সকাল ৮টা। তখনও ঘুম থেকে উঠিনি। হঠাৎ শুনতে পেলাম মা এর আওয়াজ। চমকে ঘুম থেকে উঠে পড়ি। আজ আমার মা এর মেজাজ খুব খারাপ । সকাল ৬টায় ঘুম থেকেউঠেই বাড়ির কাজ করা শুরু করেছে।কিন্তু কাজ যেন শেষ ই হচ্ছে না। তার ওপর আমি তখনও ঘুমাচ্ছি।আমি সাধারণত বাড়ির কাজ খুব কম করি। এককথায় করি না বললেই চলে।সারাদিন শুধু টিভি,মোবাইল আর ঘুম। এটাই আমার কাজ। মা মাঝে মাঝে আমার এসব কাণ্ডকারখানায় বিরক্ত হয়ে যায়।কিন্তু আমি আমার মতোই থাকি। কিন্তু আজ মা এর কথাবার্তা অন্য রকম মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মা খুব কষ্ট পাচ্ছে। মা তো বলেই ফেলল যে আমাকে মনে হয় সারাজীবন কাজ করেই মরতে হবে। খুব রাগ হচ্ছিল মার কথা শুনে। মনে হচ্ছিল বাড়ির এসব কাজ মা করবে নাতো কে করবে। সকালটা এভাবেই কাটল।
দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে কেবল মাত্র পড়তে বসেছি। এরই মধ্যে দাদী ডাকছে। আমাকে ডেকে পানি আনতে বলল। পানি এনে দিলাম। তারপর আবার পড়তে বসলাম।
এরপর মা আমাকে ডাকছে। একটু বিরক্ত হয়েই তার কথায় সাড়া দিলাম। কাজ টা শেষ করে আবার পড়তে বসলাম কিন্তু এবারও শান্তি নেই। এবার আমারভাই আমাকে ডাকছে। এবার তো আমি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছি। বললাম একটা মানুষ কতোদিকে কতো কাজ করতে পারে? উফ বিরক্তিকর।
হঠাৎ করেই মনে পড়ল আমিও তো মা কে বারবার করে ডাকি। কখনও এটা দাও তো কখনও সেটা। আমি কি কখনও ভেবে দেখেছি যে আমার মা এর তখন কেমন লাগে? না, একবারও ভাবি নি। তখন নিজেকে নিজের কাছে খুব বড় অপরাধী মনে হচ্ছিল। আজ সকালেই তো মা কে কত কিছু বললাম। যাইহোক নিজের ভুল বুঝতে পারলাম।
রাত হয়ে গেছে। এরই মাঝে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। খাওয়া শেষে থালা বাসন গুলো নিয়ে গিয়ে মাজতে লাগলাম। মা এসে দেখল আমি কাজ করছি। দেখলাম মা এর মুখে হাসি। হাসিটা এইজন্য ছিল না যে আমি তাকে তার কাজে সাহায্য করছি। হাসিটা হয়ত এজন্য ছিল যে আমি তার কষ্ট বুঝতে পেরেছি। মা আমার কাছে এসে আমাকে বলল “Thank you”।ছোটবেলা থেকেই আমার কোনো কাজে যদি মা খুশি হয় তখন আমাকে বলে “Thank you”
খুব ভালোবাসি তোমাকে মা। You’re the best Mother in the world.
– Santona Borsha
Send private message to author






If anyone could understand my feelings like this 🙂