ক্লিপ্টোম্যানিয়াক ৫ম পর্ব

ছেলেপক্ষের অ্যান্সার চলে এসেছে। শম্পাদির গাট ফিলিংস ক্লিক করেছে। বেশ কিছুদিন সময় নিলেও, ওরা ওদের মত জানিয়েছে। হ্যাঁ। এনগেজমেন্ট করতে আসতে চায়। আমরা যেন সুবিধা মত একটা তারিখ জানাই ওদের। সে নিয়েই আলাপ আলোচনা চলছে। ব্যাপারটা ঘরোয়া ভাবে হবে না একটু বড় সড় করে। কাকে কাকে বলা যায়, কাকে কাকে না বললেও চলে। এসব আলোচনায় এখন বাসায় টেকা দায়।  

বাবা আছেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আর মা আছেন আত্মীয় স্বজন নিয়ে। গয়না টয়না রেডি। কাপড় চোপড় হয়তো কিছু নিতে হবে। মা তাই একই সাথে মহা ব্যস্ত আর চরম এক্সাইটেড। যাকে বলে রীতিমত সুখের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। বিয়েতে কি করবেন, না করবেন সেসবের প্ল্যান চলছে। জনে জনে ফোন করে গল্প দিচ্ছেন। 

আমার ভেতরে সেই অর্থে তেমন কোন এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে না। যা কিছু আনন্দ লাগছে সেটা মায়ের জন্য। মায়ের একটা দুশ্চিন্তা দূর হচ্ছে এটা ভেবেই কেমন রিল্যাক্সড লাগছে।  

এখানে, আই মিন, স্কুলে কাউকে এখনও খবরটা দেয়া হয়নি। দিলে অবশ্য দিতাম শুধু শম্পাদিকে, কিন্তু তাঁকে দেয়ার সুযোগ পাইনি। উনি তিনদিন হল অসুস্থ। সেদিনের খিচুড়ি প্রজেক্টের পরে ডায়রিয়া শুরু হয়। এখন নাকি কিছুটা সুস্থ। তবে উইক। কাল বা পরশু নাগাদ আসবেন বলেছেন। 

ফোনে রেগুলারই কথা হয়, ‘শরীরের এখন কি অবস্থা’ টাইপ। ঠিক করে রেখেছি এই ব্যাপারটা ফোনে কথাটা বলব না। সামনাসামনি বলব। অন্য কারো কাছ থেকে শুনলে মন খারাপ করতে পারে, তাই হিন্ট দিয়ে রেখেছি, ‘একটা কথা আছে, আসো বলব।’ 

জোরাজুরি করার মত অবস্থায় উনি নেই, নয়তো চেপে ধরতেন, ‘এক্ষুনি বল।’ শুধু উনার ক্লাসগুলো আমাকে নিতে বলেছেন।

ফ্রেন্ডদের ভেতরে বলেছিলাম শুধু শিলাকে। এটাও বলেছিলাম, এখনও কাউকে বলিস না। এনগেজমেন্ট হলে আমিই জানাবো। লাভ হয়নি। ফেসবুকের কল্যাণে ফ্রেন্ডদের সবাই জেনে গেছে। আসলে আমাদের ফ্রেন্ডদের যে গ্রুপটা আছে সেখানে শিলা ব্যাপারটা বলে ফেলে। ফলে বাকী বান্ধবীরা জানলেও, ব্যাপারটা আমাদের গ্রুপেই সীমাবদ্ধ আছে। অন্ততঃ আমার তাই ধারণা।

— দিদি, আপনার কাছে একজন ভদ্রমহিলা এসেছেন।

নিজের অজান্তেই ভ্রু কুঁচকে গেল। এখানে কোন টিচারের কাছে কেউ আসা মানে সাধারনতঃ কোন গার্জেন এর আসা। হয় উনি কোন কমপ্লেইন করতে এসেছেন আর নয়তো কারো কমপ্লেইনের কারণে উনাকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু তেমন কোন ঘটনা আমার ক্লাসে ঘটেনি।তারপরও জিজ্ঞেস করলাম

— গার্জেন?

মাথা দুদিকে নেড়ে বোঝাল এবং সাথে মুখেও বলল।

— না।

ভ্রু আরেক দফা কুঁচকে গেল। দ্রুত ভাবতে লাগলাম, কে আসতে পারে। মাথায় আসছে না। আমার অবাক ভাব তখনো কাটেনি। এর মাঝেই রেখা আবার জানাল

— ওয়েটিং রুমে আছে। উপরে কি নিয়ে আসব?

ওপরে কাউকে আনি না এমন না। ক্লোজ কেউ এলে, নিয়ে আসি। অনেকের সাথে পরিচয়ও করিয়ে দিই। বাট…

মাথা নেড়ে বোঝালাম, না। এরপরে ধীরে ধীরে উঠলাম। ব্যাগটা নিলাম। আমার অবাক ভাব তখনো কাটেনি। অবাক হওয়ার জোরালো কারণ আছে। প্রথমতঃ পরিচিত কাউকে এখানে আমি ডাকি না। আর দ্বিতীয়ত এখানে চাকরীটা শুরুই করেছি রিসেন্টলি।  পরিচিতদের কেউই প্রায় ব্যাপারটা জানে না। আগ বাড়িয়ে আমিও কাউকে তেমন বলিনি। ফলে দেখা করতে চাইলে বাসায় আসাই একমাত্র অপশান। পরিচিত কেউ বাসাতে আসলেই আমার জন্য সুবিধা। 

মন বলছে পরিচিত কেউ আসেনি। ইমার্জেন্সি কিছু থাকলে বা এখনই দেখা করা জরুরী হলে অন্ততঃ ফোন করে আসত। এখানে আসছে বলে ফোন ও কেউ করেনি। সো…  

রেখা এচলে যাচ্ছিল, তখন চিন্তাটা মাথায় আসল। রেখা ভুল করেনি তো? জিজ্ঞেস করলাম

— তুই সিওর আমার কাছে এসেছে?

মাথা নোড করে বোঝাল, সে সিওর, আমার কাছে। মুখে হাসি, মানে হচ্ছে এমন ভুল কি আমি করি? সেটাই। প্রশ্নটা অবশ্য অযথাই করেছি। মিনু নামে এই স্কুলে আর কেউ নেই, সো ভুল হওয়ার কথাই না। 

নীচে ওয়েটিং রুম হিসেবে যেটা আছে, সেটা খুব সুবিধার না। তাই, নীচে গিয়ে প্রথমে চেক করা দরকার কে এসেছে। ক্লোজ কেউ আসলে উপরে নিয়ে আসতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলাম। কেমন একটা টেনশান কাজ করছে। কে হতে পারে?

ওয়েটিং রুমটা সিঁড়ি দিয়ে নেমে বামে। ওখানে এক কোণে একটা ছোট খাট ক্যান্টিনও আছে। খুব বেশি স্টক থাকে না। তবে কফির একটা ভেন্ডিং মেশিন আছে। কার্টেসি ভিজিটে আসা মানুষ জনকে ওটা দিয়েই আপ্যায়ন সারা হয়।

সিঁড়ি দিয়ে নেমে একটু এগিয়ে যেতে হয়। সেদিকে এগোতে গিয়েই চোখে পড়ল মিতুকে। প্যাসেজে দাঁড়িয়ে এদিকে তাকিয়ে আছে। ভেতরে বেশ গরম। সেকারণেই হয়তো বাইরে পায়চারী করছে। আমাকে দেখে কেমন একটা ম্লান হাসি হাসল। সেটায় কিছুটা অসহায়ত্ব ছিল। কিছুটা অ্যাপোলজিও। স্বাভাবিক। প্রলয় যে সেদিন অমন বিহেভ করবে সেটা তো ও ভাবেনি। আমি নিজেও অবাক হয়েছিলাম। নেহাত প্রলয়ের স্বভাব চিনি বলেই অবাক হওয়ার মাত্রাটা খুব একটা বেশি ছিল না। কিন্তু এবার সত্যিই অবাক হলাম। সেদিনের ঘটনার জন্য এভাবে, আমার স্কুলে এসে দেখা করাটা রিয়েলি আনেক্সপেক্টেড।

সোশ্যাল একটা স্মাইল দিলাম। এগিয়ে গিয়ে মুখোমুখি দাঁড়ালাম

— আপনি?

— হ্যাঁ। আমি।

— এখানকার ঠিকানা কিভাবে পেলেন।

— অনেক কষ্ট করে। আপনার বান্ধবী শিলার কাছ থেকে।

শিলার সাথে কন্টাক্ট করল কিভাবে সেটা জানতে চাইলাম না। ওটা আমি জানি। প্রলয়ের সাথে শিলার যোগাযোগ আছে। কিন্তু যে ব্যাপারটা ক্লিয়ার হচ্ছে না, আমার সাথে দেখা করার কারণ। ‘সরি’ বলতে? কিন্তু ও তো কোন অন্যায় করেনি। ‘সরি’ যদি কাউকে বলতেই হয়, সেটা বলবে প্রলয়। অবশ্য সেটা ঘটলেই বরং আরও বেশি অবাক হব। 

আমার চিন্তিত মুখের দিকে তাকিয়েই বোধহয় মিতু আরেক দফা স্মাইল দিল। বলল

— সেদিনের জন্য আমি এক্সট্রিমলি সরি…

আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, আমি থামালাম। বললাম 

— ইটস ওকে। 

আসলে সেদিনের ব্যাপারে আলাপ করতে অস্বস্তি লাগছিল। আর এখানে এভাবে প্যাসেজে দাঁড়িয়ে এসব ব্যাপার নিয়ে কথা বলতে মন চাইছে না। ওপরে নিয়ে যেতে চাইছি না, কারণ ও যেসব আলাপ করবে, সেসব টিচার্স রুমে সবার সামনে করতে বিচ্ছিরী লাগবে। ওয়েটিং রুমটা কেমন বদ্ধ। বেশিক্ষণ থাকা যায় না। কিন্তু কফি অফার করতে গেলে ওখানেই ঢুকতে হবে। কি করব ভাবছি এমন সময় মিতু আবার কথা শুরু করল

— আমি প্রলয়কেও সাথে নিয়ে আসতে চাইছিলাম…

এবার সত্যি সত্যি ব্যাপারটা এম্ব্যারাসিং পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। মহিলাকে থামানো দরকার। বললাম

— এনিয়ে অন্য কোথাও আলাপ করি?

এবার বোধহয় ব্যাপারটা লক্ষ্য করল মিতু। এখানে এসব আলাপ আমার জন্য এম্ব্যারাসিং হচ্ছে। বলল

— কোন কফি শপে বসি?

গলায় অনুনয় ঝড়ে পড়ছে। বসতে আমার আপত্তি নেই। কাছেই একটা ক্যাফে আছে। কিন্তু যেটা বুঝতে পারছি না, বর্তমান প্রেমিকের এক্সের কাছে এতো ক্ষমা চাওয়ার কারণ। আর তাছাড়া মিসবিহেভ যদি কেউ করেই থাকে, করেছে প্রলয়। ক্ষমা চাইলে সে চাইবে। ওর হয়ে চাওয়া ক্ষমা অ্যাক্সেপ্ট করার প্রশ্নই আসে না। 

দুজন বেরিয়ে আসলাম। স্কুলের সামনের ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা যায়।  আবার একটু দূরে যে ক্যাফেটা আছে সেখানে গিয়েও বলা যায়। দুটো অপশানই মাথায় রেখেছি। তবে আপাতত ওখানে যাওয়াই উদ্দেশ্য। যদি না তার আগেই কথা সেরে ফেলে।  নিজেই শুরু করলাম

— দেখুন, আমার মনে হয় ব্যাপারটা নিয়ে আপনি অযথাই এতো এম্ব্যারাসড হচ্ছেন।

কথার উত্তরে কিছু না বলে কেবল আমার দিকে আড় চোখে একবার তাকালো। দৃষ্টিতে কি যেন একটা ব্যাপার ছিল। ধরতে পারলাম না। মুখে কিছু বলল না। বুঝলাম, ক্যাফেতে বসে গুছিয়ে বলবে যা বলার।

বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এগিয়ে যেতে লাগলাম। একটা সন্দেহ মনে মনে কাজ করছে। ও কি আমাকে সন্দেহ করছে? ওদের প্রেমে ব্যাগড়া দেব আমি। ভেবে থাকলে মেয়েটা একটা ডাহা ইডিয়েট। 

পুরো রাস্তা আর কোন কথা হল না। পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। চুপচাপই হেঁটে আসলাম ক্যাফেটাতে। ফাঁকাই আছে। এই এগারোটার দিকে সাধারনতঃ ফাঁকাই থাকে। আমার হাতে এখনও ঘণ্টা খানেক সময় আছে। নেক্সট ক্লাস বারোটায়। একটা টেবিলে মুখোমুখি বসলাম। ঠিক করে রেখেছি, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করব। যদি বেশি ভূমিকা করছে, সেক্ষেত্রে সোজা জানিয়ে দেব, প্রলয় ইজ নোবডি টু মি। অ্যাটলিস্ট সেদিনের পরে। যা ও কিছুটা সফটনেস ছিল ওর জন্য, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। 

— প্লিজ হেল্প মি।

এবার বেশ অবাক হলাম। হেল্প চাওয়ার মত কি হল? কেন যেন মনে হল কাহিনী অন্য কিছু। কিছুক্ষণ আগেও মেয়েটার ওপর একটা বিরক্তি কাজ করছিল। ওর এই ‘হেল্প মি’ শুনে সেটা নাই হয়ে গেল। বললাম

— কি ব্যাপারে? বুটিক?

মেয়েটা মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানালো। নিজেকেই একটা চড় মারতে ইচ্ছে করছিল। শুধু শুধু আবোল তাবোল ভাবছিলাম। হেসে ফেললাম

— সিওর। বলুন কি করতে হবে? 

— শুধু উনাকে বলুন, এই বুটিকটার কোন ক্ষতি যেন না করে।

রীতিমত হতভম্ব হয়ে গেলাম। বলে কি এই মেয়ে। ওর বুটিকটার কে ক্ষতি করতে চাইছে? আর তাঁকে বলার আমিই বা কে? সব কিছু কেমন গোলমেলে লাগছে। মনে হল এই মহিলা বোধহয় ভুল করছে। বললাম

— কি বলছেন এসব?

আমার কথা শুনতে পেল বল মনে হল না। ও নিজের কথাই বলে চলল

— উনি আজকের দিনটা সময় দিয়েছে। বলেছে…

মিতুকে শেষ করতে দিলাম না। ওর কথার মাঝেই জিজ্ঞেস করলাম

— উনিটা কে?

মেয়েটা এবার ভীতু চোখে আমার দিকে তাকাল। চোখের দৃষ্টি কেমন উদ্ভ্রান্ত। কোন রকমে শুধু বলল

— ‘উনি’ কে তা আমি নিজেও জানি না।

এবার কিছুটা অবাক হলাম। বিরক্তও। যদি না ই চেনে তাহলে সেই ‘উনি’ যে আমার জন্য  বুটিকের ক্ষতি করতে চাইছে সেটা ধরে নিল কেন? নিজেকে যথা সম্ভব শান্ত করে জিজ্ঞেস করলাম

— আপনি কি কষ্ট করে সব খুলে বলবেন?

মেয়েটা এবার নিজের ব্যাগ খুলে মোবাইলটা বের করল। এরপরে সেখানে কিছু টেপাটেপি করে আমার দিকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিল। মোবাইলটা হাতে নিলাম। একটা ম্যাসেজ। 

‘আজকের ভেতরে যদি মিনুর কাছে ক্ষমা না চাও, তবে কন্সিকুয়ন্সের জন্য তৈরি থেকো।’ 

এই মিনু কি আমি? এবার আমি নিজেও হতভম্ব হয়ে গেলাম। কিছুটা কিউরিয়াসও। জিজ্ঞেস করলাম। 

— কে পাঠিয়েছে?

মাথা দুদিকে নেড়ে বোঝাল, ‘জানে না’। আর মুখে বলল

— আননোন নাম্বার।

— আপনাকে পাঠিয়েছে?

মাথা দুদিকে নেড়ে বোঝাল না। মুখে বলল

— প্রলয়কে।

এরপরে যা করলাম তা হয়তো অন্যায়, তারপরও রিয়াকশানে বেরিয়ে গেল কথাটা।  

— তাহলে আপনি এসেছেন কেন?

কথাটা শুনে কেমন আহত চোখে আমার দিকে তাকাল মেয়েটা। এরপরে আমার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে আবার কিছু টিপল। এরপরে আমার দিকে সেটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল

— আজকে এটা এসেছে।

এবার ম্যাসেজটা দেখলাম। লেখা আছে, ‘প্রথম অ্যাটাকটা হবে বুটিকের ওপর।’

বেশ অবাক হলাম। সেদিনের ঘটনাটা শম্পাদি ছাড়া আড় কাউকেই বলিনি। উনি এমন করবেন, আমার বিশ্বাস হয় না। আর…। আর কে হতে পারে? সেই পাত্র, যার সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে… সে তো শুধু আমার কান্না দেখেছে, বাট কারণ তো জানে না। উনিই কি কোনভাবে… বলেছিল ম্যানেজমেন্ট এর স্টুডেন্ট ছিল। সব খোঁজ খবর নেয়া অভ্যাস। নাহ, কেমন যেন পাজলড ফিল করলাম। 

নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসল। মিতুর দিকে তাকালাম। সে একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কোন রকমে শুধু বলল

— প্রলয় আসবে না বলে দিয়েছে। 

এবার পুরো ব্যাপারটা কিছুটা বুঝতে পারছি। বুটিকের ক্ষতি আটকাতে মিতু নিজে এসেছে প্রলয়ের হয়ে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু কে ম্যাসেজগুলো পাঠাচ্ছে, সে তো আমি নিজেও জানি না। সেকথা বলার সুযোগটাও পেলাম না। মিতু বলে গেল

— বুটিকটা একা আমার। সব ইনভেস্টমেন্ট আমার। ও শুধু ডিজাইন করে।

কি বলব বুঝে পেলাম না। শুধু হাত বাড়িয়ে ওর হাত চেপে ধরলাম। আশ্বাস দেয়ার মত অবস্থা আমার না। মাথায় তখন চিন্তার ঝড় চলছে। কে হতে পারে? কে আমার জন্য প্রলয়কে হুমকি দিচ্ছে? ব্যাপারটা বোঝাবার চেষ্টা করলাম

— বিলিভ মি…

কথা শেষ করতে দিল না। আমাকে থামিয়ে দিয়ে মিতু তার শেষ কথাটা বলে ফেলল। বোধহয় এটা বলতেই ও এসেছে। কথাটা শুনে আমি রীতিমত হতভম্ব হয়ে গেলাম। কষ্টও লাগল। বলে কি মেয়েটা!

— আপনি চাইলে… আজকেই… উই ক্যান ব্রেকাপ। বাট প্লিজ… বুটিকটার কোন ক্ষতি করবেন না।

চলবে  

Razia Sultana Jeni

Send private message to author
What’s your Reaction?
0
1
0
0
1
0
0
Share:FacebookX
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!