উদাসীন ভঙ্গিতে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে সুরুজ আলী।দেখে মনে হচ্ছে কোনো এক মহাকাব্যের প্লট নিয়ে ভাবছে সে।যেকোনো সময় জনাব আরকিমিডিসের মতো ইউরেকা বলে ভৌ দৌড় দিতে পারে সে। তখন হয়তো অতি উত্তেজনার কারণে উষ্ম মাটির সাথে চায়ের কাপটি আলিঙ্গন করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়বে।সুরুজ আলী কাপের তলায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট চা মুখে চালান করলো। আবার সেই চালানকৃত চা কুলি করে শুকনো মাটিকে ভিজিয়ে দিলো।টং এর পিচ্চির হাতে পাঁচ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললো, ‘চটকু , কেকের ৫টাহা পরে নিস।’
রিকশায় দিনের প্রথম প্যাডেলে চাপ দিলো সুরুজ আলী। আকাশ ফেটে যেনো গরম লাভা চামড়া পুড়িয়ে ফেলবে।এই সাত সকালে এমন গরম পড়ার কোনো মানে হয় না।সুরুজ আলীর বিরক্তি চরম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। অনেক্ষন তো হলো। এখনো কোনো যাত্রি জটে নি। সুরুজ আলী আচমকা ব্রেক কশলো।রিকশা থেকে সঙে সঙে নেমে গেলো সে।এ কি ! কি দেখছে সে? এখানে কিভাবে আসলো সুরুজ আলী? চটকুর টং থেকে বেশ দূরে গিয়েছিলো সুরুজ আলী।দুই মাইলের পথ জামালবাজারের দিকে।
কিন্তু এখন? স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো চটকুর টং দোকানটার পাশে।এর চেয়ে বিষ্ময়কর ঘটনা সুরুজ নিজ চোখে দেখছে এখন! অবিকল তার চেহারা, পোশাক পড়া এক লোক চটকুকে বলছে, ‘এই ধর।সকালের কেকের ৫টাহা বাকি আসিলো।নে রাখ..’ এই কথা বলেই দুই কদম কাছে আসলেন তিনি।সুরুজ আলীর রিক্সার উপর উঠে প্যাডেলে চাপ দিয়ে জায়গা ত্যাগ করে চলে গেলেন।
সমাপ্ত
– সৌরভ আহমেদ
Send private message to author






