মরিয়ম বেগমের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৫ বছর। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মরিয়ম। পড়াশোনা খুব বেশি এগোয়নি। ১৩/১৪ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে যায় মরিয়মের। স্বামী রাকিব সাহেব মফস্বল শহরে একটি ছোটখাটো চাকরি করেন। ছেলেমেয়ে নিয়ে মরিয়ম থাকেন গ্রামের বাড়িতে।
সাপ্তাহিক ছুটিতে স্বামী বাড়িতে। রান্না ঘরে পাটি বিছিয়ে আর পিঁড়ি পেতে রাতের খাবার খেতে বসেছেন সবাই। ছেলে-মেয়েসহ ৬ সদস্যের পরিবার মরিয়মের।
বাড়ির গরুটা দুধ দেয়া কমিয়ে দিয়েছে। আগে সবাই অল্প অল্প করে দুধের ভাগ পেতো। ছোট ছেলে মামুনের বয়স ৫ বছর। খাবারের শেষে গুড় মেখে দুধ ভাত মামুনের অত্যন্ত প্রিয় খাবার।
সপ্তাহ দুয়েক বাদে বড় ছেলে আর বড় মেয়ের বার্ষিক পরীক্ষা। রাকিব সাহেব বললেন যেহেতু বড় ছেলে মেয়েদের বার্ষিক পরীক্ষা সামনে, এসময়টাতে ওদের দুজনকে নিয়মিত দুধ দেয়ার জন্যে। আর এটা করতে গেলে মামুনের আর প্রিয় খাবার দুধ ভাত খাওয়া হবে না।
এটা শোনার পর হঠাৎ করেই খাওয়া ফেলে চোখ কচলাতে কচলাতে মামুন উঠে গেল। মরিয়ম স্পষ্টতই বুঝতে পারে উঠে যাওয়ার কারণ। মরিয়মের চোখে ও তখন জল। খানিকটা পরেই ছুটলো ছেলের খোঁজে। দেখলো বিছানায় এক কোনে বালিশে মাথা গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে মামুন। নিজেকে আর স্বাভাবিক রাখতে পারেনা মরিয়ম। টপটপ করে তাঁর দুচোখ বেয়ে ও গড়িয়ে পড়ে অশ্রু।
আর্থিক টানাপোড়নের সংসার মরিয়মের। প্রচন্ড কর্মঠ আর সৎ মানুষ তাঁর স্বামী। স্বামীকে তিনি প্রচণ্ড ভালোবাসেন। স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি স্বামীর ভালবাসা তাঁকে মাঝে মাঝে আবেগ তাড়িত করে ফেলে। কিন্তু এই অভাবের সংসারে যোগ-বিয়োগ মেলাতে মরিয়মের প্রচন্ড কষ্ট হয়ে যায়।
মরিয়মের আরেক বোন সালমার বিয়ে হয়েছে অবস্থাপন্ন এক গৃহস্ত পরিবারে। বেশ সচ্ছল সে পরিবার। মাঝে মাঝে মরিয়ম তাঁর ছেলে মেয়েদেরকে খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। খালা বোনের ছেলেমেয়েদেরকে প্রচন্ড আদর করেন। যে কদিন ছেলে মেয়েরা খালার বাড়িতে থাকে সে সময়টায় ওরা ভালো আপ্যায়ন আর ভালো ভালো খাবার পেয়ে থাকে খালার বাড়িতে। মুখে না বললেও মরিয়ম জানে ছেলেমেয়েদের খালার বাড়িতে পাঠানোর উদ্দেশ্য কিছুটা ভালোমন্দ খাওয়া দাওয়া। সালমা ও বোনের অব্যক্ত ইচ্ছার কথা ভালোভাবেই বোঝেন। দুজনের কেউই প্রকাশ করেন না তাঁদের মনের কথা। কিন্তু বুঝতে পারেন দুজনেই।
কিন্তু ইদানিং মরিয়ম তাঁর ছেলেমেয়েদের আর খালার বাড়িতে পাঠান় না। আকারে-ইংগিতে ইদানিং মরিয়ম বুঝতে পারে বোনের বাড়ির লোকজন এটা নিয়ে মাঝে মাঝেই সালমাকে খোঁটা দেয়। মরিয়ম চায়না এটা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বোন সালমার কোনরকম পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হোক।
বিষন্নতায় কেটে যায় সারাক্ষণ মরিয়ম বেগমের। স্বামী মফস্বল শহরে একটি জীর্ণশীর্ণ মেসে ৪/৫ জনের সাথে শেয়ার করে থাকেন। মরিয়ম বুঝতে পারেন তার স্বামীর সেখানকার কষ্টের কথা গুলো। বারবার জানতে চেয়েও স্বামীর কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাননি মরিয়ম।
একদিন কাউকে না জানিয়েই বড় ছেলেকে নিয়ে হঠাৎ হাজির হয়ে যান স্বামীর মেসে। সার্বিক অবস্থা দেখে মুহূর্তেই বিষাদে ভরে যায় মরিয়মের মন। অনেক কষ্টে স্বামী আর ছেলের সামনে নিজের আবেগকে চেপে রাখেন মরিয়ম। ভিতরে ভিতরে কষ্টে বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল মরিয়মের।
অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে একটি ছোট্ট রুমে গাদাগাদি করে পাঁচজনের বিছানা পাতা। মাটিতে কাঁথা বিছিয়ে তাতে একটি বালিশ পেতে তৈরি হয়েছে তাদের শয্যা। খাবার-দাবারের কাজটা বিছানায় বসেই সেরে নিতে হয়। প্রায় ৩০০ গজ দূরে গোটা ত্রিশেক লোকের জন্য একটি শৌচাগার।
সকালে স্থানীয় একজন মহিলা এসে রান্নার কাজটা করে যান। রাকিব সাহেব সকালের নাস্তা সেরে কাজে যাওয়ার সময় দুটো রুটি আর খানিকটা চিনি পোটলা বেঁধে পাঞ্জাবির পকেট করে নিয়ে যান দুপুরের খাবার জন্য। প্রায় দু’কিলোমিটার হেঁটে প্রতিদিন কাজে যান আর বিকেলে অবসন্ন শরীর নিয়ে হেঁটে আসেন আরো দু কিলো মিটার। রাকিব সাহেবের কষ্ট দেখে এবার আর মরিয়ম কান্না চেপে রাখতে পারেননা। মনের অজান্তেই গড়গড়িয়ে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। মরিয়মের কান্না দেখে ছেলে ও ডুকরে কেঁদে উঠে। রাকিব সাহেব আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না। অশ্রুসজল হয়ে ওঠে তাঁর চোখ ও।
সন্ধ্যায় মরিয়ম আর ছেলে ফিরে আসে বাড়িতে। মরিয়ম কোন কিছুতেই মন বসাতে পারেন না। ঘুরে ফিরেই মনে আসে স্বামীর কষ্টের কথা। এলোমেলো সব ভাবনা মনকে আঁকড়ে ধরে মরিয়মের। ভাবে নিয়তিটা কেন এমন হলো? বোনের মতো তাঁর ও তো একটা অবস্থাপন্ন পরিবারে বিয়ে হতে পারতো। বিষন্ন মনে ভাবতে থাকে এ টানাপোড়নের মাঝে বাকিটা জীবন কিভাবে কাটবে। ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে যায় মরিয়ম।
মাঝে মাঝে সুযোগ পেলেই স্বামী আসেন বাড়িতে। ছেলেমেয়েরা অপেক্ষায় থাকে বাড়িতে আসার সময় বাবা তাদের জন্য কিছু খাবার দাবার নিয়ে আসবেন। রাকিব সাহেবের ইচ্ছে প্রতিবারই বাড়ীতে আসার সময় বাচ্চাদের জন্য কিছু নিয়ে যাবার। ইচ্ছে হয়, সাধ আছে, কিন্তু তেমন সাধ্যতো নেই। তবুও আসার সময় এক প্যাকেট বিস্কুট, চানাচুর বা কয়েকটা চকলেট নিয়ে আসেন ছেলেমেয়েদের জন্য। রাকিব সাহেব বুঝেন তাঁর স্ত্রীর কষ্টের কথা। তিনি তো চাকরির সুবাদে বছরের প্রায় সময়েই বাইরে থাকেন। সমস্ত ঝুট-ঝামেলা, বাচ্চাদের দেখা শোনা আর আবদার এসবগুলোই দেখতে হয় মরিয়মের। অথচ মরিয়ম কখনোই বুঝতে দেন না তাঁর এই কষ্টের মুহূর্ত গুলো। মরিয়মের কষ্ট দেখে মাঝে মাঝে রাকিব সাহেবের নিজেকে একজন অপরাধী মনে হয়।
ছেলে-মেয়েদের নিয়ে রাকিব সাহেব আর মরিয়মের একটি বড় সান্তনার জায়গাও আছে। সেটা ভেবে দুজনেই আগামীর সুন্দর স্বপ্ন বুনেন। এত দুঃখ কষ্টের মাঝেও ছেলে মেয়েরা যখন বড় হতে থাকে তখন তারা মা বাবার কষ্টের কথা বুঝতে পারে এবং সেভাবেই তারা নিজেকে মানিয়ে নেয়।
প্রয়োজন থাকলেও মনে কষ্ট চেপে রেখে ও কখনো ছেলেমেয়েরা বাবা-মার কাছে কোন কিছুর আবদার করেনা। বাবা-মা এটা বুঝতে পারেন। ভেবে খুশি হন যে ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কষ্ট বুঝে তার সাথে নিজেদের মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
রাকিব সাহেব আর মরিয়মের আরেকটি সুখের দিক হলো এত দুঃখ কষ্ট আর টানাপোড়েনের মাঝে ও তাঁদের ছেলে মেয়েরা খুবই মেধাবী আর পড়াশোনায় খুবই ভালো। এ অবস্থায় তাদের যতোটুকু যত্ন নেয়া দরকার সেটা তারা করতে পারেন না। তাঁরা দুজনেই কৃতজ্ঞ স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি যারা নিজের ইচ্ছায় আর স্বেচ্ছাশ্রমে তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
সংসারে কিছুটা বাড়তি আয়ের জন্য মরিয়ম বেগম বাড়ির আঙ্গিনায় কিছুটা শাক সবজির চাষাবাদ করেছেন। বাড়িতে কিছু হাঁস-মুরগী ও পালেন। একটি দুধের গাভী ও আছে বাড়িতে। হাঁস মুরগী থেকে ডিম পাওয়া যায়। গাভী থেকে ও প্রতিদিন প্রায় আধা কেজির মত দুধ পাওয়া যায়। কাজের চাপে, সাংসারিক ঝামেলায় আর দুশ্চিন্তায় মরিয়ম বেগমের শরীর দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে চিঠিতে স্বামী মরিয়ম বেগমকে দুধ, ডিম খাবার পরামর্শ দেন। মরিয়ম বেগম প্রায়ই তাঁকে মিথ্যে উত্তর দেন। বাড়ি থেকে দুধ আর ডিম যেটা আসে সেটা পুরোটাই মরিয়ম বেগম রেখে দেন ছেলেমেয়েদের জন্য। নিজে খেয়েছেন বলে স্বামীকে মিথ্যে জবাব দেন। মাঝে মাঝে সামান্য দুধ আর কয়েকটা ডিম বাজারে বিক্রি করে একটি মাটির পাত্রে অল্প অল্প করে কিছুটা টাকা ও জমান মরিয়ম।
সময় পেরিয়ে যায়। বছর ঘুরে ফিরে আসে ঈদ। ঈদের সময় আশেপাশের প্রায় সব বাচ্চারা যার যার সাধ্যমত নতুন নতুন জামা কাপড় পরে। মরিয়ম জানে তাঁর বাচ্চারা বাবা-মায়ের কাছে কোন কিছুর জন্য আবদার করবে না।
কিন্তু মায়ের মন। মরিয়ম ঠিকই বুঝতে পারেন ছেলে মেয়েদের মনে নতুন কিছু প্রাপ্তির ইচ্ছে। কিন্তু বাবা মায়ের সামর্থ্য নেই বলে তারা কষ্ট বুকে চেপে রাখে।
মরিয়ম বেগম ঠিক মনে করতে পারেন না কখন ঈদে নতুন শাড়ি পড়েছেন। ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে বিষাদে মনটা আচ্ছন্ন হয়ে যায় মরিয়ম বেগমের।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে চিঠি লিখেন স্বামীকে। সবার জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু আনার ছোটখাটো একটা তালিকা তৈরি করে পাঠিয়ে দেন স্বামীকে। বার কয়েক চিঠিতে নিষেধ করেন তাঁর জন্য কিছু আনতে। ছেলেমেয়েদের বুঝতে দেননি তাদের বাবার কাছে লিখা এই চিঠির কথা। কারণ মরিয়ম এও ভাবেন যদি কোনো কারণে এগুলো কেনার মত অর্থ স্বামী জোগাড় করতে না পারেন তাহলে বাচ্চারা মনে অহেতুক কষ্ট পাবে। কাজেই বিষয়টা গোপন রাখেন মরিয়ম ছেলে মেয়েদের কাছে।
মাঝে মাঝে বাড়িতে মেহমান আসে। তখন প্রায় সময়ই ঘরের পোষা একটি বড় মোরগ জবাই করা হয়। মরিয়ম বেগম জানেন তাঁর ছেলে মেয়েদের পছন্দের মাংসের টুকরো সম্পর্কে। মনে মনে ভেবে রাখেন আজকে ছেলেমেয়েদের সবাইকে তাদের পছন্দের মাংসের টুকরো খেতে দিবেন।
খেতে বসলে স্বভাবতই মেহমানের সামনে মাংসের একটি বড় অংশ বাটিতে পরিবেশন করেন মরিয়ম। মাঝে মাঝে এমন ও হয় মেহমানের খাবার পর বাচ্চাদেরকে তাদের পছন্দের টুকরো দিয়ে খুশি করতে পারেন না মরিয়ম। মনটা তখন স্বভাবতই খারাপ হয়ে যায় মরিয়ম বেগমের।
রাকিব সাহেব আর মরিয়ম বেগম অনেক খুশি এই ভেবে যে তাঁদের ছেলে মেয়েরা পড়াশোনায় বেশ ভালো। আল্লাহর কাছে সব সময় এজন্য তাঁরা শুকরিয়া আদায় করেন। ছেলে মেয়েদের মেধা আর আগ্রহের কথা মনে করে দুজনেই আগামী দিনের একটি সুন্দর স্বপ্নের ভিত্তি রচনা করেন মনে মনে।
নতুন বছর আর নতুন ক্লাসের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে নতুন বইয়ের জন্য। নতুন বইয়ের এক অজানা সুঘ্রাণ আকর্ষণ করে উপরের শ্রেণীতে উঠা ছাত্র-ছাত্রীদের। মরিয়ম তাঁর ছেলেমেয়েদের কোন বছরেই নতুন বই কিনে দিতে পারেন না। পরিচিতজনদের কাছ থেকে প্রতিবারই অল্প দামে পুরনো বই কিনে নেন আর সেটা নিয়েই খুশি থাকেন মরিয়মের ছেলে মেয়েরা।
গোধূলি মিলিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আঁধার ভর করে চারিদিকে। নিত্যদিনের কাজ শেষ করে প্রতিদিনের মতো এশার নামাজ আদায় করেন মরিয়ম বেগম। অনেক দিনের পুরনো অভ্যাস মত ছোট ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আজো ঘুমোতে যান মরিয়ম।
আজ কেন জানি মনটা একেবারেই বিষন্ন। ছেলেটার কান্না ভেজা চোখ বারবার চোখের সামনে ভাসে মরিয়মের। হাজারো চিন্তা গ্রাস করে মরিয়মকে। কিছুতেই ঘুম আসে না। শুধু এপাশ ওপাশ করেন।
পাশের বিছানায় শুয়ে আছে তাঁর বাকি তিন ছেলে মেয়ে। ক্ষণে ক্ষণে তাদের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন মরিয়ম। ঘুম থেকে উঠে যান বারবার। আলতো করে চুমু খান ছেলে মেয়েদের গালে। ভাবেন সামর্থ্য নেই ছেলেমেয়েদের ভালো কিছু দেবার। কিন্তু আদর সোহাগ আর ভালোবাসায় তো ভরিয়ে দিতে পারেন তাদের অন্য কিছু না পাওয়ার অপূর্ণতা। ছেলে মেয়েদের গালে চুমু খেতে খেতে মরিয়মের চোখ বেয়ে নেমে আসে বাঁধ ভাঙ্গা অশ্রু। ভিজে যায় ছেলেমেয়েদের গাল। আচমকা জেগে উঠে সবাই। মায়ের কষ্ট আর অনুভূতি বুঝতে পারে ছেলেমেয়েরা। এরি মধ্যে জেগে উঠে ছোট ছেলে ও। এক বেদনাবিধুর আর বিষাদময় পরিবেশ তৈরি হয় তখন। সবার চোখ থেকে হারিয়ে যায় ঘুম। মরিয়ম বেগম নিভিয়ে দেন কুপি। সবাইকে একই বিছানায় এনে আবার ঘুমোতে যান। একে একে সব ছেলে মেয়ের মাথায় আর চুলে পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দেন মরিয়ম বেগম। এক সময় বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়ে। মরিয়ম বেগমের আর ঘুম আসেনা। একের পর এক ভাবনা গ্রাস করে তাঁকে। রাত ক্রমশ শেষ হয়ে যেতে থাকে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে দুর মসজিদ থেকে ভেসে আসে ফজরের আজানের সুর।
“আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম”।
বাড়ির মোরগগুলো জোরে ডেকে ডেকে জানান দেয় রাত শেষ আর ভোর সমাগত। উঠে বসেন মরিয়ম। ছেলে-মেয়েদের সবাইকে আবারো আলতো করে চুমু খেয়ে অজু করে বসে পড়েন নামাজের বিছানায়। আর অপেক্ষা করেন আরো একটি অনিশ্চিত দিনের প্রতীক্ষায়।
মোঃ আওরঙ্গজেব চৌধুরী।
Md. Aowrangazeb Chowdhury.





মধ্যবিত্ত বাড়ির বউদের মনে অনেক শখ থাকে। কিন্তু সেগুলো সব সময় হয়তো মেটানো সম্ভব হয় না। কিন্তু তারা ভালোবাসা দিয়ে হৃদয় ভরিয়ে দিতে কখনো কার্পন্য করে না। তেমনই একটি চিত্র পেলাম এই গল্পে।