আকুতি

আমার নাম নিপু। বয়স ৪২, অবিবাহিতা। পরিবারে ভাই, ভাবী, ভাতিজি আর আমি ছাড়া কেউ নেই। প্রায় সাত বছর আগে মা মারা গিয়েছেন। মা অসুস্থ ছিলেন, প্যারালাইজড রোগী। মূলত মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই উপযুক্ত বয়সে আমার বিয়ে দেওয়া হয়নি। তখন আমার জন্য কোনো ভালো স্বমন্ধ আসলে ভাবী ভাইকে বলে গোপনে তার বোনদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন। মা মারা যাওয়ার পর থেকে এই বিশাল পৃথিবীতে নিজেকে অনেক বেশী একা লাগে। বাসার যাবতীয় কাজ আমিই করি। তবুও ভাবী আমাকে সহ্য করতে পারেন না। এমনকি বাবা আমাদের দুই ভাই-বোনের জন্য যেটুকু ব্যাংক ব্যালেন্স রেখে গেছেন সেখান থেকে কিছু টাকা ভাইয়া যখন আমাকে হাতখরচ হিসেবে দেন ভাবী এমন আচরণ করেন মনে হয় যেন, আমি ওনার স্বামীর বেতনের টাকায় ভাগ বসিয়েছি। এখনো যখন চারিদিকে অন্যদের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হতে দেখি তখন আমার মনেও ইচ্ছা জাগে আমারও একজন জীবনসঙ্গী হোক, একটা সংসার হোক। মা মারা যাওয়ার পর ভাইয়া চাইলে হয়তো অন্তত একটা ডিভোর্সি পাত্র দেখে আমার বিয়ে ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্তু দেন নি। একজন সঙ্গী নেই আমার যার সাথে আমি জীবনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে পারি। মাস ছয়েক হলো আমার ভাতিজি তনু লন্ডন থেকে পড়াশুনা করে দেশে ফিরেছে। ভাইয়া ভাবী মেয়ের জন্য সুপাত্র খুঁজতে ব্যস্ত। আগে তনুর জন্য অনেক ভালো ভালো স্বমন্ধ এসেছে কিন্তু মেয়ের এক কথা পড়াশুনা শেষ না করে সে বিয়ে করবে না। কিন্তু বয়স তো থেমে থাকে নি। এখন কিছু কিছু ভালো স্বমন্ধ এলে যখন মেয়ের বয়স ২৬+ বলে, তারা ধরে নেয় মেয়ের বয়স ৩০। এমন করে অনেকেই প্রত্যাখ্যান করে চলে যায়। ভাবী প্রায়ই বলতে থাকে আমি নাকি তার মেয়েকে অভিশাপ দিয়েছি। তাই এখন তার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। এরই মধ্যে তনু খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পিঠের ব্যথাটা বেড়েছে, সঙ্গে জ্বর, অরুচি দেখা দিয়েছে। ব্যথার কারণে রোগী পিঠ অতিরিক্ত সোজা করে হাঁটে। ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি এক্সরে রিপোর্ট চেক করে জানালেন তনুর মেরুদণ্ডে যক্ষ্মা হয়েছে।

Send private message to author
What’s your Reaction?
0
1
0
1
2
0
0
Share:FacebookX
4 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Locbook Platform

Locbook is an independent platform for aspiring writers

error: Content is protected !!