয়ে গেলে এত বিপদ হত না।
আরে চুপ কর ত। দোষ সবারই।
আমরা কি জানতাম এমন হবে।
মিম ফাস্টএইড নিয়ে এনে আমার মাথায় আর ওর হাতে বেন্ডেজ করে দিল।

সকালে উঠে সবাইকে বললাম। শুনে ত বকাঝকা না করলেও অনেক কথা শুনতে হলো। মালিক কে ফোন দেয়া হলো। মালিক সব শুনে ত অবাক। বলল, এটা আমার পূর্ব পুরুষদের গোপন সম্পদ। আমি শুনে ছিলাম কোথাও লুকিয়ে রেখেছে কিন্তু কোন জায়গায় জানতাম না।
তুমরা অনেক বেশি ঝুকি নিয়েছ। এই সম্পদের বেশিরভাগ দান করে দিব মসজিদ এতিমখানা আর সেবা সংগঠনকে। মিউজিয়ামের কাছে বাকিটা বিক্রি করব। অনেক পুরোনো ত।
আমি একটা থলে বের করলাম। রাতে বের হয়ে মনে ছিল না এটার কথা।
খুলে দেখলাম দুটো হার, আংটি রয়েছে। মালিকের হাতে দিলাম। উনি নিয়ে দেখলেন। বললেন, অনেক পুরোনো। আমার হাতে ফিরিয়ে দিলেন বললেন, নাও এগুলো ত তুমাদের প্রাপ‍্য।
আমি অবাক হয়ে বললাম না আংকেল এটা আপনি রাখেন।
না বাবা। এটা তুমাদের। তুমরা রাখ। বলে হাসলেন। মাথার বেন্ডেজ দেখলেন। আংকেল কে বিপদের কথা বললাম। বললেন..তুমরাই ত সব বিপদ বলয় কে নষ্ট করল। আর হবে না। এবার শুধু ডাকাতি না হলেই হলো। আজই ব‍্যবস্থা করতে হবে।

আমি ব‍্যাগটা রেখে দিলাম। সবাই কে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। ভয়ে আছি মায়ের বকাটা আমার উপর দিয়ে যাবে।
ঠিক তাই-ই হলো। তবে সেখানে অনেক ভালোবাসা ছিল। মা আসলে অনেক ভয় পেয়েছেন শুনে।

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে। ব‍্যাগটা বের করলাম। ড্রয়ারে ছিল এতোক্ষণ। বের করে আংটি টা রেখে দিলাম। খুব সুন্দর ওটা। ভাবলাম ওকে পড়িয়ে দিব। হার দুটো দুজনকে দিব।
মিম কে ডাক দিয়ে হারটা দিলাম। বলল, অন‍্য গুলা কই? ও বুঝেছি ভাবির জন‍্য…বলে হাসতে থাকল।
বললাম দিব…তাতে অসুবিধা কি?
না আমার কি অসুবিধা। ভাবি খুব খুশি হবে। তুই কালকেই আংটিটা পড়াবি। আচ্ছা আমি পরশুদিন চলে যাব। যাবার আগে দেখে যাব।
আলহামদুলিল্লাহ্…
মানে…?
মানে তুই চলে যাবি তাই বললাম আলহামদুলিল্লাহ্।
মিম কছু বলল না। ছোট্র হাসি দিয়ে চলে যেতে লাগল। কেন জানিনা আমার মনটা কেমন করে উঠল।

সকালে উঠে ভাবতে থাকলাম কিভাবে পড়াব আংটিটা। নাহ….মিমের হেল্প লাগবে। ও ছাড়া পারব না।
বললাম গিয়ে। এককথায় রাজি।
বিকেলে মিম ওকে নিয়ে আসল। কিন্তু কিছু বলল না তাকে। শুধু বলল ছোট্ট একটা পার্টি তিনজনের। ছাদে ছোটদের আসতে মানা করল। আসলে ঠ‍্যাং ভাঙার হুমকি দিল।
সুন্দর করে সাজালো। আমি সবকিছু কিনে আনলাম। খাবার যা লাগে। আর তিনজনই সুন্দর করে রেডি হলাম। বিশেষ পার্টি তাই সে ও সাজল। আর কিছু আপাতত জানে না।

বসে তিনজনে গল্প করতে লাগলাম। ছবি তুললাম। মিম এসব নিয়ে যাবে। স্মৃতি হিসেবে। পরে খেলাম। মিম বলল….ভাইয়া এবার….
আমি বুঝলাম। ও আমাদের দিকে থাকাল। বলল কি এবার?
আমি উঠে দাড়ালাম। ওর চেয়ারের পাশে এসে আংটি টা বের করে ওর সামনে আনলাম।
মিম ওকে বলল..ভাবি প্লিজ যাবার আগে তুমাদের এই শুভ কাজটা দেখতে চাই। প্লিজ ভাবি।
সে আমার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল। আমি হাতে আংটিটা পড়িয়ে দিলাম। সে খুব লজ্জা পেল। মাথা নিচু করে ফেলল।

রাতে সবাই বসে রয়েছি মিম কে ঘিরে। কাল দুপুরে চলে যাবে। তার মন খারাপ যদিও কাউকে কিছু বলছে না। আমার দিকে বারবার তাকাচ্ছে। সবকিছু গোছগাছ শেষ। ঘুমানোর আগে তার রুমে যাবার আগে বলল…ওই ভাইয়া তোকে অনেক জালিয়েছি না রে…আর ত জ্বালাতে পারব না। আবার যখন আসব তখন বেশি করে জ্বালাব। দুজনেই হাসলাম। বোনটার চোখে জল চলে এলো। তাড়াতাড়ি চলে গেল।

দুপুরে এয়ারপোর্ট গেলাম। আমি মিম আর ও। এক গাড়িতে। কারো মুখে কথা নেই।
মিমই মুখ খুললো…
দেখ ভাই আমার ভাবিকে একদম কষ্ট দিবি না। আর ভাবি তুমি ভাইয়ার খেয়াল রাইখ। বুঝেছ?
হুমম বুঝেছি…আবার যখন আসবে তখন তুমার জন্য পাত্র ঠিক করে দিব।
ইসরে…আমার জন‍্য খুজা লাগবে না। আমি নিজেই খুজব।

এয়ারপোর্ট এসে তেমন কথা হলো না। চাচা চাচি আর মিম চলে যেতে লাগল। সবাই গাড়িতে উঠে বাড়ির দিকে চলে আসতে লাগল। আমি দাড়িয়ে রইলাম। সবাই ভাবল হয়ত মন খারাপ তাই। এজন্য সবাই আমাদের গাড়ি রেখে চলে আসল। ড্রাইভার আংকেল অপেক্ষা করতেছেন। ও পাশে এসে দাড়াল। বলল…. কাজ হবে ত?

একটু পরেই মিম দৌড়ে আসতে লাগল…..পিছনে চাচা চাচি দাড়িয়ে।
কাছে এসে হাপিয়ে হাপিয়ে বলতে লাগল….আমার পাসপোর্ট কি করেছিস?
ও আর আমি পরস্পরের দিকে তাকালাম। বললাম..আমাকে রেখে একা যাবি আরাম করে পড়তে… হিংসা হলো…তাই..
বলে হাসতে লাগলাম।
আমার লক্ষী ভাইয়ারে….thank u..thank u….

আচ্ছা plan টা কার ছিল।
ও বলল…আমরা দুজন করেছি…
আমার ভাবিটারে…বলে মিম ওকে জড়িয়ে ধরল।
আমাকে বলল.. দেখ ভাইয়া এবার থেকে সাবধান। খুব জ্বালাব। আংকেল আন্টি সব শুনে হাসলেন। তারপর চলে গেলেন।

তিনজন রাতে ছাদে উঠলাম। পূর্ণিমার চাদঁ উঠেছে। নিজের একটা কবিতা বলতে লাগলাম….

কালো চাদরে উঠেছে শশী…
বল তুমি কোন রূপসি,
কেড়েছ আমার মন….
থাকব পাশে আজীবন তুমার করলাম আজি পণ।
তুমার হাতে রেখে হাত
হাটব মোরা একিই সাথ…
তারা ভরা আকাশে
ভালোবাসার আয়েশে….
মন হৃদয়ে তুমি হয়েছে আসিন…
তুমার রূপে আজ রাতের ঐ চাদঁ হয়েছে মলিন।

আরে বাহ….ভাইয়া তুই ত কবি রে।
চল চেয়ারে বসি চা খাই।
ও চা ঢালতে লাগল। মিম কে দিল।
আমার দিকে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিয়ে মুচকি একটা হাসি দিল। মনে হলো পূর্ণিমার আলো ছড়িয়ে পড়ল।
মিম আমাদের দেখে হাসতে লাগল…..

Writer : Saiful Islam Robin

Send private message to author
What’s your Reaction?
0
3
0
0
0
0
0
Share:FacebookX
Avatar photo
Written by
Saiful Islam Robin
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!