স্কুল থেকে ফিরলেই চারু আব্বার কাছে পড়তে আসত। আব্বা ক্লাস টেনের অংক করাতেন। চারু ছিল টেনে আর আমি? আমি পড়তাম ক্লাস সেভেনে! সপ্তাহে চারদিন বিকেল ৪ঃ৩০ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত আমার হার্ট বিট থেমে থাকতো! দুই বেনী করে বেশ পরিপাটি আপুটা ধুর মেয়েটাকে দেখতে আমার কেন জানি ভালোই লাগতো!
আমাদের দু’গলি পরেই ওদের বাসা ছিল। একদিন সন্ধ্যার পর চারুর আব্বা চারুকে নিয়ে হাজির আমাদের বাসায়। মেয়ে অংকে বড়ই কাচা। তাই আব্বা যেন একটু দেখিয়ে দেন। চারুর আব্বাকে আমরা চিনতাম। প্রতিদিন স্কুল যাওয়ার সময় উনিও আমাদের সাথে রিকশা খুজতেন। সেভাবেই পরিচয়। আব্বার সাথেও চাচার ব্যক্তিত্বে এবং ব্যবহারে মিল ছিল। তাই আস্থার সাথে মেয়েকে পড়তে দিয়েছিলেকন আব্বার কাছে।
চারু এসে বসে থাকতো আমাদের ড্রইংরুমের কর্নারের সোফাটায়। আমি পর্দার আড়াল দিয়ে প্রথম প্রথম উকি দিয়ে দেখতাম। ইশ কি অবস্থা ছিল সেই রুমটার। ড্রইংরুমের বেডে তখনো সকালের সবুজ মশারিটা পরে ছিল। আমি আর আমার ভাই সেই বেডেই ঘুমাতাম। সেদিন মশারী খোলা ও গোছানোর দায়িত্ব ছিল আমার, ছোট ভাইটাকে এত করে বলেছিলাম গুছিয়ে রাখতে, শুনলোই না। সোফার উপরে আমার স্কুল থেকে আসার পর খুলে রাখা ইউনিফর্মটা! ছোটটা কিন্তু ঠিকই নিজের ইউনিফর্মটা বারান্দায় হ্যাংগারে সুন্দর করে ঝুলিয়ে রেখেছে, বড় ভাইয়ের প্রতি মিনিমাম কোন রেস্পেক্ট নেই! আর ড্রইংরুমের গোলাপি রংয়ের দেওয়াল জুড়ে আমার পেন্সিল, কলম দিয়ে আকানো কিছু মূল্যবান চিত্রকর্ম! আমি লজ্জায় মারা যেতাম! মেয়েটা কি ভাববে! ছোটভাইকে জোরে জোরে বকা দিতাম রুমটা একটু গুছিয়ে রাখতে পারিস না?! আমার ছোটভাই আমার ১ বছরের ছোট হলেও আমার মত ছিল না। স্বভাবসুলভ শান্তপ্রকৃতির। আমি একটু ভাব নিয়ে ড্রইংরুমে যেয়ে খুব বিরক্তি নিয়ে এটা সেটা গোছাতাম ভাবখানা এমন এসবের দায়ভার আমার নয়!
- “তোমার নাম কি? ‘
আমার মাথায় আকাশ ফেটে পড়লো! বয়েজ স্কুলে পড়তাম, জীবনে কোনদিন কোন মেয়ের সাথে কথা বলিনি কিংবা কোন মেয়ে আমার সাথে কথা বলেনি, আজ এই মেয়েতো ডাইরেক্ট একশনে গেছে!
” ইব্রাহিম!”
-“আচ্ছা! স্যার কি বাসায়? “
-” আব্বা খাচ্ছেন। একটু আগে স্কুল থেকে ফিরেছেন”
” ওহ আচ্ছা ঠিক আছে। “
এটাই ছিল প্রথম কথোপকথন।
তারপর থেকে আমাকে আর কিছু গোছানোর বাহানা করে ড্রইংরুমে যেতে হতোনা, এমনি এমনি যেয়ে চারুর সামনে বসে থাকতাম! আর আমার ছোটভাই লজ্জায় সামনেই আসতো না।
আব্বা পড়াতে বসলে আমি প্রায়ই উঁকিঝুকি মারতাম। মেয়েটা কেমন অংক পারে সেটাও দেখার বিষয়! আব্বা আসরের নামায পড়তে ভিতরে গেলেই আমি চারুর সাথে দুএকটা বাক্য বিনিময় করতাম।
“আচ্ছা আপনি নামায পড়েন না?”
” হ্যাঁ পড়ি তো!’
“কই আব্বা প্রতিদিন আসরের নামায পড়তে যান, আপনি তো একদিন ও পড়েন না? “
চারু কিছুই বলতো না। শুধু হাসতো।
আমি কি বলবো, কি বলবো ভেবে পেতাম না, কি বলে কথা আরো আগানো যায়! জ্ঞানীর মতো জিজ্ঞেস করেছি
” আপনার বয়স কতো?”
চারু লক্ষী মেয়ের মতো উত্তর দিয়েছিল
‘পনেরো’
আমি উত্তর পেয়ে গুরুগম্ভীরভাবে হিসেব-নিকেশ করে হাসিমুখে আশ্বস্ত করেছিলাম
“ও! বেশি না! আমাদের বয়সের ব্যবধান মাত্র ৩ বছরের!”
আব্বা আবার পড়াতে আসলে আমি যে তাড়াতাড়ি ভয়ে বা লজ্জায় ওখান থেকে সরে আসবো তাও না। গায়ে বাতাস লাগিয়ে রান্নাঘরে যেতাম আম্মা আজ চারুকে কি নাশতা দিবে দেখার জন্য। আম্মা চারুকে খুব পছন্দ করতেন। প্রতিদিনই কিছু না কিছু খেতে দিতেন। নাশতা নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল আমার। প্রথম প্রথম চাও দেওয়া হতো, কিন্তু চারু খেত না। একদিন আম্মা জিজ্ঞেস করলেন
‘ চা ভাল হয়নি?’
‘আমি চা খাইনা’
‘ ও আচ্ছা!’
চারু চা খায়না। এটা নিয়ে ওর সাথে গল্পের একটা টপিক বানিয়ে ফেললাম।
‘আপনি চা খান না কেন? ‘
‘ এমনি ‘
বেশ বড় বড় ভাব নিয়ে বলেছিলাম
“আমার তো চা ছাড়া চলেই না!’
চারু হাসে।
আরো বললাম
” চা না খেলে আমিতো অংকই করতে পারিনা। চা খেলে আমার মাথা খোলে”
চারু আবারো হাসে।
“আপনাদের মেট্টিক পরীক্ষা কবে? “
” এইতো মনে হয় ফেব্রুয়ারিতে “
” আপনার সিলেবাস শেষ? “
” না। অনেক বাকী”
“চিন্তা করবেন না আব্বা শেষ করে দিবেন”
চারু আমার কথা শুনে খুশি হয়।
“আচ্ছা, তোমার ছোট ভাই অনেক লাজুক, তাই না?’
চারুর কাছে ছোট ভাইয়ের কথা শুনে ভাল লাগলো না।
‘না না! কিসের লাজুক! এমন দুষ্টুর দুষ্টু!”
” ও তাই! দেখে মনে হয়না। “
“হম…”
সেদিন আর জমলো না। ছোট ভাই আসলেই অনেক লাজুক, মুখচোরা। কিন্তু চারুর কাছে শুনতে আমার গা জ্বলে যাচ্ছিল।
সবাই বলতো আমার বয়সের তুলনায় আমি বেশি বুঝি, শুধুমাত্র ভাল ছাত্র ছিলাম বলে আর কেউ আগ বাড়িয়ে কিছু বলার সাহস পেতোনা।
ক্লাসের বইয়ের বাইরে মোটা মোটা বইয়ের উপন্যাস পড়া, আমার প্রিয় কাজ ছিল। এমনকি বড়দেরও উপন্যাস পড়ে ফেলেছিলাম।
আমার ছোট চাচা আমাদের বাসায় থাকতেন। চাচা নতুন বই আনলেই আগে আমার পড়া চাই সেটা লুকিয়ে হলেও। চাচার টেবিলে একটা বিরাট বিসিএস গাইড বইও ছিল, অবসরে আর কিছু না পেলে জেনারেল নলেজের বইটাই সংগী হতো। আব্বার মতো চাচা এত ধার্মিক ছিলেন না। অনেক গল্প উপন্যাস সায়েন্স ফিকশনে তার টেবিল ভরপুর ছিল। আব্বা কিছু বলতেন না কিন্তু এটা নিয়ে আম্মা প্রায়ই চাচার সাথে গ্যাঞ্জাম করতেন। তোমার জন্য আমার ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাবে! চাচা আবার মাঝে মাঝে ইংলিশ সিনেমাও দেখতেন। কিন্তু সেটা আমরা ঘুমিয়ে পরলে। যাইহোক, সেদিন চারু আসার আগে ছোট চাচার টেবিল থেকে একটা বই নিয়ে ড্রইংরুমে বসে পড়া শুরু করলাম।
বইয়ের নাম ‘ নীল ভালোবাসা’। কলিং বেল বাজলো। অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে দরজা খুললাম। দেখি চারু আর চারুর বাবা! চারু অঝোরে কেদেই যাচ্ছে। বুকটা আমার মোচর দিয়ে উঠলো, কি হলো, কি হলো!
‘কি বাবা? তোমার বাবা বাসায়? ‘
‘আসসালামু আলাইকুম চাচা। জ্বি আব্বা বাসায়।আসেন।
চারুর আব্বা বসলেও চারু আর বসেনা। নিঃশব্দে চোখের পানি মুছেই যাচ্ছে।
আব্বা, চাচার কথা শুনে, না খেয়েই ড্রইংরুমে তাড়াহুড়ো করে এলেন। তখন আমি ‘নীল ভালোবাসা ‘ লুকাতে ব্যস্ত।
আব্বা আর চারুর আব্বার সাথে আমিও খুব সিরিয়াস মুডে বসে আছি। মেয়েটার কি হলো সেটা জানার অধিকার আমারও আছে! সমস্যা উদঘাটিত হলো। চারুর দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার নাম্বার দিয়েছে। গণিতে ৪৭ পেয়েছে! সেটা নিয়ে এত তুলকালাম! আমি ভাবলাম কি না কি! কিন্তু আমি যেখানে গণিতে ১০০ তে ১০০ পাওয়া ছাত্র সেখানে চারুর ৪৭ পাওয়া! আমারই মেনে নিতে কষ্ট হলো, আমার ‘নীল ভালোবাসা ‘ ততক্ষণে ‘নীল বেদনা’য় রূপান্তরিত হল!
পরেরদিন চারু পড়তে আসলো। আগের দিনের কান্নার চোখগুলো এখনো গোল্লা গোল্লা হয়ে আছে। আব্বা তখনো বাসায় ফেরেননি। গেলাম ভাবলাম তার দুঃখে আমি যে তার থেকে আরো বেশি দুঃখিত একটু শেয়ার করে আসি। আম্মা সুযোগ দিলেন না। চারুর সাথে গল্প করেই যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরো ভাল নাম্বার পাবে,এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই আরো কত কি – এই বলে আম্মা নাশতা আনতে রান্নাঘরে গেলেন। আমি সামনের সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসলাম।
আমার প্রশ্ন –
‘আপনি বোরকা পরেন না কেন? “
আমার প্রশ্ন শুনে চারু চমকে উঠলো! কিসের মধ্যে কি! চারু কোন উত্তর দেয়নি। থাক মেয়েটার এমনিতেই মন খারাপ! এই প্রশ্নটা এই জন্যই করেছিলাম আমার পারিবারিক ইতিহাসে সবাই বোরকা পরে। কোন মহিলাকে এই পর্যন্ত দেখিনি বোরকা ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে। সেখানে চারু বোরকা পড়লে ভাল হতো আর কি!
থাক, না পরুক! আমি অপেক্ষা না করে পরের প্রশ্ন করলাম
” আচ্ছা, আপনি লাভ ম্যারেজ করবেন, নাকি এরেঞ্জ ম্যারেজ?”
এবার কিন্তু মেয়েটা একটু নড়েচড়ে বসলো! আমার মনে হলো, চারু নামের মেয়েটা এইমুহূর্তে নিশ্চিন্তে, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে এত ভালো মানুষের ঘরে এত পুংটা পোলা হইলো কেম্নে!
এর মধ্যে আব্বা বাসায় চলে এসেছেন..আমারআর শোনা হলো না গুরুত্বপূর্ণ উত্তরটি!
কয়দিন ভীষণ মাথা ব্যাথা হল।আব্বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।ডাক্তার কিছু ওষুধ আর সাথে চশমা দিলেন।চশমা পাওয়াতে মনে হলো জীবনের একটা স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে!আমার ছোট চাচা আগে থেকেই চশমা পড়তেন। চাচা খুব পড়ুয়া, চশমা পড়লে কেমন একটা জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব আসে। চাচার চশমা পড়া দেখে আমিও আল্লাহর কাছে দোয়া করা শুরু করেছি, যাক আল্লাহ দোয়া কবুল করেছেন।অগোছালো ড্রইংরুমে নতুন চশমা পড়ে বসে আছি, একটুপর চারু পড়তে আসবে, আমাকে দেখবে চশমা পড়া ভাবতেই কেমন শিহরিত বোধ করছিলাম!
চারু আমাকে দেখে তেমন একটা আগ্রহ দেখালো না। ভাবখানা এমন কিছুই হয়নি! আব্বা চলে এলেন পড়াতে আর কিছু বলতে পারলাম না। আজকে তেমন ভাল নাশতা নেই। আম্মাকে বললাম আমার চশমা নেওয়া উপলক্ষে তো অন্তত ভাল কিছু বানাতে পারতে! নতুন চশমা চোখে,খালি বিস্কুট আর চানাচুর নিয়ে আমি কিভাবে যাই!? আম্মা আমার হাত থেকে ট্রে টা ধুম করে নিয়ে বললো, যাহ! তোর বাপকে বল গরু জবাই করতে!
দেখতে দেখতে ঈদ চলে আসলো। ঈদ আমরা গ্রামের বাড়িতে করি। ঈদ উপলক্ষে ৭ দিন পড়া বন্ধ। চারু আমার জন্য আর আমার ভায়ের জন্য ঈদ কার্ড বানিয়ে এনেছে! কি সুন্দর সেই কার্ড! মনে মনে ভাবলাম নিলাম আমিও চারুকে ঈদ কার্ড দিবো। কিন্তু এত সুন্দর কার্ড আমার পক্ষে বানানো অসম্ভব! যেহেতু বাসা থেকে আমাদের একা বের হওয়া নিষেধ, তাই ক্লাসে আমার থেকেও পাকনা বন্ধু আনিসকে দায়িত্ব দিলাম কার্ড কিনতে। শর্ত হলো একটাই, কার্ডের উপর অবশ্যই ফুল থাকতে হবে।
বন্ধু আনিস অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চমৎকার একটা কার্ড কিনে এনেছে। সেই খামটা একটু পর পর খুলে আমি কার্ডটা বের করে দেখি। যতই ছবিটা দেখি আমার ঈদ আনন্দ বেড়ে যায়। চারু এসেছে। আজকে ঈদের আগে শেষ পড়া। আব্বা নামায পড়তে ভিতরে গেলে আমি হাসি হাসি মুখ নিয়ে চারুর কাছে আসি। ঈদ মোবারক বলে কার্ডটি এগিয়ে দেই। চারু থ্যাংকু বলতে বলতে কার্ডটা খোলে। সেদিন আমি প্রথম চারুর অট্টহাসি দেখেছিলাম! নিজেকে ধণ্য মনে হচ্ছিলো! চারুর হাসি থামেইনা! আমিও বোকার মত হাসতে থাকি! কি ব্যাপার এক কার্ডেই এত খুশি মেয়ের!
চারু হাসতে হাসতে আমার দিকে তাকিয়ে বলে “সত্যি তাই?”
আমিও সলজ্জ ক্যাবলার মত উত্তর দিলাম “জ্বি তাই!’
” ঠিক আছে জামাই বাবা!”
আমি বললাম
‘বুঝিনি’
চারু কার্ডটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো
“এই যে এখানে লেখা আছে—-“
কার্ড উল্টিয়ে ভিতরের পেইজে দেখি কম্পিউটারে বড় বড় করে টাইপ করা–
“Many many happy returns of the day, Happy Birthday dear Mother in law!
You are the best mother in law in the world!”
কার্ডের উপর শুধু একটা ফুলের ছবি দেখেই এত গদগদ হয়ে গিয়েছিলাম যে ভিতরে কি লেখা আছে পড়াই হয়নি! আমি না হয় কানা কিন্তু বন্ধু আনিস! এত বড় সর্বনাশ কেন করলি ভাই!!!!
…. বাসে বসে বসে এতক্ষণ এসব ভাবছিলাম আর হাসছিলাম! কতই না পুংটা পোলা ছিলাম আমি! লজ্জাও লাগছিল! কিভাবে মুখ দেখাবো?! ওই পক্ষ তো আর এত কিছু জানেনা এই কিশোর মনে কি ঘটেছিল সেই সময়! প্রেম, ভালবাসা কিছুই নয়, তারপরও কিশোর মনে অনেক সময় অনেক কিছু ঘটে যায় যাকে কোন সংজ্ঞাতেই বাধা যায়না। আর ১ ঘন্টার রাস্তা, তারপরই দেখা হবে! কত বছর পর দেখা হবে তাও গুনে দেখলাম। এখন আমি অনেক বড়, অনেক ম্যাচুরিট। আমার চশমার পাওয়ার বেড়ে গেছে। সত্যি সত্যি চশমা ছাড়া এখন কিছুই দেখিনা। চশমা এখন বিলাসিতা না, প্রয়োজনীয়তা।
যাচ্ছি আমি আমার ছোট চাচার বিয়েতে। চাচা যে ভার্সিটিতে পড়তেন এখন সেখাকার শিক্ষক। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে যাচ্ছেন কিছুদিন পর, তাই তারাহুরো করে বিয়ের আয়োজন। পাত্রী দেখতে বেশি দূর যেতে হয়নি, আমার আব্বার এক সময়কার প্রিয় ছাত্রী চারুর সাথেই ছোট চাচার বিয়ে! যাদের ভবিষ্যত কন্যাকে আমি আমার জন্য ক্লাস সেভেনেই বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম!
Send private message to author







অনেক দিন পর এমন একটা সুন্দর গল্প পড়লাম।গল্পের প্রধান চরিত্র ইব্রাহিমের ব্যাপারটা আমাদের সমাজের under ১৮ এর প্রতিনিধিত্ব করে।তারা তাদের বয়সে যা দেখে তাই ভাল লাগে,তাছারা তারা তাদের,অন্যদের মত ম্যাচুয়ার ও ভাবে।গল্পটা পড়ে আমার নিজের ও ছোট বেলার কথা মনে পরে গেল। যাই হোক গল্পটা অসাধারন।ধন্যবাদ লেখিকাকে এবং গ্রুপের ভাইয়াদের,একটা ভাল গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।
এত কষ্ট করে পড়ার জন্য এবং সুন্দর একটি রিভিউ দেওয়ার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা! খুব ভালো লাগলো। দোয়া করবেন। আপনার জন্য শুভ কামনা।
লেখিকা আপু অনেক সাবলীল ভাষায় লেখাটা উপস্থাপন করেছেন যার জন্য গল্পের হাস্য রসাত্মক ভাব অনেক সুন্দরভাবে ফুঁটে উঠেছে। আর কিশোর বয়সের একটি ছেলের যে আবেগ বা কৌতূহল জন্মায় যেমন তা বিপরীত লিঙ্গ বা চশমার ব্যপার অথবা ঈদ কার্ড প্রদানের ইচ্ছা এগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
যদিও গল্পটি হাস্য রসাত্মক ছিলো, বেশ ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ আপুকে গুছিয়ে এতো সুন্দর একটি গল্প লেখার জন্য। সেই সাথে ধন্যবাদ locbook কে এতো সুন্দর একটি গল্প পড়ার সুযোগ করার জন্য।
এত সুন্দর সুন্দর কম্পলিমেন্ট, সত্যি আমি ভীষণ আনন্দিত! অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন।
“চারুকল্প” গল্পটির শুরুটি ছিল এমন যে কেউ যেন সামনে বসে গল্প শুনাচ্ছে। অর্থাৎ যেন খুবই সহজবোধ্য ভাষায় উপস্থাপন।
প্রধান চরিত্র ইব্রাহিমের মধ্যে কৈশোরকালের চাঞ্চল্য ও কিছুটা অপরিপক্কতা ফুটে উঠেছে।তার চিন্তাভাবনায় বয়সের অস্থিরতা ফুটে উঠেছে।
চারুর প্রতি ইব্রাহিমের অনুভূতিতে অনেক টা সারল্য প্রকাশ পায়।গল্পের শেষে ইব্রাহিমের বর্তমান অবস্থার প্রকাশ টি ছিল যেনো গল্পের শেষ চমক।উপভোগযোগ্য লেখা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভীষণ ভালো লাগলো। দোয় করবেন। শুভ কামনা।
চারুকল্প নামক গল্পটি একটি কিশোর মনের প্রতিফলক।ইব্রাহিম নামের ছেলেটির জবানিতে লেখিকা বলে গেছেন বয়ঃসন্ধিকালের এক মোড়ে দাঁড়িয়ে নিজের বয়সের চেয়ে বড় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি রাখা সহজ অনুভূতির কথা।এরকম অনুভূতির অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমরা প্রায় সকলেই গিয়েছি। জীবনের সেই অস্থির বয়সের ভালো লাগার অনুভূতি যেন চিরসবুজ,চির পবিত্র। সাবলীল ভাষায় বর্ণিত এ গল্প শেষ পর্যন্ত চারু-ইব্রাহিমের পরিণতি কি হল সেদিকে চমৎকারভাবে ধাবিত করে এবং লেখার ধরণ পাঠকের মনোযোগ শেষ অবধি ধরে রাখবে।চারুর বাবার সাথে ইব্রাহিমের বাবার পরিচয়, সেই পরিচয় থেকে ইব্রাহিমের বাসায় চারুর অংক কষতে আসা,চারুর প্রতি ইব্রাহিমের সহজাত ভালোলাগা তৈরী হওয়া, চারুর দুঃখে দুঃখিত হওয়া, চারুর মুখে নিজের ভাইয়ের প্রশংসা শুনে কষ্ট পাওয়া সবকিছু মিলিয়ে এ গল্প আমাদেরকে নিয়ে দাঁড় করায় আমাদের প্রথম ভালোলাগার অভিজ্ঞতার সামনে।এক কথায় ভালো লেগেছে “চারুকল্প”
গল্পের ইতি টেনেছেন লেখিকা চমৎকারভাবে।
ব্যক্তিগতভাবে রেটিং দিব ৪.৫/৫।
আমি অভিভূত! আনন্দিত! অশেষ কৃতজ্ঞতা! ভালো থাকবেন।
মেয়েরা মায়ের জাত। মেয়েদের প্রতি আমরা কে না মুগ্ধ হই! “চারুকল্প” গল্পে সদ্য শিশুকাল পেরোনো ১২ বছরের ইব্রাহিমও তার ব্যতিক্রম নয়। সেও চারু নামের একটি মেয়ের প্রতি বশীভূত হওয়ার উপক্রম। যদিও চারু তার থেকে বয়সে ৩ বছরের বড়। কিন্তু মানুষের হৃদয়ের আবেগ অনুভূতি বা ভালোলাগা কোনো অন্তরায় মানে না। অবচেতন মনের অজান্তেই তৈরি হয় ভালো লাগা। ইব্রাহিমের ক্ষেত্রেও হয়তো এমনটা হয়েছে।
গল্পটি পড়তে পড়তে আমার জীবনের ছোটবেলার কথা মনে পড়লো। আমি যখন ক্লাস ফোরে ভর্তি হয়, তখন ক্লাস টেনের আপুরা আমাকে কত্তো আদর করতো। আমাকে হৃদয় নিংড়ানো স্নেহে সিক্ত করে দিতেন আপুরা। আপুদের সেই স্নেহের কথা ভুলতে পারি না কখনো।
গল্পটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত লেগেছে আমার কাছে। মানবজীবনের শৈশবকালে আবির্ভূত হওয়া কোনো এক রমণীর প্রতি আকর্ষণের চিত্রটি লেখিকা সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। পড়তে পড়তে আবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পড়তে পড়তে শেষের দিকে এসে বিষণ্ণ হয়ে গেলাম ইব্রাহিমের কথা ভেবে। চারুর প্রতি কতটা টান ইব্রাহিমের মনে সঞ্চিত হয়েছিল অথবা চারুকে ইব্রাহিম কী দৃষ্টিতে দেখতো জানি না। তবে শেষের দিকের এমন ঘটনায় ইব্রাহিমেন একটুখানি হলেও ভারাক্রান্ত হওয়ার স্বাভাবিক। ইব্রাহিমের স্থানে আমি থাকলে, আমিও হয়তো এই ঘটনায় দুঃখ পেতাম।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই। ভালো থাকবেন। শুভ কামনা।
রিভিউ দিতে আসছিলাম।ভেবেছিলাম গল্পটা নিয়ে ভাল-মন্দ কিছু সমালোচনা করব।কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না।
কারন আমি এখন এই বয়স পার করছি আর সাথে সেইম ফিলিংস।প্রচন্ড ভালো ছিলো।৯/১০ দেয়া যেতেই পারে।
একদম অন্যদিকে মনোযোগ যায়নি।❤️
আর গনিতে ৪৭ আমার কাছে সোনার হরীণ।
তবে একটা জিনিস চোখে লেগেছে।দুজনের বয়স আরো বেশি হতে পারত।কারণ ক্লাস সেভেন এ সবার গড় বয়স থাকে ১৩-১৪+ বা তার চেয়ে বেশি আর ক্লাস টেন এ গড় বয়স থাকে ১৬-১৭+।
Overall that was great.
সুন্দর বিশ্লেষণের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা! ভালো লাগলো।
শুভ কামনা
খুবই বাস্তব মুখী হাস্যরস একটি গল্প। কৈশোরে এমন অনুভূতি আমাদের প্রায় সকলের মধ্যেই কাজ করে। গল্পের সবচেয়ে ভালো লাগার দিক হচ্ছে খুব সাবলীল ভাষায় অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের মধ্যে বন্ধুসুলভ ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে যেটি গল্পটিকে আরো বাস্তবমুখী করে তুলেছে। গল্পের মধ্যে ঈদ কার্ড এর আদান প্রদানের অংশটি আমার খুবই ভালো লেগেছে আমার শৈশবের কথা মনে করে দিয়েছি। গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে গল্পের শেষের অংশ যেখানে তার শৈশবের অনুভূতির কন্যা তার হবু চাচি !
গল্পের সাথে গল্পের নামের ব্যাপারটি খুবই চমকপ্রদ !
গল্পটি খুবই আধুনিক । ধন্যবাদ লেখিকাকে আমাদের এত সুন্দর একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।
অসংখ্য, অজস্র ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। শুভ কামনা।
চারুকল্প মূলত কিশোর বয়সের প্রেম সম্বলিত একটি ছোট গল্প যেখানে একজন কিশোরের উঠতি বয়সের প্রেমের গল্প প্রকাশ পেয়েছে।
কিশোর ইব্রাহিম তার বাবার ছাত্রী চারুর প্রেমে পড়েছিল।চারু সপ্তাহে চার দিন ইব্রাহিম দের বাসায় পড়তে আসতো। কিন্তু চারু ছিল তার চেয়ে তিন বছরের বড়।বয়স নিয়ে কিশোর ইব্রাহিম মোটেও চিন্তিত ছিলোনা।বরং সে প্রতিনিয়ত মেয়েটির সাথে আলাপ বাড়ানোর জন্য নানা রকম গল্প করত।মাঝে মাঝে একটু বড় বড় ভাব নেয়ার চেষ্টা করতো।ঈদে চারু ইব্রাহিম কে ঈদ কার্ড উপহার দিলে ইব্রাহিম ও ঠিক করে সে ও চারু কে উপহার দিবে কিন্তু বিপত্তি বাধলো সেখানেই।ইব্রাহিম কার্ড বানাতে পারতোনা তাই সে তার বন্ধুর মাধ্যমে কার্ড কিনে আনে কিন্তু কার্ডের ভিতর এর লেখা পড়ে দেখেনি মূলত সেখানে শাশুড়ী মা কে শুভেচছা জানানোর কথা ছিল এটা নিয়েই খুব লজ্জায় পড়ে গিয়েছিল ইব্রাহিম।
ইব্রাহিম এর পরিবারেই থাকতো তার চাচা যিনি কিনা ইব্রাহিম এর খুব পছন্দ।
বেশ অনেক গুলো বছর কেটে গিয়েছে এর মাঝে।কিশোর বয়সের প্রেম কে সৃতিচারণ করতে করতে ইব্রাহিম বাসা ফিরছিল তার ই প্রিয় চাচার বিয়েতে যেখানে হবু চাচী হলো তার ই কিশোর বয়সের ভালোবাসা” চারু”
চারুকল্প গল্পটিতে কিশোর ইব্রাহিম এর চারুর প্রতি প্রবল আকর্ষন,ভালোলাগা,ভালোবাসা,কিছু কৌতুক আর শেষে ভালোলাগার মানুষের অন্য কারো সাথে বিয়ের মতো বিষাদময় ঘটনা দিয়ে চারুকল্প গল্পটি শেষ হয়েছে।
এত মনযোগ দিয়ে পুরো গল্পটা পড়েছেন। অশেষ ধন্যবাদ। দোয়া করবেন।