আর কয়েক ঘন্টা পরেই ঈদুল আযহা। করোনার কারণে সারা বিশ্বব্যাপী একটি দুর্যোগ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনার প্রভাব কমাতে সারাদেশে মাঝে মাঝে লক ডাউন আর চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ কর্মজীবী আর দিন এনে দিন খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর জীবনে নেমে এসেছে এক বিপর্যয় আর মহা দুর্যোগ পরিস্থিতি। তাঁদের এই মহা সংকট পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে এর অনেক সংবাদ আর সংবাদ চিত্র আমরা দেখতে পাই নিয়মিতই।
মানুষ মানুষের জন্যে। মানুষকে সাহায্য করতে অর্থ বিত্তের পাশাপাশি আরেকটি বড় নিয়ামক হলো আন্তরিকতা আর ইচ্ছা শক্তি। এই করোণা পরিস্থিতি আমাদেরকে সে কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই মহা বিপর্যয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত বিভিন্ন লেখা আর তথ্যচিত্র গুলোতে গরীব দুঃখী মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও অন্যান্য খাবার সামগ্রী বিতরণে একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছোট ছোট উদ্যোগের খবর গুলো দেখে আমাদের মনে এক আশার সঞ্চার হয়। একেবারে অল্প সামর্থ্যবান অনেকে ও নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসেছেন মহতী এই সব উদ্যোগে। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। অনেককেই দেখেছি নিজেদের পারিবারিক বাজেটকে কাটছাঁট করে সেখান থেকে দুটো পয়সা বাঁচিয়ে দুঃস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন খাবারের প্যাকেট তৈরী করে বিতরণ করতে। এটা করার পেছনে তাঁদের মধ্যে কোন প্রকার ব্যক্তিগত লাভ বা সামাজিক প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জনের কোন বিষয় জড়িত নেই। তাদের এই উদ্যোগ একেবারেই নিখাদ এক ভালোবাসার আন্তরিক বহিঃপ্রকাশ। এরা সমাজের বিত্তশালী কেউ নন। এদের সিংহ ভাগই নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। এদের অনেকেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। আর্থিক সামর্থ্য ও তেমন নেই তাঁদের। কিন্তু এদের আছে মানুষের প্রতি মমত্ব বোধের এক হৃদয় উজাড় করা মন। আছে মানুষের জন্য ভালোবাসার এক প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি।
এঁরা আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস আর আমাদের সামনে অনন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এদের অনেককেই দেখেছি ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনে রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে গরীব দুঃখীদের মাঝে খাবার প্যাকেট বিতরণ করতে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজে উদ্যোগ নিতে না পারলেও এই মহৎ উদ্যোগে শরীক হয়েছেন পরোক্ষ ভাবে। তাঁরা এইসব কার্যক্রম আয়োজকদের বিভিন্ন সামগ্রী অথবা নগদ টাকা দিয়ে অংশ গ্রহণ করে এই মহতী কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। বিদেশে অবস্থানরত অনেক ভাই বোনরা ও এই দূর্যোগ পরিস্থিতিতে সাধ্যমত এগিয়ে এসেছেন এই সমস্ত বিপদাপন্ন মানুষের সাহায্যে।
ঈদ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। দেশে বিরাজমান এই কঠিন পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দটা আসুন আমরা সবাই ভাগাভাগি করে নেই। অন্য অনেকের মতই আসুন আমি, আপনি আর আমরা সবাই ও এগিয়ে আসি নিজেদের সাধ্যমত এই আনন্দের দিনে গরীব দুঃখীদের মুখে অন্তত এক বেলা ভালো খাবার তুলে দিতে। আমাদের যাদের পক্ষে এই আয়োজন করা সম্ভব হবে না, তাঁরা ও আশে পাশের আয়োজকদের বিভিন্ন সামগ্রী, নগদ সাহায্য, অথবা কিছুটা সময় দিয়ে হলে ও এই উদ্যোগের সাথে সামিল আর একাত্ম হতে পারি। আপনার আশেপাশেই এরকম উদ্যোগ গ্রহন কারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে যাদের কাছে আপনার সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আপনি ও এই মানবিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।
আমাদের সবার সাধ্যমত অংশ গ্রহণে এই ঈদ সবার জন্যে হয়ে উঠুক অর্থবহ, উৎসবের আর আনন্দের। আসুন আমরা আমাদের আনন্দের কিছুটা অংশ আজ শেয়ার করি দুঃস্থ আর বিপন্ন এই মানুষ গুলোর সাহায্যার্থে। এই মহা দূর্যোগ পরিস্থিতিতে আমাদের সাহায্যের হাত আর আন্তরিকতার ছোঁয়া স্পর্শ করে যাক আমাদের আশে পাশে থাকা হাজারো বিপন্ন মানুষকে।
সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
Md. Aowrangazeb Chowdhury
মোঃ আওরঙ্গজেব চৌধুরী।
টরন্টো, কানাডা।
১৮ জুলাই ২০২১।
Send private message to author



