ঘটনা – ১
জৈষ্ঠ্যের দুপুর। জৈষ্ঠের প্রচন্ড দাবদাহে চারপাশ পুড়ে যাচ্ছে। এ রোদের মধ্যে তিরিশোর্ধ রহিম মিঞা রিকশা চালাচ্ছেন। রিকশায় তিনজন যাত্রী। তিনজনই মোটামুটি স্বাস্থ্যবান।
রহিম মিঞা বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তার কপাল থেকে টপটপ করে ঘাম ঝরছে। ক্লান্তিতে তার দেহ নুয়ে আসছে। কিন্তু তাকে থামলে চলবে না। এখনো তাকে অনেকটা দূর যেতে হবে। বাসায় তার ক্ষুধার্ত পরিবার তার দিকে চেয়ে আছে। আজকের খাবার কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা এখনো উপার্জন হয়নি।
ঘটনা – ২
শাহবাগের মোড়ে ট্রাফিক জ্যামে অনেক্ষণ ধরে সবগুলো রিকশা – গাড়ি দাঁড়িয়ে আচ্ছে। ড্রাইভার – প্যাসেঞ্জার সবার মুখে বিরক্তির ছাপ। বিরক্তিতে সবার ভ্রু কুঁচকে আছে। মাঝে মাঝেই গাড়িগুলো হর্ণ দিচ্ছে, রিকশাগুলো টুং টাং করে বেল বাজাচ্ছে।
এর মধ্যে কিছু শিশু ফুল বিক্রি করছে। ফুলবিক্রেতা এ শিশুদের চেহারা ফুলের মতই সুন্দর। তারা নিষ্পাপ, পবিত্র। কেউ তাদের থেকে ফুল কিনছে, কেউ কিনছে না। কেউ সুন্দর করে কথা বলছে, কেউ এই ফুটফুটে বাচ্চাদের ঝাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু এ শিশুদের মুখের হাসি অম্লান। এই ফুলগুলো যে বিক্রি করতে হবে!! অসুস্থ মা আর ছোট ভাইবোনগুলোর জন্য খাবার কিনতে হবে যে!!
ঘটনা – ৩
বিকাল হয়েছে। মতিঝিলের অফিসগুলো ছুটি হয়েছে। সবগুলো অফিস থেকে দলে দলে মানুষ বের হয়ে আসছে। সারাদিনের কাজের শেষে তারা ক্লান্ত। ঘরে ফেরার জন্য সবাই উন্মুখ হয়ে আছে। কেউ বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করছে, কেউ রিকশায়, কেউবা ব্যক্তিগত গাড়ী বা মোটরসাইকেলে করে বাড়ী ফিরছে। এদের মধ্যে আলাদা মাঝবয়েসী মকবুল সাহেব। তিনি হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছেন।
তিনি এখানের একটা সরকারি অফিসে কেরানীর চাকরি করেন। সারাজীবন সৎ থাকা এ মানুষটা সরকার থেকে যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে যান। সামনের মাসে তার মেয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশনের টাকা দিতে হবে। তাই খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি আজকাল হেঁটে অফিসে আসেন আর হেঁটেই বাসায় ফিরেন।
(বি.দ্রঃ ঘটনাগুলো কাল্পনিক। তবে আমাদের চারপাশের অনেক মানুষের সাথেই এ গল্পের চরিত্রগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। পরিবারকে নিয়ে একটু ভালো থাকার আশায়, একটু সুখে থাকার আশায় তারা প্রতিনিয়ত তাদের সুখ বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছেন।)
~~~~~~ মুহম্মদ সাদিক
Send private message to author






